০৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

প্রতিনিধির নাম:

সম্প্রতি দেশের একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত স্বাস্থ্য খাতের ঠিকাদার মেসার্স হারুন এন্টারপ্রাইজ সংক্রান্ত একটি সংবাদ এবং তার সঙ্গে যুক্ত কিছু তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী মহল ও সচেতন নাগরিক সমাজ। ৫ আগস্টের পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের আমূল সংস্কার যখন দৃশ্যমান এবং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে, ঠিক তখন পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর, সুবিধাভোগী ঠিকাদার ও একটি বিশেষ মহলের প্রেসক্রিপশনে এই মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

অপসারণকৃত সাবেক সচিব কামরুজ্জামানের একক নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট রাজত্ব:
প্রতিবেদনের সূত্র ধরে জানা গেছে, ইতিপূর্বে স্বাস্থ্য সচিবের বিরুদ্ধে দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে ধারাবাহিক ও অনুসন্ধানী সিরিজ সংবাদ প্রকাশিত হলে সরকারের শীর্ষ মহলের দৃষ্টিগোচর হয়। যার ফলশ্রুতিতে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামানকে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া এই স্বাস্থ্য সচিব মন্ত্রীকে পর্যন্ত তোয়াক্কা করতেন না। মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় কাজ, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত এবং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া তিনি নিজের গড়া একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একচ্ছত্রভাবে পরিচালনা করতেন।

জুনিয়র অফিসারদের ওপর দায় চাপানোর হীন প্রয়াস:
উক্ত মানহানিকর সংবাদে অত্যন্ত সুকৌশলে মন্ত্রণালয়ের কিছু সৎ ও নিরীহ জুনিয়র অফিসারের ওপর যাবতীয় অনিয়মের দায় চাপিয়ে দেওয়ার একটি হীন প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে। অথচ মূল সত্য হলো, সচিব নিজেই নিজের পছন্দের সিন্ডিকেট দিয়ে সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। এখন নিজের যাবতীয় অনিয়ম, ব্যর্থতা ও দুর্নীতির দায় অন্যের ঘাড়ে চাপাতে এবং নিজের অপকর্ম ঢাকতেই এই সাবেক সচিব তার নিয়ন্ত্রণাধীন পেইড ‘বট বাহিনী’ ও সাইবার মিডিয়া সেলকে ব্যবহার করে এসব মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। প্রশাসনের অন্দরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের এই দোসররা নিজেদের সিন্ডিকেট লুকাতে এখন মরিয়া।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার বাধাগ্রস্ত করার গভীর ষড়যন্ত্র:
বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং দুর্নীতিবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে যখন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তখনই একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা স্বাস্থ্য খাতকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল, সেই চক্রটি নিজেদের বাঁচানোর শেষ অস্ত্র হিসেবে এখন জুনিয়র অফিসারদের বলি বানিয়ে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগের আশ্রয় নিচ্ছে।

সচেতন নাগরিক সমাজ ও জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির যোদ্ধারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বিগত দিনে স্বাস্থ্য খাতের যারা প্রকৃত লুটেরা এবং সিন্ডিকেটের মূলহোতা (সাবেক সচিব ও তার চক্র), তাদের বিরুদ্ধে এবং যারা অপপ্রচারে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে।

স্বাস্থ্য খাতের চলমান গতিশীলতা ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এই ধরনের কুৎসিত অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৪৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

আপডেট সময় ০৭:৪৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি দেশের একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত স্বাস্থ্য খাতের ঠিকাদার মেসার্স হারুন এন্টারপ্রাইজ সংক্রান্ত একটি সংবাদ এবং তার সঙ্গে যুক্ত কিছু তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী মহল ও সচেতন নাগরিক সমাজ। ৫ আগস্টের পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের আমূল সংস্কার যখন দৃশ্যমান এবং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে, ঠিক তখন পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর, সুবিধাভোগী ঠিকাদার ও একটি বিশেষ মহলের প্রেসক্রিপশনে এই মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

অপসারণকৃত সাবেক সচিব কামরুজ্জামানের একক নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট রাজত্ব:
প্রতিবেদনের সূত্র ধরে জানা গেছে, ইতিপূর্বে স্বাস্থ্য সচিবের বিরুদ্ধে দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে ধারাবাহিক ও অনুসন্ধানী সিরিজ সংবাদ প্রকাশিত হলে সরকারের শীর্ষ মহলের দৃষ্টিগোচর হয়। যার ফলশ্রুতিতে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামানকে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া এই স্বাস্থ্য সচিব মন্ত্রীকে পর্যন্ত তোয়াক্কা করতেন না। মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় কাজ, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত এবং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া তিনি নিজের গড়া একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একচ্ছত্রভাবে পরিচালনা করতেন।

জুনিয়র অফিসারদের ওপর দায় চাপানোর হীন প্রয়াস:
উক্ত মানহানিকর সংবাদে অত্যন্ত সুকৌশলে মন্ত্রণালয়ের কিছু সৎ ও নিরীহ জুনিয়র অফিসারের ওপর যাবতীয় অনিয়মের দায় চাপিয়ে দেওয়ার একটি হীন প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে। অথচ মূল সত্য হলো, সচিব নিজেই নিজের পছন্দের সিন্ডিকেট দিয়ে সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। এখন নিজের যাবতীয় অনিয়ম, ব্যর্থতা ও দুর্নীতির দায় অন্যের ঘাড়ে চাপাতে এবং নিজের অপকর্ম ঢাকতেই এই সাবেক সচিব তার নিয়ন্ত্রণাধীন পেইড ‘বট বাহিনী’ ও সাইবার মিডিয়া সেলকে ব্যবহার করে এসব মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। প্রশাসনের অন্দরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের এই দোসররা নিজেদের সিন্ডিকেট লুকাতে এখন মরিয়া।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার বাধাগ্রস্ত করার গভীর ষড়যন্ত্র:
বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং দুর্নীতিবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে যখন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তখনই একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা স্বাস্থ্য খাতকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল, সেই চক্রটি নিজেদের বাঁচানোর শেষ অস্ত্র হিসেবে এখন জুনিয়র অফিসারদের বলি বানিয়ে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগের আশ্রয় নিচ্ছে।

সচেতন নাগরিক সমাজ ও জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির যোদ্ধারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বিগত দিনে স্বাস্থ্য খাতের যারা প্রকৃত লুটেরা এবং সিন্ডিকেটের মূলহোতা (সাবেক সচিব ও তার চক্র), তাদের বিরুদ্ধে এবং যারা অপপ্রচারে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে।

স্বাস্থ্য খাতের চলমান গতিশীলতা ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এই ধরনের কুৎসিত অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।