০৩:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মঞ্জুরুল কবীরের অনিয়ম-দুর্নীতিতে নৌখাতের সর্বনাশ!

প্রতিনিধির নাম:

বিশেষ প্রতিবেদক

নৌযান পরিবহন বা যাত্রী পরিবহনের অন্যতম খাত নৌখাত। এ খাত পরিচালিত হয় ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন ( আইএমও) এর নিয়ম অনুসারে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার ইনল্যান্ড শিপিং পরিচালনার জন্য ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিনেন্স ( আইএসও-১৯৭৬) পরিবর্তন করেন।পরবর্তীতে ১৫/০৩/২০০৫ইং সাল পর্যন্ত ৪ বার ১৯৭৮(১৪),১৯৮৩(১৯),১৯৮৯(১৫),২০০৫(১৩) আইন সংশোধন করা হয়।
আইএসও ১৯৭৬ তে ¯পষ্ট উল্লেখ আছে একটি নৌযান তৈরী পরিদর্শন ও রেজিষ্ট্রেশনের প্রক্রিয়া। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সময় কাল থেকে পরবর্তীতে জাতির জনকের দিক নির্দেশনায় নৌ আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয় । পরবর্তীতে যেটা ১৯৭৬ এর আইনে অনুমোদন হয়। আইন প্রণয়নের পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একটি সুশৃংখল নিয়মে চলে আসছিলো অধিদপ্তরের নৌযান রেজিষ্ট্রেশনের প্রক্রিয়া। কোন কর্মকর্তা দুর্নীতি করলেও সেটা ছিল ব্যক্তিগত পর্যায়ে । কিন্তু বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো: মঞ্জুরুল কবীর প্রেষনে যোগদান করার পর থেকেই অত্যন্ত সুকৌশলে দুর্নীতিকে আইনের মধ্যে এনে সমস্ত নৌযান মালিক ও ডিজাইন হাউস এর ওপর দুর্নীতিকে চাপিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বিধিবর্হিভুত মনগড়া একটি আইন জারি করে নৌযান মালিক ও ডিজাইন হাউসগুলোকে জিম্মি করে ওপেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নৌযান শিল্পকে ধ্বংস করার খেলায় মেতে উঠেছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, একটি নতুন নৌযান তৈরীতে নিন্মলিখিত ধাপগুলো অতিক্রম করতে হয়। সেগুলো হলো-
১। মালিক কর্তৃক অনুমোদিত ডিজাইন ফার্মের মাধ্যমে নকশা প্রণয়ন করে অধিদপ্তরে নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করবেন।
২। অধিদপ্তর উক্ত নকশা ঠিক থাকলে ৪৫ কার্যদিবসে মধ্যে নকশা অনুমোদন দিবে।
৩। নকশা অনুমোদনের পর মালিক তার পছন্দমত যে কোন অনুমোদিত প্যানেল মেম্বার নিয়োগ করবেন বা চুক্তিবদ্ধ করবেন। এরপর মালিকপক্ষ তার পছন্দ মত বাংলাদেশের যে কোন রেজিষ্টারের অফিসে সুপারভিশনের জন্য আবেদন করবেন। ( এখানে উল্লেখ থাকে যে, নকশা অনুমোদন একটি স্বতন্ত্র পক্রিয়া এবং মালিক কর্র্তৃক পেনেল মেম্বার নিয়োগ ও নির্মাণ সুপারভিশন এর জন্য রেজিষ্টার পছন্দ একান্ত নৌযান মালিকের ইচ্ছে ও এটাও স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া , ইন্টারন্যাশনালি এই নিয়ম মানা হয় এবং এতোদিন এই নিয়মেই অধিদপ্তর চলছিলো।
৪। এরপর নৌযানের নির্মাণ কাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট পেনেল মেম্বার রেজিষ্টারের মাধ্যমে কিললিং সনদের জন্য প্রধান প্রকৌশলীর বরাবরে আবেদন করবেন। পরবর্তীতে পেনেল মেম্বারের তদারকিতে জাহাজ নির্মাণ কাজ চলমান হবে এবং এই নির্মাণে কাজ সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার ৮টি ধাপে নির্মাণ তদারকি করবেন। জাহাজ নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হলে মালিক কর্তৃক সরকারি সমস্ত ফিস পরিশোধ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করবেন।

