০৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুড়িচংয়ে এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষের ভয়ংকর জালিয়াতি!

প্রতিনিধির নাম:

স্টাফ রিপোর্টার

(গভর্ণিং বডির সভার রেজুলেশন জালিয়াতি,মাদ্রাসার টাকা তছরুপ ,সভাপতির স্বাক্ষর জাল করণ ও প্রবিধিমালা ভংগ করে বেআইনী আদেশ জারি)

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ফকির বাজার ইসলামিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পাওয়াগেছে। গভর্ণিং বডির সভার রেজুলেশন জালিয়াতি,মাদ্রাসার টাকা তছরুপ , সভাপতির স্বাক্ষর জাল করণ ও প্রবিধিমালা ভংগ করে বেআইনী আদেশ জারি,নিজের পুত্রকে চাকুরী প্রদান, শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি সৃষ্টি  ও গভর্ণিং বডির ৯ সদস্যকে পদত্যাগে উস্কানি প্রদান সহ সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুস দিয়ে অবৈধ ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছেন তিনি। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের  কার্যালয়ে জমা পড়েছে।

অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, ২০২২ সালের গত ২৪/০১/২০২২ ইং তারিখে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মো: হাশেম খানের সুপারিশে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জাতীয় শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মানিক কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ফকিরবাজার ইসলামিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার গর্ভণিং বডির সভাপতি মনোনিত হন। দায়িত্ব পেয়ে তিনি মাদ্রাসাটির ব্যাপক উন্নয়ন করেন এবং শিক্ষকদের মধ্যের দলাদলি নিরসন করেন।  পরবর্তীতে দেখতে পান যে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার অবৈধ ভাবে তার পুত্র কাজী মোস্তাফিজুর রহমানকে চাকুরী প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন। এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধিমালা ভংগ করে প্রতিষ্ঠানের আয়ের টাকা ব্যাংক হিসাবে না রেখে নিজের কাছে রাখেন। পরে ১৮ হাজার টাকা চুরি হয়েগেছে বলে জানান। অন্যদিকে অর্থের বিনিময়ে উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষক নিযোগের চেষ্টা করেন।

