০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিধিবর্হিভুত নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধের দাবী: নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি ও আর্থিক লেনেদেনের অভিযোগ!

প্রতিনিধির নাম:

 

মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে সভাপতি হুমায়ুন রশীদ মুহিতের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (সদস্য সচিব) কিছুই জানেন না অথচ: প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সমস্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন গভর্নিং বডির সভাপতি, নাকোল ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন রশীদ মুহিত। যা সরকারি বিধি বিধানের পরিপন্থী। একজন প্রার্থীকে নিয়োগ দানের শর্তে ২০ লাখ টাকা চুক্তিতে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম ঘুস নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
একাধিক সুত্রে জানাগেছে, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রথম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন ঢাকার সময়ের আলো এবং মাগুরার দৈনিক খেদমতে পত্রিকায়। যদিও বহুলপ্রচারিত পত্রিকায় দেবার কথা। সময় দেওয়া ছিল ১৩ দিন। পরে রেজুলেশন ছাড়া সংশোধনী দেওয়া হয় ১৫ দিনের অর্থাৎ আবেদনের শেষ তারিখ ০৩-০৩-২০২৪ এর স্থলে ০৬-০৩-২০২৪ করা হয়। গত ১০/০২/২০২৪ ইংরেজি তারিখের রেজুলেশনের বই সাবেক প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ১০ কেটে ০৬ লিখে সই করে আনা হয়। তাতে একই দিনে দুইজন প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর হয়ে যায়। যদিও এ বিষয়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কিছুই জানেন না। গত ০৭/০২/২০২৪ তারিখে অবসরে গিয়ে বর্তমান ভারপ্রাপÍ প্রধান শিক্ষককে রেজুলেশন খাতা দিয়েছেন ১২/০২/২৪ তারিখে । ০৫/০৩/২০২৪ ইংরেজি তারিখের সকল হিসেব বুঝে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা দেওয়া হয় নাই। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে একটি লিখিত আবেদন করলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাকে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সচিবের দায়িত্বও পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। অফিসিয়ালি সব কাজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হুমায়ুন রশীদ মুহিত নিজেই করছেন। শুন্যপদ ঘোষণা থেকে শুরু করে নিয়োগপত্র দেওয়া পর্যন্ত সকল কাগজপত্র প্রধান শিক্ষকের কাছে থাকার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে কোনো কাগজপত্র এবং আবেদন পত্রগুলো জমা দেওয়া হয়নি। গত ১৩/০৩/২০২৪ ইংরেজি তারিখে সচিবের অনুপস্থিতিতে নাকোল ইউনিয়ন পরিষদে বসে মিটিং করে অন্যজনের দিয়ে রেজুলেশন লেখানো হয়েছে। নিয়োগ কমিটির চিঠি সচিবের দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে সভাপতি নিজে চিঠি দিয়েছেন । ডিসির প্রতিনিধির সাথে সচিবকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না । বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতির কথা না শুনলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চাকরিচ্যুতো করে অন্যকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে বসিয়ে তাদের মনোনিত প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে সভাপতি ঘোষণা দিয়েছেন।
এলাকায় প্রচারণা চলছে যে,পাশর্^বর্তী ইউনিয়নের বরিশাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিশির কুমারকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দানের জন্য প্রায় ৩ মাস আগেই তার কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা গ্রহন করা হয়েছে। নিয়োগপত্র প্রদানের পর বাকি ১০ লক্ষ টাকা গ্রহন করার শর্ত রয়েছে। এখন কেবল নিযোগের ফরমালিটিজ পালন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানান, বিধি বর্হিভুতভাবে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করায় এবং দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ায় আগামী ০৫/০৪/২০২৪ তারিখের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় এ নিয়ে মামলা মোকর্দমার সৃষ্টি হতে পারে। বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হলে সেটি দুর্নীতিমুক্ত বা স্বচ্ছ হবে না। তাই তারা নিয়োগ কার্যক্রমটি বন্ধ করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুন: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার সুযোগ দান এবং শিক্ষা বিভাগের বিধি বিধান শতভাগ প্রতিপালন করে মাগুরা জেলা প্রশাসকের দপ্তরের নিয়ন্ত্রণে এই নিয়োগ সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হুমায়ুন রশীদ মুহিতের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নাগাল পাওয়া যায়নি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:১১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০২৪
২২৬ বার পড়া হয়েছে

বিধিবর্হিভুত নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধের দাবী: নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি ও আর্থিক লেনেদেনের অভিযোগ!

