০২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকুরীর বয়স শেষ তবুও প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া গণপূর্তের আবুল খায়ের!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

চাকুরীর বয়স মাত্র এক মাস থাকলেও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: আবুল খায়ের। তিনি এ পদ থেকে দক্ষ প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে সরিয়ে নিজে পদটি দখলে নানা পথে চেষ্টা তদবীর চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মোটা অংকের টাকা ব্যয় করে প্রধান প্রকৌশলী মো: খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে কালবেলা পত্রিকায় ব্যানার হেডিং এ নিউজ ছাপিয়ে সেটাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন । অন্য দিকে টাকার ব্রিফকেস হাতে দৌড়াচ্ছেন মন্ত্রী, সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল খায়ের সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও গণপূর্ত খাতের বড় বড় প্রজেক্ট থেকে কমিশন বা কাটমানি নেওয়াকে অলিখিত নিয়মে পরিণত করেছেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তিনি পরিচিত ‘মিস্টার ৫%’ নামে। গোপালগঞ্জ থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, রংপুর, কুমিল্লা হয়ে ঢাকা-চাকরিজীবনের যেখানেই তার পোস্টিং হয়েছে, সেখানেই জড়িয়েছেন নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অনিয়মে। ঠিকাদারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন শত কোটি টাকার সম্পদ। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তার এই দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য।

প্রবেশদ্বার: ছাত্রলীগ কোটা ও গোপালগঞ্জ কানেকশন’:

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাকরিজীবনের শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছেন প্রকৌশলী আবুল খায়ের। তৎকালীন সচিব শহীদুল্লাহর বিশেষ সুপারিশে ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয় তিনি
গোপালগঞ্জ জোনে প্রভাবশালী পোস্টিং বাগিয়ে নেন। সেখানে থাকাকালীন ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রভাবশালী নেতা শেখ সেলিম এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাথে তার গভীর ‘দহরম মহরম’ সম্পর্ক গড়ে ওধে এই রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে পুঁজি করে পরবর্তীতে তিনি অন্য ঊধর্বতন কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা না করে একাছত্র আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন।

টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ: চট্টগ্রাম জোনে ৩% কাটমানি ও পিসি:

চট্টগ্রাম জোনে থাকাকালীন প্রকৌশলী আবুল খায়ের দুর্নীতি ভিন্ন মাত্রা পায়। তিনি সেখানে প্রজেক্টের প্রতিটি কাজে ৩% করে কমিশন বা কাটমানি নেওয়া বাধ্যতামূণ মূলক করেন। সে সময় প্রচলিত পিসি টেন্ডার’ (পার্সেন্টেজ শেয়ারিং টেন্ডার) ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি একাই কামিয়েছেন ১০০ কোটি টাকা। কোনো ঠিকাদার কমিশন দিতে অস্বীকৃতি আনালে তার দিল আটকে দেওয়া বা ব্ল্যাকলিস্ট করার হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি এক্সইন এইচডি এস সহ বড় বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, সাধারণ ঠিকাদার ও সাধারণ কর্মকর্তাদের সর্বদা নিজস্ব ক্ষমতার দাপটে দাবিয়ে রাখতেন তিনি।

কুমিল্লার এমপির তোপের মুখে অপসারণ:

চট্টগ্রামের পর কুমিল্লায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখে পড়েন খায়রুজ্জামান। কুমিল্লার তৎকালীন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সাথে টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে এমপি বাহারের তীব্র আপত্তির মুখে তাকে কুমিল্লা জোন থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

রংপুর জোনে দুর্নীতি ও ৭১ টিভিতে লাইভ সাক্ষাৎকার:

রংপুর জোনে বদলি হওয়ার পরও আবুল খায়েরের দুর্নীতির চাকা থামেনি। সেখানে তার বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন ঠিকাদার সরাসরি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি টেলিভিশন ‘৭১ টিভি’-তে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা তার বিরুদ্ধে সরাসরি লাইভ ফিড সাক্ষাৎকার দেন।

ন্যাশনাল হাউজিংয়ে ৫০ কোটির কেলেঙ্কারি:

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বা গণপূর্তের অন্যান্য খাতের পাশাপাশি ন্যাশনাল হাউজিং অথরিটিতে থাকাকালীনও তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সেখানে সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ, নকশা অনুমোদন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তিনি প্রায় ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা জোনে ‘মিস্টার ৫% এবং ২৪ ফ্ল্যাটের মালিকানা:

