০২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই মাসের তদন্ত কমিটি পাঁচ মাসেও দেয়নি প্রতিবেদন: সাভারে বিএলআরআইয়ে প্রকল্পের অর্থ হরিলুট!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

প্রকল্পের তিনটি শেড নির্মাণে এস্টিমেটে রডের মূল্য অধিক ধার্য করে ২৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অডিট কর্মকর্তারা ২০২১-২২ অর্থবছরে তিনটি সেডের এস্টিমেট একত্রিত করে এ দুর্নীতির সন্ধান পান। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের সেড নির্মাণে এমন দুর্নীতি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকল্পের হিসাব বিভাগ, প্রকল্প পরিচালক ও বিএলআরআইয়ের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অডিট আপত্তি দেওয়া হয়।
বিএলআরআই কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৪ কোটি ১৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৯ টাকায় তিনতলা বিশিষ্ট পোলট্র্রি গ্রোওয়ার শেড নির্মাণের কার্যাদেশ পায় সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর এলাকার এসএ খান করপোরেশন। কেউ কেউ বলছেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম তার এলাকার (সিরাজগঞ্জের) ঘনিষ্ঠজনকে কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডার কারিকলামে কৌশল করেন। সরজমিনে তিনটি শেডের মধ্যে সেন্টারিংয়ে দুটিতে স্টিল ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অপরটিতে বিল্ডিং কোড অমান্য করে কাঠ ও বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মহাপরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও ফল পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিএলআরআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সেড নির্মাণের শুরুতেই প্রকৌশলী তার রডের দাম বেশি ধরে। ঠিকাদার ওই হিসেবে বিল প্রস্তুত করে প্রকৌশলীর দপ্তরে প্রেরণ করে। প্রকৌশলী ওই বিলে সম্মতি দিয়ে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে পাঠায়। ঠিকাদার প্রকল্পের হিসাব বিভাগ থেকে অতিরিক্ত ২৬ লাখ ৭৯ হাজার ২২১ টাকা উত্তোলন করে ভাগবাঁটোয়ারা করে আত্মসাৎ করে।
এ ঘটনায় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বিএলআরআইয়ের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৫ মাস গত হলেও তদন্ত কমিটি সন্তোষজনক প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এখন আত্মসাতের টাকা ঠিকাদারসহ কর্মকর্তাদের গলারকাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে অডিট আপত্তিতে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের অধীনে সাভারে তিনতলা বিশিষ্ট তিনটি শেডের নির্মাণ কাজ শুরু করে। এর মধ্যে পোলট্রি গ্রোওয়ার সেডের প্রাক্কলনে ২৭ নম্বর আইটেমে পিডাব্লিউডি রেট সিডিউল মোতাবেক রডের মূল্য ৮২ টাকা অনুসরণ না করে প্রকৌশলী এলজিইডির রেট সিডিউল অনুযায়ী রডের মূল্য ১০০.৯৫ টাকা ধার্য করা হয়। এলজিইডির রেট সিডিউল অনুসরণ করার ফলে রডের মূল্য ২৬ লাখ ৭৯ হাজার ২২১ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধিত করা হয়েছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, বিএলআরআইয়ের প্রকৌশলী তিনটি সেডের এস্টিমেট করে একটি বিজ্ঞাপণে তিন সেডের দরপত্র আহ্বান করেন। অথচ দুটি সেডের রডের মূল্য পিডব্লিউডি রেট সিডিউল অনুযায়ী রডের মূল্য ৮২ টাকা অনুসরণ করা হয়। অন্য সেডের রডের মূল্য এলজিইডির রেট সিডিউল অনুযায়ী ১০০.৯৫ টাকা ধার্য করেন।
বিএলআরআইয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, একটি ভবন নির্মাণে রড সিমেন্টসহ অন্তত ৫শটি আইটেম থাকে; যার একটি সেডের ক্ষেত্রে রডের দাম বেশি ধরে অন্যান্য আইটেমের দাম কম ধরা হয়েছে। অডিট কর্মকর্তারা বিষয়টি না বুঝে আপত্তি দিয়েছেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাভার সার্কেলের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করেননি। প্রকল্প পরিচালক সাজেদুল করিম বলেন, কোনটার দর কত টাকা সেটা আমার জানার কথা নয়। প্রতিবেদনের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ মে ২০২৩
১৭৩ বার পড়া হয়েছে

দুই মাসের তদন্ত কমিটি পাঁচ মাসেও দেয়নি প্রতিবেদন: সাভারে বিএলআরআইয়ে প্রকল্পের অর্থ হরিলুট!

