০২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে চলছে টাকার খেলা !

প্রতিনিধির নাম:

১ কোটি টাকার বিনিময়ে অদক্ষ আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ: প্রার্থী প্রতি ২ লাখ টাকা ঘুস নিয়ে মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ দানের প্রস্তুতি:

বিশেষ প্রতিবেদক

জমাকৃত দরপত্রের কাগজপত্র যথাযথ ভাবে যাচাই না করেই নগদ ১ কোটি টাকা ঘুসের বিনিময়ে বুশরা সিকিউরিটিজ সার্ভিস নামক প্রতিষ্ঠানকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ২০৫টি চতুর্থ শ্রেণীর পদে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের এর কাজ দেয়া হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক,পরিচালক প্রশাসন ও দরপত্র মুল্যায়ন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ রিয়াজুল হক জসিম এবং ডিডি ডা: মাহবুবুল আলম ভুইয়ার বিরুদ্ধে ।
এ দিকে ১ কোটি টাকা ঘুসের বিনিময়ে জনবল নিয়োগের কাজটির কার্যাদেশ পেয়েই প্রার্থী প্রতি ২ লাখ টাকা হারে ঘুস আদায় করতে শুরু করেছে বুশরা সিকিউরিটিজ সার্ভিস নামক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। দরপত্রের শর্ত ছিলো মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে তবেই জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু সেই শর্ত ভঙ্গ করে নামে মাত্র কিছু প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নিয়েই বাকিগুলো মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই মাথাপিছু ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিযোগ দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়াগেছে।
যে ২০৫ জন জনবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তাদের বেশিরভাগ প্রার্থীর কাছ থেকে একমাস আগে থেকেই ২ লক্ষ টাকা হারে ঘুস আদায় করেছেন সংশ্ষ্টি কর্মকর্তারা । আজ এ কাজের চুড়ান্ত রাজস্ব মনোনয়ন দেওয়া হবে এমনটিই শোনা যাচ্ছে। ডিডি এডমিন ডা: মো: মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া দরপত্র কমিটির সদস্য সচিব হওয়ায় তিনি প্রশাসন শাখার কর্মচারীদের মাধ্যমে লোক জোগাড় করছেন এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে মোটা অংকের টাকা নগদ নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
এ দিকে মহাপরিচালকের নির্দেশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনিই চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। অধিকাংশ লোক ডিজি তার ক্যাশিয়ার খ্যাত কর্মচারী হাফিজ ও টিপুর মাধ্যমে সংগ্রহ করেছেন বলে প্রচার চলছে।
আরো জানাগেছে, প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন দপ্তরে ১৭৫ টি ৪র্থ শ্রেণীর পদে জনবল সরবরাহের লক্ষ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য দরপত্র আহবান করা হলে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশগ্রহণ করে। কারিগরি মূল্যায়নে ৪ টি প্রতিষ্ঠান উত্তীর্ণ হয় এবং তাদের নিকট হতে আর্থিক অফার গ্রহণ করে। সকলেই দরপত্র দলিলে উল্লেখিত ৫% দর উল্লেখ করে। যেহেতু কারিগারি মূল্যায়নে উত্তীর্ণ সকল প্রতিষ্ঠানে একই দর প্রদান করে সে কারণে যাদের অভিজ্ঞতা বেশি তারাই নোটিফিবেশন অব এ্যাওয়ার্ড পাওয়ার দাবিদার। উল্লেখ্য যে বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড একই দরপত্রের অধীনে ২ নং প্যাকেজের ৩০ টি পদ জনবল সরবরাহের জন্য নন-রেসপন্সিভ হলেও ১ নং প্যাকেজে ১৭৫ টি পদে জনবল সরবরাহ করার জন্য কিভাবে কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নে কোয়ালিফাই করল সেটাই বড় প্রশ্ন।
কর্তৃপক্ষ অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে কাজ দেয়ার জন্য বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রাদি (জনবল সরবরাহের কাজের অভিজ্ঞতা, কোম্পানির জনবলের অভিজ্ঞতা, তাদের সনদপত্র, অফিসের অবস্থার, সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি) যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করেই তাকে চূডান্ত ভাবে নির্বাচিত করে। অন্যদিকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অপর প্রতিষ্ঠানগুলোও বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড এর চেয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।
