০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ বছরেও হয়নি বদলি! মাগুরা মশলা গবেষণা কেন্দ্রের কর্মচারী অগ্নি কুুমার সিকদারের হাতে আলাদীনের চেরাগ!

প্রতিনিধির নাম:

মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা আঞ্চলিক মশলা গবেষণা কেন্দ্রে এক কমর্চারির ১২ বছরের রাজত্ব চলছে। এই কর্মচারি মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুন্ডুর আত্মীয় বলে জানাগেছে। তার নাম অগ্নি কুমার শিকদার। হিসাব বিভাগের দায়িত্বে থাকার সুবাদে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ভুয়া বিল ভাউচারে লক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
মশলা গবেষণা কেন্দ্রের বীজ,ফসল, সার, যন্ত্রপাতি বিক্রি করে টাকা আত্মসা করেও আছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তার বস সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান মনির দুর্নীতির দায়ে চাকরীচ্যুত হলেও আওয়ামী নেতাদের তদবীরে তার কিছুই হয়নি।
শতভাগ আওয়ামীমনা এই কর্মচারী মশলা গবেষণা কেন্দ্রের টাকা লোপাট করে সেই টাকা দিয়ে মাগুরা নতুন বাজার দরি মাগুরার শাহা পাড়ায় ৫ কাঠা জমি কিনে বহুতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এই বাড়ির বাজার মুল্য কমপক্ষে কোটি টাকা।
এ ছাড়া তিনি ভারতেও টাকা পাচার করেছেন মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে হিসাব বিভাগ থেকে সরিয়ে শ্রমিক বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
একাধিক সুত্রে আরো জানাগেছে, বিগত সময়ে সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামানের ডান হাত হয়ে সব কাজ করতেন এই অগ্নি কুমার শিকদার। তখন বড় বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। মাগুরার গডফাদার সাইফুজ্জামান শিখরের ৭/৮ জন লোককে চাকুরী দিয়ে সে যাত্রা রক্ষা পান ততসময় বারির মহাপরিচালক নিজে এই ঘটনা তদন্ত করতে আসেন।
মশলা গবেষণা কেন্দ্রের উৎপাদিত ফসল,ফলফলাদী,সার,বীজ,মেশিনারিজ সব গোপনে বিক্রি করে সেই টাকা সরকারী কোষাগারে নাম মাত্র জমা দিয়ে সিংহভাগ টাকা তারা ভাগাভাগি করে নেন।
অগ্নি কুমার সিকদার মৌসুমি শ্রমিক পদে চাকরী দান ও চাকুরী স্থায়ী করার কথা বলে শতাধিক যুবকের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩ লক্ষ টাকা হরে নিয়েছেন বলে প্রচার আছে। এই টাকা নাকি মহাপরিচালক ও পরিচালক প্রশাসনকে দিতে হবে। কিন্তু আজ পাঁচ বছর গত হলেও সেটি সমাধা করতে পারেন নি।
তিনি আজ থেকে প্রায় একযুগ আগে মাগুরা আঞ্চলিক মশলা গবেষণা কেন্দ্র যোগদান করলেও অদ্যাবধি তার বদলী হয়নি। অর্থাৎ তার ক্ষেত্র বদলী আইন কার্যকর নয়। তিনি গাজীপুর প্রধান কার্যালয়ের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে খুশি করে বছরের পর বছর একই স্টেশনে চাকুরী করে যাচ্ছেন। ফলে তার হাতে সবাই জিম্মি হয়ে পড়েছেম্ন। এমন একজন দুর্নীতিবাজ কর্মচারী কিভাবে আজো বিভাগীয় শাস্তিমুক্ত রয়েছেন সেটাই এখন জেলাবাসীর প্রশ্ন।
মাগুরার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা এ ক্ষেত্রে মহাপরিচালকের দ্রত পদক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত ও অনুসন্ধান দাবী করেছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫
২৭৪ বার পড়া হয়েছে

১২ বছরেও হয়নি বদলি! মাগুরা মশলা গবেষণা কেন্দ্রের কর্মচারী অগ্নি কুুমার সিকদারের হাতে আলাদীনের চেরাগ!