এসব বিষয়ে সভা আহবান করার জন্য গভর্ণিং বডির সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বারবার অধ্যক্ষকে লিখিত ভাবে অনুরোধ করলেও অধ্যক্ষ গভর্ণিং বডির সভা আহবান করেন নি। এত করে সভাপতি ও অধ্যক্ষের মধ্যে দ্বদ্বের সৃষ্টি হয়। সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে সভাপতির পদ থেকে সরাতে নানা প্রকার ফন্দি ফিকির করতে থাকেন অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার। এ পর্যায়ে তিনি গভর্ণিং বডির অন্যান্য সদস্যদের ম্যানেজ করে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করান। পরবর্তীতে গত ১৩/০৬/২০২২,২৫/০৬/২০২২ ও ২১/০৬/২০২২ ইং তারিখে তিনটি ভুয়া জরুরী মিটিং দেখিয়ে তিনটি রেজুলেশন করেন। এবং  সেসব সভায় সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে অনুপস্থিত দেখিয়ে তার ইচ্ছাখুশি মত  সিদ্দান্ত লিখে নিজে স্বাক্ষর করেন এবং সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর স্বাক্ষর ও সীল জাল করে রেজুলেশনে স্বাক্ষর করে দেন। পরবর্তীতে  গভর্ণিং বডির ৯ সদস্যের পদত্যাগ ও পরপর তিনিটি সভায় অনুপস্থিত জনিত কারণ দেখিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে গভর্ণিং কমিটি ভেংগে দিয়ে এডহক কমিটি গঠনের জন্য আবেদন করেন অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার। তদপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বুড়িচং  আব্দুল মান্নানকে  তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তিনি তদন্তকালে গভর্ণিং বডির সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে কোন প্রকার নোটশ বা জিজ্ঞাসাবাদ না করে অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এবং গভর্ণিং বডি ভেংগে দিয়ে এডহক কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন। এই তদন্ত রিপোর্টটি করাতে তার  ৫০/৬০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার তার অনুগত শিক্ষকদের কাছে স্বীকার করেছেন বলে প্রচার চলছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড প্রণীত গভর্ণিং বডি পরিচালনা ও বিলুপ্ত বা সাসপেন্ড ইত্যাদি প্রবিধিমালায় বলা আছে যে,গভর্ণিং বডির কোন সদস্য ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলে সেখানে অন্য সদস্য কো-অপ্ট করতে হবে। তাই বলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গভর্ণিং বডি ভেংগে দিয়ে এডহক কমিটি করা যাবে না। প্রবিধিমালায় আরো উল্লেখ আছে যে, কোন সভাপতিকে অপসারণ করতে হলে তাকে বিধি মোতাবেক ৩০ দিনের কারণ দর্শানোর নোটশ দিতে হবে। তার লিখিত জবাব নিতে হবে। এবং সেগুলো বিবেচনায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বা সুপারিশ করতে হবে। কিন্তু অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর ক্ষেত্রে কোনটিই করা হয়নি। মাদ্রাসা অধ্যক্ষের কাছ থেকে ৫০/৬০ হাজার টাকা ঘুস খেয়ে একপক্ষীয় তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মান্নান। তদপ্রেক্ষিতে গত ২৭/০৯/২০২২ ইং তারিখে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ,ঢাকা এর রেজিষ্টার মো: সিদ্দিকুর রহমান স্মারক নং বামাশিবো/প্রশা/৩৩৩২২১০৫৩১৭১/কুমিল্লা-২১৭/১৩৯ মোতাবেক গত ২৪/০১/২০২২ইং তারিখে অনুমেদিত গর্ভর্ণিং বডি ভেংগে দিয়ে এডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রদান করেন।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এই আদেশ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও নির্বাহী অফিসারের তদন্ত রিপোর্ট ও সুপারিশ প্রবিধিমালার বত্যয় ঘটিয়ে প্রভাবিত পন্থায় তৈরী ও জারি করার প্রেক্ষিতে সংক্ষুব্ধ সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী  মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওই আদেশ বাতিল চেয়ে গভর্ণিং বডির নতুন সদস্য কো-অপ্ট করত: গত ২৪/০১/২০২২ইং তারিখে অনুমেদিত গর্ভর্ণিং বডি বলবৎ রাখার লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল হাশেম খান ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয়ের  হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে ঘুস খেয়ে বুড়িচং ও কুমিল্লা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশারকে বেআইনী সহযোগিতা করেছেন তাদেরও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তিতর দাবী তুলেছেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার কিছু শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীর অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার তার দীর্ঘদিনের অপকর্ম আড়ালে রাখার জন্যই গভর্ণিং বডির সভাপতির বিরুদ্ধে নানা প্রকার ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি নিজের অর্থ ব্যয় করে সভাপতির বিরুদ্ধে একতরফা তদন্ত রিপোর্ট করিয়েছন। এ ছাড়া গভর্ণিং বডির সদস্যদের প্রলুব্ধ করে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন। অধ্যক্ষের শিক্ষাগত যোগ্যতার এম এ পাশ সনদ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তিনি মাত্র ১৯ বছরে কিভাবে এম এ পাশ করলেন তা খতিয়ে দেখার দাবী জানান তারা।

এ ছাড়া এই মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীর প্রকৃত সংখ্যা ও  শিক্ষা দানের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ রিপোর্টের তথ্য সংগ্রহকালে প্রায় এক সপ্তাহকাল মাদ্রাসা পরিদর্শন করে ১ম  ও চতুর্থ শ্রেণীতে ১ জন ছাত্র ছাত্রীও পাওয়া যায়নি। তৃতীয় ও ২য় শ্রেণীতে মাত্র একজন করে ছাত্র ছাত্রী পাওয়া যায়। ৫ম শ্রেণীতে মাত্র ৮ জন ও দশম শ্রেণীতে মাত্র ১১ জন ছাত্র ছাত্রী পাওয়া যায়। ২৫/০৮/২০২২ থেকে ৩০/০৮/২০২২ তারিখ পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম চালানো হয়।  মাদ্রাসাটিতে মোট ৪৪১ জন ছাত্র ছাত্রী ভর্তি দেখানো হলেও বাস্তবে আছে ২৫০/৬০ জন ছাত্র ছাত্রী । সরকার প্রতি মাসে এই মাদ্রাসার পেছনে ৬৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করছে যার সিংহভাগই অপচয় হচ্ছে।

এ ছাড়া অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার এর বিরুদ্ধে ছাত্র বলাৎকার,উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে অনুদান গ্রহন,মাদ্রাসার ইট,বালু ,সিমেন্ট , সুড়কি চুরি করে নিজ বাড়ীতে নিয়ে কাজে লাগিয়ে আত্মসাৎ এর অভিযোগ আছে। এ সব বিষয় আমাদের অনুসন্ধান চলছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয়গুলো এখন আইনী প্রক্রিয়ায় আছে। আমি আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছি । এ বিষয়ে আমার নিযুক্ত আইনজীবি ব্যারিস্টার সারওয়ার আলম কথা বলবেন। আপনি দয়া করে তার সাথে কথা বলুন। অধ্যক্ষের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে বার বার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। তার পুত্র জানান,বাবা এখন আমেরিকায় আছেন। (চলবে)

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:৩২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২
২৮২ বার পড়া হয়েছে

বুড়িচংয়ে এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষের ভয়ংকর জালিয়াতি!

