০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নড়াইলে পরিবহন নেতা বাবুল মোল্লার ত্রাসের রাজত্ব: ১৫০ টাকার কলারম্যান থেকে পরিবহন কোম্পানীর মালিক!

প্রতিনিধির নাম:

নড়াইল প্রতিনিধি:

 

নড়াইলে বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির এক নেতার ত্রাসের রাজত্ব চলছে। তাকে ও তার বাহিনীকে চাঁদা দিতে দিতে অস্থির হয়ে পড়েছেন সাধারণ পরিবহন মালিকরা। কেবল চাঁদাবাজিই নয়, পেশিশক্তি প্রদর্শন করে অপরের জায়গা-জমি দখল, শালিসী জরিমানা আদায়, ইউনিয়ন পরিষদে দাদাগিরি করে তিনি এখন কোটিপতি বনে গেছেন। তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মাদক ও হুন্ডি ব্যবসাও। নড়াইলে ভারত থেকে আসা চোরাচালানী পণ্যের বাজারও তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। তার রয়েছে নিজেস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। এই বাহিনীকে এলাকাবাসী বাবুল মোল্লার হোন্ডা বাহিনী হিসাবে চেনে। রয়েছে সুরক্ষিত টর্চার সেল।

বাবুল মোল্লার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানাগেছে, তিনি ২০১০ সালে নড়াইলের গোবরা সড়কে দৈনিক ১৫০ টাকা বেতনে পরিবহনের কলারম্যান হিসাবে কাজ করতেন। হঠাত করে ২০১৪ সালে তিনি একখানা মিনিবাস ক্রয় করে পরিবহন মালিক বনে যান। এই মিনিবাস ক্রয়ের পর বাবুল মোল্লাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি যেন হাতে সোনার হরিণ পেয়ে যান। এক এক করে তিনি অনেকগুলো বাসের মালিক হন। এক সময় নড়াইলের গোটা পরিবহন সেক্টর তার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। শুরু হয় বেশুমার চাঁদাবাজি,চোরাচালান ও এলাকায় প্রভাব বিস্তার। ২০১৪ সালে তিনি নড়াইল বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ পদে আসীন হন। এরপর  ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি নড়াইল বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির বিভিন্ন পদে থেকে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি করে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, পরিবহন সেক্টরে নিজের আধিপত্য সৃষ্টির পর তিনি নজর দেন ভদ্রবিলা ইউনিয়ন পরিষদের দিকে। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে হস্তগত করে ভদ্রবিলা ইউনিয়নে শুরু করেন তদবীর ও দালালী। এ পথেও তিনি অনেক টাকা আয় করেছেন এখনো করছেন।

তার পরিচয় অনুসন্ধানে জানাগেছে, তিনি নড়াইল জেলার সদর উপজেলার পলইডাঙ্গা গ্রামের গোলাম মোল্লার পুত্র। তার বাবা একজন দিন মজুর ছিলেন। তিনি এক সময় পলইডাঙ্গা হাটের দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কর্মচারি ছিলেন। ২০০৬ সালের উপ নির্বাচনে মো: জাহাংগীর আলম ভদ্রবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বাবুল মোল্লা তার ডান হাত বনে যান।পরবর্তীতে তাকে জিম্মি করে  এরপর ইউনিয়ন পরিষদের সকল সেবামূলক কাজ যেমন: জন্ম নিবন্ধন,নাগরিকত্ব সনদ,প্রতিবন্দ্বী ও বয়স্কভাতার কার্ড,ওয়ারিশ সনদ,টিআর,কাবিখা,কাবিটাসহ সকল প্রকার উন্নয়ন বরাদ্দে  নির্ধারিত হারে ঘুস নিয়ে প্রচুর অবৈধ টাকা অর্জন করেন। ইউনিয়ন পরিষদকে ঘুসের হাটে পরিণত করেন। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা-ঘাট-ব্রীজ-কালভার্টের কাজ ও হাট- বাজার উন্নয়ন না করেই ভুয়া -বিল ভাউচারে লক্ষ -লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন। ২০১৬ সালে নির্বচিত চেয়ারম্যান শহিদুর রহমানকে মিথ্যা মামলায় আদালত ফাঁসির আদেশ দিলে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মোশাররফ মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মোশাররফ হোসেন ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনিও ৫/১০ হাজার টাকা ছাড়া পরিষদের সেবামূলক কোন কাজ করতেন না। ২০২১ সালে পুণ: নির্বাচনে জালিয়াতির মাধ্যমে মাত্র ৭ ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জনৈক সজিব মোল্লা। তখন বাবুল মোল্লা আবারও পরিষদের কর্তৃত্ব ফিরে পান। এবার তিনি সিন্ডিকেটের মাদ্যমে পরিষদের ডিজিটাল সেবা নিয়ন্ত্রণ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।

