০৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যবস্থা নিচ্ছে না শিল্প মন্ত্রণালয়: বিসিকে মো: সরোয়ারের দুর্নীতির রাজত্ব চলছেই !

প্রতিনিধির নাম:

বিশেষ প্রতিবেদক
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধিনে পরিচালিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশ (বিসিক) এক কর্মকর্তার দুর্নীতির রাজত্ব চলছে। এই কর্মকর্তার পরামর্শ বা মতামতেই চলছে যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম।।ফলে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিসিক কর্তৃপক্ষের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জয়বাংলা জাতীয় শ্লোগান এবং জাতির পিতার স্মরণে উচ্চারিত শ্লোগান এবং জাতির পিতার স্মরণে খচিত ব্যানার ভাংচুর, পা দিয়ে মোড়ানো এবং সরকারী অফিসে লাঠির আমদানীকারক ব্যক্তি শুদ্ধাচার পুরষ্কার প্রাপ্ত হলে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন প্রয়োজন হয়না। ডাল মে কুছ কালা হায়। এ বিষয়ে সচিত্র একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বেশ কয়েকটি প্রিন্ট ও আনলাইন পত্রিকায়। তাছাড়া জাতীয় শ্লোগান এবং জাতির পিতার অবমাননাকারী পেলেন শুদ্ধাচার পুরষ্কার শিরোনামেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্ত এই মারাত্মক অভিযোগের কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি তৎকালীন বিসিক চেয়ারম্যান মুহঃ মাহবুবর রহমান তথা বিসিক কর্তৃপক্ষ।
বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক থেকে অবৈধভাবে লবণ সেলের প্রধান হিসাবে কর্মরত এই কর্মকর্তার নাম মোঃ সরোয়ার হোসেন। বিসিকের চাকুরীতে ২০১৫ সালে প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন বিসিক নৈপুন্য বিকাশ কেন্দ্র গোপালগঞ্জ শীর্ষক একট প্রকল্পের ৬ষ্ঠ গ্রেডের উপব্যবস্থাপক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা হিসাবে। সরকারের প্রচলিত নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে বে-আইনীভাবে ৫ম গ্রেডে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন ২০২০ সালে। পদোন্নতি প্রাপ্তির পর হতে অদ্যবাধি ৫ বছর লবণসেল প্রধানের একই পদে কর্মরত আছেন সরকারের প্রচলিত বদলীর সাধারণ শর্তাবলী ভংগ করে।
ইতিমধ্যেই মোঃ সরোয়ার হোসেন সুখ্যাতি অর্জন করেছেন বিসিকের বেনজীর-আজিজ হিসাবে। ২০১৫ সালে বিসিকের চাকুরীতে যোগদান করে ৯ বছরে হাতে পেয়েছেন আলাদিনের চেরাগ। এ সময় চাকুরী করে কোটি টাকা মূল্যের একাধিক ফ্লাট বুকিং দিয়েছেন মোঃ সরোয়ার হোসেন।