আপডেট সময় ০২:৩২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার

(গভর্ণিং বডির সভার রেজুলেশন জালিয়াতি,মাদ্রাসার টাকা তছরুপ ,সভাপতির স্বাক্ষর জাল করণ ও প্রবিধিমালা ভংগ করে বেআইনী আদেশ জারি)

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ফকির বাজার ইসলামিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পাওয়াগেছে। গভর্ণিং বডির সভার রেজুলেশন জালিয়াতি,মাদ্রাসার টাকা তছরুপ , সভাপতির স্বাক্ষর জাল করণ ও প্রবিধিমালা ভংগ করে বেআইনী আদেশ জারি,নিজের পুত্রকে চাকুরী প্রদান, শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি সৃষ্টি  ও গভর্ণিং বডির ৯ সদস্যকে পদত্যাগে উস্কানি প্রদান সহ সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুস দিয়ে অবৈধ ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছেন তিনি। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের  কার্যালয়ে জমা পড়েছে।

অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, ২০২২ সালের গত ২৪/০১/২০২২ ইং তারিখে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মো: হাশেম খানের সুপারিশে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জাতীয় শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মানিক কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ফকিরবাজার ইসলামিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার গর্ভণিং বডির সভাপতি মনোনিত হন। দায়িত্ব পেয়ে তিনি মাদ্রাসাটির ব্যাপক উন্নয়ন করেন এবং শিক্ষকদের মধ্যের দলাদলি নিরসন করেন।  পরবর্তীতে দেখতে পান যে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার অবৈধ ভাবে তার পুত্র কাজী মোস্তাফিজুর রহমানকে চাকুরী প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন। এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধিমালা ভংগ করে প্রতিষ্ঠানের আয়ের টাকা ব্যাংক হিসাবে না রেখে নিজের কাছে রাখেন। পরে ১৮ হাজার টাকা চুরি হয়েগেছে বলে জানান। অন্যদিকে অর্থের বিনিময়ে উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষক নিযোগের চেষ্টা করেন।

