১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলপি গ্যাসের জন্য হাহাকার

প্রতিনিধির নাম:

‘বাসায় বেশ কয়েক দিন ধরে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) একেবারে নেই। রাতে হোটেল থেকে খাবার এনে সবাই খাই। গতকালও ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, কলাবাগানে ঘুরেছি। কোনো দোকানে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়ও গ্যাস পাইনি। শেষ পর্যন্ত কারওয়ান বাজারে আসি। এখানেও বলছে গ্যাস নেই। এভাবে তো চলা যায় না। সরকার জনগণের কথা ভাবে না। কোনো খোঁজ রাখে না। না খেয়ে মরতে হবে নাকি? রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জনতা ট্রেডার্সে (এলপি গ্যাসের দোকান) এসে এভাবেই এলপি গ্যাস না পেয়ে হতাশ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একজন গ্রাহক।

এ সময় জনতা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল হক  বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন কোম্পানি এলপি গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। মনে হয় দাম বাড়াবে। দুই দিন ধরে একেবারে নেই। তাই ক্রেতাদের ফেরত যেতে হচ্ছে।’ শুধু এই বাজারেই নয়, রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকার বাজারেও এলপি গ্যাসের সরবরাহ সংকটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, ‘দেশে এলপি গ্যাসের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোগান্তি বাড়লেও দায় নিচ্ছেন না কেউ

খুচরা বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বাজারে বর্তমানে ভোক্তাদের এই নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। তারপরও খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে আমদানিকারক, কেউ দায় নিচ্ছেন না। মোহাম্মদপুরের ফিউচার টাউন হাউজিংয়ের খুচরা গ্যাস বিক্রেতা মো. নুরুল মোল্লা  বলেন, ‘গ্যাস নেই। দোকানে যাইনি। এক সপ্তাহ ধরে আমি গ্যাস পাই না। ডিলাররা বলছে কোনো কোম্পানি গ্যাস দিচ্ছে না। তাহলে আমরা কীভাবে পাব? তার কথার সত্যতা যাচাই করতে পেট্রোম্যাক্সসহ একাধিক কোম্পানির ডিলার মো. রমজান আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘কয়েক দিন ধরেই এলপি গ্যাসের সংকট শুরু হয়েছে। মোংলা বন্দরে পেট্রোম্যাক্স কোম্পানির কারখানায় গাড়ি সিরিয়ালে আছে। দোকানে গ্যাস নেই। তাই দিতে পারছি না।

আশায় আছি। কোম্পানি থেকে পেলেই খুচরা বিক্রেতাদের দিতে পারব।’ একই থানার ঢাকা উদ্যানের সোহেল এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মো. উজ্জ্বল খবরের কাগজকে বলেন, আমরা পেট্রোম্যাক্সের ডিলার। আগের মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বন্দরে ট্রাক আটকে আছে। সেটা এলেই গ্যাস দিতে পারব।’

কারওয়ান বাজারের ডিলার আবুল হকও বলেন, ‘গত শনিবার থেকে একেবারে নেই গ্যাস। আগে দিনে ২৫০ পিস বিক্রি করতাম। ক্রেতারা আসছেন। কিন্তু দিতে পারছি না। মাঝে মাঝে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ৪০ থেকে ৫০টা পাওয়া গেলেও অল্প সময়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। আগে কোম্পানি থেকে কমিশন দেওয়া হলেও গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে তা বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের গাড়ি ভাড়া দিয়েই তা আনতে হচ্ছে। এজন্য ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। শুনছি কোম্পানি থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা দাম বাড়ানো হবে। তাই সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।’

গত ডিসেম্বরের শেষে এলপিজির এলসি কম খোলায় সংকট শুরু হয়। নতুন সরকার সমাধানের চেষ্টা করে। তাহলে এখন আবার সংকট কেন? এ ব্যাপারে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি ও ডেল্টা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক  বলেন, সংকট কেন শুরু হয়েছে। এটা সরকারই ভালো বলতে পারবে। কারণ সরকার তো বলছে দেশে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই। যারা মজুতদারি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’

