০৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাত্র তিন মাসের মাসের ব্যবধানে মোকামতলা ইউনিয়ন থেকে উপজেলা

প্রতিনিধির নাম:

আগামী মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রাক-নিকার সভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গনি। এ ছাড়া প্রাক-নিকার সভায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৪টি বিভাগীয় (ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রাম) কার্যালয় স্থাপন ও পদ সৃজন; গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর পুনর্গঠন এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের দপ্তরগুলো উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত করার জন্য ২টি প্রস্তাব; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানা এলাকায় ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন পাম্পিং স্টেশন অ্যান্ড ট্যাংক ফার্ম এলাকার পাশে নতুন একটি ‘কালারমারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র’ স্থাপন এবং লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানাধীন ‘কেরোয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র’ স্থাপনসংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন পৌরসভা গঠনসংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) অনুমোদন পেলে মোকামতলা হবে ৮ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভা নিয়ে গঠিত পূর্ণাঙ্গ উপজেলা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের তৈরি এ-সংক্রান্ত সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ৩ ও ৪ ধারা অনুযায়ী নতুন পৌরসভা গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে প্রস্তাবিত মোকামতলা পৌরসভা। ইতোমধ্যে এলাকাটিকে শহর ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, গত ২৩ জুন মোকামতলা পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায় জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোর আপত্তি আছে কি না, জানতে চাওয়া হলে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানিয়েছেন, কোনো ইউনিয়ন পরিষদ আপত্তি দেয়নি। পরে ২৩ আগস্ট মোকামতলা পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে শহর এলাকা ঘোষণার চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পৌরসভা গঠনের জন্য আইন অনুযায়ী প্রস্তাবিত এলাকার ন্যূনতম জনসংখ্যা ৫০ হাজার হওয়ার শর্ত রয়েছে। মোকামতলার প্রস্তাবিত এলাকায় জনসংখ্যা ৬২ হাজার। জনসংখ্যার ঘনত্বের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২ হাজারের বিপরীতে প্রস্তাবিত এলাকায় ঘনত্ব ৬ হাজার ২০০ জন রয়েছে।

এ ছাড়া অকৃষি পেশার ন্যূনতম হার ৭৫ শতাংশের বিপরীতে প্রস্তাবিত এলাকায় এ হার ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অকৃষি প্রকৃতির ভূমির ন্যূনতম হার ৩৩ শতাংশ হলেও মোকামতলায় তা ৩৫ শতাংশ।

পৌরসভা এলাকার দাগ নম্বরগুলো পরস্পর সংযুক্ত এবং এলাকাটি সেনানিবাসের বাইরে। গত তিন অর্থবছরে প্রস্তাবিত এলাকার রাজস্ব আয় হয়েছে ২ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে পৌরসভা গঠনের জন্য আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মোকামতলা দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট ও সোনাতলাসহ বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে এই এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। বড় পাইকারি বাজার, চালকল, হিমাগার এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মোকামতলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রই প্রশাসনিকভাবে শহরের মর্যাদা পাবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা, সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য পৌরসেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

মোকামতলা বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনি এলাকার অংশ। চলতি বছরের মে মাসে তার নির্বাচনি এলাকা বগুড়া-২-এর শিবগঞ্জ উপজেলাকে বিভক্ত করে মোকামতলা উপজেলা গঠন করে চলতি বছরের ১৯ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এর আগে গত ৭ মে অনুষ্ঠিত নিকারের সভায় বিষয়টি অনুমোদন করা হয়।

উপজেলা গঠনের পর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে মোকামতলা এলাকায় নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়।

নতুন পৌরসভা গঠনের ক্ষেত্রে নিকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। সে অনুযায়ী স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সারসংক্ষেপটি অনুমোদন করে প্রাক-নিকার কমিটিতে উপস্থাপনের সম্মতি দিয়েছেন। এখন প্রাক-নিকার কমিটির বিবেচনার পর প্রস্তাবটি নিকারে উপস্থাপন করা হবে।

নিকারের অনুমোদন পেলে মোকামতলার প্রশাসনিক রূপান্তর আরেকটি ধাপ এগিয়ে যাবে। তখন নবগঠিত এই উপজেলা একদিকে ৮ ইউনিয়ন নিয়ে গ্রামীণ প্রশাসন পরিচালনা করবে, অন্যদিকে একটি পৌরসভাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে শহরাঞ্চল।

মাত্র তিন মাসের মাসের ব্যবধানে মোকামতলা ইউনিয়ন থেকে উপজেলা এবং উপজেলার অধীনে পৌরসভা গঠন উত্তরাঞ্চলের এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রের প্রশাসনিক গুরুত্ব আরও বাড়াবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:১৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

