১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রণালয় ও দুদকে অভিযোগ: বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে এমডি’র ছায়ায় ফ্যাসিবাদের দোসর!

প্রতিনিধির নাম:

বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের এমডি মো: ফজলুর রহমান এর ছায়াতলে থেকে একটার পর একটা দুর্নীতি করে চলেছেন ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক (বিনিয়োগ) শাহরিয়ার আল হাসান। তিনি এমডি’র এতোটাই ঘনিষ্ট যে, তার বিষয়ে ডজনখানিক অভিযোগ করা হলেও এমডি মো: ফজলুর রহমান কোন প্রকার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেন নি। বরং তার মাধ্যমে তদবীর করে চাকুরীর মেয়াদ বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছেন এমন কথা শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানকালে জানাগেছে,আওয়ামী নেতা আশরাফুল আলম খোকনের সাথে রাজনীতি করা ও ঘনিষ্ঠতার পরিচয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের হাত ধরে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কের চাকরীতে যোগদান করেন শাহরিয়ার আল হাসান । আশরাফুল আলম খোকন কাপাসিয়ার সন্তান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিব ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা উপকমিটির সদস্য হন। আশরাফুল আলম খোকনের প্রভাবে কাপাসিয়ার সন্তান শাহরিয়ার আল হাসান হাই-টেক পার্কে চাকরী পান। পরবর্তীতে তিনি অসীম প্রভাব বিস্তার করেন। গাজীপুরের সাবেক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমির ছোট ভাই পরিচয়ে পলকের কাছে সখ্যতা পান। তিনি শুরু থেকেই ১১ আইটি প্রকল্পের একজন ডিপিডি হয়েছিলেন পলকের ঘনিষ্ঠতার পরিচয়ে। পলক চক্রের একজন অন্যতম সদস্য ছিল এই শাহরিয়ার আল হাসান। পলক, নরোত্তম, মিলন, কল্যাণ, শাহরিয়ার মিলে ১১ আইটি প্রকল্পকে ডিপিএম করে। প্রথমে প্রকল্পটি ডিপিপি অনুযায়ী ডিপিএম ছিল না। পরবর্তীতে এই চক্র সেটা অবৈধভাবে প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি ব্যাতিরেকে ডিপিএম করে, যেখানে মোট প্রায় ১৫০-২০০ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। এ লক্ষ্যে পরবর্তীতে এই প্রকল্পের ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। রাষ্ট্রের টাকা তছরুপ করা হয় এই প্রকল্প থেকে। এই প্রকল্প হতে শাহরিয়ার আল হাসান প্রায় ১০ কোটি টাকা ভাগ পান। যাতে তিনি সন্তুষ্ট না হওয়ায়, সেই চক্র ভেঙে যায় প্রকল্প পরিচালক ও আরেকজন ডিপিডি কল্যান কুমার সরকারকে প্রকল্প থেকে বের করে দেওয়া হয়। শাহরিয়ার আল হাসান আদাবরে একটি আলিশান ফ্য¬াট কিনেছেন ও মোহাম্মদপুরের বসিলায় ২টি জায়গা ক্রয় করেছেন। কাওরান বাজারে দীর্ঘদিন সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের সামনে তার সহকারী জসিমকে দিয়ে কাঁচাবাজারের ভাড়া আদায় করেছেন। যা তিনি একাই ভোগ করেছেন। তখন থেকে তিনি নিয়মিত বিনিয়োগকারীদেরকে হয়রানি করে থাকেন এবং সেবার বিনিময়ে ঘুষ দাবী করেন । বিনিয়োগ শাখায় থাকার কারণে তিনি জমি অধিগ্রহনে আওয়ামী এমপিদের সাথে যোগ সাজসে অযোগ্য স্থান নির্বাচন করে এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমান অর্থ কমিশন গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে নারায়ণ গঞ্জে শামীম ওসমানের সাথে যোগসাজসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল জমি ক্রয় করেন। শামীম ওসমানের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। তিনি হাই-টেক পার্কের জমি অধিগ্রহনের নামে বেনামে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হন। ফলে আইটি সেন্টার গুলো আজ ব্যর্থ হয়ে গেছে। আজকে পার্কের যে ভুল জমি নির্বাচন করা হয়েছে তা এই শাহরিয়ারের দূর্নীতির কারণে। এর দায়ভার এই আওয়ামী দোসর কোন ভাবেই এড়াতে পারেন না। নারায়নগঞ্জের এমপি শামীম ওসমানের সাথে ছিল তার গভীর সম্পর্ক। তার সাথে এখনো ছবি রয়েছে মোবাইল নাম্বার রয়েছে।
শাহরিয়ার আল হাসান সবসময় নিজ কক্ষে শেখ মুজিব, হাসিনা, জয়ের ছবি টানিয়ে রাখতেন। অথচ রাখার কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না। একজন সহকারী পরিচালকের সাথে কি ধরনের ঘনিষ্ঠতা থাকলে একজন প্রতিমন্ত্রী তার বিয়েতে যেতে পারে। আশরাফুল আলম খোকনের পরিচয়ে পলকের সাথে গড়ে উঠে তার গভীর সখ্যতা।
