মির্জাগঞ্জে চুরির মামলায় চুড়ান্ত রিপোর্ট না দেওয়ায় দারোগার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ!
মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
মির্জাগঞ্জে চুরির মামলায় চুড়ান্ত রিপোর্ট না দেওয়ায় এসআই মোঃ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ২১ আগস্ট বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি বরাবরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া এলাকার মোসাঃ শারমিন (৪০) নামে এক নারী এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করেন যে ওই মহিলার স্বামী মোঃ শামসুল হক জোমাদ্দারে বিরুদ্ধে ৪ এপ্রিল পটুয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে এসআই আবুল হোসেন আসামী গ্রেফতারের জন্য বাদীর নিকট ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ ছাড়াও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটান।
মির্জাগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, শামসুল হক জোমাদ্দার নামে কোন ব্যক্তির বিরুদ্বে থানায় রেজিষ্ট খাতায় কোন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) অন্তর্ভুক্ত নেই। তার স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলার আলোকে গত ৯ এপ্রিল আদালত আসামির প্রতি সমন জারি করেন। পরবর্তীতে শামসুল হক আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে, গত ১৪ মে আদালত আসামীকে জামিন মঞ্জুর করেন।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার এসআই আবুল হোসেনের কাছে অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, চলতি বছরের ২৬জুুন শামসুল হক ও স্ত্রী শারমিনের মধ্যে তালাক হয়। এরপর ১৯ জুলাই শামসুল হক বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে শারমিনের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেন। ওসি স্যার আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। এখানে উল্লেখ্য আমাকে চুরির মামলা তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অথচ আমার বিরুদ্বে একটি মিথ্যা যৌতুক মামলার তদন্তে ওয়ারেন্ট ভূক্ত আসামী ধরতে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে যা হাস্যকর বটে। যেখানে শামসুল হকের বিরুদ্ধে কোন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাই নেই সেখানে কীভাবে আসামি গ্রেফতারের জন্যে টাকা দাবি করবো। কথা হয় শামসুল হক জোমাদ্দারের সাথে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার ১ম স্ত্রী মারা যাবার পরে আমি শারমিনকে বিয়ে করি কিন্তু শারমিন যে এতো চরিত্রহীন তা আমি জানতাম না। আমার বয়স হয়েছে, আমি বয়সের ভারে নুয়ে পরেছি আমার ২য় স্ত্রী আমার অনুপস্থিতে একাদিক পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়ায়, আমি বিষয়টি জানতে পেরে তাকে কয়েক দফায় নিষেধ করেছি তিনি আমার কথা না শুনে তার অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমার ২য় স্ত্রী শারমিন তার আগের ঘরের সন্তানদের নামে আমার সম্পতি লিখি দেওয়ার জন্য কয়েকবার চাপ সৃষ্টিও করে। আমি সংসারে শান্তির জন্য তাকে এক লাখ টাকাও দিয়েছি এর পর সে আমার নামে ব্র্যাক লিগ্যাল এইডে অফিসে একটি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানী করেছে। পরবর্তীতে মির্জাগঞ্জ থানার এস আই ইব্র্রাহীম তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধে কোন তথ্য প্রমান না পাওয়ায় আমাকে এই অভিযোগ থেকে অব্যহতি দিয়েছে। এসব বিষয় আমার সাথে তার বনিবনাত না হওয়ায় আমি আইন কানুন মেনেই শারমিনকে তালাক দিয়েছি। তালাকের পরে শারমিন আমার বাড়িতে জোর পূর্বক অনধিকার প্রবেশ করে আমার বাড়ির মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এই চুরির মামলা তদন্ত করেন এসআই আবুল হোসেন। আমি মনে করি যে, চুরির মামলা চলমান থাকায় এই মামলাটি প্রভাবিত করার জন্য এসআই আবুল হোসেনের নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে আমার তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী শারমিন। এটি সঠিক তদন্ত হওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।
কথা হয় মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো :হাফিজুর রহমানের সাথে তিনি জানান, শামসুল হক জোমাদ্দারের নামে মির্জাগঞ্জ থানার কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই। শুধু আদালত থেকে সমন জারি হয়েছে। আর যেখানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই সেখানে আসামী গ্রেফতারের জন্য ঘুষ দাবি করা কতোটা সঠিক আপনারাই বলুন।

