আইএসও ১৯৭৬ এর বিধান মতে নৌযান নির্মাণে কোন জটিলতা নেই। কিন্তু বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো: মঞ্জুরুল কবীর এই রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে কন্ট্রোল বা নিজের হাতের মধ্যে কুক্ষিগত করতে গিয়ে প্রায় ৩ বছর নৌযান মালিকদের জিম্মি করে রেখেছেন। বর্তমানে অধিদপ্তরে নকশা অনুমোদনের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয় কিন্তু অনলাইন আবেদনে আইএসও ১৯৭৬ এর বিধিবিধানের বাইরে গিয়ে প্রধান প্রকৌশলী মনগড়া বেআইনী অনলাইন ফর্ম সংযুক্তি করেছেন। এই আবেদন ফর্মে নৌযান অনলাইন রেজিষ্ট্রেশনের জন্য রেজিষ্ট্রেশন অফিস নির্দ্ধারণ করতে হয় যেটা আইএসও ১৯৭৬ এর বিরোধী। কারণ নৌযান নির্মাণের পুর্বেই অফিস ফিক্সড করে দিলে ওই রেজিষ্ট্রার অফিসের কাছে মালিক জিম্মি হয়ে পড়েন। ফলে ওই অফিসের প্রতিটি স্টাফ মালিককে জিম্মি করে অবৈধ অর্থ আদায় করার সুযোগ নেন। এখানেই শেষ নয়,নির্মাণ সুপারভিশনের মাঝপথে এসে সংশ্লিষ্ট কোন রেজিষ্টার যদি বদলী হয়ে যান তাহলে মালিক আরো বিপাকে পড়েন। কারণ নতুন রেজিষ্ট্রার আগের রেজিষ্ট্রারের অনেক কিছু মানতে চান না। তখন বাধ্য হয়ে ঘুসের মাধ্যমে দফারফা করতে হয়।
৫। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো: মঞ্জুরুল কবীর নকশাতে আইন পরিপন্থি রেজিষ্ট্রেশন ষ্টেশন ফিক্সড করার সাথে কিললিং বা নির্মাণ তদারকি করার জন্য তার পছন্দ মত ব্যাক্তিতে নির্দ্ধারণ করে চিঠি ইস্যু করছেন যেটা আইএসও ১৯৭৬ এর সম্পূর্ণ বিরোধী ও আইন পরিপন্থি। মোদ্দকথা নৌযান মালিকদের পদে পদে জিম্মি করে অবৈধ টাকা উপার্জনের নীলনকশা প্রণয়ন করেছেন।
