০৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুদকের পদক্ষেপ জরুরী রাজউকের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি আব্দুল মোমিনের সম্পদের পাহাড়!

প্রতিনিধির নাম:

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) যেন টাকার খনি। এই প্রতিষ্ঠানে যারা চাকরি করেন তাদের ভাগ্যের দুয়ার খুলে যায়। বাড়ী, গাড়ি, প্লট ,ফ্ল্যাটসহ অভিজাত মাকের্টে একাধিক দোকান ছাড়াও ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার সন্ধান মেলে। দুর্নীতি দমন কমিশনের ভাষ্য মতে রাজউকের অন্তত: ২৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার এবং মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তারপরও এই প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি কমছে না। এখন রাজউক মানেই ঘুসের হাট।
এই প্রতিষ্ঠানেরই তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারি আব্দুল মোমিন। তিনি বর্তমানে রাজউকের প্রধান কার্যালয়ে ডাটা এন্ট্রি অপরেটর পদে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ পথে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়াগেছে। তিনি প্রায় ২২ বছর রাজউক প্রধান কার্যালয়ে চাকরি করছেন। শত অভিযোগেও তাকে প্রধান কার্যালয় থেকে বদলী করা সম্ভব হয়নি। তিনি সর্বসাকুল্যে বেতন পান ৩৫ হাজার টাকার মত। অথচ: প্রতি মাসে ব্যয় করেন কমপক্ষে ২ লাখ টাকা।
অভিযোগ অনুসন্ধানে জানাগেছে, ডাটা এন্ট্রি অপরেটর আব্দুল মোমিন রাজউকের কাজে ফাঁকি দিয়ে ৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। এ ছাড়া অর্থের বিনিময়ে প্ল্যান পাশ,প্লট হস্তান্তর, প্লট বিক্রয়ের দালালী ,আবাসিক ভবনকে অ-আবাসিক বা বাণিজ্যে রুপান্তর ইত্যাদি কাজ চুক্তির মাধ্যমে করে যাচ্ছেন। এসব কাজ করে তিনি অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
তিনি ধারাবাহিকভাবে বেসরকারি ৩ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের রাজউকের এজেন্ট হিসাবে কাজ করেন। অফিস টাইমে প্রায় সময়েই তার সাথে কিছু ঠিকাদারের গল্প করতে দেখা যায়। তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৭১ ও ৭২ নং ওয়ার্ডের দুইজন প্রভাবশালী নেতার বেশ কয়েকটি বড় বড় প্ল্যান মিথ্যা তথ্যে পাশ করিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়াগেছে। জাল কাগজপত্র সৃষ্টি করতে তিনি ওস্তাদ বলে জানিয়েছেন রাজউকের কয়েকজন কর্মচারি। এভাবে অবৈধপথে অর্থ উপার্জন করে সেই অর্থে তিনি রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন মান্ডা ঝিলপাড়ে স্ত্রী ও শ্বাশুড়ীর নামে ৫ কাঠা জমি ক্রয় করেছেন যার মুল্য কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা। ঢাকা -মুগদা ৭১ নং ওয়ার্ডের দক্ষিন মান্ডার ১ম গলিতে “শান্তির নীড়” সুলতানা মহল নামে একটি ৬তলা বাড়ী নির্মাণ করেছেন যার মুল্য আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা। নিজে ব্যবহারের জন্য একখানা প্রাইভেট কারও ক্রয় করেছেন যার মুল্য কমপক্ষে ২৮ লাখ টাকা। এছাড়া তার গ্রামের বাড়ী সিরাজগঞ্জেও প্রচুর সম্পত্তি ক্রয় করেছেন।
এসব সম্পদের বৈধ কোন ইনকাম সোর্স নেই বলে জানা যায়।
এসব বিষয়ে মুঠোফোনে তার সাথে কথা বললে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
কিভাবে তিনি এতো সম্পদের মালিক হলেন তা অনুসন্ধান করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দুদকের প্রতি আহবান জানিয়েছেন রাজউকের দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। একই সাথে সরকারি চাকুরীর দায়িত্বে ফাঁকি দিয়ে ৩ টি বেসরকারি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসাবে কিভাবে কাজ করছেন তা খতিয়ে দেখার জন্য রাজউক চেয়ারম্যানের প্রতি দাবী জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২
১৯৩ বার পড়া হয়েছে

দুদকের পদক্ষেপ জরুরী রাজউকের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি আব্দুল মোমিনের সম্পদের পাহাড়!

