০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা কালোবাজারে বিক্রিতে চোরাকারবারিদের সহযোগিতার অভিযোগ: বিআইডব্লিউটিএ‘র পাইলট সজল মল্লিক চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩হাজার মেট্রিক টন কয়লা (যার বাজার মূল্য ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা) পাচার কালে বিআইডব্লিউটিএ’র পাইলট সজল মল্লিক পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ায় তাকে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাইলট সজল মল্লিকের সাথে আরো ৬ জন পাচারকারীসহ এম ভি বাই কুইন কার্গো পিরোজপুরের কচা নদী থেকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো: পিরোজপুর সদর উপজেলার গুয়াবাড়িয়া এলাকার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন হাওলাদার ও আব্দুর রশিদ শেখ, পিরোজপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুমিরমারা এলাকার মোহাম্মদ সোহেল ফকির, ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার কান্দাকুল এলাকার মোহাম্মদ শাহাদত হোসেন, ঝালকাঠী জেলার নলছিটি থানার দেওপাশা এলাকার মোহাম্মদ বেল্লাল গাজী, মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানার মৌহালি এলাকার দবির উদ্দিন । পিরোজপুরের পুলিশ সুপার শফিউর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য যে দীর্ঘদিন যাবত চক্রটি রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা চক্রের হাতে তুলে দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তথ্যসূত্র বলেছে উক্ত এ চক্রটি ও চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ত একটি চক্র মিলে নদীপথে কয়লা বিক্রি করছে। অথচ নৌপথে পণ্য পরিবহনের কাজে জাহাজ নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে বিআইডব্লিউটি এর পাইলটের সহায়তা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সেই হিসেবে প্রতিটি কার্গো অথবা জাহাজে বিআইডব্লিউটি এর পাইলট এর থাকার কথা।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লাবাহি কার্গো এমভি বাই কুইন এ বিআইডব্লিউটি এর পাইলট সজল মল্লিক উপস্থিত ছিলো। পিরোজপুরের পুলিশ পাচারকারী ৬ জন সহ পাইলট সজল মল্লিককে গ্রেফতার করলেও অত্যন্ত রহস্যময় কারণে তাকে ছেড়ে দেয়। প্রতিটি নদী পথেই পণ্য বোঝাই জাহাজে পাইলট থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ থেকে সরকার ও শুল্ক পেয়ে থাকে। জাহাজে পাইলট অবস্থানরত অবস্থায় যদি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোটি কোটি টাকার কয়লা পাচার হয়ে যায় তাহলে এর দায় দায়িত্ব তার উপর ও বর্তায়। পুলিশ জাহাজে থাকা সমস্ত মাস্টার, ক্রু ও অন্যান্য লোকদের আটক করলেও পাইলটকে কেন ছেড়ে দিল তা নিয়ে রয়েছে হাজারো প্রশ্ন্য? নৌপথে কখন কি হয় তা অন্তত পাইলটদের অজানা নয় বলে একাধিক পত্যক্ষদর্শী মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে খুলনা অঞ্চলের হেড পাইলট শাহ আলম বলেন, আমাদের পাইলটকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর আমাদের অফিস থেকে আশরাফ স্যার তাকে ফোন দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়েছেন। কর্তব্যরত পাইলট সজল মল্লিক বলেন, আমি কেবিনে ঘুমিয়ে ছিলাম জাহাজ তখন নোঙ্গররত অবস্থায় ছিল। পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিয়েছে।

এ ঘটনা অবগত হয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গত ২২/১০/২০২৩ ইং তারিখে দপ্তর আদেশ নং ৩১২৬/২০২৩ মোতাবেক পাইলট সজল মল্লিককে চাকুরী থেকে সময়িক বরখাস্ত করেন। এবং তাকে প্রতিটি কর্ম দিবসে ঢাকা নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগে হাজিরা দানের নির্দেশ দেন। কিন্তু পাইলট সজল মল্লিক প্রধান কার্যালয়ে হাজিরা না দিয়ে বরখাস্ত আদেশের এই পত্র গোপন করে তার কর্মস্থলে প্রতিদিন ডিউটি করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, সে নৌপথের চোরাকারবারিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে দীর্ঘদিন যাবত নৌপথে পন্য পাচারে যুক্ত রয়েছেন। এ পথে অবৈধ অর্থ উপার্জন করে তিনি দেশের বাড়ী নড়াইলে বিশাল বাড়ী নির্মাণ করেছেন। (চলবে)

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর ২০২৩
৩৪৫ বার পড়া হয়েছে

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা কালোবাজারে বিক্রিতে চোরাকারবারিদের সহযোগিতার অভিযোগ: বিআইডব্লিউটিএ‘র পাইলট সজল মল্লিক চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত!

