০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনির বিরুদ্ধে কোটি টাকার বদলী বাণিজ্যের অভিযোগ!

প্রতিনিধির নাম:

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাঃ আব্দুল গনির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসস্তোষ বিরাজ করছে। দুর্নীতি অভিযোগ তদন্তে সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল করার ফলে শিক্ষক সমাজ আরো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

এ দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল গনির হুংকার শিক্ষক সমাজ ভীতসন্ত্রস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। বিভাগীয় মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও স্টাফদের নিয়ে ঘনঘন মিটিং করছেন। তাদেরকে ভালো ভালো নাস্তা দিয়ে এক হয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
ক্লাস্টারের অনেক সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনির নির্দেশ মোতাবেক শিক্ষকদের হয়রানি করতে শুরু করেছেন। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আকস্মিক পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। ছোট খাট সূক্ষ্মাতিসূক্ষ দোষত্রুটি ও অনিয়ম খুঁজে বের করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষকগণ আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করেছেন। শিক্ষকগণ পাঠদানে মনোনিবেশ করতে পারছেন না।

এদিকে হোসনে ইয়াসমিন করিমী তার দায়সারা প্রতিবেদনে শিক্ষকদের গ্রুপিংয়ের বিষয় তুলে ধরেছেন । দালাল শ্রেণির ১০জন শিক্ষকের একটি গ্রুপ এবং সাধারণ শিক্ষকদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করার অপচেষ্টা করেছেন মাত্র। ফলে সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনির ছত্রছায়ায় যে সকল দালাল শিক্ষক আছেন তারা আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছেন। কোন শিক্ষককের সাথে কোন প্রকার মনোমালিন্য বা লেনদেনে ঝামেলা থাকলে গনিকে দিয়ে হুমকি ও মিথ্যা মৌখিক অভিযোগ করে সে সকল শিক্ষককে শাসানো শুরু হয়েছে।

অতীতে সাতক্ষীরা সদরের শিক্ষকবৃন্দ এ ধরনের অরাজক পরিস্থিতির সম্মূখীন হন নাই। কখন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকবৃন্দ জানান, সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনিকে অন্যত্র বদলির মাধ্যমে সঠিক তদন্তে মহাপরিচালক ও সচিব মহোদয় অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে তাদের বিশ্বাস। এজন্য তারা উর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কারণ সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি এখানে কর্মরত থাকলে তদন্ত বাধাগ্রস্থ করবেন। তার প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তা সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী কর্তৃক টাকার বিনিময়ে দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল। প্রমাণ পাওয়ার পরও সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনির বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করেন নি। বরং তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনিকে নিয়ে সকাল, দুপুর, বিকেল এমনকি সন্ধ্যায়ও নাস্তা-খাবারসহ চাইনিজ খেয়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসি রুমের দরজা বন্ধ করে দু’জনে আলাপচারিতায় লিপ্ত থেকেছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি অফিসে গেলে তার রুমে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু হেনা মোস্তফা কামাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পাশাপাশি দু’টি গেস্টরুমে দু’জন কয়েক বছর ধরে থাকছেন সেখানে তারা ব্যাতীত অন্য কোন স্টাফের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে।

সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনির অর্ধকোটি টাকার দুর্নীতি তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলাতিতে তিনি আরো বেশি বেপরোয়া আচরণ শুরু করছেন। শিক্ষকদের সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করছেন । “সাতক্ষীরা লোক অত্যন্ত খারাপ। এদের সাথে চলা যায় না” মর্মে সৃষ্টাচার বর্হিভুত কথা বার্ত্ াবলছেন। ফলে শিক্ষকবৃন্দ তাদের হাতে থাকা প্রমাণাদি এক এক করে প্রকাশ করতে চলেছেন।
জানাগেছে, ২০২১ সালের ব্যাক ডেটে আনুমানিক ২০-২৫টি বিদ্যালয়ের (যার হিসাব সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি ব্যতীত অন্য কারো কাছে নেই) শিক্ষক সমন্বয় বদলির মাধ্যমে কোটি টাকারও বেশি উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে। আগরদাড়ি সপ্রাবি হতে উত্তর কাটিয়া সপ্রাবি, মাহমুদপুর সপ্রাবি হতে কামালনগর সপ্রাবি, গোদাঘাটা সপ্রাবি হতে সিলভার জুবিলী মডেল সপ্রাবি, বাঁশঘাটা সপ্রাবি হতে বাটকেখালী সপ্রাবি, মাছখোলা সপ্রাবি হতে সাতানী সপ্রাবি এর শিক্ষক ও শূন্যপদ সমন্বয়কৃত বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখযোগ্যভাবে শোনা যাচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে ০৪ মার্চ ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে জারিকৃত ৩৮.০০৮.০২২.০০.০০.০০২.২০১১-১৩১ সংখ্যক স্মারকে উল্লেখিত ধারা ৬.০ অনুযায়ী “জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাঁর নিজ অধিক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে একই উপজেলার বিদ্যালয় সমূহের মধ্যে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক ছাত্র সংখ্যার অনুপাত শিক্ষকদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার প্রয়োজনে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সুপারিশের আলোকে বিদ্যালয় ভিত্তিক শিক্ষক সমন্বয় ও বিদ্যালয়ওয়ারী শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংখ্যা নির্ধারণ করে তা উল্লেখপূর্বক আদেশ জারি করবেন”। একই ধারার ৬.৪ উপধারায় শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক ছাত্র সংখ্যার অনুপাত ১:৪০ এর উল্লেখ রয়েছে। অথচ সমন্বয় বদলির ক্ষেত্রে নীতিমালাকে উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি মনগড়া নীতিমালার প্রতিফলন ঘটিয়ে শিক্ষক সমন্বয় বদলি করতে দেখা গেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কোন আদেশ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ক্লাস্টার পর্যায়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট পৌঁছে দেওয়া হয় নাই। এমন কি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকও কোন আদেশ কাউকে দেখাচ্ছেন না। সংযুক্তির নামে শিক্ষকদের কাঙ্ক্ষিত বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়। তারপর তাদেরকে সমন্বয়ের আদেশ প্রদান করা হয়েছে অত্যন্ত সস্তর্পণে। শুধু ৬.৪ নয় বরং ৬.৩ উপধারাকেও সম্পূণরুপে উপেক্ষা করা হয়েছে। কারণ ৬.৩ উপধারায় বলা আছে- “বিভাগীয় উপপরিচালক বিষয়টি যাচাইবাছাই করে মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর এ ধরনের বদলির প্রস্তাব প্রেরণ করবেন”।
শিক্ষক বদলি হয়েছে ঠিকই কিন্তু নীতিমালার আলোকে নয়। বরং অর্থের বিবেচ্য বিষয়ে যাকে দেওয়া প্রয়োজন তাকেই বদলি করা হয়েছে। যে স্কুলে শিক্ষকের চাহিদা সে স্কুলে পাঠানো হয়েছে। এখানে সরকার ঘোষিত নীতিমালাকে সম্পূর্ণ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনিতার নিজ অধিক্ষেত্রে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সহযোগিতা নিয়ে স্বৈরাচারী রাজার ভূমিকা পালন করেছেন।
এ ধরনের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। কারণ কি জানতে চাইলে তারা বলেন, ০৮/০৫/২০২৩ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তা সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী কর্তৃক টাকার বিনিময়ে দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল করার ফলে আমাদের আস্থার জায়গা অত্যন্ত দূর্বল হয়ে গেছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে আমাদের কিছুই বলার নেই। ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে মহাপরিচালক ও সচিব মহোদয় তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দ্রত সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনিকে অন্যত্র বদলিসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

এদিকে শিক্ষক সমন্বয় বদলির ফলে যে সকল শিক্ষক বদলি হয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত স্কুলে পদসহ নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকে হতাশায় দিনতিপাত করছেন। কারণ সফটওয়ার ভিত্তিক হওয়ায় তাদের কারো কারো নাম অধিদপ্তরের সফটওয়ারে নেই বা পূর্বের স্কুলে রয়ে গেছে। ফলে সমন্বয়ের আদেশ প্রাপ্ত শিক্ষকগণ সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনির দ্বারস্থ হলেও কোন কাজ হচ্ছে না। অধিদপ্তরে ফোন করে তাদের নামের তালিকা লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন আব্দুল গনি । এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি আরেক দফা টাকা দাবি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন। শিক্ষকগণ আর টাকা দিতে পারছেন না। কোন কোন বদলিকৃত শিক্ষকের নিকট চা খাওয়ার নাম করে টাকা চাচ্ছেন। আবার ৫-১০ হাজার টাকা দিলেও নিচ্ছেন না। তার দাবি এক-দেড় লক্ষ টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৪৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০২৩
২৯১ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনির বিরুদ্ধে কোটি টাকার বদলী বাণিজ্যের অভিযোগ!