যখন যে দল ক্ষমতায় আসবে সে দলের লোক দিয়ে কল করিয়ে সেই দেলের লোক বনে যাওয়া হলো এই শাহরিয়ার আল হাসানের কাজ। তিনি একজন আওয়ামীলীগের অন্যতম দোসর। এখন তিনি বিএনপি সরকারকে কোন সহযোগিতা না করে ব্যর্থ করে দিচ্ছেন এবং আওয়ামীগের বিভিন্ন নেতাদের কাছে তথ্য পাচার করছেন।
বর্তমানে তিনি একাই হাই-টেক পার্ককে ব্যর্থতায় পরিণত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। অথচ তিনি এখন এমডির একান্ত ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তিতে পরিণত হয়েছেন। গত জুলাই-গণঅভ্যুত্থানে, ২০২৪ এর সময়ে তিনি ফ্যাসীবাদের পক্ষ নিয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরবর্তীতে সেটা ডিলিট করে দেন। অভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ চীফ মেট্রাপলিটন আদালত, ঢাকায় মামলা দায়ের করা হয় যেখানে প্রধান আসামী করা হয় শেখ হাসিনাকে এবং ১৬ নং আসামী হয় শাহরিয়ার আল হাসান। গাজীপুরের কাপাসিয়া আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের সময় রীতিমত দাপট দেখিয়েছেন এই শাহরিয়ার। চাকরীর পুরাটা সময় আওয়ামীলীগের সুবিধা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এখনো নিয়মিত আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। সবচেয়ে দুঃখজনক শাহরিয়ার আল হাসান জুলাই-২০২৪ এর গণঅভ্যত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার ১৬ নং আসামি। যেখানে শেখ হাসিনা ১ নং ও জুনায়েদ আহমেদ পলকও একই মামলার আসামি। মামলাটি এখন তেঁজগাও থানায় তদন্তাধিন রয়েছে।

তিনি বর্তমানে প্রকল্পে তার দুর্নীতির অন্যতম সহকারীকে পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে আসছেন। অফিসের এমডির ঘনিষ্ঠতার সুযোগে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করলেও কোন জনসেবা প্রদান করছেন না। তিনি এই মন্ত্রণালয়কে ব্যর্থতায় পর্যবশিত করতে চান। তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগিরা সর্বশেষ ডিজিটাল ডিভাইস এক্সপো-২০২৬ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা হইতয়ে নিয়েছেন মর্মে জানা যায়। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির লোকজন এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ও অভিযোগ দিলেও সাবেক সচিব তা আমলে নেননি।
তার কারণে সর্বশেষ এক্সপোটি সফল হয়নি। তিনি জমি বরাদ্দ দিয়ে পাল্মপে ফিনটেক, ঢাকাকোলা, এডভ্যান্স উইথবোর্ড, মেটা স্টার, পালকি মটরস, জিটেক সলিউশন লি: সহ নানা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করে জমি বরাদ্দ প্রদান করেছেন। চুক্তি ভেরিফেকেশনের নামে, জমি বুঝিয়ে দেওয়ার নামে, জমি বুঝিয়ে দেওয়া সহ সকল জায়গায় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে থাকেন। বিনিয়োগকারীরা অতিমাত্রায় বিরক্ত হলেও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকে নিজের ছায়াতলে রেখে দিয়েছেন ভিন্ন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য। তিনি বর্তমানে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও যশোর পার্ক এর বিনিয়োগকারীরা অর্থ প্রদান না করায় চুক্তি স্বাক্ষর করছেন না। ফলে দেশ রাজস্ব হারাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের এমডি মো: ফজলুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসানের সাথে মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি কোন মন্তব্য না করে লাইন কেটে দেন।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ থেকে অনিতিবিলম্বে এই ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসানকে অপসারণ ও তার দুর্নীতিগুলো বিভাগীয় ও দুদকের মাধ্যমে তদন্তের দাবী তুলেছেন সচেতন দেশবাসী।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৫৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১৩ বার পড়া হয়েছে

মন্ত্রণালয় ও দুদকে অভিযোগ: বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে এমডি’র ছায়ায় ফ্যাসিবাদের দোসর!