বুশরাকে অনৈতিকভাবে নোটিফিবেশন অব এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে মর্মে নিশ্চিত হয়ে দরপত্রটি পূর্ণ মূল্যায়ন করার জন্য অধিদপ্তরের ডিজি, মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি বরাবর আবেদন করা হলেও তারা (কর্তৃপক্ষ) এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এ দিকে অভিযোগ রয়েছে যে, স্বাধীনতার বিপক্ষের পেশাজীবি (বিএনপি ও জামায়াতের) সংগঠন এ্যাব (এগ্রিক্যালচারিষ্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) এর প্রথম শ্রেণীর নেতা ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম,পরিচালক, প্রশাসন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ঢাকা। তিনি বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মরত স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকর্তা কর্মচারীদের একত্রিত করে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি নিয়মিত ভাবে ঢাকাস্থ প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-–কর্মচারীদের সাথে নিয়মিত বৈঠক , সরকার বিরোধী জামাত -বিএনপি বিভিন্ন মিটিং এ যোগদান ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় এ পড়াশুনা কালিন শহীদ সামছুল হক হলের ১৯৮৫-৯১ সাল পর্যন্ত আবাসিক ছাত্র ছিলেন। বিশ^বিদ্যালয়ে পড়া কালিন ছাত্রদলের অতিবিধ্বংসী আর্মস ক্যাডার ছিলেন। বর্তমানে প্রশাসন ও বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসে চাকুরী করেন এমন অনেকে ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম এর দ্বারা শাররীক ভাবে নির্যাতিত হয়েছেন । অনেকের হাত পা ভেঙে ফেলেছেন তিনি।
খোঁজ খবর নিয়ে জানাগেছে,ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম নন ক্যাডার একজন কর্মকর্তা হিসাবে কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালে প্রথম চাকুরতে প্রবেশ করেন। কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালে চাকুরীকালিন সময়ে স্বাধীনতার বিপক্ষের পেশাজীবি (বিএনপি ও জামায়াতের) সংগঠন এ্যাব (এগ্রিক্যালচারিষ্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) কে সংগঠিত করার কাজে দায়িত্ব পালন করেন। ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম এর এহেন কার্যকলাপের পুরষ্কার হিসাবে কোন বিসিএস ছাড়াই কোন তম বিসিএস বাদে বিশেষ বিসিএস কর্মকর্তা হিসাবে পদায়ন হন। যেটা তদন্ত করলে আসল চিত্র বের হবে। ৯ম থেকে ১৯তম পর্যন্ত প্রাণিসম্পদে (১০ বছর) কোন বিসিএস কর্মকর্তা নিয়োগ হয়নি।
আরো জানা গেছে, ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম,পরিচালক,উৎপাদন,চট্ট্রগ্রামে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসাবে কর্মকালীন সময়ে বিধি বহির্ভুত ভাবে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত মহিষের ও গরুর মাংশ যে সার্টিফিকেট প্রদান করে কোটি কোটি টাকা অবৈধ ভাবে উপার্জন করেছেন । তার জন্য কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেছিলেন। তার এহেন কার্যকলাপে সরকারের ৪/৫ শত কোটি রেভিনিউ আয় বঞ্চিত হয়েছে। তিনি সাম্প্রতিক কালে ৭টি ডেইরী ফার্ম,৩টি মহিষ খামার,৭টি ছাগল খামার ও ৪টি ভেড়ার খামারের জন্য ১০০টির উপর টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তার টেন্ডার কার্যক্রম অনিয়মের বিষয়ে কাযক্রম স্থগিত রাখতে নির্দেশনা প্রদান করেন প্রাণিসম্পদ মহাপরিচালক ।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিচালক প্রশাসন ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম এর মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা, কর্মচারি ও চাকরী প্রার্থীরা উল্লেখিত কর্মকর্তা ও আউটসোর্সিং কোম্পানীর এই দুর্নীতি বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩
১৮৬২ বার পড়া হয়েছে

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে চলছে টাকার খেলা !