আপডেট সময় ০৯:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর ২০২৩

রোস্তম মল্লিক
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩হাজার মেট্রিক টন কয়লা (যার বাজার মূল্য ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা) পাচার কালে বিআইডব্লিউটিএ’র পাইলট সজল মল্লিক পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ায় তাকে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাইলট সজল মল্লিকের সাথে আরো ৬ জন পাচারকারীসহ এম ভি বাই কুইন কার্গো পিরোজপুরের কচা নদী থেকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো: পিরোজপুর সদর উপজেলার গুয়াবাড়িয়া এলাকার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন হাওলাদার ও আব্দুর রশিদ শেখ, পিরোজপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুমিরমারা এলাকার মোহাম্মদ সোহেল ফকির, ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার কান্দাকুল এলাকার মোহাম্মদ শাহাদত হোসেন, ঝালকাঠী জেলার নলছিটি থানার দেওপাশা এলাকার মোহাম্মদ বেল্লাল গাজী, মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানার মৌহালি এলাকার দবির উদ্দিন । পিরোজপুরের পুলিশ সুপার শফিউর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য যে দীর্ঘদিন যাবত চক্রটি রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা চক্রের হাতে তুলে দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তথ্যসূত্র বলেছে উক্ত এ চক্রটি ও চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ত একটি চক্র মিলে নদীপথে কয়লা বিক্রি করছে। অথচ নৌপথে পণ্য পরিবহনের কাজে জাহাজ নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে বিআইডব্লিউটি এর পাইলটের সহায়তা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সেই হিসেবে প্রতিটি কার্গো অথবা জাহাজে বিআইডব্লিউটি এর পাইলট এর থাকার কথা।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লাবাহি কার্গো এমভি বাই কুইন এ বিআইডব্লিউটি এর পাইলট সজল মল্লিক উপস্থিত ছিলো। পিরোজপুরের পুলিশ পাচারকারী ৬ জন সহ পাইলট সজল মল্লিককে গ্রেফতার করলেও অত্যন্ত রহস্যময় কারণে তাকে ছেড়ে দেয়। প্রতিটি নদী পথেই পণ্য বোঝাই জাহাজে পাইলট থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ থেকে সরকার ও শুল্ক পেয়ে থাকে। জাহাজে পাইলট অবস্থানরত অবস্থায় যদি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোটি কোটি টাকার কয়লা পাচার হয়ে যায় তাহলে এর দায় দায়িত্ব তার উপর ও বর্তায়। পুলিশ জাহাজে থাকা সমস্ত মাস্টার, ক্রু ও অন্যান্য লোকদের আটক করলেও পাইলটকে কেন ছেড়ে দিল তা নিয়ে রয়েছে হাজারো প্রশ্ন্য? নৌপথে কখন কি হয় তা অন্তত পাইলটদের অজানা নয় বলে একাধিক পত্যক্ষদর্শী মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে খুলনা অঞ্চলের হেড পাইলট শাহ আলম বলেন, আমাদের পাইলটকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর আমাদের অফিস থেকে আশরাফ স্যার তাকে ফোন দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়েছেন। কর্তব্যরত পাইলট সজল মল্লিক বলেন, আমি কেবিনে ঘুমিয়ে ছিলাম জাহাজ তখন নোঙ্গররত অবস্থায় ছিল। পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিয়েছে।

এ ঘটনা অবগত হয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গত ২২/১০/২০২৩ ইং তারিখে দপ্তর আদেশ নং ৩১২৬/২০২৩ মোতাবেক পাইলট সজল মল্লিককে চাকুরী থেকে সময়িক বরখাস্ত করেন। এবং তাকে প্রতিটি কর্ম দিবসে ঢাকা নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগে হাজিরা দানের নির্দেশ দেন। কিন্তু পাইলট সজল মল্লিক প্রধান কার্যালয়ে হাজিরা না দিয়ে বরখাস্ত আদেশের এই পত্র গোপন করে তার কর্মস্থলে প্রতিদিন ডিউটি করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, সে নৌপথের চোরাকারবারিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে দীর্ঘদিন যাবত নৌপথে পন্য পাচারে যুক্ত রয়েছেন। এ পথে অবৈধ অর্থ উপার্জন করে তিনি দেশের বাড়ী নড়াইলে বিশাল বাড়ী নির্মাণ করেছেন। (চলবে)