তিনি মাসিক বেতন ভাতা পান তিনি সব মিলিয়ে ৭৫ হাজার টাকা। অথচ তার মাসিক ব্যয় দেড় লক্ষ টাকার উপরে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, তার বাসা ভাড়া ৩৫ হাজার টাকা, ইউটিলিটি বিল, সার্ভিস চার্জ বাবদ পরিশোধ করেন ১০ হাজার টাকা, মাসিক খাওয়া খরচ ৪৫ হাজার টাকা, সন্তানের লেখাপড়া খরচ বাবদ ব্যয় করেন ২০ হাজার টাকা, ক্রেডিট কার্ডের লোন পরিশোধ করেন ৩০ হাজার টাকা, ডাক্তার, ঔষধ বাবদ মাসিক সর্বনিম্ন খরচ ৫ হাজার টাকা, পোষাক পরিচ্ছদ বাবদ মাসিক গড় খরচ ৫ হাজার টাকা, বিবিধ খরচ আছে মাসে ৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার মাসিক ব্যয় কমপক্ষে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা। প্রশ্ন হলো বাকি ৭৫ হাজার টাকা তিনি কোথায় পান?
তার বর্তমান বাসস্থান হচ্ছে ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ চান মিয়া হাউজিং এর রোড নং-২ এর মেঘনীল ভবন এর ৪র্থ তলাস্থ ফ্লাট নং-সি-১২। ৭৫ হাজার টাকার বেতন ভাতার একজন চাকুরীজীবি ৪৫ হাজার টাকার খরচ করেন বাসা ভাড়া বাবদ। সংগত কারণেই প্রশ œদেখা দিয়েছে, তিনি ৭৫ হাজার টাকা আয় করে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় করেন কি করে? মোঃ সরোয়ারের আয়ের সাথে ব্যয়ের অসংগতি ৭৫ হাজার টাকার যোগান দিচ্ছে লবন সেল। ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে অবৈধপন্থায় অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে তিনি মাসে মাসে এই টাকা উপার্জন করছেন।
কৌশলবাজ মোঃ সরোয়ার হোসেন অতি অল্প সময়ে প্রতিজন চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে তার চেয়ার ঠিক রাখছেন। অবৈধপন্থায় উপার্জিত অথর্ দুহাতে খরচ করে বর্তমান চেয়ারম্যানের অতিপছন্দের লোক বনে গেছেন।
জাতীয় শ্লোগান ও জাতির পিতার অবমাননার কারণে শাস্তির আওতায় না এনে মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মো: সরোয়ার হোসেনকে ৩ বছরের জায়গায় ৫ বছর একই কর্মস্থলে কর্মরত রাখা, শুদ্ধাচার পুরষ্কার প্রদান এবং ভ্রমণকালে সফর সংগী হিসাবে প্রাধান্য দেয়ার বিষয়টি রহস্যে ঘেরা। মো: সরোয়ারের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারী মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি,কর্মচারীদের স্বার্থবিরোধী কার্য সম্পাদন, বিসিক নামীয় প্রতিষ্ঠানটির শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অশান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রের স্বার্থে এ বিষয়ে বিধিগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো: সরোয়ার হোসেন বলেন, আসি কোন অনিয়ম-দুর্নীতি করি না। আমার কোন অবৈধ সম্পদ নেই। লবন সেলে ৫ বছর কিভাবে আছেন ? এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটা আমার চেয়ারম্যানই ভাল বলতে পারবেন। আয়ের সাথে ব্যয়ের অনংগতি সম্পর্কে বলেন, আমি যা বেতন পাই তাই খরচ করি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৫৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪
৫২৫ বার পড়া হয়েছে