আপডেট সময় ১২:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩

১ কোটি টাকার বিনিময়ে অদক্ষ আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ: প্রার্থী প্রতি ২ লাখ টাকা ঘুস নিয়ে মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ দানের প্রস্তুতি:

বিশেষ প্রতিবেদক

জমাকৃত দরপত্রের কাগজপত্র যথাযথ ভাবে যাচাই না করেই নগদ ১ কোটি টাকা ঘুসের বিনিময়ে বুশরা সিকিউরিটিজ সার্ভিস নামক প্রতিষ্ঠানকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ২০৫টি চতুর্থ শ্রেণীর পদে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের এর কাজ দেয়া হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক,পরিচালক প্রশাসন ও দরপত্র মুল্যায়ন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ রিয়াজুল হক জসিম এবং ডিডি ডা: মাহবুবুল আলম ভুইয়ার বিরুদ্ধে ।
এ দিকে ১ কোটি টাকা ঘুসের বিনিময়ে জনবল নিয়োগের কাজটির কার্যাদেশ পেয়েই প্রার্থী প্রতি ২ লাখ টাকা হারে ঘুস আদায় করতে শুরু করেছে বুশরা সিকিউরিটিজ সার্ভিস নামক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। দরপত্রের শর্ত ছিলো মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে তবেই জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু সেই শর্ত ভঙ্গ করে নামে মাত্র কিছু প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নিয়েই বাকিগুলো মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই মাথাপিছু ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিযোগ দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়াগেছে।
যে ২০৫ জন জনবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তাদের বেশিরভাগ প্রার্থীর কাছ থেকে একমাস আগে থেকেই ২ লক্ষ টাকা হারে ঘুস আদায় করেছেন সংশ্ষ্টি কর্মকর্তারা । আজ এ কাজের চুড়ান্ত রাজস্ব মনোনয়ন দেওয়া হবে এমনটিই শোনা যাচ্ছে। ডিডি এডমিন ডা: মো: মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া দরপত্র কমিটির সদস্য সচিব হওয়ায় তিনি প্রশাসন শাখার কর্মচারীদের মাধ্যমে লোক জোগাড় করছেন এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে মোটা অংকের টাকা নগদ নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
এ দিকে মহাপরিচালকের নির্দেশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনিই চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। অধিকাংশ লোক ডিজি তার ক্যাশিয়ার খ্যাত কর্মচারী হাফিজ ও টিপুর মাধ্যমে সংগ্রহ করেছেন বলে প্রচার চলছে।
আরো জানাগেছে, প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন দপ্তরে ১৭৫ টি ৪র্থ শ্রেণীর পদে জনবল সরবরাহের লক্ষ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য দরপত্র আহবান করা হলে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশগ্রহণ করে। কারিগরি মূল্যায়নে ৪ টি প্রতিষ্ঠান উত্তীর্ণ হয় এবং তাদের নিকট হতে আর্থিক অফার গ্রহণ করে। সকলেই দরপত্র দলিলে উল্লেখিত ৫% দর উল্লেখ করে। যেহেতু কারিগারি মূল্যায়নে উত্তীর্ণ সকল প্রতিষ্ঠানে একই দর প্রদান করে সে কারণে যাদের অভিজ্ঞতা বেশি তারাই নোটিফিবেশন অব এ্যাওয়ার্ড পাওয়ার দাবিদার। উল্লেখ্য যে বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড একই দরপত্রের অধীনে ২ নং প্যাকেজের ৩০ টি পদ জনবল সরবরাহের জন্য নন-রেসপন্সিভ হলেও ১ নং প্যাকেজে ১৭৫ টি পদে জনবল সরবরাহ করার জন্য কিভাবে কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নে কোয়ালিফাই করল সেটাই বড় প্রশ্ন।
কর্তৃপক্ষ অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে কাজ দেয়ার জন্য বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রাদি (জনবল সরবরাহের কাজের অভিজ্ঞতা, কোম্পানির জনবলের অভিজ্ঞতা, তাদের সনদপত্র, অফিসের অবস্থার, সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি) যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করেই তাকে চূডান্ত ভাবে নির্বাচিত করে। অন্যদিকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অপর প্রতিষ্ঠানগুলোও বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড এর চেয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।
