১২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠকছে ক্রেতা,মুনাফা লুটছে সিন্ডিকেট: ভারত থেকে মহিষের মাংস আমদানীর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না কেন?

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রায়ই ঘোষনা দেন মাংসে স্বয়ং সম্পূন্ন দেশ। দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন উপরোক্ত কথাটি কি সঠিক?  ৭০% জনগন জবাব দিবে কথাটি সবৈই মিথ্যা এবং কল্প কথা। কারন দেশ যদি মাংসে স্বয়ং সম্পূন্ন হয় তাহলে খাসীর মাংস কেন-১২০০ কেজি, গরুর/মহিষের মাংস কেন ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি, ডিমের হালি কেন ৬০-৬৫ টাকা বয়লার মুরগী কেন ২৫০/ টাকা। এই কেন এর কি জবাব আছে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর বা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের কাছে? তার পরেও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে যে সমস্ত মহিষ /গরুর মাংস বাজারে পাওয়া যায় সেগুলি সরকারী খামারের বাতিল ঘোষিত, রুগ্ন, হাড্ডিসার, খোড়া ও রোগগ্রস্থ। কারণ হিসাবে জানা যায়, খামারীরা সারাবছর গরু /মহিষ /ছাগল/ ভেড়া পালন করে কোরবানীর সময় বেশী মূল্যে বিক্রি করার জন্য। যার ফলে কোরবানীর বাজারের প্রাণিগুলি হৃষ্টপুষ্ট দেখা যায়। আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপারীরা/খামার মালিকরা অধিক মূল্যে ঐ সকল প্রাণিগুলি জনসাধারনের নিকট বিক্রি করে। অন্য সময়ের চেয়ে প্রত্যেকটি প্রাণির মূল্য কোরবানীর সময় শতভাগ বেশী পড়ে। যার ফলে যে ব্যক্তি একাই একটি গরু/মহিষ কোরবানী দিত সেই ব্যক্তি বেশী মূল্যের কারনে ৩/৫/৭ জনের সাথে শেয়ারে কোরবানী দেয়। ফলে  কোরবানীর সময় বাজারে গবাদি পশু পর্য্যপ্ত উঠলেও বেশী মূল্যের কারনে বিক্রি হয় কম। আর এজন্য কোন বছর কিছু প্রাণি অবিক্রিত থেকে যায় আবার কোন বসর সিন্ডিকেটের কারসাজীর কারনে বাজারে প্রাণিই পাওয়া যায় না। এছাড়া প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর যে পরিসংখ্যান প্রদান করে তাও গোজারমিল মত। যেমন এ বছর ঘোষনা দিয়েছে ২০ লক্ষ গরু/মহিষ অবিক্রিত রয়েছে। অনেকের প্রশ্ন যদি ২০ লক্ষ গরুর/মহিষ অবিক্রিত থেকেই থাকে তাহলে সেগুলো কোথায়? তাহলে বাজারে গরুর মাংসের দাম ৭৫০-৮০০ টাকা কেন?।

তথ্য মতে বাজারে গরু/মহিষের মাংসের মূল্য অত্যাধিক হওয়া গ্রামে বসবাসরত অতিদরিদ্র, দরিদ্র নি¤œ মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষ ১০ দিনে ক্ষেত্র বিশেষ মাসে ১ দিন গরুর/মহিষের মাংস খায় আর এজন্য বাজারেও ডিম/মুরগীর মূল্য অত্যাধিক । কারণ ঐ শ্রেনীর মানুষ ( যারা মাংস ক্রয় করতে পারে না)তখন ডিম/ বয়লার মুরগীর দিকে ঝুঁকে পড়ে। অথচ সরকার সব সময় বলে আসছে মুরগীর ডিম ৮-১০ টাকার বেশী হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাজারে ১৫-১৬ টাকা। সরকারের বাজার ব্যবস্থা খুবই দূর্বল বিধায় কৃষিমন্ত্রী/প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এধরনের বিভ্রান্তিকর কথা বলে বেড়ান।

সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহম্মদ বানিজ্য মন্ত্রী বরাবরে পার্শ্ববতী দেশ ভারত হতে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন মহিষের মাৎস আমদানী করার অনুমতি চেয়ে পত্র দেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হতে বিগত ৩০/১০/২৩ ইং তারিখে ৫৭৩ সংখ্যক পত্রে এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে মতামত প্রদানের জন্য অনুরোধ জানান। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর হতে মতামত প্রদানে বিলম্বিত হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহম্মদ বিগত ৯/১১/২৩ ইং তারিখে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জনাব শ.ম. রেজাউল করিম,এমপি কে একটি আধা-সরকারী পত্র দেন এবং সেখানে তিনি উল্লেখ করেন চেম্বারের আবেদন অনুযায়ী  মাংস আমদানী করার অনুমতি প্রদান করা হলে প্রতি কেজি ৪৫০-৫০০/ টাকায় বিক্রি করা হবে। তিনি পত্রে আরোও উল্লেখ করেন যেখান হতে মাংস আমদানী করা হবে সেখানে সম্পূন্ন মুসলিম বিধান অনুযায়ী জবাই ও প্যাকেজিং এর বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করেই আমদানী করা হবে। সেপ্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিগত ১২/১১/২৩ ইং তারিখে ৪২৭ নং পত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মতামত প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর হতে বিগত ২৪/১১/২৩ ইং তারিখ পর্যন্ত চেম্বারকে কোন কিছু জানানো হয়নি বলে চেম্বারের প্রতিনিধি জানান।

উল্লেখ্য যে বাজারে যখন ডিমের মূল্য ১৫-১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল তখন সরকার ৩ দফায় ৩০ কোটি পিচ ডিম আমদানীর অনুমতি প্রদান করে এবং ডিমের প্রথম চালানে ৬১,০০০ পিচ মাত্র ডিম দেশে আসার সাথে সাথে ডিমের মূল্য ১১-১২ টাকায় চলে আসে এমনকি সিন্ডিকেট ভুক্ত খামারীরা ডিম আমদানীতে বাধা গ্রস্থ করার জন্য ২/৩ দিন রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ১০-১১ টাকায় ডিম বিক্রি করেন।একইভাবে আলু আমদানী করার অনুমতি প্রদানের সাথে সাথে আলুর দাম ৭০-৭৫ টাকা হতে ৪০-৪৫ টাকায় নেমে আসে। প্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্য মন্ত্রী বারবার চাল, ডাল,মাংস, ডিমের সিন্ডিকেটের সদস্যদের হুশিয়ারী প্রদান করার পরেও এভাবে সিন্ডিকেটের কাজে নথি স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে আর তার ফল ভোগ করছে দেশের খেটে খাওয়া মানুষগুলো।

চেম্বারের প্রতিনিধি আরো জানান পার্শ্ব বর্তী দেশ ভারতে গরু/মহিষের মাংস ভারতের টাকায় ২২০-২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানী করা হলে ২০০ টাকা হতে ২১০ টাকায়(ভারতীয় টাকায়) আমদানী করা সম্ভব। যদি সরকার মাংস, ডিম ও আলু খাতে আমদানী শুল্ক বাদ দেন তাহলে গরু/মহিষের মাংস ৪০০ -৪৫০ টাকার মধ্যে, ডিম প্রতি পিচ ১০ টাকায় এবং আলু প্রতি কেজি ৩৫ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। আর এ ব্যবস্থা গ্রহন করা হলে দেশের নি¤œ আয়ের জনগন সুবিধা গ্রহন করতে পারবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি সুত্র জানায়, সরকার ডিম আমদানীর অনুমতি দেয়ার এবং মাংস আমদানীর পদক্ষেপ গ্রহন করার পরপরই সংশ্লিষ্ট খামারী নেতারা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজির সাথে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। যেহেতু ডিম আমদানীতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুমতির প্রয়োজন হয় না সেকারনে অধিদপ্তরের কিছু করার নেই কিন্তু মাংস আমদানীর বিষয়ে যাতে না সূচক মতামত দেয়া হয় সে বিষয়ে মৌখিক চুক্তি করে।

দেশের মাঠ পর্য্যায়ের একাধিক অঞ্চলের মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের বিশেষ শ্রেনীর মুষ্টিমেয় তথাকথিত খামারীদের কাছে গোটা দেশবাশীকে জিম্মি না রেখে ডিম,আলু, মাংস সবজী বাইরের যে কোন দেশ হতে (হালাল উপায়ে) চেম্বারের মাধ্যমে আমদানী করার অনুমতি দেয়া উচিত । এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজি, মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:৪৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৩
২৪২ বার পড়া হয়েছে

ঠকছে ক্রেতা,মুনাফা লুটছে সিন্ডিকেট: ভারত থেকে মহিষের মাংস আমদানীর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না কেন?

