১১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভাবমুর্তি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিলেন মহাপরিচালক আজহারুল ইসলাম খান

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

দেশের যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার কারিগর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করতে দেশে এবং বিদেশে যুবদের অধিকহারে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও বদ্ধপরিকর বর্তমান যুববান্ধব সরকার।

২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জনসংখ্যার প্রতিশ্রুতিশীল, উৎপাদনমুখী ও কর্মপ্রত্যাশী যুবগোষ্ঠীকেই সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার সার্বিক দিকনির্দেশনা তথা যুব উন্নয়নের নেপথ্যে অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আজহারুল ইসলাম খান ।

সম্প্রতি দেশের কিছু জাতীয় দৈনিকে “গ্রেডেশন তালিকা উপেক্ষা করে প্রতিযোগিতামূলক সর্বোচ্চ ঘুষদাতা ১১২ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্বে বসানো হয়েছে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদে।” এমন একটি জঘন্য সংবাদ ছাপা হয়। ফলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়।  বিষয়টি তিনি জানতে পেরেই দক্ষতার সাথে পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছেন। যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সেই পরিচালক প্রশাসনকে তিনি তড়িৎগতিতে বদলী করেছেন। একই সাথে এ সংক্রান্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এই কমিটির তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তিনি সকল প্রকার তথ্য দিয়ে সহায়তা করার পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১১২ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে যে ঘুস- দুর্নীতির অভিযোগ বিতর্কিত উপ-পরিচালক (প্রশাসন ) মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে করা হয়েছে তার প্রেক্ষিতে সচিব মহোদয় ্িবভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যেই তাকে অধিদপ্তররের প্রধান কার্যালয় থেকে নরসিংদী জেলায় বদলী করা হয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করে বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি করবে বলে তিনি আশা করেন।

তিনি আরো বলেন, আমি এই অধিদপ্তরে যোগদান করার পর অনিয়ম দুর্নীতি দুর করে একটি স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছি। কিন্তু কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে শতভাগ সফল হতে পারিনি। সম্প্রতি আমি শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছি। ইনশাল্লাহ এবার সফল হবো।

 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যুব উন্নয়নে বহুমুখী পরিকল্পনা

 

যুবসমাজ বলবান, যুবসমাজ আত্মবিশ্বাসী। এমনকি যুবসমাজই সৃজনশীল ও একটি দেশের উৎপাদনশীল শক্তি। যাদের আছে নতুনের প্রতি আসক্তি, আছে বুকভরা স্বপ্ন আর আশা-আকাঙ্ক্ষাও। এরা চঞ্চল কিন্তু বেগবান। বয়স্করা যখন ইতিহাস লিখেন, যুবরা তখন ইতিহাস সৃষ্টি করে। এরাই একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। আর তাদের মেধা, শক্তি এবং স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়েই এগিয়ে যায় একটি দেশ। বাংলাদেশের জাতীয় যুবনীতি অনুসারেই ১৮-৩৫ বছর বয়সি জনগোষ্ঠীকে যুব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সে হিসেবে বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই যুব সমাজ— যার আনুমানিক সংখ্যা পাঁচ কোটি। যুবসমাজের আত্মপ্রত্যয় আর গতিময়তাকে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ও কাজে লাগাতে পারলেই উন্নয়নের গতিপথ হবে পরিশীলিত ও সতেজ। আর তাই যুবসমাজকে জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে সম্পৃক্ত করার অপরিহার্যতা অনুধাবন করেই যুবদের দক্ষ করে গড়া তোলার প্রচেষ্টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে নানামুখী প্রশিক্ষণে সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনমুখী শক্তিতে রূপান্তরে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে যুববান্ধব বর্তমান সরকার।

 

জাতীয় উন্নয়নের মূল স্রোত ধারায় সম্ভাবনাময়ী যুবগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে গঠনমূলক মানসিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং সুশৃঙ্খল কর্মীবাহিনী হিসেবে দেশের আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত করার অনুকূল ক্ষেত্র তৈরির উদ্দেশ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর শুরু থেকেই বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে যার সুফল ইতোমধ্যেই জাতীয় কর্মকান্ডে প্রতিফলিত হচ্ছে।

