০৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের শক্ত অবস্থানেও থামছে না চাঁদাবাজি

প্রতিনিধির নাম:

ফুটপাতে দোকান বসানো, বাজার-ঘাট, বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির আধিপত্য নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষ, এমনকি হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি অনেক সময় অস্ত্রধারী-পেশাদার সন্ত্রাসীরাও অংশ নিচ্ছে।

সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছেন।। তবে শুরুর দিকে সরকার যতটা শক্ত অবস্থানে ছিল, তা ছয় মাসে এসে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। কেননা চাঁদাবাজির ঘটনা বন্ধ না হয়ে বরং বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আরও জড়িয়ে পড়ছেন। তবে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকেও অভিযুক্ত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার বা সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতেও দেখা গেছে।

সম্প্রতি রাজধানীর নিউ মার্কেট, মিরপুর, পল্লবী, মৌচাক এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসানো, দখলদারত্ব ও চাঁদা তোলার জেরে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক দলের অন্তর্কোন্দলে প্রাণহানিও ঘটেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা ছাড়াও স্থানীয় ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি করছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পদক্ষেপের পরও থেমে নেই চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তালিকা করা হয়েছে। সেটি প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করা হচ্ছে। এ সুযোগে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরাও তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে। তবে পুলিশ চাঁদাবাজ, দখলদারত্বসহ নানা অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক খবরের কাগজকে বলেন, ‘চাঁদাবাজি আগেও ছিল, এখনো রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে চাঁদাবাজি আরও বেগবান হয়েছে। চাঁদাবাজি বন্ধে মূলত রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে বেশি জরুরি। কিন্তু রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা সেটা কতটুকু চান, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বর্তমান সরকার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রথম দিকে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছিল, সেগুলো খুব ইতিবাচক ছিল। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে চাঁদাবাজি বন্ধ বা অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করি।’

গত ১১ আগস্ট রাত ৯টার দিকে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতের দোকান দখল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে যুবদল ও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় উভয় পক্ষের ১৬ জন আহত হন। এ ঘটনায় ১২ আগস্ট কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বেচ্ছাচারিতা, পেশিশক্তি প্রদর্শন এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টিসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের পাঁচজন এবং ঢাকা কলেজ শাখার ছাত্রদলের পাঁচজনসহ ১০ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কৃত যুবদলের নেতারা হলেন নিউ মার্কেট থানার সদস্যসচিব কে এম চঞ্চল, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্যসচিব শাহাদাত, যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার ও সুমন ওরফে চায়না সুমন। বহিষ্কৃত ছাত্রদলের নেতারা হলেন ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন শিকদার, প্রিন্স খন্দকার, সদস্য সাগর খান ও মির্জা গোলাম রায়হান। এ ছাড়া নিউ মার্কেট থানা যুবদলের আহ্বায়ক মিজান ব্যাপারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

চাঁদাবাজি, দখলদারি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে গত ২৯ জুলাই চাঁদপুরে বিএনপির তিনজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ৫ মে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এর আগে ২২ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাদ মসজিদ মার্কেট এলাকায় দেশীয় অস্ত্রসহ একটি দোকানে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর, মারধর করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দোকানের মালিক মো. লিটন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮-১০ জনকে আসামি করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তার আগে ৮ জুন রাত ৮টার দিকে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে সালিশ বৈঠকের মধ্যে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় রমনা থানা যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুসহ ২১ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিবসহ এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ৯ জন আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনের ফুটপাতের দোকানগুলোর চাঁদা তোলা নিয়ে বিরোধের জেরে বিল্লালকে হত্যা করা হয় বলে জানান তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া গত ৬ জুলাই সন্ধ্যায় দিনাজপুরে আব্দুস সামাদ নামের এক কৃষককে অপহরণ করে মুক্তিপণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুনসহ পাঁচজনকে একটি প্রাইভেট কারসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন সংগঠনের নেতা হাসিন ইশরাক মিম (২২), আজমির হোসেন (২২), সমজিদুল মিনহাজ (২১) ও হৃদয় হোসেন (২২)। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ৫ জুলাই সদর উপজেলার ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের খোশালপুর পুকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আব্দুস সামাদকে (৫৯) অপহরণ করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, অপহরণের পর তার পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল।

গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আবদুল কাইয়ুম  বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকার, রাজনৈতিক দল ও সমাজের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৫৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
২৪ বার পড়া হয়েছে