আরো জানাগেছে, ২০২২ এর ২৫ শে জুন পদ্মা সেতু চালু হলে নড়াইল টু ঢাকা রুটে (পদ্মা সেতুু হয়ে) চলাচলকারী বাস প্রতি ২০/২৫ লক্ষ টাকা চাঁদা নিয়ে তবেই রুট পারমিট দেন বাবুল মোল্লা সিন্ডিকেট। কিন্তু মালিক সমিতিতে সেই টাকা জমা হয়নি। এভাবে মোট ৭৫ টি বাসের রুট পারমিট বিক্রি করে বাবুল মোল্লা সিন্ডিকেট  আয় করেছে ২০/২৫ কোটি টাকা।

এভাবে অবৈধপথে টাকা উপার্জন করে পরিবহন নেতা বাবুল মোল্লা যে সম্পদ অর্জন করেছেন তা নিন্মরুপ: নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহন লি:,গাড়ী নং যশোর-র-১১-০২২৪,ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৫২২৯, ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৯৭২১, যশোর-ব-১১-০১৪৬,ফরিদপুর-ব-১১-০০৩৭। পরিবহন কোম্পানীর নাম: কলাই শাহ। নড়াইল শহরে ভওয়াখালী মৌজায় ১০ শতাংশ জমি যার মুল্য কমপক্ষে ১ কোটি টাকা। নড়াইল চৌরাস্তা বাজার ও রূপগঞ্জ বাজারে ২ টি দোকান যা পৌরসভা থেকে ৯৯ বছরের লিজ নেওয়া । আনুমানিক মুল্য ১.৫ কোটি টাকা। গ্রামে অব্যাধুনিক দোতলা বাড়ী,যার মুল্য ১ কোটি টাকা। মটর বাইক ২ খানা,মুল্য ৬ লক্ষ  টাকা। এক্স করোলা প্রিমিও প্রাইভেট কার ১ টা ,মুল্য ২৮ লক্ষ টাকা। রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে স্ত্রী ও তার নামে কোটি টাকা এফডিআর করা। এ ছাড়া অনুসন্ধান করলে আরো অনেক সম্পদ পাওয়া যাবে।

বাবুল মোল্লার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে এলাকার যে সব মানুষ শাররীক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা হলেন: জহর কাজী পিতা মৃত মোদাচ্ছের কাজী,ফরিদ মোল্লা পিতা হামিদ মোল্লা, হাফিজুর রহমান মাকু পিতা: হবিবর ফকির,আলাউদ্দিন মোল্লা পিতা: জাহিদ মোল্লা। মর্ব সাং পইলডাঙ্গা। তার আক্রমণ  থেকে শিশু ও নারীরাও রক্ষা পায়নি। পাইলডাঙ্গা, মহারাগ,ভদ্রবিলা এলাকার অসংখ্য লোক তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে গেছেন অথবা ভয়ে আত্মগোপনে  আছেন। ভদ্রবিলা ইউনিয়নের কোন সরকারী অনুদান তার নির্দেশের বাইরে কেউ পান না। এমন কি নির্বাচিত কাউন্সিলরগণও নয়।

 

এলাকাবাসীর প্রশ্ন ১৫০ টাকা দৈনিক মজুরীর বাসের কলারম্যান বাবুল মোল্লা এতো সম্পদ কোন পথে অর্জন করলেন? তিনি কি আলাদীনের যাদুর চেরাগ পেয়েছেন? স্থানীয় পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন কেন তার আয়ের উতস খতিয়ে দেখছে না। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারাই বা করছেন কি? দুর্নীতি দমন কমিশন কি এসব চোখে দেখছে না? এলাকাবাসীর দাবী: সত্তর এই সাবেক কলারম্যান বর্তমান পরিবহন সেক্টরের গডফাদার বাবুল মোল্লার সম্পদের হিসাব তলব করা হোক। পরিবহন সেক্টরে বšধ করা হোক তার ত্রাসের রাজত্ব। এ ক্ষেত্রে তারা স্বরাস্ট্রমন্ত্রী,আইজিপি, খুলনা বিভাগের ডিআইজি,নড়াইলের জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার ও দুদক চেয়ারম্যানের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ দিকে পরিবহন নেতা বাবুল মোল্লা বলেন, জীবনে অনেক কষ্ট করে পরিবহন শ্রমিক থেকে মালিক হয়েছি। আমার কোন অবৈধ টাকা নেই। ইনকাম ট্যাক্স ফাইলে সব প্রদর্শন করা আছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:২৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪
৪৩৩ বার পড়া হয়েছে

নড়াইলে পরিবহন নেতা বাবুল মোল্লার ত্রাসের রাজত্ব: ১৫০ টাকার কলারম্যান থেকে পরিবহন কোম্পানীর মালিক!