মাত্র তিন মাসের মাসের ব্যবধানে মোকামতলা ইউনিয়ন থেকে উপজেলা

আপডেট সময় ০৭:১৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগামী মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রাক-নিকার সভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গনি। এ ছাড়া প্রাক-নিকার সভায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৪টি বিভাগীয় (ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রাম) কার্যালয় স্থাপন ও পদ সৃজন; গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর পুনর্গঠন এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের দপ্তরগুলো উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত করার জন্য ২টি প্রস্তাব; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানা এলাকায় ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন পাম্পিং স্টেশন অ্যান্ড ট্যাংক ফার্ম এলাকার পাশে নতুন একটি ‘কালারমারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র’ স্থাপন এবং লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানাধীন ‘কেরোয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র’ স্থাপনসংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন পৌরসভা গঠনসংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) অনুমোদন পেলে মোকামতলা হবে ৮ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভা নিয়ে গঠিত পূর্ণাঙ্গ উপজেলা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের তৈরি এ-সংক্রান্ত সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ৩ ও ৪ ধারা অনুযায়ী নতুন পৌরসভা গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে প্রস্তাবিত মোকামতলা পৌরসভা। ইতোমধ্যে এলাকাটিকে শহর ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, গত ২৩ জুন মোকামতলা পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায় জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোর আপত্তি আছে কি না, জানতে চাওয়া হলে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানিয়েছেন, কোনো ইউনিয়ন পরিষদ আপত্তি দেয়নি। পরে ২৩ আগস্ট মোকামতলা পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে শহর এলাকা ঘোষণার চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পৌরসভা গঠনের জন্য আইন অনুযায়ী প্রস্তাবিত এলাকার ন্যূনতম জনসংখ্যা ৫০ হাজার হওয়ার শর্ত রয়েছে। মোকামতলার প্রস্তাবিত এলাকায় জনসংখ্যা ৬২ হাজার। জনসংখ্যার ঘনত্বের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২ হাজারের বিপরীতে প্রস্তাবিত এলাকায় ঘনত্ব ৬ হাজার ২০০ জন রয়েছে।

এ ছাড়া অকৃষি পেশার ন্যূনতম হার ৭৫ শতাংশের বিপরীতে প্রস্তাবিত এলাকায় এ হার ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অকৃষি প্রকৃতির ভূমির ন্যূনতম হার ৩৩ শতাংশ হলেও মোকামতলায় তা ৩৫ শতাংশ।

পৌরসভা এলাকার দাগ নম্বরগুলো পরস্পর সংযুক্ত এবং এলাকাটি সেনানিবাসের বাইরে। গত তিন অর্থবছরে প্রস্তাবিত এলাকার রাজস্ব আয় হয়েছে ২ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে পৌরসভা গঠনের জন্য আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মোকামতলা দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট ও সোনাতলাসহ বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে এই এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। বড় পাইকারি বাজার, চালকল, হিমাগার এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মোকামতলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রই প্রশাসনিকভাবে শহরের মর্যাদা পাবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা, সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য পৌরসেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

মোকামতলা বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনি এলাকার অংশ। চলতি বছরের মে মাসে তার নির্বাচনি এলাকা বগুড়া-২-এর শিবগঞ্জ উপজেলাকে বিভক্ত করে মোকামতলা উপজেলা গঠন করে চলতি বছরের ১৯ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এর আগে গত ৭ মে অনুষ্ঠিত নিকারের সভায় বিষয়টি অনুমোদন করা হয়।

উপজেলা গঠনের পর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে মোকামতলা এলাকায় নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়।

নতুন পৌরসভা গঠনের ক্ষেত্রে নিকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। সে অনুযায়ী স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সারসংক্ষেপটি অনুমোদন করে প্রাক-নিকার কমিটিতে উপস্থাপনের সম্মতি দিয়েছেন। এখন প্রাক-নিকার কমিটির বিবেচনার পর প্রস্তাবটি নিকারে উপস্থাপন করা হবে।

নিকারের অনুমোদন পেলে মোকামতলার প্রশাসনিক রূপান্তর আরেকটি ধাপ এগিয়ে যাবে। তখন নবগঠিত এই উপজেলা একদিকে ৮ ইউনিয়ন নিয়ে গ্রামীণ প্রশাসন পরিচালনা করবে, অন্যদিকে একটি পৌরসভাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে শহরাঞ্চল।

মাত্র তিন মাসের মাসের ব্যবধানে মোকামতলা ইউনিয়ন থেকে উপজেলা এবং উপজেলার অধীনে পৌরসভা গঠন উত্তরাঞ্চলের এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রের প্রশাসনিক গুরুত্ব আরও বাড়াবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।