ব্যবস্থা নিচ্ছে না শিল্প মন্ত্রণালয়: বিসিকে মো: সরোয়ারের দুর্নীতির রাজত্ব চলছেই !

আপডেট সময় ০১:৫৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪

বিশেষ প্রতিবেদক
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধিনে পরিচালিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশ (বিসিক) এক কর্মকর্তার দুর্নীতির রাজত্ব চলছে। এই কর্মকর্তার পরামর্শ বা মতামতেই চলছে যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম।।ফলে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিসিক কর্তৃপক্ষের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জয়বাংলা জাতীয় শ্লোগান এবং জাতির পিতার স্মরণে উচ্চারিত শ্লোগান এবং জাতির পিতার স্মরণে খচিত ব্যানার ভাংচুর, পা দিয়ে মোড়ানো এবং সরকারী অফিসে লাঠির আমদানীকারক ব্যক্তি শুদ্ধাচার পুরষ্কার প্রাপ্ত হলে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন প্রয়োজন হয়না। ডাল মে কুছ কালা হায়। এ বিষয়ে সচিত্র একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বেশ কয়েকটি প্রিন্ট ও আনলাইন পত্রিকায়। তাছাড়া জাতীয় শ্লোগান এবং জাতির পিতার অবমাননাকারী পেলেন শুদ্ধাচার পুরষ্কার শিরোনামেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্ত এই মারাত্মক অভিযোগের কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি তৎকালীন বিসিক চেয়ারম্যান মুহঃ মাহবুবর রহমান তথা বিসিক কর্তৃপক্ষ।
বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক থেকে অবৈধভাবে লবণ সেলের প্রধান হিসাবে কর্মরত এই কর্মকর্তার নাম মোঃ সরোয়ার হোসেন। বিসিকের চাকুরীতে ২০১৫ সালে প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন বিসিক নৈপুন্য বিকাশ কেন্দ্র গোপালগঞ্জ শীর্ষক একট প্রকল্পের ৬ষ্ঠ গ্রেডের উপব্যবস্থাপক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা হিসাবে। সরকারের প্রচলিত নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে বে-আইনীভাবে ৫ম গ্রেডে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন ২০২০ সালে। পদোন্নতি প্রাপ্তির পর হতে অদ্যবাধি ৫ বছর লবণসেল প্রধানের একই পদে কর্মরত আছেন সরকারের প্রচলিত বদলীর সাধারণ শর্তাবলী ভংগ করে।
ইতিমধ্যেই মোঃ সরোয়ার হোসেন সুখ্যাতি অর্জন করেছেন বিসিকের বেনজীর-আজিজ হিসাবে। ২০১৫ সালে বিসিকের চাকুরীতে যোগদান করে ৯ বছরে হাতে পেয়েছেন আলাদিনের চেরাগ। এ সময় চাকুরী করে কোটি টাকা মূল্যের একাধিক ফ্লাট বুকিং দিয়েছেন মোঃ সরোয়ার হোসেন।
তিনি মাসিক বেতন ভাতা পান তিনি সব মিলিয়ে ৭৫ হাজার টাকা। অথচ তার মাসিক ব্যয় দেড় লক্ষ টাকার উপরে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, তার বাসা ভাড়া ৩৫ হাজার টাকা, ইউটিলিটি বিল, সার্ভিস চার্জ বাবদ পরিশোধ করেন ১০ হাজার টাকা, মাসিক খাওয়া খরচ ৪৫ হাজার টাকা, সন্তানের লেখাপড়া খরচ বাবদ ব্যয় করেন ২০ হাজার টাকা, ক্রেডিট কার্ডের লোন পরিশোধ করেন ৩০ হাজার টাকা, ডাক্তার, ঔষধ বাবদ মাসিক সর্বনিম্ন খরচ ৫ হাজার টাকা, পোষাক পরিচ্ছদ বাবদ মাসিক গড় খরচ ৫ হাজার টাকা, বিবিধ খরচ আছে মাসে ৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার মাসিক ব্যয় কমপক্ষে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা। প্রশ্ন হলো বাকি ৭৫ হাজার টাকা তিনি কোথায় পান?
তার বর্তমান বাসস্থান হচ্ছে ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ চান মিয়া হাউজিং এর রোড নং-২ এর মেঘনীল ভবন এর ৪র্থ তলাস্থ ফ্লাট নং-সি-১২। ৭৫ হাজার টাকার বেতন ভাতার একজন চাকুরীজীবি ৪৫ হাজার টাকার খরচ করেন বাসা ভাড়া বাবদ। সংগত কারণেই প্রশ œদেখা দিয়েছে, তিনি ৭৫ হাজার টাকা আয় করে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় করেন কি করে? মোঃ সরোয়ারের আয়ের সাথে ব্যয়ের অসংগতি ৭৫ হাজার টাকার যোগান দিচ্ছে লবন সেল। ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে অবৈধপন্থায় অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে তিনি মাসে মাসে এই টাকা উপার্জন করছেন।
কৌশলবাজ মোঃ সরোয়ার হোসেন অতি অল্প সময়ে প্রতিজন চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে তার চেয়ার ঠিক রাখছেন। অবৈধপন্থায় উপার্জিত অথর্ দুহাতে খরচ করে বর্তমান চেয়ারম্যানের অতিপছন্দের লোক বনে গেছেন।
জাতীয় শ্লোগান ও জাতির পিতার অবমাননার কারণে শাস্তির আওতায় না এনে মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মো: সরোয়ার হোসেনকে ৩ বছরের জায়গায় ৫ বছর একই কর্মস্থলে কর্মরত রাখা, শুদ্ধাচার পুরষ্কার প্রদান এবং ভ্রমণকালে সফর সংগী হিসাবে প্রাধান্য দেয়ার বিষয়টি রহস্যে ঘেরা। মো: সরোয়ারের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারী মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি,কর্মচারীদের স্বার্থবিরোধী কার্য সম্পাদন, বিসিক নামীয় প্রতিষ্ঠানটির শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অশান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রের স্বার্থে এ বিষয়ে বিধিগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো: সরোয়ার হোসেন বলেন, আসি কোন অনিয়ম-দুর্নীতি করি না। আমার কোন অবৈধ সম্পদ নেই। লবন সেলে ৫ বছর কিভাবে আছেন ? এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটা আমার চেয়ারম্যানই ভাল বলতে পারবেন। আয়ের সাথে ব্যয়ের অনংগতি সম্পর্কে বলেন, আমি যা বেতন পাই তাই খরচ করি।