আপডেট সময় ০২:২৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪

নড়াইল প্রতিনিধি:

 

নড়াইলে বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির এক নেতার ত্রাসের রাজত্ব চলছে। তাকে ও তার বাহিনীকে চাঁদা দিতে দিতে অস্থির হয়ে পড়েছেন সাধারণ পরিবহন মালিকরা। কেবল চাঁদাবাজিই নয়, পেশিশক্তি প্রদর্শন করে অপরের জায়গা-জমি দখল, শালিসী জরিমানা আদায়, ইউনিয়ন পরিষদে দাদাগিরি করে তিনি এখন কোটিপতি বনে গেছেন। তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মাদক ও হুন্ডি ব্যবসাও। নড়াইলে ভারত থেকে আসা চোরাচালানী পণ্যের বাজারও তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। তার রয়েছে নিজেস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। এই বাহিনীকে এলাকাবাসী বাবুল মোল্লার হোন্ডা বাহিনী হিসাবে চেনে। রয়েছে সুরক্ষিত টর্চার সেল।

বাবুল মোল্লার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানাগেছে, তিনি ২০১০ সালে নড়াইলের গোবরা সড়কে দৈনিক ১৫০ টাকা বেতনে পরিবহনের কলারম্যান হিসাবে কাজ করতেন। হঠাত করে ২০১৪ সালে তিনি একখানা মিনিবাস ক্রয় করে পরিবহন মালিক বনে যান। এই মিনিবাস ক্রয়ের পর বাবুল মোল্লাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি যেন হাতে সোনার হরিণ পেয়ে যান। এক এক করে তিনি অনেকগুলো বাসের মালিক হন। এক সময় নড়াইলের গোটা পরিবহন সেক্টর তার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। শুরু হয় বেশুমার চাঁদাবাজি,চোরাচালান ও এলাকায় প্রভাব বিস্তার। ২০১৪ সালে তিনি নড়াইল বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ পদে আসীন হন। এরপর  ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি নড়াইল বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির বিভিন্ন পদে থেকে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি করে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, পরিবহন সেক্টরে নিজের আধিপত্য সৃষ্টির পর তিনি নজর দেন ভদ্রবিলা ইউনিয়ন পরিষদের দিকে। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে হস্তগত করে ভদ্রবিলা ইউনিয়নে শুরু করেন তদবীর ও দালালী। এ পথেও তিনি অনেক টাকা আয় করেছেন এখনো করছেন।

তার পরিচয় অনুসন্ধানে জানাগেছে, তিনি নড়াইল জেলার সদর উপজেলার পলইডাঙ্গা গ্রামের গোলাম মোল্লার পুত্র। তার বাবা একজন দিন মজুর ছিলেন। তিনি এক সময় পলইডাঙ্গা হাটের দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কর্মচারি ছিলেন। ২০০৬ সালের উপ নির্বাচনে মো: জাহাংগীর আলম ভদ্রবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বাবুল মোল্লা তার ডান হাত বনে যান।পরবর্তীতে তাকে জিম্মি করে  এরপর ইউনিয়ন পরিষদের সকল সেবামূলক কাজ যেমন: জন্ম নিবন্ধন,নাগরিকত্ব সনদ,প্রতিবন্দ্বী ও বয়স্কভাতার কার্ড,ওয়ারিশ সনদ,টিআর,কাবিখা,কাবিটাসহ সকল প্রকার উন্নয়ন বরাদ্দে  নির্ধারিত হারে ঘুস নিয়ে প্রচুর অবৈধ টাকা অর্জন করেন। ইউনিয়ন পরিষদকে ঘুসের হাটে পরিণত করেন। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা-ঘাট-ব্রীজ-কালভার্টের কাজ ও হাট- বাজার উন্নয়ন না করেই ভুয়া -বিল ভাউচারে লক্ষ -লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন। ২০১৬ সালে নির্বচিত চেয়ারম্যান শহিদুর রহমানকে মিথ্যা মামলায় আদালত ফাঁসির আদেশ দিলে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মোশাররফ মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মোশাররফ হোসেন ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনিও ৫/১০ হাজার টাকা ছাড়া পরিষদের সেবামূলক কোন কাজ করতেন না। ২০২১ সালে পুণ: নির্বাচনে জালিয়াতির মাধ্যমে মাত্র ৭ ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জনৈক সজিব মোল্লা। তখন বাবুল মোল্লা আবারও পরিষদের কর্তৃত্ব ফিরে পান। এবার তিনি সিন্ডিকেটের মাদ্যমে পরিষদের ডিজিটাল সেবা নিয়ন্ত্রণ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।