অনুৎপাদনশীল যুবসমাজকে সুসংগঠিত উৎপাদনমুখী শক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে যা পরবর্তীতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে পুনঃনামকরণ করা হয়। মাঠপর্যায়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্যই ১৯৮১ সালে গঠন করা হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের বেকার যুবদের দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে এই অধিদপ্তর। যুবদের কর্মস্পৃহা এবং কর্মোদ্দীপনা কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরলস প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বিভিন্ন উৎপাদনমুখী বিষয়ে প্রশিক্ষণ ছাড়াও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করছে। আর এসব কর্মকান্ড বাস্তবায়নে দেশের সকল জেলা-উপজেলায় অধিদপ্তরের কার্যালয় রয়েছে।

এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় আবাসিক ও অনাবাসিক (ভাড়া বাড়িতে) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। তদুপরি দেশের সকল উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও চলমান রয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে আবাসিক ও অনাবাসিক এবং স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বেকার যুবরা কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বীও হচ্ছে।

তবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকান্ডের প্রচার স্বল্পতার কারণে দেশের বহু যুবক ও যুব মহিলাদের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেই। দেশের সকল যুবক ও যুবমহিলার কাছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকান্ডের তথ্য পৌঁছে দিতে চায় অধিদপ্তর।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কল্যাণ, প্রশিক্ষণ, উন্নয়নমূলক কাজে যুবদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা, যুবদের কল্যাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে প্রকল্প ও অর্থ মঞ্জুরি, যুব পুরস্কার প্রদান, যুবদেরকে দায়িত্বশীল-আত্মবিশ্বাসী এবং অন্যান্য মানবিক গুণাবলি অর্জনে উৎসাহ প্রদান কর্মসূচি গ্রহণ, যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর গবেষণা ও জরিপ, বেকার যুবদের জন্য কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুৎপাদনশীল যুবসমাজকে সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং উৎপাদনমুখী শক্তিতে রূপান্তরের মিশন বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে যুবদের কর্মসংস্থান কিংবা স্ব-কর্মসংস্থানে নিয়োজিত করার ভিশন গ্রহণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

এসবের মধ্য দিয়েই যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মমুখী ও উৎপাদনমুখী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বেকার যুবসমাজ একদিকে যেমন নিজেদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে, অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে সক্ষম হবে। যুব উন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যৎতেও বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে অধিদপ্তর।

তার মধ্যে যুবভবন নির্মাণ, দেশের সকল জেলায় পরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক আবাসিক ও অনাবাসিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একই ভেন্যুতে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে ছয়টি জেলায় বিদ্যমান ছয়টি যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণ, যুব কার্যক্রমের সাফল্য গবেষণার মাধ্যমে প্রকাশ এবং যুব বিষয়ক তথ্য বেকার যুবসহ দেশের সকল পর্যায়ের মানুষের নিকট প্রচারের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে যুব কার্যক্রম বিষয়ক গবেষণা ও তথ্য প্রচার প্রকল্প।

বেকার যুবদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ম্যাশন, রড বাইন্ডার, টাইলস ফিক্সার, শাটারিং, প্লাম্বিং, পাইপ ফিটিংস এবং ওয়েল্ডিং ফেব্রিকেশন বিষয় অন্তর্ভক্ত করে সিভিল কনস্ট্রাকশন ট্রেডে প্রশিক্ষণ কোর্সের জন্য সিভিল কনস্ট্রাকশন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রকল্প, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপন ও নির্মাণ, বিভাগীয় শহরে বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপন ও নির্মাণের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপন প্রকল্প।

মাঠপর্যায়ে যুব কার্যক্রম বাস্তবায়নে গতি সঞ্চার করতে সাতটি বিভাগে একটি করে আঞ্চলিক যুবকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে আঞ্চলিক যুবকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প, বেকার যুবক ও যুবমহিলাদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য বিউটিফিকেশন, হেয়ার কাটিং ও হাউজকিপিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প, বেকার যুবক ও যুবমহিলাদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ট্যুরিস্ট গাইড, ট্যুর ম্যানেজমেন্ট এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রকল্প।

অবশিষ্ট ৫৮টি জেলায় ব্লক ও বাটিক প্রিন্টিং প্রশিক্ষণ সমপ্রসারণ এবং পোশাক তৈরি প্রশিক্ষণ জোরদারকরণ প্রকল্পসহ জেন্ডার, এইচআইভি, এইডস, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং জীবন দক্ষতা বিষয়ে যুবক ও যুবমহিলাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে জেন্ডার, এইচআইভি, এইডস, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং জীবন দক্ষতা বিষয়ক প্রকল্পের বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ এপ্রিল ২০২২
২২৬ বার পড়া হয়েছে