আপডেট সময় ০৭:৪৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০২৩

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাঃ আব্দুল গনির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসস্তোষ বিরাজ করছে। দুর্নীতি অভিযোগ তদন্তে সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল করার ফলে শিক্ষক সমাজ আরো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

এ দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল গনির হুংকার শিক্ষক সমাজ ভীতসন্ত্রস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। বিভাগীয় মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও স্টাফদের নিয়ে ঘনঘন মিটিং করছেন। তাদেরকে ভালো ভালো নাস্তা দিয়ে এক হয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
ক্লাস্টারের অনেক সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনির নির্দেশ মোতাবেক শিক্ষকদের হয়রানি করতে শুরু করেছেন। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আকস্মিক পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। ছোট খাট সূক্ষ্মাতিসূক্ষ দোষত্রুটি ও অনিয়ম খুঁজে বের করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষকগণ আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করেছেন। শিক্ষকগণ পাঠদানে মনোনিবেশ করতে পারছেন না।

এদিকে হোসনে ইয়াসমিন করিমী তার দায়সারা প্রতিবেদনে শিক্ষকদের গ্রুপিংয়ের বিষয় তুলে ধরেছেন । দালাল শ্রেণির ১০জন শিক্ষকের একটি গ্রুপ এবং সাধারণ শিক্ষকদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করার অপচেষ্টা করেছেন মাত্র। ফলে সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনির ছত্রছায়ায় যে সকল দালাল শিক্ষক আছেন তারা আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছেন। কোন শিক্ষককের সাথে কোন প্রকার মনোমালিন্য বা লেনদেনে ঝামেলা থাকলে গনিকে দিয়ে হুমকি ও মিথ্যা মৌখিক অভিযোগ করে সে সকল শিক্ষককে শাসানো শুরু হয়েছে।

অতীতে সাতক্ষীরা সদরের শিক্ষকবৃন্দ এ ধরনের অরাজক পরিস্থিতির সম্মূখীন হন নাই। কখন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকবৃন্দ জানান, সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনিকে অন্যত্র বদলির মাধ্যমে সঠিক তদন্তে মহাপরিচালক ও সচিব মহোদয় অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে তাদের বিশ্বাস। এজন্য তারা উর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কারণ সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি এখানে কর্মরত থাকলে তদন্ত বাধাগ্রস্থ করবেন। তার প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তা সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী কর্তৃক টাকার বিনিময়ে দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল। প্রমাণ পাওয়ার পরও সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনির বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করেন নি। বরং তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনিকে নিয়ে সকাল, দুপুর, বিকেল এমনকি সন্ধ্যায়ও নাস্তা-খাবারসহ চাইনিজ খেয়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসি রুমের দরজা বন্ধ করে দু’জনে আলাপচারিতায় লিপ্ত থেকেছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি অফিসে গেলে তার রুমে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু হেনা মোস্তফা কামাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পাশাপাশি দু’টি গেস্টরুমে দু’জন কয়েক বছর ধরে থাকছেন সেখানে তারা ব্যাতীত অন্য কোন স্টাফের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে।

সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনির অর্ধকোটি টাকার দুর্নীতি তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলাতিতে তিনি আরো বেশি বেপরোয়া আচরণ শুরু করছেন। শিক্ষকদের সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করছেন । “সাতক্ষীরা লোক অত্যন্ত খারাপ। এদের সাথে চলা যায় না” মর্মে সৃষ্টাচার বর্হিভুত কথা বার্ত্ াবলছেন। ফলে শিক্ষকবৃন্দ তাদের হাতে থাকা প্রমাণাদি এক এক করে প্রকাশ করতে চলেছেন।
জানাগেছে, ২০২১ সালের ব্যাক ডেটে আনুমানিক ২০-২৫টি বিদ্যালয়ের (যার হিসাব সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি ব্যতীত অন্য কারো কাছে নেই) শিক্ষক সমন্বয় বদলির মাধ্যমে কোটি টাকারও বেশি উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে। আগরদাড়ি সপ্রাবি হতে উত্তর কাটিয়া সপ্রাবি, মাহমুদপুর সপ্রাবি হতে কামালনগর সপ্রাবি, গোদাঘাটা সপ্রাবি হতে সিলভার জুবিলী মডেল সপ্রাবি, বাঁশঘাটা সপ্রাবি হতে বাটকেখালী সপ্রাবি, মাছখোলা সপ্রাবি হতে সাতানী সপ্রাবি এর শিক্ষক ও শূন্যপদ সমন্বয়কৃত বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখযোগ্যভাবে শোনা যাচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে ০৪ মার্চ ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে জারিকৃত ৩৮.০০৮.০২২.০০.০০.০০২.২০১১-১৩১ সংখ্যক স্মারকে উল্লেখিত ধারা ৬.০ অনুযায়ী “জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাঁর নিজ অধিক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে একই উপজেলার বিদ্যালয় সমূহের মধ্যে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক ছাত্র সংখ্যার অনুপাত শিক্ষকদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার প্রয়োজনে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সুপারিশের আলোকে বিদ্যালয় ভিত্তিক শিক্ষক সমন্বয় ও বিদ্যালয়ওয়ারী শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংখ্যা নির্ধারণ করে তা উল্লেখপূর্বক আদেশ জারি করবেন”। একই ধারার ৬.৪ উপধারায় শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক ছাত্র সংখ্যার অনুপাত ১:৪০ এর উল্লেখ রয়েছে। অথচ সমন্বয় বদলির ক্ষেত্রে নীতিমালাকে উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি মনগড়া নীতিমালার প্রতিফলন ঘটিয়ে শিক্ষক সমন্বয় বদলি করতে দেখা গেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কোন আদেশ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ক্লাস্টার পর্যায়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট পৌঁছে দেওয়া হয় নাই। এমন কি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকও কোন আদেশ কাউকে দেখাচ্ছেন না। সংযুক্তির নামে শিক্ষকদের কাঙ্ক্ষিত বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়। তারপর তাদেরকে সমন্বয়ের আদেশ প্রদান করা হয়েছে অত্যন্ত সস্তর্পণে। শুধু ৬.৪ নয় বরং ৬.৩ উপধারাকেও সম্পূণরুপে উপেক্ষা করা হয়েছে। কারণ ৬.৩ উপধারায় বলা আছে- “বিভাগীয় উপপরিচালক বিষয়টি যাচাইবাছাই করে মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর এ ধরনের বদলির প্রস্তাব প্রেরণ করবেন”।
শিক্ষক বদলি হয়েছে ঠিকই কিন্তু নীতিমালার আলোকে নয়। বরং অর্থের বিবেচ্য বিষয়ে যাকে দেওয়া প্রয়োজন তাকেই বদলি করা হয়েছে। যে স্কুলে শিক্ষকের চাহিদা সে স্কুলে পাঠানো হয়েছে। এখানে সরকার ঘোষিত নীতিমালাকে সম্পূর্ণ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনিতার নিজ অধিক্ষেত্রে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সহযোগিতা নিয়ে স্বৈরাচারী রাজার ভূমিকা পালন করেছেন।
এ ধরনের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। কারণ কি জানতে চাইলে তারা বলেন, ০৮/০৫/২০২৩ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তা সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী কর্তৃক টাকার বিনিময়ে দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল করার ফলে আমাদের আস্থার জায়গা অত্যন্ত দূর্বল হয়ে গেছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে আমাদের কিছুই বলার নেই। ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে মহাপরিচালক ও সচিব মহোদয় তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দ্রত সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনিকে অন্যত্র বদলিসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

এদিকে শিক্ষক সমন্বয় বদলির ফলে যে সকল শিক্ষক বদলি হয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত স্কুলে পদসহ নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকে হতাশায় দিনতিপাত করছেন। কারণ সফটওয়ার ভিত্তিক হওয়ায় তাদের কারো কারো নাম অধিদপ্তরের সফটওয়ারে নেই বা পূর্বের স্কুলে রয়ে গেছে। ফলে সমন্বয়ের আদেশ প্রাপ্ত শিক্ষকগণ সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনির দ্বারস্থ হলেও কোন কাজ হচ্ছে না। অধিদপ্তরে ফোন করে তাদের নামের তালিকা লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন আব্দুল গনি । এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি আরেক দফা টাকা দাবি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন। শিক্ষকগণ আর টাকা দিতে পারছেন না। কোন কোন বদলিকৃত শিক্ষকের নিকট চা খাওয়ার নাম করে টাকা চাচ্ছেন। আবার ৫-১০ হাজার টাকা দিলেও নিচ্ছেন না। তার দাবি এক-দেড় লক্ষ টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।