আরো জানাগেছে, ২০২২ এর ২৫ শে জুন পদ্মা সেতু চালু হলে নড়াইল টু ঢাকা রুটে (পদ্মা সেতুু হয়ে) চলাচলকারী বাস প্রতি ২০/২৫ লক্ষ টাকা চাঁদা নিয়ে তবেই রুট পারমিট দেন বাবুল মোল্লা সিন্ডিকেট। কিন্তু মালিক সমিতিতে সেই টাকা জমা হয়নি। এভাবে মোট ৭৫ টি বাসের রুট পারমিট বিক্রি করে বাবুল মোল্লা সিন্ডিকেট  আয় করেছে ২০/২৫ কোটি টাকা।

এভাবে অবৈধপথে টাকা উপার্জন করে পরিবহন নেতা বাবুল মোল্লা যে সম্পদ অর্জন করেছেন তা নিন্মরুপ: নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহন লি:,গাড়ী নং যশোর-র-১১-০২২৪,ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৫২২৯, ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৯৭২১, যশোর-ব-১১-০১৪৬,ফরিদপুর-ব-১১-০০৩৭। পরিবহন কোম্পানীর নাম: কলাই শাহ। নড়াইল শহরে ভওয়াখালী মৌজায় ১০ শতাংশ জমি যার মুল্য কমপক্ষে ১ কোটি টাকা। নড়াইল চৌরাস্তা বাজার ও রূপগঞ্জ বাজারে ২ টি দোকান যা পৌরসভা থেকে ৯৯ বছরের লিজ নেওয়া । আনুমানিক মুল্য ১.৫ কোটি টাকা। গ্রামে অব্যাধুনিক দোতলা বাড়ী,যার মুল্য ১ কোটি টাকা। মটর বাইক ২ খানা,মুল্য ৬ লক্ষ  টাকা। এক্স করোলা প্রিমিও প্রাইভেট কার ১ টা ,মুল্য ২৮ লক্ষ টাকা। রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে স্ত্রী ও তার নামে কোটি টাকা এফডিআর করা। এ ছাড়া অনুসন্ধান করলে আরো অনেক সম্পদ পাওয়া যাবে।

বাবুল মোল্লার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে এলাকার যে সব মানুষ শাররীক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা হলেন: জহর কাজী পিতা মৃত মোদাচ্ছের কাজী,ফরিদ মোল্লা পিতা হামিদ মোল্লা, হাফিজুর রহমান মাকু পিতা: হবিবর ফকির,আলাউদ্দিন মোল্লা পিতা: জাহিদ মোল্লা। মর্ব সাং পইলডাঙ্গা। তার আক্রমণ  থেকে শিশু ও নারীরাও রক্ষা পায়নি। পাইলডাঙ্গা, মহারাগ,ভদ্রবিলা এলাকার অসংখ্য লোক তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে গেছেন অথবা ভয়ে আত্মগোপনে  আছেন। ভদ্রবিলা ইউনিয়নের কোন সরকারী অনুদান তার নির্দেশের বাইরে কেউ পান না। এমন কি নির্বাচিত কাউন্সিলরগণও নয়।

 

এলাকাবাসীর প্রশ্ন ১৫০ টাকা দৈনিক মজুরীর বাসের কলারম্যান বাবুল মোল্লা এতো সম্পদ কোন পথে অর্জন করলেন? তিনি কি আলাদীনের যাদুর চেরাগ পেয়েছেন? স্থানীয় পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন কেন তার আয়ের উতস খতিয়ে দেখছে না। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারাই বা করছেন কি? দুর্নীতি দমন কমিশন কি এসব চোখে দেখছে না? এলাকাবাসীর দাবী: সত্তর এই সাবেক কলারম্যান বর্তমান পরিবহন সেক্টরের গডফাদার বাবুল মোল্লার সম্পদের হিসাব তলব করা হোক। পরিবহন সেক্টরে বšধ করা হোক তার ত্রাসের রাজত্ব। এ ক্ষেত্রে তারা স্বরাস্ট্রমন্ত্রী,আইজিপি, খুলনা বিভাগের ডিআইজি,নড়াইলের জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার ও দুদক চেয়ারম্যানের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ দিকে পরিবহন নেতা বাবুল মোল্লা বলেন, জীবনে অনেক কষ্ট করে পরিবহন শ্রমিক থেকে মালিক হয়েছি। আমার কোন অবৈধ টাকা নেই। ইনকাম ট্যাক্স ফাইলে সব প্রদর্শন করা আছে।