স্ত্রী প্রধান শিক্ষক স্বামী গভ: বডির সভাপতি: মাগুরার মোহাম্মদপুর বেথুলিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়াই গাছ বিক্রি করে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!
মাগুরা প্রতিনিধি
উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার,বন বিভাগ ও বিদ্যালয়ের গভর্ণিং বডির অনুমোদন ছাড়াই বিনা টেন্ডারে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের তিনটি রেইনট্রি গাছ বিক্রি করে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বেথুলিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমতিয়াজ বেগমের বিরুদ্ধে। স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানাগেছে,বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে তিনটি রেইনট্রি গাছ ছিল যা ছাত্র ছাত্রীদের ছায়া দিতো এবং অক্সিজেন সরবরাহ করতো। একই সাথে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বিদ্যালয়টিকে ছায়া শীতল রাখতো। গত সপ্তাহে হঠাত করে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীরা গাছ তিনটি কেটে নিয়ে যায়। খোঁজখবর নিলে তারা জানায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমতিয়াজ বেগম গাছ তিনটি ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। এই টাকা তিনি বিদ্যালয় ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাত করেছেন। জেলা শিক্ষা অফিসের সুত্রমতে,এমপিওভুক্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি করতে হলে বিদ্যালয় গভর্ণিং বডির রেজুলেশন,উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসার ও বন বিভাগের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধিকতা রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিধান আছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় গভর্ণিং বডির কোন রেজুলেশন ছাড়াই ইউএনও ও শিক্ষা অফিসারের অনুমোদনহীনভাবে পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করেই গোপনে গাছ তিনটি বিক্রি করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেথুলিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বিদ্যালয়ের গভর্ণিং বডির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিধি মোতাবেক গাছ কাটা হয়েছে। সেখানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। । উল্লেখ্য যে, তিনি প্রধান শিক্ষক ইমতিয়াজ বেগমের স্বামী ও মোহাম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। অপর দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পলাশ মন্ডল বলেন, তিনি বিষয়টিতে অবগত নন। জেলা শিক্ষা অফিসার মো: আলমগীর কবীর বলেন এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ইমতিয়াজ বেগম বলেন, সমস্ত বিধি বিধান অনুস্মরন করেই গাছ তিনটি বিক্রি করা হয়েছে। তবে তদস্বপক্ষে তিনি কোন রেজুলেশন বা ইউএনও এবং জেলা শিক্ষা অফিসের অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেন নি। কোন পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন সেটাও দেখাতে পারেন নি। বিধি বর্হিভুতভাবে বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের দায়ে বেথুলিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য এলাকাবাসী মাধ্যামিক শিক্ষার ডিজি, মাগুরা জেলা প্রশাসক, মোহাম্মদপুর উপজেলার ইউএনও ও মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিসারের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

