লোয়াবের সহসভাপতি ও এনার্জি-প্যাক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘মাসে এলপিজির চাহিদা ১ লাখ ৩০ হাজার টনের মতো। দেশে ২৭ থেকে ২৮টি কোম্পানির সব সক্ষমতা থাকার পরও ব্যাংক সহযোগিতা করছে না। এলসি খোলা যাচ্ছে না। এ জন্য ৪ থেকে ৫টি কোম্পানি ছাড়া অন্যরা কোনো এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। বর্তমানে এই জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ব্যাংক ইতিবাচক না হলে সংকট দূর হবে না।

প্রতি মাসেই এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে। যা গত আগস্টে ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। ১৩ টাকা কমানো হলেও কয়েক দিন ধরে ভোক্তাদের অনেক বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে। গতকালও কোনো কোনো ক্রেতা ১২ কেজির এলপি গ্যাস ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছেন বলে অভিযোগ করে জানান।

দেশে বর্তমানে এলপিজির চাহিদা বছরে কমবেশি ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা তা বিক্রি করেন। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজার অস্থির হয়ে যাচ্ছে। এর আগেও গত জানুয়ারি মাসে সরবরাহ কমে গেলে দেশে হইচই পড়ে। ১ হাজার ৩০০ টাকার গ্যাসের দাম আড়াই হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। বাধ্য হয়ে এপ্রিলে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। পরে তা কমানো হয়।

অতিরিক্ত মূল্য খতিয়ে দেখতে ডিসিদের নির্দেশ জ্বালানিমন্ত্রীর

দেশের কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এলপিজি বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গতকাল সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অনলাইন বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। মন্ত্রী বলেন, দেশে এলপি গ্যাসের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেন এলপিজির অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠাতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হলে বা বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া গত সোমবার এলপিজি আমদানিকারকদের সঙ্গে এক বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, গত আগস্ট মাসে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিকটন এবং চলতি মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। দেশে এলপিজির জোগান ও মজুত পরিস্থিতি ভালো। সুতরাং বর্তমানে এলপি গ্যাসের কোনো ধরনের সংকট নেই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৫১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
৮৯ বার পড়া হয়েছে

এলপি গ্যাসের জন্য হাহাকার

আপডেট সময় ০৫:৫১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

‘বাসায় বেশ কয়েক দিন ধরে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) একেবারে নেই। রাতে হোটেল থেকে খাবার এনে সবাই খাই। গতকালও ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, কলাবাগানে ঘুরেছি। কোনো দোকানে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়ও গ্যাস পাইনি। শেষ পর্যন্ত কারওয়ান বাজারে আসি। এখানেও বলছে গ্যাস নেই। এভাবে তো চলা যায় না। সরকার জনগণের কথা ভাবে না। কোনো খোঁজ রাখে না। না খেয়ে মরতে হবে নাকি? রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জনতা ট্রেডার্সে (এলপি গ্যাসের দোকান) এসে এভাবেই এলপি গ্যাস না পেয়ে হতাশ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একজন গ্রাহক।

এ সময় জনতা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল হক  বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন কোম্পানি এলপি গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। মনে হয় দাম বাড়াবে। দুই দিন ধরে একেবারে নেই। তাই ক্রেতাদের ফেরত যেতে হচ্ছে।’ শুধু এই বাজারেই নয়, রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকার বাজারেও এলপি গ্যাসের সরবরাহ সংকটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, ‘দেশে এলপি গ্যাসের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোগান্তি বাড়লেও দায় নিচ্ছেন না কেউ

খুচরা বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বাজারে বর্তমানে ভোক্তাদের এই নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। তারপরও খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে আমদানিকারক, কেউ দায় নিচ্ছেন না। মোহাম্মদপুরের ফিউচার টাউন হাউজিংয়ের খুচরা গ্যাস বিক্রেতা মো. নুরুল মোল্লা  বলেন, ‘গ্যাস নেই। দোকানে যাইনি। এক সপ্তাহ ধরে আমি গ্যাস পাই না। ডিলাররা বলছে কোনো কোম্পানি গ্যাস দিচ্ছে না। তাহলে আমরা কীভাবে পাব? তার কথার সত্যতা যাচাই করতে পেট্রোম্যাক্সসহ একাধিক কোম্পানির ডিলার মো. রমজান আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘কয়েক দিন ধরেই এলপি গ্যাসের সংকট শুরু হয়েছে। মোংলা বন্দরে পেট্রোম্যাক্স কোম্পানির কারখানায় গাড়ি সিরিয়ালে আছে। দোকানে গ্যাস নেই। তাই দিতে পারছি না।