আপডেট সময় ০৫:১১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০২৪

 

মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে সভাপতি হুমায়ুন রশীদ মুহিতের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (সদস্য সচিব) কিছুই জানেন না অথচ: প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সমস্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন গভর্নিং বডির সভাপতি, নাকোল ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন রশীদ মুহিত। যা সরকারি বিধি বিধানের পরিপন্থী। একজন প্রার্থীকে নিয়োগ দানের শর্তে ২০ লাখ টাকা চুক্তিতে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম ঘুস নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
একাধিক সুত্রে জানাগেছে, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রথম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন ঢাকার সময়ের আলো এবং মাগুরার দৈনিক খেদমতে পত্রিকায়। যদিও বহুলপ্রচারিত পত্রিকায় দেবার কথা। সময় দেওয়া ছিল ১৩ দিন। পরে রেজুলেশন ছাড়া সংশোধনী দেওয়া হয় ১৫ দিনের অর্থাৎ আবেদনের শেষ তারিখ ০৩-০৩-২০২৪ এর স্থলে ০৬-০৩-২০২৪ করা হয়। গত ১০/০২/২০২৪ ইংরেজি তারিখের রেজুলেশনের বই সাবেক প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ১০ কেটে ০৬ লিখে সই করে আনা হয়। তাতে একই দিনে দুইজন প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর হয়ে যায়। যদিও এ বিষয়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কিছুই জানেন না। গত ০৭/০২/২০২৪ তারিখে অবসরে গিয়ে বর্তমান ভারপ্রাপÍ প্রধান শিক্ষককে রেজুলেশন খাতা দিয়েছেন ১২/০২/২৪ তারিখে । ০৫/০৩/২০২৪ ইংরেজি তারিখের সকল হিসেব বুঝে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা দেওয়া হয় নাই। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে একটি লিখিত আবেদন করলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাকে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সচিবের দায়িত্বও পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। অফিসিয়ালি সব কাজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হুমায়ুন রশীদ মুহিত নিজেই করছেন। শুন্যপদ ঘোষণা থেকে শুরু করে নিয়োগপত্র দেওয়া পর্যন্ত সকল কাগজপত্র প্রধান শিক্ষকের কাছে থাকার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে কোনো কাগজপত্র এবং আবেদন পত্রগুলো জমা দেওয়া হয়নি। গত ১৩/০৩/২০২৪ ইংরেজি তারিখে সচিবের অনুপস্থিতিতে নাকোল ইউনিয়ন পরিষদে বসে মিটিং করে অন্যজনের দিয়ে রেজুলেশন লেখানো হয়েছে। নিয়োগ কমিটির চিঠি সচিবের দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে সভাপতি নিজে চিঠি দিয়েছেন । ডিসির প্রতিনিধির সাথে সচিবকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না । বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতির কথা না শুনলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চাকরিচ্যুতো করে অন্যকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে বসিয়ে তাদের মনোনিত প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে সভাপতি ঘোষণা দিয়েছেন।
এলাকায় প্রচারণা চলছে যে,পাশর্^বর্তী ইউনিয়নের বরিশাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিশির কুমারকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দানের জন্য প্রায় ৩ মাস আগেই তার কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা গ্রহন করা হয়েছে। নিয়োগপত্র প্রদানের পর বাকি ১০ লক্ষ টাকা গ্রহন করার শর্ত রয়েছে। এখন কেবল নিযোগের ফরমালিটিজ পালন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানান, বিধি বর্হিভুতভাবে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করায় এবং দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ায় আগামী ০৫/০৪/২০২৪ তারিখের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় এ নিয়ে মামলা মোকর্দমার সৃষ্টি হতে পারে। বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হলে সেটি দুর্নীতিমুক্ত বা স্বচ্ছ হবে না। তাই তারা নিয়োগ কার্যক্রমটি বন্ধ করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুন: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার সুযোগ দান এবং শিক্ষা বিভাগের বিধি বিধান শতভাগ প্রতিপালন করে মাগুরা জেলা প্রশাসকের দপ্তরের নিয়ন্ত্রণে এই নিয়োগ সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হুমায়ুন রশীদ মুহিতের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নাগাল পাওয়া যায়নি