ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৮ নং ওয়ার্ডে সড়ক উন্নয়নের নামে হচ্ছে কী?
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৮নং ওয়ার্ড সর্বশেষ গঠিত ওয়ার্ডগুলির অন্যতম। এই ওয়ার্ডটি অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠলেও মাষ্টারপ্ল্যান (ঢাকা মহানগর এলাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা) ২০২২-২০৩৫, যা (ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান) বা ড্যাপ নামে পরিচিত অনুযায়ী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আর সে জন্য প্রয়োজন রাজউক, সিটি করর্পোরেশন,ওয়াসা, তিতাস, ডেসকো সহ সকল সেবা প্রদাসকারী সংস্থার গণকর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদের সঠিক ধারনা ও জ্ঞানের প্রয়োগ। তবেই টেকসই (সাসটেইনাবেল) উন্নয়ন সম্ভব। অন্যথায়, সরকারের ড্যাপের যে উদ্দেশ্য তা ভেস্তে যাবে এবং এসডিজি অর্জন দুরুহ হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৮ নং ওয়ার্ডের থানা রোড হতে আলীর মোড় থেকে নামা পর্যন্ত সড়ক (পূর্বাচল সড়ক) দুটি গ্রাউন্ড ড্রেনেজ সহ উন্নয়নের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে জানা যায় এই সড়ক দুটির মধ্যে আলীর মোড় নামা সড়ক (্পূর্বাচল সড়ক) টিতে বর্তমান প্রস্থ গড়ে ১৬ ফুট আর থানা রোডের প্রস্থ গড়ে ১৪ ফুট। এই সড়ক দুটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাউন্সিলরের দপ্তর মারফত জানা হয় যে, সড়ক দুটির গ্রাউন্ড ড্রেনেজ কাজের ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে যারা আগস্ট, ২০২৩ এর ১ম সপ্তাহে কাজ শুরু করবে। আরও জানান হয় যে, পরবর্তীতে এই সড়কগুলি ২০ ফুট চওড়া সড়কে উন্নীত করার ডিজাইন ও প্রাক্কলন অনুয়মাদন করা হয়েছে যা অচিরেই ঠিকাদারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ কারনে, ৩৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সেলিম ফেসবুক, মাইকিং ও স্থানীয় মসজিদের মাধ্যমে গত ১৪ জুলাই, ২০২৩ তারিখে সড়ক পাশর্^বর্তী সকল আবসিক/অনাবাসিক সকল ভবন মালিকের উদ্দেশ্যে সাধারণ নোটিশ দেন।
এ ছাড়াও কাউন্সিলরের স্থানীয়/অস্থানীয় কতিপয় অনুসারি সড়ক পাশর্^বর্তী ভবন / স্থাপনার লাল কালি দ্বারা চিহিত করে সড়কের প্রস্বস্থতার সীমা নির্দ্ধারণ করে দেন। যাতে ভবন মালিকদের কোন মতামত বা অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে কিছু ভবন মালিক প্রতিবাদ করলে কাউন্সিলরের অনুসারীরা বিভিন্নভাবে তাদেরকে হয়রানী করেন। তারা বলেন যে, নোটিশ মোতাবেক স্থাপনা অপসারন না করলে সিটি কর্পোরেশনের শ্রমিক ও বুলডোজার দিয়ে ভবন ভেঙে দিয়ে জরিমানার স্লিপ হাতে ধরিয়ে দেবেন। তাদের ওই রুপ হুমকিতে অনেক ভবন মালিক নিরুডায় হয়ে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন। আবার কয়েকজন ভবন মালিক সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরকে উকিল নোটিশ প্রদান করেছেন। আবার তথ্য অধিকার আইনে তথ্যও জানতে চেয়েছেন।
কাউন্সিলর স্থানীয় ভবন মালিকদের জানিয়েছেন যে, বর্তমান যে গ্রাউন্ড ড্রেনেজের বড় বড় পাইপ সড়ক খুঁড়ে স্থাপন করা হবে তার উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে পরবর্তীতে সড়ক প্রসস্থের সময় সড়ক উঁচু করতে হবে। কিন্তু ড্রেনেজের শেষ মাথায় যে আউটফল তা বিবেচনায় রেখে ঢাল বিবেচনা করলে পাইপ ও সড়ক উচু হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে কাউন্সিলর কোন জবাব দিতে পারেন নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভবন মালিকদের সাথে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ২০০৮ অনুযায়ী পাইপ লেইং এর লেভেল ও ডিজাইন আলোচনার দাবী জানান কেউ কেউ। সড়কের উভয় পাশের অতি পুরাতন ভবনগুলি নিঁচু হয়ে তাতে সড়কে পানি ঢুকে জনস্বাস্থের যে ক্ষতি হবে তা নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কোন পরিকল্পনার কথা জানাতে পারেন নি কাউন্সিলর।
এখন যে প্রশ্নগুলো সবার কাছে ঘুরপাক খাচ্ছে সেটি হলো: সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী অংশের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারি লাল দাগান্কে কাজে অংশ গ্রহন করেন নি কেন ? কেন ভুমি অধিগ্রহনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি? কেন জনগনের কাছে উন্নয়ন পরিকল্পনা সুস্পষ্ট ব্যাখা করা হয়নি? এবং ওয়ার্ক অর্ডার জারির পর কেন তাড়াহুঁড়ো করে স্থাপনা অপসারণ করা হলো? স্থাপনা অপসারণের খরচ কেন ভবন মালিকগন বহন করবেন? কোন ভবন মালিকের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন থেকে কেন নোটিশ ইসু করা হয়নি ? কাউন্সিলর শেখ সেলিম নির্বাহী ক্ষমতার মালিক না হয়েও কেন তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে নোটিশ দিলেন? কেন তিনি তথ্য অধিকার আইনে করা দরখাস্তের জবাব দিলেন না?
ওযার্ডবাসী এ সব প্রশ্নের জবাব চেয়ে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা বেআইনীভাবে স্থাপনা অপসারণের বিচার ও ক্ষতিপূরনের দাবীও তুলেছেন।

















