০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১আসনে কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন?

প্রতিনিধির নাম:

 

রোস্তম মল্লিক

চলতি বছরের নভেম্বর মাসে তফশীল ঘোষিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। সময় নিকটবর্তী হতেই রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে মাঠ জরিপ ও জনপ্রিয়তা যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়ায় সব থেকে এগিয়ে আছে শাসকদল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলটির নীতিনির্দ্ধারক মহল জানিয়েছেন, তাদের সর্বশেষ জরিপ চলছে। এই জরিফের ফলাফল হাতে এলই প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত করবেন সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড। পরে সেটির চুড়ান্ত অনুমোদন দেবেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তবে রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে এবার ২ টি ফিট লিষ্ট বা তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। একটি তালিকা করা হচ্ছে বিএনপি নির্বাচনে না এলে সে জন্য,আরেকটি তালিকা বিএনপি নির্বাচনে এলে সে জন্য।
আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের জরিপে এবার তৃণমূলের নেতা কর্মীদের মতামতকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে এলাকার জনপ্রিয়তা কাউন্ট করা হয়েছে। যে সব এমপি ৩/৪ বার নির্বাচিত হয়েছেন তাদের স্থলে নতুন প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ে জরিপ টিমগুলোকে মোট ৮ টি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছিল। তথ্যগুলো হলো: ১. প্রার্থীর জনপ্রিয়তা কেমন? ২. দলে গ্রুপিং তৈরি বা নিজস্ব বলয় তৈরী করেছেন কি না? ৩. ত্যাগী ও আদর্শীক নেতাদের অবহেলা করেছেন কি না? ৪. বিদেশে টাকা পাচার করেছেন কি না? ৫. অবৈধ সম্পদ অর্জন বা ভুমি দস্যুতা করেছেন কি না? ৬. বিএনপি,জামাতের নেতা-কর্মীদের লালন পালন বা আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছেন কি না? ৭. স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে দলীয় (নৌকা প্রতিকের) প্রার্থীর সাথে বেইমানী করেছেন কি না? ৮. নির্বাচন করার মত আর্থিক সংগতি আছে কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তরে যে সব প্রার্থী ইতিবাচক মার্ক পেয়েছেন তাদের নমিনেশন এক প্রকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আর যাদের ক্ষেত্রে নেতিবাচক মতামত এসেছে তাদেরকে বাতিলের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। তবে সর্ব শেষ তথ্যে জানাগেছে, বাতিলের তালিকায় পড়েছেন প্রায় শতাধিক প্রার্থী। যারা বর্তমানে রানিং এমপি রয়েছেন।
দলের হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সারাদেশের মত মাগুরা জেলার ২ টি আসনেও জরিপ চালানো হয়েছে। একাধিক জরিপ টিমের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও ডিজিএফআইএরও রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। আর এসব রিপোর্ট এখন দলীয় সভানেত্রীর হাতে পৌছেগেছে। তিনি রিপোর্টগুলো খতিয়ে দেখছেন। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও জরিপ টিমের রিপোর্টের সাথে মিলে গেলেই সেই প্রার্থীর নামের পাশে লাল বা সবুজ টিক দেওয়া হচ্ছে।