আপডেট সময় ০৯:৫৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের এমডি মো: ফজলুর রহমান এর ছায়াতলে থেকে একটার পর একটা দুর্নীতি করে চলেছেন ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক (বিনিয়োগ) শাহরিয়ার আল হাসান। তিনি এমডি’র এতোটাই ঘনিষ্ট যে, তার বিষয়ে ডজনখানিক অভিযোগ করা হলেও এমডি মো: ফজলুর রহমান কোন প্রকার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেন নি। বরং তার মাধ্যমে তদবীর করে চাকুরীর মেয়াদ বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছেন এমন কথা শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানকালে জানাগেছে,আওয়ামী নেতা আশরাফুল আলম খোকনের সাথে রাজনীতি করা ও ঘনিষ্ঠতার পরিচয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের হাত ধরে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কের চাকরীতে যোগদান করেন শাহরিয়ার আল হাসান । আশরাফুল আলম খোকন কাপাসিয়ার সন্তান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিব ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা উপকমিটির সদস্য হন। আশরাফুল আলম খোকনের প্রভাবে কাপাসিয়ার সন্তান শাহরিয়ার আল হাসান হাই-টেক পার্কে চাকরী পান। পরবর্তীতে তিনি অসীম প্রভাব বিস্তার করেন। গাজীপুরের সাবেক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমির ছোট ভাই পরিচয়ে পলকের কাছে সখ্যতা পান। তিনি শুরু থেকেই ১১ আইটি প্রকল্পের একজন ডিপিডি হয়েছিলেন পলকের ঘনিষ্ঠতার পরিচয়ে। পলক চক্রের একজন অন্যতম সদস্য ছিল এই শাহরিয়ার আল হাসান। পলক, নরোত্তম, মিলন, কল্যাণ, শাহরিয়ার মিলে ১১ আইটি প্রকল্পকে ডিপিএম করে। প্রথমে প্রকল্পটি ডিপিপি অনুযায়ী ডিপিএম ছিল না। পরবর্তীতে এই চক্র সেটা অবৈধভাবে প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি ব্যাতিরেকে ডিপিএম করে, যেখানে মোট প্রায় ১৫০-২০০ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। এ লক্ষ্যে পরবর্তীতে এই প্রকল্পের ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। রাষ্ট্রের টাকা তছরুপ করা হয় এই প্রকল্প থেকে। এই প্রকল্প হতে শাহরিয়ার আল হাসান প্রায় ১০ কোটি টাকা ভাগ পান। যাতে তিনি সন্তুষ্ট না হওয়ায়, সেই চক্র ভেঙে যায় প্রকল্প পরিচালক ও আরেকজন ডিপিডি কল্যান কুমার সরকারকে প্রকল্প থেকে বের করে দেওয়া হয়। শাহরিয়ার আল হাসান আদাবরে একটি আলিশান ফ্য¬াট কিনেছেন ও মোহাম্মদপুরের বসিলায় ২টি জায়গা ক্রয় করেছেন। কাওরান বাজারে দীর্ঘদিন সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের সামনে তার সহকারী জসিমকে দিয়ে কাঁচাবাজারের ভাড়া আদায় করেছেন। যা তিনি একাই ভোগ করেছেন। তখন থেকে তিনি নিয়মিত বিনিয়োগকারীদেরকে হয়রানি করে থাকেন এবং সেবার বিনিময়ে ঘুষ দাবী করেন । বিনিয়োগ শাখায় থাকার কারণে তিনি জমি অধিগ্রহনে আওয়ামী এমপিদের সাথে যোগ সাজসে অযোগ্য স্থান নির্বাচন করে এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমান অর্থ কমিশন গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে নারায়ণ গঞ্জে শামীম ওসমানের সাথে যোগসাজসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল জমি ক্রয় করেন। শামীম ওসমানের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। তিনি হাই-টেক পার্কের জমি অধিগ্রহনের নামে বেনামে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হন। ফলে আইটি সেন্টার গুলো আজ ব্যর্থ হয়ে গেছে। আজকে পার্কের যে ভুল জমি নির্বাচন করা হয়েছে তা এই শাহরিয়ারের দূর্নীতির কারণে। এর দায়ভার এই আওয়ামী দোসর কোন ভাবেই এড়াতে পারেন না। নারায়নগঞ্জের এমপি শামীম ওসমানের সাথে ছিল তার গভীর সম্পর্ক। তার সাথে এখনো ছবি রয়েছে মোবাইল নাম্বার রয়েছে।