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভাবমুর্তি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিলেন মহাপরিচালক আজহারুল ইসলাম খান

আপডেট সময় ০৬:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ এপ্রিল ২০২২

রোস্তম মল্লিক

দেশের যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার কারিগর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করতে দেশে এবং বিদেশে যুবদের অধিকহারে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও বদ্ধপরিকর বর্তমান যুববান্ধব সরকার।

২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জনসংখ্যার প্রতিশ্রুতিশীল, উৎপাদনমুখী ও কর্মপ্রত্যাশী যুবগোষ্ঠীকেই সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার সার্বিক দিকনির্দেশনা তথা যুব উন্নয়নের নেপথ্যে অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আজহারুল ইসলাম খান ।

সম্প্রতি দেশের কিছু জাতীয় দৈনিকে “গ্রেডেশন তালিকা উপেক্ষা করে প্রতিযোগিতামূলক সর্বোচ্চ ঘুষদাতা ১১২ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্বে বসানো হয়েছে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদে।” এমন একটি জঘন্য সংবাদ ছাপা হয়। ফলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়।  বিষয়টি তিনি জানতে পেরেই দক্ষতার সাথে পরিস্থিতির মোকাবেলা করেছেন। যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সেই পরিচালক প্রশাসনকে তিনি তড়িৎগতিতে বদলী করেছেন। একই সাথে এ সংক্রান্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এই কমিটির তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তিনি সকল প্রকার তথ্য দিয়ে সহায়তা করার পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১১২ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে যে ঘুস- দুর্নীতির অভিযোগ বিতর্কিত উপ-পরিচালক (প্রশাসন ) মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে করা হয়েছে তার প্রেক্ষিতে সচিব মহোদয় ্িবভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যেই তাকে অধিদপ্তররের প্রধান কার্যালয় থেকে নরসিংদী জেলায় বদলী করা হয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করে বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি করবে বলে তিনি আশা করেন।

তিনি আরো বলেন, আমি এই অধিদপ্তরে যোগদান করার পর অনিয়ম দুর্নীতি দুর করে একটি স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছি। কিন্তু কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে শতভাগ সফল হতে পারিনি। সম্প্রতি আমি শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছি। ইনশাল্লাহ এবার সফল হবো।

 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যুব উন্নয়নে বহুমুখী পরিকল্পনা

 

যুবসমাজ বলবান, যুবসমাজ আত্মবিশ্বাসী। এমনকি যুবসমাজই সৃজনশীল ও একটি দেশের উৎপাদনশীল শক্তি। যাদের আছে নতুনের প্রতি আসক্তি, আছে বুকভরা স্বপ্ন আর আশা-আকাঙ্ক্ষাও। এরা চঞ্চল কিন্তু বেগবান। বয়স্করা যখন ইতিহাস লিখেন, যুবরা তখন ইতিহাস সৃষ্টি করে। এরাই একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। আর তাদের মেধা, শক্তি এবং স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়েই এগিয়ে যায় একটি দেশ। বাংলাদেশের জাতীয় যুবনীতি অনুসারেই ১৮-৩৫ বছর বয়সি জনগোষ্ঠীকে যুব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সে হিসেবে বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই যুব সমাজ— যার আনুমানিক সংখ্যা পাঁচ কোটি। যুবসমাজের আত্মপ্রত্যয় আর গতিময়তাকে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ও কাজে লাগাতে পারলেই উন্নয়নের গতিপথ হবে পরিশীলিত ও সতেজ। আর তাই যুবসমাজকে জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে সম্পৃক্ত করার অপরিহার্যতা অনুধাবন করেই যুবদের দক্ষ করে গড়া তোলার প্রচেষ্টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে নানামুখী প্রশিক্ষণে সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনমুখী শক্তিতে রূপান্তরে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে যুববান্ধব বর্তমান সরকার।

 

জাতীয় উন্নয়নের মূল স্রোত ধারায় সম্ভাবনাময়ী যুবগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে গঠনমূলক মানসিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং সুশৃঙ্খল কর্মীবাহিনী হিসেবে দেশের আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত করার অনুকূল ক্ষেত্র তৈরির উদ্দেশ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর শুরু থেকেই বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে যার সুফল ইতোমধ্যেই জাতীয় কর্মকান্ডে প্রতিফলিত হচ্ছে।