আশায় আছি। কোম্পানি থেকে পেলেই খুচরা বিক্রেতাদের দিতে পারব।’ একই থানার ঢাকা উদ্যানের সোহেল এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মো. উজ্জ্বল খবরের কাগজকে বলেন, আমরা পেট্রোম্যাক্সের ডিলার। আগের মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বন্দরে ট্রাক আটকে আছে। সেটা এলেই গ্যাস দিতে পারব।’

কারওয়ান বাজারের ডিলার আবুল হকও বলেন, ‘গত শনিবার থেকে একেবারে নেই গ্যাস। আগে দিনে ২৫০ পিস বিক্রি করতাম। ক্রেতারা আসছেন। কিন্তু দিতে পারছি না। মাঝে মাঝে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ৪০ থেকে ৫০টা পাওয়া গেলেও অল্প সময়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। আগে কোম্পানি থেকে কমিশন দেওয়া হলেও গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে তা বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের গাড়ি ভাড়া দিয়েই তা আনতে হচ্ছে। এজন্য ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। শুনছি কোম্পানি থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা দাম বাড়ানো হবে। তাই সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।’

গত ডিসেম্বরের শেষে এলপিজির এলসি কম খোলায় সংকট শুরু হয়। নতুন সরকার সমাধানের চেষ্টা করে। তাহলে এখন আবার সংকট কেন? এ ব্যাপারে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি ও ডেল্টা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক  বলেন, সংকট কেন শুরু হয়েছে। এটা সরকারই ভালো বলতে পারবে। কারণ সরকার তো বলছে দেশে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই। যারা মজুতদারি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’

লোয়াবের সহসভাপতি ও এনার্জি-প্যাক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘মাসে এলপিজির চাহিদা ১ লাখ ৩০ হাজার টনের মতো। দেশে ২৭ থেকে ২৮টি কোম্পানির সব সক্ষমতা থাকার পরও ব্যাংক সহযোগিতা করছে না। এলসি খোলা যাচ্ছে না। এ জন্য ৪ থেকে ৫টি কোম্পানি ছাড়া অন্যরা কোনো এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। বর্তমানে এই জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ব্যাংক ইতিবাচক না হলে সংকট দূর হবে না।

প্রতি মাসেই এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে। যা গত আগস্টে ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। ১৩ টাকা কমানো হলেও কয়েক দিন ধরে ভোক্তাদের অনেক বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে। গতকালও কোনো কোনো ক্রেতা ১২ কেজির এলপি গ্যাস ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছেন বলে অভিযোগ করে জানান।

দেশে বর্তমানে এলপিজির চাহিদা বছরে কমবেশি ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা তা বিক্রি করেন। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজার অস্থির হয়ে যাচ্ছে। এর আগেও গত জানুয়ারি মাসে সরবরাহ কমে গেলে দেশে হইচই পড়ে। ১ হাজার ৩০০ টাকার গ্যাসের দাম আড়াই হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। বাধ্য হয়ে এপ্রিলে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। পরে তা কমানো হয়।

অতিরিক্ত মূল্য খতিয়ে দেখতে ডিসিদের নির্দেশ জ্বালানিমন্ত্রীর

দেশের কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এলপিজি বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গতকাল সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অনলাইন বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। মন্ত্রী বলেন, দেশে এলপি গ্যাসের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেন এলপিজির অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠাতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হলে বা বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া গত সোমবার এলপিজি আমদানিকারকদের সঙ্গে এক বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, গত আগস্ট মাসে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিকটন এবং চলতি মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। দেশে এলপিজির জোগান ও মজুত পরিস্থিতি ভালো। সুতরাং বর্তমানে এলপি গ্যাসের কোনো ধরনের সংকট নেই।