শাহরিয়ার আল হাসান সবসময় নিজ কক্ষে শেখ মুজিব, হাসিনা, জয়ের ছবি টানিয়ে রাখতেন। অথচ রাখার কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না। একজন সহকারী পরিচালকের সাথে কি ধরনের ঘনিষ্ঠতা থাকলে একজন প্রতিমন্ত্রী তার বিয়েতে যেতে পারে। আশরাফুল আলম খোকনের পরিচয়ে পলকের সাথে গড়ে উঠে তার গভীর সখ্যতা।
যখন যে দল ক্ষমতায় আসবে সে দলের লোক দিয়ে কল করিয়ে সেই দেলের লোক বনে যাওয়া হলো এই শাহরিয়ার আল হাসানের কাজ। তিনি একজন আওয়ামীলীগের অন্যতম দোসর। এখন তিনি বিএনপি সরকারকে কোন সহযোগিতা না করে ব্যর্থ করে দিচ্ছেন এবং আওয়ামীগের বিভিন্ন নেতাদের কাছে তথ্য পাচার করছেন।
বর্তমানে তিনি একাই হাই-টেক পার্ককে ব্যর্থতায় পরিণত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। অথচ তিনি এখন এমডির একান্ত ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তিতে পরিণত হয়েছেন। গত জুলাই-গণঅভ্যুত্থানে, ২০২৪ এর সময়ে তিনি ফ্যাসীবাদের পক্ষ নিয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরবর্তীতে সেটা ডিলিট করে দেন। অভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ চীফ মেট্রাপলিটন আদালত, ঢাকায় মামলা দায়ের করা হয় যেখানে প্রধান আসামী করা হয় শেখ হাসিনাকে এবং ১৬ নং আসামী হয় শাহরিয়ার আল হাসান। গাজীপুরের কাপাসিয়া আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের সময় রীতিমত দাপট দেখিয়েছেন এই শাহরিয়ার। চাকরীর পুরাটা সময় আওয়ামীলীগের সুবিধা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এখনো নিয়মিত আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। সবচেয়ে দুঃখজনক শাহরিয়ার আল হাসান জুলাই-২০২৪ এর গণঅভ্যত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার ১৬ নং আসামি। যেখানে শেখ হাসিনা ১ নং ও জুনায়েদ আহমেদ পলকও একই মামলার আসামি। মামলাটি এখন তেঁজগাও থানায় তদন্তাধিন রয়েছে।

তিনি বর্তমানে প্রকল্পে তার দুর্নীতির অন্যতম সহকারীকে পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে আসছেন। অফিসের এমডির ঘনিষ্ঠতার সুযোগে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করলেও কোন জনসেবা প্রদান করছেন না। তিনি এই মন্ত্রণালয়কে ব্যর্থতায় পর্যবশিত করতে চান। তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগিরা সর্বশেষ ডিজিটাল ডিভাইস এক্সপো-২০২৬ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা হইতয়ে নিয়েছেন মর্মে জানা যায়। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির লোকজন এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ও অভিযোগ দিলেও সাবেক সচিব তা আমলে নেননি।
তার কারণে সর্বশেষ এক্সপোটি সফল হয়নি। তিনি জমি বরাদ্দ দিয়ে পাল্মপে ফিনটেক, ঢাকাকোলা, এডভ্যান্স উইথবোর্ড, মেটা স্টার, পালকি মটরস, জিটেক সলিউশন লি: সহ নানা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করে জমি বরাদ্দ প্রদান করেছেন। চুক্তি ভেরিফেকেশনের নামে, জমি বুঝিয়ে দেওয়ার নামে, জমি বুঝিয়ে দেওয়া সহ সকল জায়গায় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে থাকেন। বিনিয়োগকারীরা অতিমাত্রায় বিরক্ত হলেও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকে নিজের ছায়াতলে রেখে দিয়েছেন ভিন্ন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য। তিনি বর্তমানে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও যশোর পার্ক এর বিনিয়োগকারীরা অর্থ প্রদান না করায় চুক্তি স্বাক্ষর করছেন না। ফলে দেশ রাজস্ব হারাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের এমডি মো: ফজলুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসানের সাথে মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি কোন মন্তব্য না করে লাইন কেটে দেন।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ থেকে অনিতিবিলম্বে এই ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসানকে অপসারণ ও তার দুর্নীতিগুলো বিভাগীয় ও দুদকের মাধ্যমে তদন্তের দাবী তুলেছেন সচেতন দেশবাসী।