মনোনয়ন বোর্ডের ২/৩ জন নেতার সাথে কথা বলে জানাগেছে, যারা জরিপে টিকে গেছেন তাদেরকে অচিরেই সবুজ সংকেত দেওয়া হবে। আবার যে সব আসনে রানিং এমপি বাদ পড়েছে সে সব আসনে নতুন প্রাথীদেরও গ্রীন সিগন্যাল দেওয়া হবে। তাদের তালিকাও প্রায় চুড়ান্তের পথে।
এ দিকে মনোয়ন প্রত্যাশায় সারা দেশেই জেলায় পর্যায়ের নেতারা ততপর হয়ে উঠেছেন। তারা নিজ নিজ বায়োডাটা কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। অনেকেই আবার কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করে মনোনয়ন আশা করছেন। মাগুরা জেলাও তার ব্যতিক্রম নয়। মাগুরা জেলায় মোট ২ টি আসন রয়েছে। একটি হলো: মাগুরা সদর উপজেলা ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত মাগুরা -১ আসন। অপরটি হলো শালিখা উপজেলা ও মোহাম্মদপুর উপজেলা নিয়ে মাগুরা -২ আসন। এ দুটি আসনই বর্তমানে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। একটির এমপি এড: সাইফুজ্জামান শিখর অন্যটির এড: ড. বীরেন সিকদার। এ দুটি আসনে এবার প্রার্থী পরিবর্তনের আভাষ পাওয়াগেছে। আর সে কারণেই প্রতিটি আসনে ৮/৯ জন করে নতুন প্রার্থী মাঠে নেমে পড়েছেন। তারা ব্যাপক জন সংযোগও করছেন। কেšদ্রীয় নেতাদের অফিস ও বাসাতেও তারা দৌড় ঝাঁপ করছেন।
মাগুরা-১ (মাগুরা সদর ও শ্রীপুর) আসনে যে সব নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে ততপরতা চালাচ্ছেন তারা হলেন: মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম আব্দুল ফাত্তাহ, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুমার কুন্ডু, সাবেক এমপি ও বর্তমান রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির এর চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল অব: আব্দুল ওয়াহহাব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অতিপ্রিয় বিশ^ অল রাউন্ডার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, বর্তমান এমপি এড.সাইফুজ্জামান শিখর, জনপ্রিয় নেতা কুতুব উদ্দিন কুটি মিয়া, ত্যাগী নেতা রানা আমীর ওসমান, জেলা নেতা এড: শাখারুল ইসলাম শাকিল, সাবেক ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমান জেলা নেতা পঙ্কজ সাহা, মাগুরা পৌরসভার বর্তমান মেয়র মো: খুরশিদ হায়দার টুটুল এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বর্তমান কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মো: মিরুল ইসলাম মিরুল।
একাধিক জরিপ টিম এবং রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এসব নেতাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড এবং অতীত বর্তমানের সকল তথ্য সংগ্রহ করে দলীয় সভানেত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। এখন দেখা যাক কার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৩
৪৯০ বার পড়া হয়েছে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১আসনে কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন?

