একটি ফেইসবুক পোষ্ট এবং কিছু কথা!
শামীম আহমেদ
সংবাদপত্র সমাজের দর্পন-কথাটি সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রচলিত। এ দর্পনের রশদ যোগান দিয়ে থাকেন নিরলস পরিশ্রমী এক ঝাঁক কর্মী, যাদেরকে সাংবাদিক নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। সংবাদ পত্রে প্রকাশিত সত্য, সঠিক এবং বস্তুুনিষ্ঠ সংবাদকে অস্বীকার করে দায়ভার এড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে কিছু ব্যক্তি। তাদেরই একজন সদ্য সরকারী চাকুরী হতে অবসরে যাওয়া সরকারের গ্রেড-১ পদ মর্যাদার কর্মকর্তা মুহঃ মাহবুবর রহমান। যিনি অকপটে স্বীকার করেছেন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ তার কর্মকান্ডকে বিতর্কিত করেছে এবং তাকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে।
২৩ জানুয়ারী ২০২৪ এর বেলা ২.৫৩ মিঃ সময় মুহঃ মাহবুবর রহমান এর দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেলাম বলেই দুটি কথা লিখে গেলাম…. ১১ দফায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে দেয়া পোষ্টটি পর্যালোচনা করলে বিবেকবান যে কেউ অনুধাবন করতে পারবেন-কি পরিমাণ হীনমন্যতায় নিমজ্জিত হলে সরকারের গ্রেড-১ পদ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত একজন সরকারী কর্মকর্তা এ ধরনের একটি পোষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করতে পারেন।
পোষ্টটির ৩নং ক্রমিকে উল্লিখিত- আমি সকল স্বার্থ, স্বত্ত্ব ও অধিকার ত্যাগ করে আজ চলে যাবো।পরবর্তী চেয়ারম্যান কে আসবে, তার কাজের মান কেমন হবে, আপনাদের সাথে তার সম্পর্ক কেমন হবে… এসব নিয়ে আমার কোন আগ্রহ নেই। আমার স্বপ্ন নিজেই গড়ি, নিজেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। আমার স্বপ্ন অন্যকারও হাতে তুলে দিতে পছন্দ করি না। আমার পরিকল্পানা সময় উপযোগী… সময়বদ্ধ। আমি পরিকল্পনা গ্রহণ করি আমার সক্ষমতা, শক্তি ও সাধ্য অনুসারে। আমার কর্ম নিয়ে কোন অপূর্ণতা বা অতৃপ্তি নেই। কৃতজ্ঞতা সেই মহান আল্লাহর প্রতি, আর যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন।
৪নং ক্রমিকে উল্লিখিত- নিয়মতান্ত্রিক অবসর ও বিদায়কে নিয়ে যারা আনন্দ-উল্লাস করছেন…. তাদের এজগৎ ত্যাগি স্বজনদের জন্য মাগফেরাত কামনা করছি। ৫নং ক্রমিকে উল্লিখিত- আপনাদের অনেকের বিশ্বাস… বিসিক আপনাদের প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, প্রশাসনসহ সবকিছু আপনাদের কথা বা ইচ্ছামতো চলবে। বিসিকের অর্থ আপনারা যেমন খুশি তেমন খরচ করবেন। আমি বলেছি, বিসিক বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রের আইন-বিধি অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হবে। আমি বিসিকের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও উচ্চগামি করার সর্বাতœক চেষ্টা করেছি। সফলতা কম নয়…
৬নং ক্রমিকে উল্লেখিত- আমি সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিষ্ঠা, সততা, শিষ্টাচার, আর্থিক বিধি- বিধান ও অনুশাসন অনুসরণ করেই প্রশাসন পরিচালনার চেষ্টা করেছি। তারপরও একটি দুষ্টুচক্র আমার কর্মকান্ডকে বিতর্কীত করার জন্য তথাকথিত দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকায় কুরুচিপূর্ণ নোংরা ও মিথ্যা খবর প্রচারে নীবিড় সহায়তা করেছে। তারা এখানে শেষ করেনি, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিকট সেগুলি প্রেরণের মাধ্যমে আমার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করেছে। এতে আমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এটা অনৈতিক, এ প্রবণতা পরিহার করা বাঞ্ছনীয়, অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি তলানিতে পৌছে যাবে। এ ধরণের কাজে নিযুক্তদের জন্য আমার সহানুভূতি বা কোন ধরণের ভালোবাস বা আশীর্বাদ রইলো না। তাদের এসব অপকর্মের বিচারের ভার আল্লাহর উপর অর্পন করে আমি মুক্তি পেতে চাই।
৭নং ক্রমিকে উল্লেখিত- সকল প্রতিকূলতা, ভয়-ভীতি, ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে উপস্থিত অধিকাংশ কর্মকর্তা/কর্মচারি আমাকে সহযোগিতা করেছেন, পাশে থেকেছেন… তাদের জন্য প্রার্থনা রইলো। সরকারি সফরে যারা আমার ও আমার পরিবারের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন, অন্ন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ আপনাদের স্ত্রী, সন্তানসহ সকলকে ভালো রাখুন।
৮নং ক্রমিকে উল্লেখিত- বিসিকে উপযুক্ত জনবলের ব্যপক ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে নেতৃত্ব দানের মতো প্রজ্ঞাবান, মেধাবি, অভিজ্ঞ, বয়োজ্যেষ্ঠ সহিষ্ণু, পরিশ্রমী কর্মচারির বড়ধরণের সংকটের কারণে বিসিক সকল ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারছে না। দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন পূর্বে একটি চামড়াজাতপণ্য উৎপাদন ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বিসিককে অক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেছেন। অতিসহসা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ সহজ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সাথে ১৭৫ জনের বেশি কর্মচারি নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান সম্ভব হলে এ ঘাটতি পূরণে একটি ভালো টীম গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। এ জন্য পরিচালনা পর্ষদকে শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হবে।
