১৭ বছর ধরে আহবায়ক কমিটি দ্বারা চলছে মাগুরা জেলা আওয়ামী যুবলীগ: সভাপতি পরশ ও সাধারণ সম্পাদক নিখিল করছেন কি?
রোস্তম মল্লিক
প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে মোট ১৭ বছর যাবত মাগুরা জেলা আওয়ামী যুবলীগ পরিচালিত হচ্ছে আহ্বায়ক কমিটি দ্বারা। সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা না করে এক নেতার ব্যক্তি স্বার্থে মাগুরা জেলা আওয়ামী যুবলীগকে পকেট সংগঠন করে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ত্যাগী নেতা কর্মীরা। কেন্দ্র থেকে বার বার সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নির্বাচন করার তাগিদ দিলেও সেটা মান্য করছেন না জেলা নেতারা। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে বছরের পর বছর।
সুত্র জানায়, মাগুরা জেলা আওয়ামী যুব লীগের প্রথম আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয় ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে। সেই আহবায়ক কমিটি দীর্ঘ ১১ বছর ক্ষমতায় থাকলেও সম্মেলন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে পারেন নি। দি¦তীয়বার আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয় ১৩ ই মার্চ ২০১৭ সালে। ওই কমিটি অনুমোদন দেওয়ার সময় বলা হয় তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হবে। কিন্তু সেটিও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ফলে ৩ মাসের আহবায়ক কমিটির বয়স এখন ৬ বছর। এই ৬ বছরেরও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সম্মেলন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে পারেন নি। এটাকে তাদের নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতা হিসাবে গন্য করা হচ্ছে। ১৭ বছর যাবত যদি একটি সংগঠন আহবায়ক কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয় তবে সেই সংগঠনের অবস্থা কি হয় তা সহজেই অনুমেয়।
১৩ই মার্চ ২০১৭ সালে ২১ সদস্য বিশিষ্ট যে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় তার আহবায়ক করা হয় মো: ফজলুর রহমানকে। তিনজন যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় : সাকিবুল হাসান, আশরাফ খান ও আলী আহমেদকে।
যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এই কমিটির অনুমোদন দেন। তিনি দ্রততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ব্যবস্থা নিতে আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
দলীয় সূত্র জানায়, মাগুরা জেলা যুবলীগের সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে। ৭১ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন মো: এনামুল হক হীরক। যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন আব্দুল আওয়াল হোসেন মোল্লা। এই দীর্ঘ সময়েও তাঁরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি। তবে তাদের নেতুত্ব ছিল প্রশংসনীয়।
জানতে চাইলে এনামুল হক হীরক বলেন, নতুন কমিটির বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। কিছু না জানিয়েই কমিটি ভেঙে দিয়ে আবার আহ্বায়ক কমিটি গঠনের বিষয়টি জবরদখলের মতো একটা বিষয় হয়েছে । এতো দিনেও কেন কমিটি দিতে পারলেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নানা পরিস্থিতি কারণে সেটা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনের মাধ্যমে মাগুরা জেলা যুবলীগের কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির সভাপতি ছিলেন সোহেল পারভেজ; সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো: কামরুজ্জামান। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ২০০৪ সালে এই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে কথা বললে মাগুরা জেলা আওয়ামী যুব লীগের ত্যাগী ও আদর্শীক নেতারা বলেন, এক নেতার মর্জিতে চলছে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ,ছাত্রলীগ ,শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও অন্যান্য সংগঠন। তিনি ইচ্ছে করেই যুব লীগের সম্মেলন করতে দিচ্ছেন না। বর্তমান আহবায়ক কমিটির মেয়াদ ৬ বছর হতে চলছে অথচ: এ বিষয়ে তার কোন মাথা ব্যাথা নেই। এতে করে সংগঠনটি দিন দিন শক্তিহীন হয়ে পড়ছে। নেতা কর্মীরা কাংখিত পদ না পেয়ে নিজেদের রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। যুবলীগ শক্তিহীন হয়ে পড়ায় মুল দলও দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই দল নিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভালো ফলাফল আশা করা যাবে না।
যুবলীগের আহবায়ক মো: ফজলুর রহমান জেলা শহরের লোক নন। তিনি একটি ইউনিয়ন থেকে উঠে এসে এমপি‘র বদৌলতে নেতা বনে গেছেন। তার দ্বারা জেলা সম্মেলন করে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া সম্ভব নয়। আর সে কারণেই জেলা সম্মেলন করা হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন অনেক নেতা-কর্মী।
বর্তমান নেতৃত্বের একটিই যোগ্যতা আর সেটা হলো এক নেতার রাজনৈতিক পারপাস সার্ভ করা। যে কারণে যুবলীগ রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করতে পারছে না। বিরোধী দলের সামনে দাঁড়াতেও পারছে না। এমন একটি ভঙ্গুর অবস্থা নিয়ে সংগঠনটি কিভাবে আগামীতে পথ চলবে সেটাই এখন সকলের ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বললেন একজন সাবেক যুব লীগ নেতা।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে যুব লীগের আহবায়ক মো: ফজলুর রহমান বলেন, অতীতের থেকে বর্তমানের যুবলীগ অনেক শক্তিশালী। আমরা জেলাবাসীকে মানবিক সেবা দিয়ে সব সময় এ্যাকটিভ রয়েছি। ৬ বছরেও জেলা সম্মেলন কেন করতে পারলেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকা ও মহামারি করোনা এবং কেন্দ্রিয় নেতাদের সন্মতি না পাওয়ায় জেলা সম্মেলন করা যায়নি।
১৭ বছর ধরে মাগুরা জেলা আওয়ামী যুবলীগ আহবায়ক কমিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এই ব্যর্থতা কার? এমন প্রশ্নের জবাবে মাগুরা জেলা যুবলীগের সাবেক ও বর্তমান কিছু নেতা বলেন, এরজন্য দায়ী এক নেতা। তিনি ইচ্ছে করেই এই সংগঠনটিকে তার পকেট সংগঠন করে রেখেছেন। তিনি চাইলেই যে কোন সময় জেলা সম্মেলন করতে পারেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী যুব লীগের কেদ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক মো: মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, সারাদেশেই আমাদের সম্মেলন প্রক্রিয়া চলমান আছে। মাগুরা জেলা যুব লীগের জেলা সম্মেলন করার জন্য আমরা কেন্দ্র থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি । বড় বড় জেলাগুলোর সম্মেলন শেষ হলেই মাগুরা জেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই সম্মেলনটি শেষ করতে চাই।













