চূড়ান্ত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোকে ৭টি অঙ্গীকার করার শর্ত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত করার অঙ্গীকার নেওয়া হবে দলগুলোর কাছ থেকে। সনদের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন না করার শর্ত রয়েছে। চূড়ান্ত সনদে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়টা দল একমত, একমত নয়, মতামত দেয়নি ও নোট অব ডিসেন্ট সংযুক্ত করা হয়েছে। সনদে বিদ্যমান সংবিধানে থাকা চার মূলনীতি বাদ দেওয়া হয়েছে। উচ্চকক্ষে রাখা হয়েছে পিআর পদ্ধতির নির্বাচন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অনিশ্চয়তায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন
শেষ মুহূর্তে এসে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কমিশনের পক্ষ থেকে বাস্তবায়নের চার পথের কথা বলা হলেও তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত রাজনৈতিক দলগুলো। বাস্তবায়নের আগে তারা প্রশ্ন তুলেছে চূড়ান্ত জুলাই সনদ নিয়ে। কমিশন ৮৪টি বিষয়ে একমত হয়েছে বলে দলগুলোকে জানালেও তা সঠিক নয় বলে জানায় দলগুলো। তাদের বক্তব্য, কমিশনের দাবি করা ঐকমত্য হওয়া বিষয়ে অনেক দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, আংশিক একমত হওয়ার ইস্যু রয়েছে। এসব বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তাই এটা চূড়ান্ত সনদ হতে পারে না। এ পরিস্থিতির মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের জন্য আজ বিকাল ৫টার মধ্যে প্রতিটি দলের কাছে দুজন সদস্যের নাম চেয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বিষয়টিকে চাপিয়ে দেওয়া বলে মন্তব্য করেছেন কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা। তারা বলেছেন- নিজেদের দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জুলাই সনদে আদৌ স্বাক্ষর করব কি না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে বৃহস্পতিবার ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। দিনব্যাপী ওই বৈঠকে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে ঐকমত্য হতে পারেনি দলগুলো। বরং কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবের নানা দিক নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন। সাংবিধানিক ও আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে বিশ্লেষণ করেন। পরে আগামীকাল (রবিবার) বিকালে ফের দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানায় কমিশন। ধরে নেওয়া হচ্ছে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের এটাই শেষ বৈঠক। তবে এতে কোনো সমাধান আসবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান দলগুলো। ওদিকে কমিশন জানিয়েছে, সনদ তৈরি ও বাস্তবায়নের পথ দেখানো পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব। সেটা পালন করেছি। এখন বাকি দায়িত্ব সরকারের। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। সেই সহযোগিতা তারা করবে কি না সে সিদ্ধান্ত একান্তই তাদের।
ট্যাগস :