৯নং ক্রমিকে উল্লেখিত- আজ চলে যাবার পর কারও সাথে আমার কোন নিয়মিত বা অনিয়মিত যোগাযোগ থাকবে না। আমি যোগাযোগের চেষ্টাও করবো না। তবে আপনাদের কেউ যদি যোগাযোগ রক্ষা করেন তবে খুশী হবো।
১০নং ক্রমিকে উল্লেখিত আছে- আমার ও আমার পরিবারের প্রতি আপনারা কোন ক্ষোভ বা কষ্ট রাখবেন না। আসুন… আমরা পরস্পরকে ক্ষমা করি। ক্ষমা রাসুল (স.) এর আদর্শ। আমরা এ আদর্শকে অনুসরণ করি।
৬নং ক্রমিকে উল্লিখিত আমি সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিষ্ঠা, সততা, শিষ্টাচার, আর্থিক বিধি- বিধান ও অনুশাসন অনুসরণ করেই প্রশাসন পরিচালনার চেষ্টা করেছি-যা একজন আমলার শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার। তথাকথিত দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকায় কুরুচিপূর্ণ নোংরা ও মিথ্যা খবর প্রচারে নীবিড় সহায়তা করেছে। তারা এখানে শেষ করে নি, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিকট সেগুলি প্রেরণের মাধ্যমে আমার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করেছে। এতে আমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এটা অনৈতিক, এ প্রবণতা পরিহার করা বাঞ্ছনীয়, অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি তলানিতে পৌছে যাবে। তথাকথিত দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকা উল্লেখ করে তিনি সরকারের নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমে বিরুপ মনোভাব প্রদর্শনের ধৃৃষ্টতা দেখিয়েছেন। নিজের ব্যর্থতার দায়ভার এড়ানোর জন্য কুরুচিপূর্ণ নোংরা ও মিথ্যা খবর প্রচারের কথা বলতে পারলেও প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করার সাহস দেখাতে না পারার বিষয়টি সংবাদ পত্রে প্রকাশিত সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতার অন্যতম প্রমাণক হিসেবে কাজ করে।
বিসিক চেয়ারম্যান পদে তার কার্যকালে ডিসেম্বর ২০২১ হতে এ প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত তার অদক্ষতা, অযোগ্যতা, অপেশাদারসুল্ভ আচরণ, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, টেন্ডার বানিজ্য, নিয়োগ বানিজ্য, বে-আইনী কার্যক্রম, সংসদীয় আইন অবমাননা, সরকারী গেজেট নোটিফিকেশন লংঘন, অমানবিক আচরণ, মানবতা বিরোধী কার্যক্রম জাতীয় শ্লোগান জয় বাংলা এবং জাতির পিতার স্মরণে লিখা ব্যানার ভাংচুর এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের অবমাননা ও অন্যান্য প্রাসংগিক বিষয়ে ৪০টির অধিক সংবাদ প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
৭নং ক্রমিকে দেয়া লিখিত বক্তব্যে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে উল্লিখিত তার সৃষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা গ্রহনের বিষয়টি প্রকারান্তরে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। ৮নং ক্রমিকে উল্লিখিত বিষয়টির দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রি বিসিক-কে অক্ষম প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করেছেন চেয়ারম্যান পদে মুহঃ মাহবুবর রহমান অধিষ্ঠিত সময়ের কর্মকান্ডের প্রেক্ষিতে। তার স্মরণ রাখা দরকার ছিল একটি প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হয় বা অক্ষম হয় কর্তাব্যক্তির অদক্ষতা, অযোগ্যতা, অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার কারণে। যোগ্যতা সম্পন্ন কোন প্রশাসকের (প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তির) অধীনে পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান কখনও ব্যর্থ বা অক্ষম হয়না।
যোগদানের পর হতে বিসিকের কর্মকান্ডে স্থবিরতা আনার লক্ষ্যে উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিতভাবে কার্য সম্পাদনের অফুরন্ত নজির রয়েছে তার কর্মকালীন সময়ের, যার প্রতিটি বিষয়ের দালিলিক প্রমাণ পত্রিকা কর্তৃপক্ষের হাতে আসার কারণে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। ৮নং ক্রমিকের একটি অংশে উল্লিখিত-অতিসহসা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ সহজ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি না মর্মে যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তিনি তার মধ্যে লুকায়িত আছে রহস্য। তিনি এমন কিছু কাজ করে গেছেন যা অপসারণ করে বিসিকের হারানো গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে।
প্রজ্ঞাবান, মেধাবি, অভিজ্ঞ, বয়োজ্যেষ্ঠ সহিষ্ণু, পরিশ্রমী কর্মচারির বড়ধরণের সংকটের কারণে বিসিক সকল ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারছে না। এ সংকট তৈরীর দায়ভার মুহঃ মাহবুবর রহমান কোনভাবেই এড়াতে পারেন না।
মুহঃ মাহবুবর রহমান এর দেয়া পোষ্টে তার অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, স্বেচ্ছাচারিতা, অযোগ্যতা, অদক্ষতা, মিথ্যাচার ও হীনমন্যতার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বিষয়টিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল মহল কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহন করবে এমন প্রত্যাশাই করে দেশের সচেতন নাগরিকগণ।
