আপডেট সময় ০৯:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫

মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা আঞ্চলিক মশলা গবেষণা কেন্দ্রে এক কমর্চারির ১২ বছরের রাজত্ব চলছে। এই কর্মচারি মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুন্ডুর আত্মীয় বলে জানাগেছে। তার নাম অগ্নি কুমার শিকদার। হিসাব বিভাগের দায়িত্বে থাকার সুবাদে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ভুয়া বিল ভাউচারে লক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
মশলা গবেষণা কেন্দ্রের বীজ,ফসল, সার, যন্ত্রপাতি বিক্রি করে টাকা আত্মসা করেও আছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তার বস সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান মনির দুর্নীতির দায়ে চাকরীচ্যুত হলেও আওয়ামী নেতাদের তদবীরে তার কিছুই হয়নি।
শতভাগ আওয়ামীমনা এই কর্মচারী মশলা গবেষণা কেন্দ্রের টাকা লোপাট করে সেই টাকা দিয়ে মাগুরা নতুন বাজার দরি মাগুরার শাহা পাড়ায় ৫ কাঠা জমি কিনে বহুতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এই বাড়ির বাজার মুল্য কমপক্ষে কোটি টাকা।
এ ছাড়া তিনি ভারতেও টাকা পাচার করেছেন মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে হিসাব বিভাগ থেকে সরিয়ে শ্রমিক বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
একাধিক সুত্রে আরো জানাগেছে, বিগত সময়ে সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামানের ডান হাত হয়ে সব কাজ করতেন এই অগ্নি কুমার শিকদার। তখন বড় বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। মাগুরার গডফাদার সাইফুজ্জামান শিখরের ৭/৮ জন লোককে চাকুরী দিয়ে সে যাত্রা রক্ষা পান ততসময় বারির মহাপরিচালক নিজে এই ঘটনা তদন্ত করতে আসেন।
মশলা গবেষণা কেন্দ্রের উৎপাদিত ফসল,ফলফলাদী,সার,বীজ,মেশিনারিজ সব গোপনে বিক্রি করে সেই টাকা সরকারী কোষাগারে নাম মাত্র জমা দিয়ে সিংহভাগ টাকা তারা ভাগাভাগি করে নেন।
অগ্নি কুমার সিকদার মৌসুমি শ্রমিক পদে চাকরী দান ও চাকুরী স্থায়ী করার কথা বলে শতাধিক যুবকের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩ লক্ষ টাকা হরে নিয়েছেন বলে প্রচার আছে। এই টাকা নাকি মহাপরিচালক ও পরিচালক প্রশাসনকে দিতে হবে। কিন্তু আজ পাঁচ বছর গত হলেও সেটি সমাধা করতে পারেন নি।
তিনি আজ থেকে প্রায় একযুগ আগে মাগুরা আঞ্চলিক মশলা গবেষণা কেন্দ্র যোগদান করলেও অদ্যাবধি তার বদলী হয়নি। অর্থাৎ তার ক্ষেত্র বদলী আইন কার্যকর নয়। তিনি গাজীপুর প্রধান কার্যালয়ের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে খুশি করে বছরের পর বছর একই স্টেশনে চাকুরী করে যাচ্ছেন। ফলে তার হাতে সবাই জিম্মি হয়ে পড়েছেম্ন। এমন একজন দুর্নীতিবাজ কর্মচারী কিভাবে আজো বিভাগীয় শাস্তিমুক্ত রয়েছেন সেটাই এখন জেলাবাসীর প্রশ্ন।
মাগুরার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা এ ক্ষেত্রে মহাপরিচালকের দ্রত পদক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত ও অনুসন্ধান দাবী করেছেন।