আপডেট সময় ০৬:৪৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৩

রোস্তম মল্লিক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রায়ই ঘোষনা দেন মাংসে স্বয়ং সম্পূন্ন দেশ। দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন উপরোক্ত কথাটি কি সঠিক?  ৭০% জনগন জবাব দিবে কথাটি সবৈই মিথ্যা এবং কল্প কথা। কারন দেশ যদি মাংসে স্বয়ং সম্পূন্ন হয় তাহলে খাসীর মাংস কেন-১২০০ কেজি, গরুর/মহিষের মাংস কেন ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি, ডিমের হালি কেন ৬০-৬৫ টাকা বয়লার মুরগী কেন ২৫০/ টাকা। এই কেন এর কি জবাব আছে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর বা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের কাছে? তার পরেও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে যে সমস্ত মহিষ /গরুর মাংস বাজারে পাওয়া যায় সেগুলি সরকারী খামারের বাতিল ঘোষিত, রুগ্ন, হাড্ডিসার, খোড়া ও রোগগ্রস্থ। কারণ হিসাবে জানা যায়, খামারীরা সারাবছর গরু /মহিষ /ছাগল/ ভেড়া পালন করে কোরবানীর সময় বেশী মূল্যে বিক্রি করার জন্য। যার ফলে কোরবানীর বাজারের প্রাণিগুলি হৃষ্টপুষ্ট দেখা যায়। আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপারীরা/খামার মালিকরা অধিক মূল্যে ঐ সকল প্রাণিগুলি জনসাধারনের নিকট বিক্রি করে। অন্য সময়ের চেয়ে প্রত্যেকটি প্রাণির মূল্য কোরবানীর সময় শতভাগ বেশী পড়ে। যার ফলে যে ব্যক্তি একাই একটি গরু/মহিষ কোরবানী দিত সেই ব্যক্তি বেশী মূল্যের কারনে ৩/৫/৭ জনের সাথে শেয়ারে কোরবানী দেয়। ফলে  কোরবানীর সময় বাজারে গবাদি পশু পর্য্যপ্ত উঠলেও বেশী মূল্যের কারনে বিক্রি হয় কম। আর এজন্য কোন বছর কিছু প্রাণি অবিক্রিত থেকে যায় আবার কোন বসর সিন্ডিকেটের কারসাজীর কারনে বাজারে প্রাণিই পাওয়া যায় না। এছাড়া প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর যে পরিসংখ্যান প্রদান করে তাও গোজারমিল মত। যেমন এ বছর ঘোষনা দিয়েছে ২০ লক্ষ গরু/মহিষ অবিক্রিত রয়েছে। অনেকের প্রশ্ন যদি ২০ লক্ষ গরুর/মহিষ অবিক্রিত থেকেই থাকে তাহলে সেগুলো কোথায়? তাহলে বাজারে গরুর মাংসের দাম ৭৫০-৮০০ টাকা কেন?।

তথ্য মতে বাজারে গরু/মহিষের মাংসের মূল্য অত্যাধিক হওয়া গ্রামে বসবাসরত অতিদরিদ্র, দরিদ্র নি¤œ মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষ ১০ দিনে ক্ষেত্র বিশেষ মাসে ১ দিন গরুর/মহিষের মাংস খায় আর এজন্য বাজারেও ডিম/মুরগীর মূল্য অত্যাধিক । কারণ ঐ শ্রেনীর মানুষ ( যারা মাংস ক্রয় করতে পারে না)তখন ডিম/ বয়লার মুরগীর দিকে ঝুঁকে পড়ে। অথচ সরকার সব সময় বলে আসছে মুরগীর ডিম ৮-১০ টাকার বেশী হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাজারে ১৫-১৬ টাকা। সরকারের বাজার ব্যবস্থা খুবই দূর্বল বিধায় কৃষিমন্ত্রী/প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এধরনের বিভ্রান্তিকর কথা বলে বেড়ান।

সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহম্মদ বানিজ্য মন্ত্রী বরাবরে পার্শ্ববতী দেশ ভারত হতে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন মহিষের মাৎস আমদানী করার অনুমতি চেয়ে পত্র দেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হতে বিগত ৩০/১০/২৩ ইং তারিখে ৫৭৩ সংখ্যক পত্রে এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে মতামত প্রদানের জন্য অনুরোধ জানান। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর হতে মতামত প্রদানে বিলম্বিত হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহম্মদ বিগত ৯/১১/২৩ ইং তারিখে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জনাব শ.ম. রেজাউল করিম,এমপি কে একটি আধা-সরকারী পত্র দেন এবং সেখানে তিনি উল্লেখ করেন চেম্বারের আবেদন অনুযায়ী  মাংস আমদানী করার অনুমতি প্রদান করা হলে প্রতি কেজি ৪৫০-৫০০/ টাকায় বিক্রি করা হবে। তিনি পত্রে আরোও উল্লেখ করেন যেখান হতে মাংস আমদানী করা হবে সেখানে সম্পূন্ন মুসলিম বিধান অনুযায়ী জবাই ও প্যাকেজিং এর বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করেই আমদানী করা হবে। সেপ্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিগত ১২/১১/২৩ ইং তারিখে ৪২৭ নং পত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মতামত প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর হতে বিগত ২৪/১১/২৩ ইং তারিখ পর্যন্ত চেম্বারকে কোন কিছু জানানো হয়নি বলে চেম্বারের প্রতিনিধি জানান।

উল্লেখ্য যে বাজারে যখন ডিমের মূল্য ১৫-১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল তখন সরকার ৩ দফায় ৩০ কোটি পিচ ডিম আমদানীর অনুমতি প্রদান করে এবং ডিমের প্রথম চালানে ৬১,০০০ পিচ মাত্র ডিম দেশে আসার সাথে সাথে ডিমের মূল্য ১১-১২ টাকায় চলে আসে এমনকি সিন্ডিকেট ভুক্ত খামারীরা ডিম আমদানীতে বাধা গ্রস্থ করার জন্য ২/৩ দিন রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ১০-১১ টাকায় ডিম বিক্রি করেন।একইভাবে আলু আমদানী করার অনুমতি প্রদানের সাথে সাথে আলুর দাম ৭০-৭৫ টাকা হতে ৪০-৪৫ টাকায় নেমে আসে। প্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্য মন্ত্রী বারবার চাল, ডাল,মাংস, ডিমের সিন্ডিকেটের সদস্যদের হুশিয়ারী প্রদান করার পরেও এভাবে সিন্ডিকেটের কাজে নথি স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে আর তার ফল ভোগ করছে দেশের খেটে খাওয়া মানুষগুলো।

চেম্বারের প্রতিনিধি আরো জানান পার্শ্ব বর্তী দেশ ভারতে গরু/মহিষের মাংস ভারতের টাকায় ২২০-২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানী করা হলে ২০০ টাকা হতে ২১০ টাকায়(ভারতীয় টাকায়) আমদানী করা সম্ভব। যদি সরকার মাংস, ডিম ও আলু খাতে আমদানী শুল্ক বাদ দেন তাহলে গরু/মহিষের মাংস ৪০০ -৪৫০ টাকার মধ্যে, ডিম প্রতি পিচ ১০ টাকায় এবং আলু প্রতি কেজি ৩৫ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। আর এ ব্যবস্থা গ্রহন করা হলে দেশের নি¤œ আয়ের জনগন সুবিধা গ্রহন করতে পারবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি সুত্র জানায়, সরকার ডিম আমদানীর অনুমতি দেয়ার এবং মাংস আমদানীর পদক্ষেপ গ্রহন করার পরপরই সংশ্লিষ্ট খামারী নেতারা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজির সাথে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। যেহেতু ডিম আমদানীতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুমতির প্রয়োজন হয় না সেকারনে অধিদপ্তরের কিছু করার নেই কিন্তু মাংস আমদানীর বিষয়ে যাতে না সূচক মতামত দেয়া হয় সে বিষয়ে মৌখিক চুক্তি করে।

দেশের মাঠ পর্য্যায়ের একাধিক অঞ্চলের মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের বিশেষ শ্রেনীর মুষ্টিমেয় তথাকথিত খামারীদের কাছে গোটা দেশবাশীকে জিম্মি না রেখে ডিম,আলু, মাংস সবজী বাইরের যে কোন দেশ হতে (হালাল উপায়ে) চেম্বারের মাধ্যমে আমদানী করার অনুমতি দেয়া উচিত । এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজি, মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।