এসব বিষয়ে সভা আহবান করার জন্য গভর্ণিং বডির সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বারবার অধ্যক্ষকে লিখিত ভাবে অনুরোধ করলেও অধ্যক্ষ গভর্ণিং বডির সভা আহবান করেন নি। এত করে সভাপতি ও অধ্যক্ষের মধ্যে দ্বদ্বের সৃষ্টি হয়। সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে সভাপতির পদ থেকে সরাতে নানা প্রকার ফন্দি ফিকির করতে থাকেন অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার। এ পর্যায়ে তিনি গভর্ণিং বডির অন্যান্য সদস্যদের ম্যানেজ করে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করান। পরবর্তীতে গত ১৩/০৬/২০২২,২৫/০৬/২০২২ ও ২১/০৬/২০২২ ইং তারিখে তিনটি ভুয়া জরুরী মিটিং দেখিয়ে তিনটি রেজুলেশন করেন। এবং  সেসব সভায় সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে অনুপস্থিত দেখিয়ে তার ইচ্ছাখুশি মত  সিদ্দান্ত লিখে নিজে স্বাক্ষর করেন এবং সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর স্বাক্ষর ও সীল জাল করে রেজুলেশনে স্বাক্ষর করে দেন। পরবর্তীতে  গভর্ণিং বডির ৯ সদস্যের পদত্যাগ ও পরপর তিনিটি সভায় অনুপস্থিত জনিত কারণ দেখিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে গভর্ণিং কমিটি ভেংগে দিয়ে এডহক কমিটি গঠনের জন্য আবেদন করেন অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার। তদপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বুড়িচং  আব্দুল মান্নানকে  তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তিনি তদন্তকালে গভর্ণিং বডির সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে কোন প্রকার নোটশ বা জিজ্ঞাসাবাদ না করে অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এবং গভর্ণিং বডি ভেংগে দিয়ে এডহক কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন। এই তদন্ত রিপোর্টটি করাতে তার  ৫০/৬০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার তার অনুগত শিক্ষকদের কাছে স্বীকার করেছেন বলে প্রচার চলছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড প্রণীত গভর্ণিং বডি পরিচালনা ও বিলুপ্ত বা সাসপেন্ড ইত্যাদি প্রবিধিমালায় বলা আছে যে,গভর্ণিং বডির কোন সদস্য ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলে সেখানে অন্য সদস্য কো-অপ্ট করতে হবে। তাই বলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গভর্ণিং বডি ভেংগে দিয়ে এডহক কমিটি করা যাবে না। প্রবিধিমালায় আরো উল্লেখ আছে যে, কোন সভাপতিকে অপসারণ করতে হলে তাকে বিধি মোতাবেক ৩০ দিনের কারণ দর্শানোর নোটশ দিতে হবে। তার লিখিত জবাব নিতে হবে। এবং সেগুলো বিবেচনায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বা সুপারিশ করতে হবে। কিন্তু অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর ক্ষেত্রে কোনটিই করা হয়নি। মাদ্রাসা অধ্যক্ষের কাছ থেকে ৫০/৬০ হাজার টাকা ঘুস খেয়ে একপক্ষীয় তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মান্নান। তদপ্রেক্ষিতে গত ২৭/০৯/২০২২ ইং তারিখে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ,ঢাকা এর রেজিষ্টার মো: সিদ্দিকুর রহমান স্মারক নং বামাশিবো/প্রশা/৩৩৩২২১০৫৩১৭১/কুমিল্লা-২১৭/১৩৯ মোতাবেক গত ২৪/০১/২০২২ইং তারিখে অনুমেদিত গর্ভর্ণিং বডি ভেংগে দিয়ে এডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রদান করেন।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এই আদেশ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও নির্বাহী অফিসারের তদন্ত রিপোর্ট ও সুপারিশ প্রবিধিমালার বত্যয় ঘটিয়ে প্রভাবিত পন্থায় তৈরী ও জারি করার প্রেক্ষিতে সংক্ষুব্ধ সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী  মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওই আদেশ বাতিল চেয়ে গভর্ণিং বডির নতুন সদস্য কো-অপ্ট করত: গত ২৪/০১/২০২২ইং তারিখে অনুমেদিত গর্ভর্ণিং বডি বলবৎ রাখার লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল হাশেম খান ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয়ের  হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে ঘুস খেয়ে বুড়িচং ও কুমিল্লা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশারকে বেআইনী সহযোগিতা করেছেন তাদেরও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তিতর দাবী তুলেছেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার কিছু শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীর অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার তার দীর্ঘদিনের অপকর্ম আড়ালে রাখার জন্যই গভর্ণিং বডির সভাপতির বিরুদ্ধে নানা প্রকার ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি নিজের অর্থ ব্যয় করে সভাপতির বিরুদ্ধে একতরফা তদন্ত রিপোর্ট করিয়েছন। এ ছাড়া গভর্ণিং বডির সদস্যদের প্রলুব্ধ করে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন। অধ্যক্ষের শিক্ষাগত যোগ্যতার এম এ পাশ সনদ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তিনি মাত্র ১৯ বছরে কিভাবে এম এ পাশ করলেন তা খতিয়ে দেখার দাবী জানান তারা।

এ ছাড়া এই মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীর প্রকৃত সংখ্যা ও  শিক্ষা দানের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ রিপোর্টের তথ্য সংগ্রহকালে প্রায় এক সপ্তাহকাল মাদ্রাসা পরিদর্শন করে ১ম  ও চতুর্থ শ্রেণীতে ১ জন ছাত্র ছাত্রীও পাওয়া যায়নি। তৃতীয় ও ২য় শ্রেণীতে মাত্র একজন করে ছাত্র ছাত্রী পাওয়া যায়। ৫ম শ্রেণীতে মাত্র ৮ জন ও দশম শ্রেণীতে মাত্র ১১ জন ছাত্র ছাত্রী পাওয়া যায়। ২৫/০৮/২০২২ থেকে ৩০/০৮/২০২২ তারিখ পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম চালানো হয়।  মাদ্রাসাটিতে মোট ৪৪১ জন ছাত্র ছাত্রী ভর্তি দেখানো হলেও বাস্তবে আছে ২৫০/৬০ জন ছাত্র ছাত্রী । সরকার প্রতি মাসে এই মাদ্রাসার পেছনে ৬৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করছে যার সিংহভাগই অপচয় হচ্ছে।

এ ছাড়া অধ্যক্ষ মুফতি কাজী আবুল বাশার এর বিরুদ্ধে ছাত্র বলাৎকার,উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে অনুদান গ্রহন,মাদ্রাসার ইট,বালু ,সিমেন্ট , সুড়কি চুরি করে নিজ বাড়ীতে নিয়ে কাজে লাগিয়ে আত্মসাৎ এর অভিযোগ আছে। এ সব বিষয় আমাদের অনুসন্ধান চলছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয়গুলো এখন আইনী প্রক্রিয়ায় আছে। আমি আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছি । এ বিষয়ে আমার নিযুক্ত আইনজীবি ব্যারিস্টার সারওয়ার আলম কথা বলবেন। আপনি দয়া করে তার সাথে কথা বলুন। অধ্যক্ষের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে বার বার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। তার পুত্র জানান,বাবা এখন আমেরিকায় আছেন। (চলবে)