বুশরাকে অনৈতিকভাবে নোটিফিবেশন অব এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে মর্মে নিশ্চিত হয়ে দরপত্রটি পূর্ণ মূল্যায়ন করার জন্য অধিদপ্তরের ডিজি, মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি বরাবর আবেদন করা হলেও তারা (কর্তৃপক্ষ) এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এ দিকে অভিযোগ রয়েছে যে, স্বাধীনতার বিপক্ষের পেশাজীবি (বিএনপি ও জামায়াতের) সংগঠন এ্যাব (এগ্রিক্যালচারিষ্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) এর প্রথম শ্রেণীর নেতা ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম,পরিচালক, প্রশাসন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ঢাকা। তিনি বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মরত স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকর্তা কর্মচারীদের একত্রিত করে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি নিয়মিত ভাবে ঢাকাস্থ প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-–কর্মচারীদের সাথে নিয়মিত বৈঠক , সরকার বিরোধী জামাত -বিএনপি বিভিন্ন মিটিং এ যোগদান ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় এ পড়াশুনা কালিন শহীদ সামছুল হক হলের ১৯৮৫-৯১ সাল পর্যন্ত আবাসিক ছাত্র ছিলেন। বিশ^বিদ্যালয়ে পড়া কালিন ছাত্রদলের অতিবিধ্বংসী আর্মস ক্যাডার ছিলেন। বর্তমানে প্রশাসন ও বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসে চাকুরী করেন এমন অনেকে ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম এর দ্বারা শাররীক ভাবে নির্যাতিত হয়েছেন । অনেকের হাত পা ভেঙে ফেলেছেন তিনি।
খোঁজ খবর নিয়ে জানাগেছে,ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম নন ক্যাডার একজন কর্মকর্তা হিসাবে কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালে প্রথম চাকুরতে প্রবেশ করেন। কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালে চাকুরীকালিন সময়ে স্বাধীনতার বিপক্ষের পেশাজীবি (বিএনপি ও জামায়াতের) সংগঠন এ্যাব (এগ্রিক্যালচারিষ্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) কে সংগঠিত করার কাজে দায়িত্ব পালন করেন। ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম এর এহেন কার্যকলাপের পুরষ্কার হিসাবে কোন বিসিএস ছাড়াই কোন তম বিসিএস বাদে বিশেষ বিসিএস কর্মকর্তা হিসাবে পদায়ন হন। যেটা তদন্ত করলে আসল চিত্র বের হবে। ৯ম থেকে ১৯তম পর্যন্ত প্রাণিসম্পদে (১০ বছর) কোন বিসিএস কর্মকর্তা নিয়োগ হয়নি।
আরো জানা গেছে, ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম,পরিচালক,উৎপাদন,চট্ট্রগ্রামে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসাবে কর্মকালীন সময়ে বিধি বহির্ভুত ভাবে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত মহিষের ও গরুর মাংশ যে সার্টিফিকেট প্রদান করে কোটি কোটি টাকা অবৈধ ভাবে উপার্জন করেছেন । তার জন্য কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেছিলেন। তার এহেন কার্যকলাপে সরকারের ৪/৫ শত কোটি রেভিনিউ আয় বঞ্চিত হয়েছে। তিনি সাম্প্রতিক কালে ৭টি ডেইরী ফার্ম,৩টি মহিষ খামার,৭টি ছাগল খামার ও ৪টি ভেড়ার খামারের জন্য ১০০টির উপর টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তার টেন্ডার কার্যক্রম অনিয়মের বিষয়ে কাযক্রম স্থগিত রাখতে নির্দেশনা প্রদান করেন প্রাণিসম্পদ মহাপরিচালক ।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিচালক প্রশাসন ডা.মো.রেয়াজুল হক জসিম এর মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা, কর্মচারি ও চাকরী প্রার্থীরা উল্লেখিত কর্মকর্তা ও আউটসোর্সিং কোম্পানীর এই দুর্নীতি বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।