বর্তমানে ঢাকা জোনে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার নাম হয়ে গেছে ‘মিস্টার ৫% পারসেন্টা। প্রজেক্ট অনুমোদন কিংবা ঠিকাদারদের বিল পাসের জন্য ৫% কমিশন দেওয়া এখন ওপেন সিক্রেট। এই দুর্নীতির টাকা দিয়ে রাজধানী ঢাকা এবং এর আশেপাশে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের সাম্রাজ্য।

আবুল খায়েরের স্থাবর-অস্ত্রাবর সম্পদের খতিয়ান:
বেনামী ফ্ল্যাট: ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় আবুল খায়েরের নামে ও স্বজনদের বেনামে অন্তত ২৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। ন্যাশনাল হাউজিং ও পূর্বাচলে জমি, মোহাম্মাদপুরে ন্যাশনাল হাউজিংয়ের বিশাল ফ্ল্যাটসহ ঢাকার পূর্বাচলে রয়েছে একাধিক কোটি টাকার প্লট ও জমি।

ময়মনসিংহে বিঘায় বিঘায় জমি:

ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহের গ্রামীণ ও শহরতলী এলাকায় নামে-বেনামে বিঘায় বিঘায় কৃষিজমি ও খামারবাড়ি কিনে রেখেছেন এই প্রকৌশলী। এবিষয়ে আবুল খায়েরের সাথে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি তবে এক ঠিকাদার দিয়ে কথা বলতে চেষ্টা করেন।

তদন্তের দাবি:

ও দেশের সরকারি দপ্তরগুলোতে শুদ্ধি অভিযান দুর্নীতিবিরোধী তৎপরতা জোরদার হলেও এই ‘মিস্টার ৫%’ খ্যাত প্রকৌশলী আবুল খায়ের এখনো তার বেনামী সম্পদ ও প্রভাব টিকিয়ে রাখতে নানাভাবে তদবির চালাচ্ছেন। সাধারণ ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সৎ কর্মকর্তারা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার সকল অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭ বার পড়া হয়েছে

চাকুরীর বয়স শেষ তবুও প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া গণপূর্তের আবুল খায়ের!

আপডেট সময় ১২:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোস্তম মল্লিক

চাকুরীর বয়স মাত্র এক মাস থাকলেও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: আবুল খায়ের। তিনি এ পদ থেকে দক্ষ প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে সরিয়ে নিজে পদটি দখলে নানা পথে চেষ্টা তদবীর চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মোটা অংকের টাকা ব্যয় করে প্রধান প্রকৌশলী মো: খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে কালবেলা পত্রিকায় ব্যানার হেডিং এ নিউজ ছাপিয়ে সেটাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন । অন্য দিকে টাকার ব্রিফকেস হাতে দৌড়াচ্ছেন মন্ত্রী, সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল খায়ের সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও গণপূর্ত খাতের বড় বড় প্রজেক্ট থেকে কমিশন বা কাটমানি নেওয়াকে অলিখিত নিয়মে পরিণত করেছেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তিনি পরিচিত ‘মিস্টার ৫%’ নামে। গোপালগঞ্জ থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, রংপুর, কুমিল্লা হয়ে ঢাকা-চাকরিজীবনের যেখানেই তার পোস্টিং হয়েছে, সেখানেই জড়িয়েছেন নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অনিয়মে। ঠিকাদারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন শত কোটি টাকার সম্পদ। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তার এই দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য।

প্রবেশদ্বার: ছাত্রলীগ কোটা ও গোপালগঞ্জ কানেকশন’:

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাকরিজীবনের শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছেন প্রকৌশলী আবুল খায়ের। তৎকালীন সচিব শহীদুল্লাহর বিশেষ সুপারিশে ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয় তিনি
গোপালগঞ্জ জোনে প্রভাবশালী পোস্টিং বাগিয়ে নেন। সেখানে থাকাকালীন ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রভাবশালী নেতা শেখ সেলিম এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাথে তার গভীর ‘দহরম মহরম’ সম্পর্ক গড়ে ওধে এই রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে পুঁজি করে পরবর্তীতে তিনি অন্য ঊধর্বতন কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা না করে একাছত্র আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন।

টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ: চট্টগ্রাম জোনে ৩% কাটমানি ও পিসি:

চট্টগ্রাম জোনে থাকাকালীন প্রকৌশলী আবুল খায়ের দুর্নীতি ভিন্ন মাত্রা পায়। তিনি সেখানে প্রজেক্টের প্রতিটি কাজে ৩% করে কমিশন বা কাটমানি নেওয়া বাধ্যতামূণ মূলক করেন। সে সময় প্রচলিত পিসি টেন্ডার’ (পার্সেন্টেজ শেয়ারিং টেন্ডার) ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি একাই কামিয়েছেন ১০০ কোটি টাকা। কোনো ঠিকাদার কমিশন দিতে অস্বীকৃতি আনালে তার দিল আটকে দেওয়া বা ব্ল্যাকলিস্ট করার হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি এক্সইন এইচডি এস সহ বড় বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, সাধারণ ঠিকাদার ও সাধারণ কর্মকর্তাদের সর্বদা নিজস্ব ক্ষমতার দাপটে দাবিয়ে রাখতেন তিনি।

কুমিল্লার এমপির তোপের মুখে অপসারণ:

চট্টগ্রামের পর কুমিল্লায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখে পড়েন খায়রুজ্জামান। কুমিল্লার তৎকালীন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সাথে টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে এমপি বাহারের তীব্র আপত্তির মুখে তাকে কুমিল্লা জোন থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

রংপুর জোনে দুর্নীতি ও ৭১ টিভিতে লাইভ সাক্ষাৎকার:

রংপুর জোনে বদলি হওয়ার পরও আবুল খায়েরের দুর্নীতির চাকা থামেনি। সেখানে তার বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন ঠিকাদার সরাসরি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি টেলিভিশন ‘৭১ টিভি’-তে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা তার বিরুদ্ধে সরাসরি লাইভ ফিড সাক্ষাৎকার দেন।

ন্যাশনাল হাউজিংয়ে ৫০ কোটির কেলেঙ্কারি:

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বা গণপূর্তের অন্যান্য খাতের পাশাপাশি ন্যাশনাল হাউজিং অথরিটিতে থাকাকালীনও তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সেখানে সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ, নকশা অনুমোদন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তিনি প্রায় ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা জোনে ‘মিস্টার ৫% এবং ২৪ ফ্ল্যাটের মালিকানা:

বর্তমানে ঢাকা জোনে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার নাম হয়ে গেছে ‘মিস্টার ৫% পারসেন্টা। প্রজেক্ট অনুমোদন কিংবা ঠিকাদারদের বিল পাসের জন্য ৫% কমিশন দেওয়া এখন ওপেন সিক্রেট। এই দুর্নীতির টাকা দিয়ে রাজধানী ঢাকা এবং এর আশেপাশে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের সাম্রাজ্য।

আবুল খায়েরের স্থাবর-অস্ত্রাবর সম্পদের খতিয়ান:
বেনামী ফ্ল্যাট: ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় আবুল খায়েরের নামে ও স্বজনদের বেনামে অন্তত ২৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। ন্যাশনাল হাউজিং ও পূর্বাচলে জমি, মোহাম্মাদপুরে ন্যাশনাল হাউজিংয়ের বিশাল ফ্ল্যাটসহ ঢাকার পূর্বাচলে রয়েছে একাধিক কোটি টাকার প্লট ও জমি।

ময়মনসিংহে বিঘায় বিঘায় জমি:

ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহের গ্রামীণ ও শহরতলী এলাকায় নামে-বেনামে বিঘায় বিঘায় কৃষিজমি ও খামারবাড়ি কিনে রেখেছেন এই প্রকৌশলী। এবিষয়ে আবুল খায়েরের সাথে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি তবে এক ঠিকাদার দিয়ে কথা বলতে চেষ্টা করেন।

তদন্তের দাবি:

ও দেশের সরকারি দপ্তরগুলোতে শুদ্ধি অভিযান দুর্নীতিবিরোধী তৎপরতা জোরদার হলেও এই ‘মিস্টার ৫%’ খ্যাত প্রকৌশলী আবুল খায়ের এখনো তার বেনামী সম্পদ ও প্রভাব টিকিয়ে রাখতে নানাভাবে তদবির চালাচ্ছেন। সাধারণ ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সৎ কর্মকর্তারা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার সকল অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের জোর দাবি জানিয়েছেন।