আপডেট সময় ১০:৫১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ মে ২০২৩

রোস্তম মল্লিক

প্রকল্পের তিনটি শেড নির্মাণে এস্টিমেটে রডের মূল্য অধিক ধার্য করে ২৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অডিট কর্মকর্তারা ২০২১-২২ অর্থবছরে তিনটি সেডের এস্টিমেট একত্রিত করে এ দুর্নীতির সন্ধান পান। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের সেড নির্মাণে এমন দুর্নীতি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকল্পের হিসাব বিভাগ, প্রকল্প পরিচালক ও বিএলআরআইয়ের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অডিট আপত্তি দেওয়া হয়।
বিএলআরআই কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৪ কোটি ১৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৯ টাকায় তিনতলা বিশিষ্ট পোলট্র্রি গ্রোওয়ার শেড নির্মাণের কার্যাদেশ পায় সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর এলাকার এসএ খান করপোরেশন। কেউ কেউ বলছেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম তার এলাকার (সিরাজগঞ্জের) ঘনিষ্ঠজনকে কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডার কারিকলামে কৌশল করেন। সরজমিনে তিনটি শেডের মধ্যে সেন্টারিংয়ে দুটিতে স্টিল ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অপরটিতে বিল্ডিং কোড অমান্য করে কাঠ ও বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মহাপরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও ফল পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিএলআরআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সেড নির্মাণের শুরুতেই প্রকৌশলী তার রডের দাম বেশি ধরে। ঠিকাদার ওই হিসেবে বিল প্রস্তুত করে প্রকৌশলীর দপ্তরে প্রেরণ করে। প্রকৌশলী ওই বিলে সম্মতি দিয়ে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে পাঠায়। ঠিকাদার প্রকল্পের হিসাব বিভাগ থেকে অতিরিক্ত ২৬ লাখ ৭৯ হাজার ২২১ টাকা উত্তোলন করে ভাগবাঁটোয়ারা করে আত্মসাৎ করে।
এ ঘটনায় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বিএলআরআইয়ের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৫ মাস গত হলেও তদন্ত কমিটি সন্তোষজনক প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এখন আত্মসাতের টাকা ঠিকাদারসহ কর্মকর্তাদের গলারকাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে অডিট আপত্তিতে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের অধীনে সাভারে তিনতলা বিশিষ্ট তিনটি শেডের নির্মাণ কাজ শুরু করে। এর মধ্যে পোলট্রি গ্রোওয়ার সেডের প্রাক্কলনে ২৭ নম্বর আইটেমে পিডাব্লিউডি রেট সিডিউল মোতাবেক রডের মূল্য ৮২ টাকা অনুসরণ না করে প্রকৌশলী এলজিইডির রেট সিডিউল অনুযায়ী রডের মূল্য ১০০.৯৫ টাকা ধার্য করা হয়। এলজিইডির রেট সিডিউল অনুসরণ করার ফলে রডের মূল্য ২৬ লাখ ৭৯ হাজার ২২১ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধিত করা হয়েছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, বিএলআরআইয়ের প্রকৌশলী তিনটি সেডের এস্টিমেট করে একটি বিজ্ঞাপণে তিন সেডের দরপত্র আহ্বান করেন। অথচ দুটি সেডের রডের মূল্য পিডব্লিউডি রেট সিডিউল অনুযায়ী রডের মূল্য ৮২ টাকা অনুসরণ করা হয়। অন্য সেডের রডের মূল্য এলজিইডির রেট সিডিউল অনুযায়ী ১০০.৯৫ টাকা ধার্য করেন।
বিএলআরআইয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, একটি ভবন নির্মাণে রড সিমেন্টসহ অন্তত ৫শটি আইটেম থাকে; যার একটি সেডের ক্ষেত্রে রডের দাম বেশি ধরে অন্যান্য আইটেমের দাম কম ধরা হয়েছে। অডিট কর্মকর্তারা বিষয়টি না বুঝে আপত্তি দিয়েছেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাভার সার্কেলের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করেননি। প্রকল্প পরিচালক সাজেদুল করিম বলেন, কোনটার দর কত টাকা সেটা আমার জানার কথা নয়। প্রতিবেদনের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।