৬। এই বেআইনী আইনের মধ্যেও মালিক তার পছন্দ মত রেজিষ্ট্রেশন অফিস চয়েজ দিলেও প্রধান প্রকৌশলী মৌখিকভাবে মালিকদের ডেকে এনে তার পছন্দ মত রেজিষ্ট্রার অফিস নির্দ্ধারণে বাধ্য করছেন। তিনি এ বিষয়ে কোন কোন মালিকের সাথে তর্কেও জড়িয়েছেন। এ ক্ষেত্রে  ফাইলে এই ভাবে তিনি কমেন্ট করেছেন “কনসট্রাকশন সুপারভিশন টু বি ডাউন বেসড অন লোকেশন অফ সার্ভেয়ার অফিস এন্ড অলসো ইভেন ডিস্ট্রিবিউশন টু বি কনসিডারেড”। প্রধান প্রকৌশলীর এই উক্তি সম্পূর্ণ আইন পরিপন্থি বা আইন বিরোধী। নৌযান রেজিষেট্রশন অফিস ফিক্সড করে দেওয়া প্রধান প্রকৌশলীর এখতিয়ার বর্হিভুত কাজ। এটা মালিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করেছে।
৭। শুধু তাইই নয় এই কালো আইন বাস্তবায়ন করার জন্য আইএসও ১৯৭৬ এর বিধি বিধান সংশোধনেরও নীল নকশার পাঁয়তারা করছেন প্রধান প্রকৌশলী মো: মজুরুল কবীর। কারণ এই আইন বাস্তবায়ন করলেই তার সিন্ডিকেট যেমন শক্তিশালী হবে তেমন তিনি মালিকদের জিম্মি করে তার ইচ্ছে মত আখের গুছিয়ে নিতে পারবেন।
এ বিষয়ে নৌযান মালিক সমিতির নেতাদের সাথে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো: মঞ্জুরুল কবীর নৌখাত ধ্বংসের পাঁয়তারা শুরু করেছেন। তিনি দীর্ঘ দুই বছর তিনি নতুন নৌযানের নকশা পাশ বন্ধ করে রেখেছেন। এতে সরকার প্রায় এক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অপর দিকে আইএসও ১৯৭৬ এর পরিপন্থি আইন জারি করে নৌযান মালিকদের জিম্মি করে ঘুস আদায়ের ফাঁদ পেতেছেন। তারা এই বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রীট মামলা করবেন। প্রধান প্রকৌশলী এক সপ্তাহের মধ্যে তার জারিকৃত বেআইনী চিঠি বা আইন প্রত্যাহার না করলে ঈদের পরেই তারা মহামান্য হাইকোর্টে রীট মামলা দায়ের করবেন।
এ বিষয়ে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: মঞ্জুরুল কবীর কোন কথা বলতে রাজী হননি। তিনি মহাপরিচালকের সাথে কথা বলতে বলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:২২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২
৭৩৫ বার পড়া হয়েছে

নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মঞ্জুরুল কবীরের অনিয়ম-দুর্নীতিতে নৌখাতের সর্বনাশ!

আপডেট সময় ০৮:২২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২

বিশেষ প্রতিবেদক

নৌযান পরিবহন বা যাত্রী পরিবহনের অন্যতম খাত নৌখাত। এ খাত পরিচালিত হয় ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন ( আইএমও) এর নিয়ম অনুসারে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার ইনল্যান্ড শিপিং পরিচালনার জন্য ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিনেন্স ( আইএসও-১৯৭৬) পরিবর্তন করেন।পরবর্তীতে ১৫/০৩/২০০৫ইং সাল পর্যন্ত ৪ বার ১৯৭৮(১৪),১৯৮৩(১৯),১৯৮৯(১৫),২০০৫(১৩) আইন সংশোধন করা হয়।
আইএসও ১৯৭৬ তে ¯পষ্ট উল্লেখ আছে একটি নৌযান তৈরী পরিদর্শন ও রেজিষ্ট্রেশনের প্রক্রিয়া। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সময় কাল থেকে পরবর্তীতে জাতির জনকের দিক নির্দেশনায় নৌ আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয় । পরবর্তীতে যেটা ১৯৭৬ এর আইনে অনুমোদন হয়। আইন প্রণয়নের পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একটি সুশৃংখল নিয়মে চলে আসছিলো অধিদপ্তরের নৌযান রেজিষ্ট্রেশনের প্রক্রিয়া। কোন কর্মকর্তা দুর্নীতি করলেও সেটা ছিল ব্যক্তিগত পর্যায়ে । কিন্তু বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো: মঞ্জুরুল কবীর প্রেষনে যোগদান করার পর থেকেই অত্যন্ত সুকৌশলে দুর্নীতিকে আইনের মধ্যে এনে সমস্ত নৌযান মালিক ও ডিজাইন হাউস এর ওপর দুর্নীতিকে চাপিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বিধিবর্হিভুত মনগড়া একটি আইন জারি করে নৌযান মালিক ও ডিজাইন হাউসগুলোকে জিম্মি করে ওপেন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নৌযান শিল্পকে ধ্বংস করার খেলায় মেতে উঠেছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, একটি নতুন নৌযান তৈরীতে নিন্মলিখিত ধাপগুলো অতিক্রম করতে হয়। সেগুলো হলো-
১। মালিক কর্তৃক অনুমোদিত ডিজাইন ফার্মের মাধ্যমে নকশা প্রণয়ন করে অধিদপ্তরে নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করবেন।
২। অধিদপ্তর উক্ত নকশা ঠিক থাকলে ৪৫ কার্যদিবসে মধ্যে নকশা অনুমোদন দিবে।
৩। নকশা অনুমোদনের পর মালিক তার পছন্দমত যে কোন অনুমোদিত প্যানেল মেম্বার নিয়োগ করবেন বা চুক্তিবদ্ধ করবেন। এরপর মালিকপক্ষ তার পছন্দ মত বাংলাদেশের যে কোন রেজিষ্টারের অফিসে সুপারভিশনের জন্য আবেদন করবেন। ( এখানে উল্লেখ থাকে যে, নকশা অনুমোদন একটি স্বতন্ত্র পক্রিয়া এবং মালিক কর্র্তৃক পেনেল মেম্বার নিয়োগ ও নির্মাণ সুপারভিশন এর জন্য রেজিষ্টার পছন্দ একান্ত নৌযান মালিকের ইচ্ছে ও এটাও স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া , ইন্টারন্যাশনালি এই নিয়ম মানা হয় এবং এতোদিন এই নিয়মেই অধিদপ্তর চলছিলো।
৪। এরপর নৌযানের নির্মাণ কাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট পেনেল মেম্বার রেজিষ্টারের মাধ্যমে কিললিং সনদের জন্য প্রধান প্রকৌশলীর বরাবরে আবেদন করবেন। পরবর্তীতে পেনেল মেম্বারের তদারকিতে জাহাজ নির্মাণ কাজ চলমান হবে এবং এই নির্মাণে কাজ সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার ৮টি ধাপে নির্মাণ তদারকি করবেন। জাহাজ নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হলে মালিক কর্তৃক সরকারি সমস্ত ফিস পরিশোধ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করবেন।