আপডেট সময় ০৫:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) যেন টাকার খনি। এই প্রতিষ্ঠানে যারা চাকরি করেন তাদের ভাগ্যের দুয়ার খুলে যায়। বাড়ী, গাড়ি, প্লট ,ফ্ল্যাটসহ অভিজাত মাকের্টে একাধিক দোকান ছাড়াও ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার সন্ধান মেলে। দুর্নীতি দমন কমিশনের ভাষ্য মতে রাজউকের অন্তত: ২৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার এবং মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তারপরও এই প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি কমছে না। এখন রাজউক মানেই ঘুসের হাট।
এই প্রতিষ্ঠানেরই তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারি আব্দুল মোমিন। তিনি বর্তমানে রাজউকের প্রধান কার্যালয়ে ডাটা এন্ট্রি অপরেটর পদে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ পথে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়াগেছে। তিনি প্রায় ২২ বছর রাজউক প্রধান কার্যালয়ে চাকরি করছেন। শত অভিযোগেও তাকে প্রধান কার্যালয় থেকে বদলী করা সম্ভব হয়নি। তিনি সর্বসাকুল্যে বেতন পান ৩৫ হাজার টাকার মত। অথচ: প্রতি মাসে ব্যয় করেন কমপক্ষে ২ লাখ টাকা।
অভিযোগ অনুসন্ধানে জানাগেছে, ডাটা এন্ট্রি অপরেটর আব্দুল মোমিন রাজউকের কাজে ফাঁকি দিয়ে ৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। এ ছাড়া অর্থের বিনিময়ে প্ল্যান পাশ,প্লট হস্তান্তর, প্লট বিক্রয়ের দালালী ,আবাসিক ভবনকে অ-আবাসিক বা বাণিজ্যে রুপান্তর ইত্যাদি কাজ চুক্তির মাধ্যমে করে যাচ্ছেন। এসব কাজ করে তিনি অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
তিনি ধারাবাহিকভাবে বেসরকারি ৩ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের রাজউকের এজেন্ট হিসাবে কাজ করেন। অফিস টাইমে প্রায় সময়েই তার সাথে কিছু ঠিকাদারের গল্প করতে দেখা যায়। তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৭১ ও ৭২ নং ওয়ার্ডের দুইজন প্রভাবশালী নেতার বেশ কয়েকটি বড় বড় প্ল্যান মিথ্যা তথ্যে পাশ করিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়াগেছে। জাল কাগজপত্র সৃষ্টি করতে তিনি ওস্তাদ বলে জানিয়েছেন রাজউকের কয়েকজন কর্মচারি। এভাবে অবৈধপথে অর্থ উপার্জন করে সেই অর্থে তিনি রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন মান্ডা ঝিলপাড়ে স্ত্রী ও শ্বাশুড়ীর নামে ৫ কাঠা জমি ক্রয় করেছেন যার মুল্য কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা। ঢাকা -মুগদা ৭১ নং ওয়ার্ডের দক্ষিন মান্ডার ১ম গলিতে “শান্তির নীড়” সুলতানা মহল নামে একটি ৬তলা বাড়ী নির্মাণ করেছেন যার মুল্য আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা। নিজে ব্যবহারের জন্য একখানা প্রাইভেট কারও ক্রয় করেছেন যার মুল্য কমপক্ষে ২৮ লাখ টাকা। এছাড়া তার গ্রামের বাড়ী সিরাজগঞ্জেও প্রচুর সম্পত্তি ক্রয় করেছেন।
এসব সম্পদের বৈধ কোন ইনকাম সোর্স নেই বলে জানা যায়।
এসব বিষয়ে মুঠোফোনে তার সাথে কথা বললে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
কিভাবে তিনি এতো সম্পদের মালিক হলেন তা অনুসন্ধান করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দুদকের প্রতি আহবান জানিয়েছেন রাজউকের দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। একই সাথে সরকারি চাকুরীর দায়িত্বে ফাঁকি দিয়ে ৩ টি বেসরকারি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসাবে কিভাবে কাজ করছেন তা খতিয়ে দেখার জন্য রাজউক চেয়ারম্যানের প্রতি দাবী জানিয়েছেন।