অনুৎপাদনশীল যুবসমাজকে সুসংগঠিত উৎপাদনমুখী শক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে যা পরবর্তীতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে পুনঃনামকরণ করা হয়। মাঠপর্যায়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্যই ১৯৮১ সালে গঠন করা হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের বেকার যুবদের দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে এই অধিদপ্তর। যুবদের কর্মস্পৃহা এবং কর্মোদ্দীপনা কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরলস প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বিভিন্ন উৎপাদনমুখী বিষয়ে প্রশিক্ষণ ছাড়াও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করছে। আর এসব কর্মকান্ড বাস্তবায়নে দেশের সকল জেলা-উপজেলায় অধিদপ্তরের কার্যালয় রয়েছে।

এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় আবাসিক ও অনাবাসিক (ভাড়া বাড়িতে) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। তদুপরি দেশের সকল উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও চলমান রয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে আবাসিক ও অনাবাসিক এবং স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বেকার যুবরা কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বীও হচ্ছে।

তবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকান্ডের প্রচার স্বল্পতার কারণে দেশের বহু যুবক ও যুব মহিলাদের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেই। দেশের সকল যুবক ও যুবমহিলার কাছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকান্ডের তথ্য পৌঁছে দিতে চায় অধিদপ্তর।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কল্যাণ, প্রশিক্ষণ, উন্নয়নমূলক কাজে যুবদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা, যুবদের কল্যাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে প্রকল্প ও অর্থ মঞ্জুরি, যুব পুরস্কার প্রদান, যুবদেরকে দায়িত্বশীল-আত্মবিশ্বাসী এবং অন্যান্য মানবিক গুণাবলি অর্জনে উৎসাহ প্রদান কর্মসূচি গ্রহণ, যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর গবেষণা ও জরিপ, বেকার যুবদের জন্য কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুৎপাদনশীল যুবসমাজকে সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং উৎপাদনমুখী শক্তিতে রূপান্তরের মিশন বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে যুবদের কর্মসংস্থান কিংবা স্ব-কর্মসংস্থানে নিয়োজিত করার ভিশন গ্রহণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

এসবের মধ্য দিয়েই যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মমুখী ও উৎপাদনমুখী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বেকার যুবসমাজ একদিকে যেমন নিজেদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে, অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে সক্ষম হবে। যুব উন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যৎতেও বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে অধিদপ্তর।

তার মধ্যে যুবভবন নির্মাণ, দেশের সকল জেলায় পরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক আবাসিক ও অনাবাসিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একই ভেন্যুতে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে ছয়টি জেলায় বিদ্যমান ছয়টি যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণ, যুব কার্যক্রমের সাফল্য গবেষণার মাধ্যমে প্রকাশ এবং যুব বিষয়ক তথ্য বেকার যুবসহ দেশের সকল পর্যায়ের মানুষের নিকট প্রচারের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে যুব কার্যক্রম বিষয়ক গবেষণা ও তথ্য প্রচার প্রকল্প।

বেকার যুবদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ম্যাশন, রড বাইন্ডার, টাইলস ফিক্সার, শাটারিং, প্লাম্বিং, পাইপ ফিটিংস এবং ওয়েল্ডিং ফেব্রিকেশন বিষয় অন্তর্ভক্ত করে সিভিল কনস্ট্রাকশন ট্রেডে প্রশিক্ষণ কোর্সের জন্য সিভিল কনস্ট্রাকশন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রকল্প, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপন ও নির্মাণ, বিভাগীয় শহরে বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপন ও নির্মাণের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপন প্রকল্প।

মাঠপর্যায়ে যুব কার্যক্রম বাস্তবায়নে গতি সঞ্চার করতে সাতটি বিভাগে একটি করে আঞ্চলিক যুবকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে আঞ্চলিক যুবকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প, বেকার যুবক ও যুবমহিলাদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য বিউটিফিকেশন, হেয়ার কাটিং ও হাউজকিপিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প, বেকার যুবক ও যুবমহিলাদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ট্যুরিস্ট গাইড, ট্যুর ম্যানেজমেন্ট এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রকল্প।

অবশিষ্ট ৫৮টি জেলায় ব্লক ও বাটিক প্রিন্টিং প্রশিক্ষণ সমপ্রসারণ এবং পোশাক তৈরি প্রশিক্ষণ জোরদারকরণ প্রকল্পসহ জেন্ডার, এইচআইভি, এইডস, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং জীবন দক্ষতা বিষয়ে যুবক ও যুবমহিলাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে জেন্ডার, এইচআইভি, এইডস, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং জীবন দক্ষতা বিষয়ক প্রকল্পের বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।