আপডেট সময় ১০:৫৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৩

 

রোস্তম মল্লিক

চলতি বছরের নভেম্বর মাসে তফশীল ঘোষিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। সময় নিকটবর্তী হতেই রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে মাঠ জরিপ ও জনপ্রিয়তা যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়ায় সব থেকে এগিয়ে আছে শাসকদল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলটির নীতিনির্দ্ধারক মহল জানিয়েছেন, তাদের সর্বশেষ জরিপ চলছে। এই জরিফের ফলাফল হাতে এলই প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত করবেন সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড। পরে সেটির চুড়ান্ত অনুমোদন দেবেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তবে রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে এবার ২ টি ফিট লিষ্ট বা তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। একটি তালিকা করা হচ্ছে বিএনপি নির্বাচনে না এলে সে জন্য,আরেকটি তালিকা বিএনপি নির্বাচনে এলে সে জন্য।
আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের জরিপে এবার তৃণমূলের নেতা কর্মীদের মতামতকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে এলাকার জনপ্রিয়তা কাউন্ট করা হয়েছে। যে সব এমপি ৩/৪ বার নির্বাচিত হয়েছেন তাদের স্থলে নতুন প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ে জরিপ টিমগুলোকে মোট ৮ টি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছিল। তথ্যগুলো হলো: ১. প্রার্থীর জনপ্রিয়তা কেমন? ২. দলে গ্রুপিং তৈরি বা নিজস্ব বলয় তৈরী করেছেন কি না? ৩. ত্যাগী ও আদর্শীক নেতাদের অবহেলা করেছেন কি না? ৪. বিদেশে টাকা পাচার করেছেন কি না? ৫. অবৈধ সম্পদ অর্জন বা ভুমি দস্যুতা করেছেন কি না? ৬. বিএনপি,জামাতের নেতা-কর্মীদের লালন পালন বা আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছেন কি না? ৭. স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে দলীয় (নৌকা প্রতিকের) প্রার্থীর সাথে বেইমানী করেছেন কি না? ৮. নির্বাচন করার মত আর্থিক সংগতি আছে কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তরে যে সব প্রার্থী ইতিবাচক মার্ক পেয়েছেন তাদের নমিনেশন এক প্রকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আর যাদের ক্ষেত্রে নেতিবাচক মতামত এসেছে তাদেরকে বাতিলের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। তবে সর্ব শেষ তথ্যে জানাগেছে, বাতিলের তালিকায় পড়েছেন প্রায় শতাধিক প্রার্থী। যারা বর্তমানে রানিং এমপি রয়েছেন।
দলের হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সারাদেশের মত মাগুরা জেলার ২ টি আসনেও জরিপ চালানো হয়েছে। একাধিক জরিপ টিমের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও ডিজিএফআইএরও রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। আর এসব রিপোর্ট এখন দলীয় সভানেত্রীর হাতে পৌছেগেছে। তিনি রিপোর্টগুলো খতিয়ে দেখছেন। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও জরিপ টিমের রিপোর্টের সাথে মিলে গেলেই সেই প্রার্থীর নামের পাশে লাল বা সবুজ টিক দেওয়া হচ্ছে।
মনোনয়ন বোর্ডের ২/৩ জন নেতার সাথে কথা বলে জানাগেছে, যারা জরিপে টিকে গেছেন তাদেরকে অচিরেই সবুজ সংকেত দেওয়া হবে। আবার যে সব আসনে রানিং এমপি বাদ পড়েছে সে সব আসনে নতুন প্রাথীদেরও গ্রীন সিগন্যাল দেওয়া হবে। তাদের তালিকাও প্রায় চুড়ান্তের পথে।
এ দিকে মনোয়ন প্রত্যাশায় সারা দেশেই জেলায় পর্যায়ের নেতারা ততপর হয়ে উঠেছেন। তারা নিজ নিজ বায়োডাটা কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। অনেকেই আবার কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করে মনোনয়ন আশা করছেন। মাগুরা জেলাও তার ব্যতিক্রম নয়। মাগুরা জেলায় মোট ২ টি আসন রয়েছে। একটি হলো: মাগুরা সদর উপজেলা ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত মাগুরা -১ আসন। অপরটি হলো শালিখা উপজেলা ও মোহাম্মদপুর উপজেলা নিয়ে মাগুরা -২ আসন। এ দুটি আসনই বর্তমানে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। একটির এমপি এড: সাইফুজ্জামান শিখর অন্যটির এড: ড. বীরেন সিকদার। এ দুটি আসনে এবার প্রার্থী পরিবর্তনের আভাষ পাওয়াগেছে। আর সে কারণেই প্রতিটি আসনে ৮/৯ জন করে নতুন প্রার্থী মাঠে নেমে পড়েছেন। তারা ব্যাপক জন সংযোগও করছেন। কেšদ্রীয় নেতাদের অফিস ও বাসাতেও তারা দৌড় ঝাঁপ করছেন।
মাগুরা-১ (মাগুরা সদর ও শ্রীপুর) আসনে যে সব নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে ততপরতা চালাচ্ছেন তারা হলেন: মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম আব্দুল ফাত্তাহ, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুমার কুন্ডু, সাবেক এমপি ও বর্তমান রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির এর চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল অব: আব্দুল ওয়াহহাব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অতিপ্রিয় বিশ^ অল রাউন্ডার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, বর্তমান এমপি এড.সাইফুজ্জামান শিখর, জনপ্রিয় নেতা কুতুব উদ্দিন কুটি মিয়া, ত্যাগী নেতা রানা আমীর ওসমান, জেলা নেতা এড: শাখারুল ইসলাম শাকিল, সাবেক ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমান জেলা নেতা পঙ্কজ সাহা, মাগুরা পৌরসভার বর্তমান মেয়র মো: খুরশিদ হায়দার টুটুল এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বর্তমান কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মো: মিরুল ইসলাম মিরুল।
একাধিক জরিপ টিম এবং রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এসব নেতাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড এবং অতীত বর্তমানের সকল তথ্য সংগ্রহ করে দলীয় সভানেত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। এখন দেখা যাক কার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়।