আইএসও ১৯৭৬ এর বিধান মতে নৌযান নির্মাণে কোন জটিলতা নেই। কিন্তু বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো: মঞ্জুরুল কবীর এই রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে কন্ট্রোল বা নিজের হাতের মধ্যে কুক্ষিগত করতে গিয়ে প্রায় ৩ বছর নৌযান মালিকদের জিম্মি করে রেখেছেন। বর্তমানে অধিদপ্তরে নকশা অনুমোদনের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয় কিন্তু অনলাইন আবেদনে আইএসও ১৯৭৬ এর বিধিবিধানের বাইরে গিয়ে প্রধান প্রকৌশলী মনগড়া বেআইনী অনলাইন ফর্ম সংযুক্তি করেছেন। এই আবেদন ফর্মে নৌযান অনলাইন রেজিষ্ট্রেশনের জন্য রেজিষ্ট্রেশন অফিস নির্দ্ধারণ করতে হয় যেটা আইএসও ১৯৭৬ এর বিরোধী। কারণ নৌযান নির্মাণের পুর্বেই অফিস ফিক্সড করে দিলে ওই রেজিষ্ট্রার অফিসের কাছে মালিক জিম্মি হয়ে পড়েন। ফলে ওই অফিসের প্রতিটি স্টাফ মালিককে জিম্মি করে অবৈধ অর্থ আদায় করার সুযোগ নেন। এখানেই শেষ নয়,নির্মাণ সুপারভিশনের মাঝপথে এসে সংশ্লিষ্ট কোন রেজিষ্টার যদি বদলী হয়ে যান তাহলে মালিক আরো বিপাকে পড়েন। কারণ নতুন রেজিষ্ট্রার আগের রেজিষ্ট্রারের অনেক কিছু মানতে চান না। তখন বাধ্য হয়ে ঘুসের মাধ্যমে দফারফা করতে হয়।
৫। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো: মঞ্জুরুল কবীর নকশাতে আইন পরিপন্থি রেজিষ্ট্রেশন ষ্টেশন ফিক্সড করার সাথে কিললিং বা নির্মাণ তদারকি করার জন্য তার পছন্দ মত ব্যাক্তিতে নির্দ্ধারণ করে চিঠি ইস্যু করছেন যেটা আইএসও ১৯৭৬ এর সম্পূর্ণ বিরোধী ও আইন পরিপন্থি। মোদ্দকথা নৌযান মালিকদের পদে পদে জিম্মি করে অবৈধ টাকা উপার্জনের নীলনকশা প্রণয়ন করেছেন।
৬। এই বেআইনী আইনের মধ্যেও মালিক তার পছন্দ মত রেজিষ্ট্রেশন অফিস চয়েজ দিলেও প্রধান প্রকৌশলী মৌখিকভাবে মালিকদের ডেকে এনে তার পছন্দ মত রেজিষ্ট্রার অফিস নির্দ্ধারণে বাধ্য করছেন। তিনি এ বিষয়ে কোন কোন মালিকের সাথে তর্কেও জড়িয়েছেন। এ ক্ষেত্রে  ফাইলে এই ভাবে তিনি কমেন্ট করেছেন “কনসট্রাকশন সুপারভিশন টু বি ডাউন বেসড অন লোকেশন অফ সার্ভেয়ার অফিস এন্ড অলসো ইভেন ডিস্ট্রিবিউশন টু বি কনসিডারেড”। প্রধান প্রকৌশলীর এই উক্তি সম্পূর্ণ আইন পরিপন্থি বা আইন বিরোধী। নৌযান রেজিষেট্রশন অফিস ফিক্সড করে দেওয়া প্রধান প্রকৌশলীর এখতিয়ার বর্হিভুত কাজ। এটা মালিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করেছে।
৭। শুধু তাইই নয় এই কালো আইন বাস্তবায়ন করার জন্য আইএসও ১৯৭৬ এর বিধি বিধান সংশোধনেরও নীল নকশার পাঁয়তারা করছেন প্রধান প্রকৌশলী মো: মজুরুল কবীর। কারণ এই আইন বাস্তবায়ন করলেই তার সিন্ডিকেট যেমন শক্তিশালী হবে তেমন তিনি মালিকদের জিম্মি করে তার ইচ্ছে মত আখের গুছিয়ে নিতে পারবেন।
এ বিষয়ে নৌযান মালিক সমিতির নেতাদের সাথে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো: মঞ্জুরুল কবীর নৌখাত ধ্বংসের পাঁয়তারা শুরু করেছেন। তিনি দীর্ঘ দুই বছর তিনি নতুন নৌযানের নকশা পাশ বন্ধ করে রেখেছেন। এতে সরকার প্রায় এক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অপর দিকে আইএসও ১৯৭৬ এর পরিপন্থি আইন জারি করে নৌযান মালিকদের জিম্মি করে ঘুস আদায়ের ফাঁদ পেতেছেন। তারা এই বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রীট মামলা করবেন। প্রধান প্রকৌশলী এক সপ্তাহের মধ্যে তার জারিকৃত বেআইনী চিঠি বা আইন প্রত্যাহার না করলে ঈদের পরেই তারা মহামান্য হাইকোর্টে রীট মামলা দায়ের করবেন।
এ বিষয়ে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: মঞ্জুরুল কবীর কোন কথা বলতে রাজী হননি। তিনি মহাপরিচালকের সাথে কথা বলতে বলেন।