০৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: বিআইডব্লিউটিএতে দুদকের মামলার তথ্য গোপন করে ৪ প্রকৌশলীর পদোন্নতির তথ্য ফাঁস!

প্রতিনিধির নাম:

 

রোস্তম মল্লিক

বিআইডব্লিউটিএর রাজশাহী -গোদাগাড়ি আরিচা-মোহনগঞ্জ দৈখাওয়া নৌপথ ড্রেজিং প্রকল্পের বরাদ্দকৃত একশত উনত্রিশ কোটি টাকার সিংহভাগ আত্বসাত করায় এবং পে অর্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে ১ কোটি ২১ লক্ষ ৫ হাজার ১৩১ টাকা ঘুস গ্রহন করায় বিআইডব্লিউটিএর ৪ প্রকৌশলী ও তাদের স্ত্রীদের নামে মতিঝিল থানায় দায়েরকৃত মামলায় চার্জশীট প্রদান করেছে দুদক। মামলা নং ১৭ তারিখ ৪/৬/২০০৮ ইং। চাজসীট নং ০২ তারিখ ১/৭/২০১৯ ইং । মামলাটি বর্তমানে ঢাকা মহানগর সিনিয়র দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কোর্ট মামলা নং ১২০ তারিখ ২৩/৭/২০১৯ ইং।
এই মামলার বিরুদ্ধে দূর্নিতিবাজ প্রকৌশলীগন হাইকোটে রীট/আপিল করলে হাইকোর্র্টের আপিল বিভাগ তাদের রীট /আপিল খারিজ করে দুর্নীতির মামলা পূর্বের ন্যায় চালু করে বর্নিত মামলার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দুদক এবং মহানগর বিশেষ জজ আদালতকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সে রায়ের আলোকে ঢাকা মহানগর দায়রা বিশেষ জজ ৫ নং আমলী আদালতের ফৌজদারি মামলা নং ৭/ ২০ বতর্মানে বিচারাধীন রয়েছে। আসামীগন ২৬/৪/২০২৩ ইং তাখিখে স্বশরীরে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে আসামীগনের আগামী মাসে আদালতে হাজিরার তারিখ নির্দ্ধারিত আছে।
বিআইডব্লিউটিএর বিজ্ঞ আইনজীবি আসামীদের দুর্নীতির ফৌজদারি মামলার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন ও মানব সম্পদ) কাজী ওয়াকিল নওয়াজকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবগত করেছেন। জামিনে থাকা আসামী এবং দুদকের মামলা বিশেষ জজ আদালতে চলমান থাকা অবস্থায় তথ্য গোপন করে আসামীগন সহকারী প্রকৌশলী হতে পর্যায়ক্রমে তিন দফা উচ্চতর পদ পদোন্নতি নিয়ে মোঃ ফরহাদ উজ্জামান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে বর্তমানে বিশ্ব ব্যাংক ড্রেজিং প্রকল্পে কর্মরত আছেন। মোঃ আবু বকর সিদ্দিক দুর্নীতির মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তথ্য গোপন করে উপ সহকারী প্রকৌশলী হতে দুই দফা পদোন্নতি নিয়ে বতর্মান নিবাহী প্রকৌশলী হিসাবে বরিশাল, চট্রগ্রাম বিভাগে ড্রেজিং কাজে কর্মরত আছেন। মোঃ জহীরুল ইসলাম মামলার তথ্য গোপন করে উপসহকারী প্রকৌশলী হতে দুই দফা পদোন্নতি নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে আরিচা ডিভিশনে প্রকৌশল বিভাগে কর্র্মরত আছেন। মামলার তথ্য গোপন করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সাইফুল ইসলাম পদোন্নতি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত আছেন।
এই চার প্রকৌশলী বিআইডব্লিউটিএর পদোন্নতি বোর্ড সভার সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানগনকে প্রায় কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে তাদের উচ্চতরপদে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন । তারা বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে প্রাইজ পোষ্টিং পেয়ে বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন ড্রেজিং কাজ থেকে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে আত্বসাত করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে।
এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় হতে কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হলে কর্তৃপক্ষ দুদকের ফৌজদারি মামলার চার্জসীটে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি দায়সারা প্রতিবেদন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করেন।
এছাড়াও মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ এবং দুদক হতে চার্জসীট/চলমান মামলায় অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর একাধিকবার পত্র প্রেরণ করা হলেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদেরকে সরকারি চাকুরি বিধি লংঘন করে উচ্চোতর পদে পদোন্নতি দিয়ে চাকুরিতে বহাল তবিয়তে রেখে প্রাইজ পোষ্টিং দিয়ে দুর্নীতিকে আরো উৎসাহিত করা হয়েছে।
এতে বতর্মান সরকারে চলমান দুর্নীতি বিরোধী অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে। দুদকের চার্জসীটভূক্ত আসামীদের নামে বেনামে ঢাকার শহরে কয়েকটি দশ তলা বাড়ি,ফ্ল্যাট, প্লট এবং কোটি কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে যে সকল প্রমানক দলিল /পত্র রয়েছে তা সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজে লাগিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করে বিআইডব্লিউটিএকে দুর্নীতিমুক্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। এই ৪ প্রকৌশলী অবৈধপথে কি পরিমাণ ধন-সম্পদ অর্জন করেছেন তা আমাদের অনুসন্ধানে রয়েছে। (আগামীকাল পড়–ন দ্বিতীয় পর্ব)

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ মে ২০২৩
২৫৩ বার পড়া হয়েছে

শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: বিআইডব্লিউটিএতে দুদকের মামলার তথ্য গোপন করে ৪ প্রকৌশলীর পদোন্নতির তথ্য ফাঁস!

আপডেট সময় ১০:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ মে ২০২৩

 

রোস্তম মল্লিক

বিআইডব্লিউটিএর রাজশাহী -গোদাগাড়ি আরিচা-মোহনগঞ্জ দৈখাওয়া নৌপথ ড্রেজিং প্রকল্পের বরাদ্দকৃত একশত উনত্রিশ কোটি টাকার সিংহভাগ আত্বসাত করায় এবং পে অর্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে ১ কোটি ২১ লক্ষ ৫ হাজার ১৩১ টাকা ঘুস গ্রহন করায় বিআইডব্লিউটিএর ৪ প্রকৌশলী ও তাদের স্ত্রীদের নামে মতিঝিল থানায় দায়েরকৃত মামলায় চার্জশীট প্রদান করেছে দুদক। মামলা নং ১৭ তারিখ ৪/৬/২০০৮ ইং। চাজসীট নং ০২ তারিখ ১/৭/২০১৯ ইং । মামলাটি বর্তমানে ঢাকা মহানগর সিনিয়র দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কোর্ট মামলা নং ১২০ তারিখ ২৩/৭/২০১৯ ইং।
এই মামলার বিরুদ্ধে দূর্নিতিবাজ প্রকৌশলীগন হাইকোটে রীট/আপিল করলে হাইকোর্র্টের আপিল বিভাগ তাদের রীট /আপিল খারিজ করে দুর্নীতির মামলা পূর্বের ন্যায় চালু করে বর্নিত মামলার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দুদক এবং মহানগর বিশেষ জজ আদালতকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সে রায়ের আলোকে ঢাকা মহানগর দায়রা বিশেষ জজ ৫ নং আমলী আদালতের ফৌজদারি মামলা নং ৭/ ২০ বতর্মানে বিচারাধীন রয়েছে। আসামীগন ২৬/৪/২০২৩ ইং তাখিখে স্বশরীরে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে আসামীগনের আগামী মাসে আদালতে হাজিরার তারিখ নির্দ্ধারিত আছে।
বিআইডব্লিউটিএর বিজ্ঞ আইনজীবি আসামীদের দুর্নীতির ফৌজদারি মামলার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন ও মানব সম্পদ) কাজী ওয়াকিল নওয়াজকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবগত করেছেন। জামিনে থাকা আসামী এবং দুদকের মামলা বিশেষ জজ আদালতে চলমান থাকা অবস্থায় তথ্য গোপন করে আসামীগন সহকারী প্রকৌশলী হতে পর্যায়ক্রমে তিন দফা উচ্চতর পদ পদোন্নতি নিয়ে মোঃ ফরহাদ উজ্জামান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে বর্তমানে বিশ্ব ব্যাংক ড্রেজিং প্রকল্পে কর্মরত আছেন। মোঃ আবু বকর সিদ্দিক দুর্নীতির মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তথ্য গোপন করে উপ সহকারী প্রকৌশলী হতে দুই দফা পদোন্নতি নিয়ে বতর্মান নিবাহী প্রকৌশলী হিসাবে বরিশাল, চট্রগ্রাম বিভাগে ড্রেজিং কাজে কর্মরত আছেন। মোঃ জহীরুল ইসলাম মামলার তথ্য গোপন করে উপসহকারী প্রকৌশলী হতে দুই দফা পদোন্নতি নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে আরিচা ডিভিশনে প্রকৌশল বিভাগে কর্র্মরত আছেন। মামলার তথ্য গোপন করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সাইফুল ইসলাম পদোন্নতি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত আছেন।
এই চার প্রকৌশলী বিআইডব্লিউটিএর পদোন্নতি বোর্ড সভার সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানগনকে প্রায় কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে তাদের উচ্চতরপদে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন । তারা বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে প্রাইজ পোষ্টিং পেয়ে বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন ড্রেজিং কাজ থেকে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে আত্বসাত করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে।
এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় হতে কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হলে কর্তৃপক্ষ দুদকের ফৌজদারি মামলার চার্জসীটে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি দায়সারা প্রতিবেদন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করেন।
এছাড়াও মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ এবং দুদক হতে চার্জসীট/চলমান মামলায় অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর একাধিকবার পত্র প্রেরণ করা হলেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদেরকে সরকারি চাকুরি বিধি লংঘন করে উচ্চোতর পদে পদোন্নতি দিয়ে চাকুরিতে বহাল তবিয়তে রেখে প্রাইজ পোষ্টিং দিয়ে দুর্নীতিকে আরো উৎসাহিত করা হয়েছে।
এতে বতর্মান সরকারে চলমান দুর্নীতি বিরোধী অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে। দুদকের চার্জসীটভূক্ত আসামীদের নামে বেনামে ঢাকার শহরে কয়েকটি দশ তলা বাড়ি,ফ্ল্যাট, প্লট এবং কোটি কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে যে সকল প্রমানক দলিল /পত্র রয়েছে তা সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজে লাগিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করে বিআইডব্লিউটিএকে দুর্নীতিমুক্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। এই ৪ প্রকৌশলী অবৈধপথে কি পরিমাণ ধন-সম্পদ অর্জন করেছেন তা আমাদের অনুসন্ধানে রয়েছে। (আগামীকাল পড়–ন দ্বিতীয় পর্ব)