এদিকে চিঠিপত্র নিষ্পত্তিতেও দেখা গেছে কর্মকর্তাদের উদ্যোগের ঘাটতি। এই পরিস্থিতিতে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। তিনি অডিটে আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া অনিষ্পন্ন নথি ও চিঠি দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রম গতিশীল করতে চার মাসের মধ্যে ‘ডি-নথি’র ব্যবহার ৮০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওই মাসের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সভার আলোচনায় উঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন অদক্ষতা ও অবহেলার চিত্র। ওই সমন্বয় সভার কার্যপত্র বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
সভার কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে ২৮টি অডিট আপত্তির জবাব নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও মাত্র পাঁচটি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) আটটি বিভাগীয় মামলা অনিষ্পন্ন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি এক বছরের বেশি এবং ছয়টি ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। তবে মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় চিঠিপত্র নিষ্পত্তির হার ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে বলেও তাতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কার্যপত্র অনুযায়ী, জুলাই মাসে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার ১৯টি অডিট আপত্তির ব্রডশিট জবাব নিয়ে কাজ করে অডিট শাখা-১। এর মধ্যে মাত্র দুটি আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য পূর্ত অডিট অধিদপ্তরে সুপারিশসহ পাঠানো হয়। বাকি ১৭টির জবাব যথাযথ না হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থাকে পুনরায় জবাব দিতে বলেছে পূর্ত অডিট কর্তৃপক্ষ।
অডিট শাখা-২ জুলাই মাসে আরও ৯টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে তিনটি আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হলেও ছয়টি অডিট আপত্তির প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকায় পুনরায় জবাব চেয়েছে। দুই শাখার হিসাব অনুযায়ী, মোট ২৮টি অডিট আপত্তির মধ্যে ২৩টির ক্ষেত্রেই জবাব বা প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে। এসব আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দুটি অডিট কমিটি গঠন করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি অডিটে আর্থিক দুর্নীতি চিহ্নিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। গুরুতর আপত্তির ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়েছে সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।
বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সমন্বয় সভায়। সভায় জানানো হয়েছে, জুলাই মাসে গণপূর্ত অধিদপ্তরে মোট ১১টি বিভাগীয় মামলা ছিল। এর মধ্যে তিনটি নিষ্পত্তি হয়েছে। অবশিষ্ট আটটি বিভাগীয় মামলা এখনো নিষ্পত্তি করা যায়নি। এসব মামলার ৬টি ছয় মাসের বেশি এবং দুটি এক বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার ছয় মাস ও এক বছরের বেশি সময় ধরে অনিষ্পন্ন বিভাগীয় মামলার সঠিক পরিসংখ্যান পরবর্তী সমন্বয় সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কার্যপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলোর চিঠিপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছ। জুলাই মাসে ভূমি ব্যবস্থাপনা শাখা-২-এ ১১৬টি চিঠির মধ্যে ১০০টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ১৬টি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এ শাখায় নিষ্পত্তির হার ৮৬ দশমিক ২০ শতাংশ। পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখা-১-এর ১০১টি চিঠির মধ্যে ৯৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে, অনিষ্পন্ন রয়েছে ছয়টি। শাখা-২-এর ১৩টি চিঠির মধ্যে সাতটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ছয়টি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এ দুই শাখায় নিষ্পত্তির হার যথাক্রমে ৯৪ দশমিক ৫ ও ৮৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।
অনিষ্পন্ন চিঠি দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথিতে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন গণপূর্ত সচিব। এ সময় প্রতিটি শাখাকে প্রতি মাসের প্রথম তিন কার্যদিবসের মধ্যে আগের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষসহ ছয়টি নবগঠিত কর্তৃপক্ষের প্রবিধানমালা ও সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির কাজ এখনো চলমান রয়েছে বলে সভার কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া সভায় মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কার্যক্রমেও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী চার মাসের মধ্যে মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রম ডি-নথিতে নোট নিষ্পত্তির হার ৮০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নথির নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পুরোনো নথির কাভার পরিবর্তন এবং দাপ্তরিক নথি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ‘সচিবালয় নির্দেশমালা-২০২৪’ অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।










