০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুন্ডির কারবার, সিআইডির অভিযানের পর মিলছে সুফল

প্রতিনিধির নাম:

নিজস্ব প্রতিবেদক

মোবাইল ব্যাংকিংয়র মাধ্যমে হুন্ডির কারবারে জড়িত একটি চক্রের ১৬ সদস্যকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপর থেকে বিগত মাসের তুলনায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিসানুল হক বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে অসাধু চক্র বিদেশে অর্থ পাচারসহ হুন্ডি করে বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহের গতি কমিয়ে দিয়েছিল। পরে সংস্থার প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়ার দিক-নির্দেশনায় দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও টাকা পাচারের দিকে বিশেষ নজর দেয় সিআইডি। এরই প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার করা হয় হুন্ডি কারবারি চক্রের কয়েকজন সদস্যকে। ওই অভিযানের পর বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানোর হার বিগত মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সিআইডির মিটিং হয়। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছিলাম, এটার একটা সুষ্ঠু সমাধান হবে। এরপর সিআইডি ইন্টেলিজেন্স বেইজ অপারেশন পরিচালনা করে। পাঁচ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এজেন্টকে নজরদারিতে রাখা হয়। এর ফলে অবৈধভাবে লেনদেন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে যায়। ইতোমধ্যে যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতি এদেশের অর্থনীতির ওপর যে চাপ তৈরি করেছে তা মোকাবিলা করার জন্য সরকার অত্যন্ত তৎপর।

সিআইডি প্রধান বলেন, হুন্ডি সবসময় রিজার্ভের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচার এবং বিদেশে অবস্থানরত ওয়েজ আর্নারদের কষ্টার্জিত অর্থ বিদেশ থেকে বাংলাদেশে না এনে স্থানীয় মুদ্রায় মূল্য পরিশোধ করার মাধ্যমে মানি লন্ডারিং অপরাধ করে আসছে। এমন ৫ হাজারের বেশি এজেন্টকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মনে করেন, প্রবাসীদের মোটা অংকের টাকা (রেমিট্যান্স) হুন্ডির মাধ্যমে দেশে নিয়ে আসছিল একটি চক্র। ওই চক্রের বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযানের পরে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। এখন বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স আসার প্রবণতা বেড়েছে। ইতোমধ্যে সিআইডির অভিযানের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

সংস্থাটি প্রবাসীদের আয় (রেমিট্যান্স) কালো পথে আসা আরও কয়েক মাস বন্ধ রাখতে পারলে দেশে ডলারের সংকট কেটে যাবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা। আর দেশ থেকে টাকা পাচারের দিকে সিআইডিসহ সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আরও কঠোর নজর দিতে হবে বলেও মনে করেন তারা।

গত ৮ সেপ্টেম্বর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডি প্রবাসীদের টাকা নিয়ে আসা ও দেশ থেকে টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে সিআইডি। অভিযানে ১৬ মুদ্রা অপরাধীকে আটক করা হয়। এছাড়া এই কারবারে জড়িত আছেন এমন পাঁচ হাজার ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি।

তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১০৮ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ১০ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা। এটি অব্যাহত থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের আগস্টে ২০৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের (২০৩৮ মিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের আগস্টে এসেছিল ১৮১ কোটি ডলার (১৮১০ মিলিয়ন ডলার)। সে হিসাবে আগস্টে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২.৬ শতাংশ। চলতি বছরের জুলাই মাসে রেমিট্যান্স আসে ২০৯ কোটি ডলার। সে হিসাবে জুলাই অপেক্ষা আগস্টে প্রায় ছয় কোটি ডলার কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স সংক্রান্ত সবশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২
১৭১ বার পড়া হয়েছে

হুন্ডির কারবার, সিআইডির অভিযানের পর মিলছে সুফল

আপডেট সময় ১২:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক

মোবাইল ব্যাংকিংয়র মাধ্যমে হুন্ডির কারবারে জড়িত একটি চক্রের ১৬ সদস্যকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপর থেকে বিগত মাসের তুলনায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিসানুল হক বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে অসাধু চক্র বিদেশে অর্থ পাচারসহ হুন্ডি করে বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহের গতি কমিয়ে দিয়েছিল। পরে সংস্থার প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়ার দিক-নির্দেশনায় দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও টাকা পাচারের দিকে বিশেষ নজর দেয় সিআইডি। এরই প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার করা হয় হুন্ডি কারবারি চক্রের কয়েকজন সদস্যকে। ওই অভিযানের পর বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানোর হার বিগত মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সিআইডির মিটিং হয়। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছিলাম, এটার একটা সুষ্ঠু সমাধান হবে। এরপর সিআইডি ইন্টেলিজেন্স বেইজ অপারেশন পরিচালনা করে। পাঁচ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এজেন্টকে নজরদারিতে রাখা হয়। এর ফলে অবৈধভাবে লেনদেন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে যায়। ইতোমধ্যে যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতি এদেশের অর্থনীতির ওপর যে চাপ তৈরি করেছে তা মোকাবিলা করার জন্য সরকার অত্যন্ত তৎপর।

সিআইডি প্রধান বলেন, হুন্ডি সবসময় রিজার্ভের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচার এবং বিদেশে অবস্থানরত ওয়েজ আর্নারদের কষ্টার্জিত অর্থ বিদেশ থেকে বাংলাদেশে না এনে স্থানীয় মুদ্রায় মূল্য পরিশোধ করার মাধ্যমে মানি লন্ডারিং অপরাধ করে আসছে। এমন ৫ হাজারের বেশি এজেন্টকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মনে করেন, প্রবাসীদের মোটা অংকের টাকা (রেমিট্যান্স) হুন্ডির মাধ্যমে দেশে নিয়ে আসছিল একটি চক্র। ওই চক্রের বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযানের পরে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। এখন বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স আসার প্রবণতা বেড়েছে। ইতোমধ্যে সিআইডির অভিযানের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

সংস্থাটি প্রবাসীদের আয় (রেমিট্যান্স) কালো পথে আসা আরও কয়েক মাস বন্ধ রাখতে পারলে দেশে ডলারের সংকট কেটে যাবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা। আর দেশ থেকে টাকা পাচারের দিকে সিআইডিসহ সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আরও কঠোর নজর দিতে হবে বলেও মনে করেন তারা।

গত ৮ সেপ্টেম্বর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডি প্রবাসীদের টাকা নিয়ে আসা ও দেশ থেকে টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে সিআইডি। অভিযানে ১৬ মুদ্রা অপরাধীকে আটক করা হয়। এছাড়া এই কারবারে জড়িত আছেন এমন পাঁচ হাজার ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি।

তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১০৮ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ১০ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা। এটি অব্যাহত থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের আগস্টে ২০৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের (২০৩৮ মিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের আগস্টে এসেছিল ১৮১ কোটি ডলার (১৮১০ মিলিয়ন ডলার)। সে হিসাবে আগস্টে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২.৬ শতাংশ। চলতি বছরের জুলাই মাসে রেমিট্যান্স আসে ২০৯ কোটি ডলার। সে হিসাবে জুলাই অপেক্ষা আগস্টে প্রায় ছয় কোটি ডলার কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স সংক্রান্ত সবশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।