সরকারের শক্ত অবস্থানেও থামছে না চাঁদাবাজি

আপডেট সময় ০৯:৫৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ফুটপাতে দোকান বসানো, বাজার-ঘাট, বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির আধিপত্য নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষ, এমনকি হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি অনেক সময় অস্ত্রধারী-পেশাদার সন্ত্রাসীরাও অংশ নিচ্ছে।

সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছেন।। তবে শুরুর দিকে সরকার যতটা শক্ত অবস্থানে ছিল, তা ছয় মাসে এসে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। কেননা চাঁদাবাজির ঘটনা বন্ধ না হয়ে বরং বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আরও জড়িয়ে পড়ছেন। তবে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকেও অভিযুক্ত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার বা সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতেও দেখা গেছে।

সম্প্রতি রাজধানীর নিউ মার্কেট, মিরপুর, পল্লবী, মৌচাক এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসানো, দখলদারত্ব ও চাঁদা তোলার জেরে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক দলের অন্তর্কোন্দলে প্রাণহানিও ঘটেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা ছাড়াও স্থানীয় ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি করছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পদক্ষেপের পরও থেমে নেই চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তালিকা করা হয়েছে। সেটি প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করা হচ্ছে। এ সুযোগে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরাও তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে। তবে পুলিশ চাঁদাবাজ, দখলদারত্বসহ নানা অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক খবরের কাগজকে বলেন, ‘চাঁদাবাজি আগেও ছিল, এখনো রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে চাঁদাবাজি আরও বেগবান হয়েছে। চাঁদাবাজি বন্ধে মূলত রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে বেশি জরুরি। কিন্তু রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা সেটা কতটুকু চান, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বর্তমান সরকার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রথম দিকে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছিল, সেগুলো খুব ইতিবাচক ছিল। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে চাঁদাবাজি বন্ধ বা অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করি।’

গত ১১ আগস্ট রাত ৯টার দিকে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতের দোকান দখল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে যুবদল ও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় উভয় পক্ষের ১৬ জন আহত হন। এ ঘটনায় ১২ আগস্ট কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বেচ্ছাচারিতা, পেশিশক্তি প্রদর্শন এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টিসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের পাঁচজন এবং ঢাকা কলেজ শাখার ছাত্রদলের পাঁচজনসহ ১০ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কৃত যুবদলের নেতারা হলেন নিউ মার্কেট থানার সদস্যসচিব কে এম চঞ্চল, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্যসচিব শাহাদাত, যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার ও সুমন ওরফে চায়না সুমন। বহিষ্কৃত ছাত্রদলের নেতারা হলেন ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন শিকদার, প্রিন্স খন্দকার, সদস্য সাগর খান ও মির্জা গোলাম রায়হান। এ ছাড়া নিউ মার্কেট থানা যুবদলের আহ্বায়ক মিজান ব্যাপারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

চাঁদাবাজি, দখলদারি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে গত ২৯ জুলাই চাঁদপুরে বিএনপির তিনজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ৫ মে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এর আগে ২২ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাদ মসজিদ মার্কেট এলাকায় দেশীয় অস্ত্রসহ একটি দোকানে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর, মারধর করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দোকানের মালিক মো. লিটন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮-১০ জনকে আসামি করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তার আগে ৮ জুন রাত ৮টার দিকে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে সালিশ বৈঠকের মধ্যে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় রমনা থানা যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুসহ ২১ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিবসহ এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ৯ জন আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনের ফুটপাতের দোকানগুলোর চাঁদা তোলা নিয়ে বিরোধের জেরে বিল্লালকে হত্যা করা হয় বলে জানান তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া গত ৬ জুলাই সন্ধ্যায় দিনাজপুরে আব্দুস সামাদ নামের এক কৃষককে অপহরণ করে মুক্তিপণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুনসহ পাঁচজনকে একটি প্রাইভেট কারসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন সংগঠনের নেতা হাসিন ইশরাক মিম (২২), আজমির হোসেন (২২), সমজিদুল মিনহাজ (২১) ও হৃদয় হোসেন (২২)। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ৫ জুলাই সদর উপজেলার ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের খোশালপুর পুকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আব্দুস সামাদকে (৫৯) অপহরণ করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, অপহরণের পর তার পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল।

গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আবদুল কাইয়ুম  বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকার, রাজনৈতিক দল ও সমাজের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে।