১১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবৈধপথে শত কোটি টাকার মালিক : নড়াইল এলজিইডি অফিসের কার্যসহকারী সৈয়দ মহিদুল ও তার স্ত্রী ময়না খানমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দায়ের!

প্রতিনিধির নাম:

যশোর প্রতিনিধি
অবৈধপথে শত কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক বনে যাওয়া নড়াইল এলজিইডি অফিসের কার্যসহকারী সৈয়দ মহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ময়না খানমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়।
গত ১০ মার্চ ২০২২ এই মামলাটি দায়ের করেন ওই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহা: মোশাররফ হোসেন। মামলা নং ০৬/২০২২,ধারা দুর্নীতি দমন আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭(১) । মামলা দায়ের এরপর থেকে সৈয়দ মহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ময়না খানম আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের মোবাইলও বন্ধ পাওয়া গেছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে যে, অভিযুক্ত দুই আসামী পরস্পর যোগসাজসে দুর্নীতি দমন কমিশনে ৯,৯৪,৬৮৯/-টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করত: দুদকে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে এবং ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ স্থানান্তর ,হস্তান্তর ও রুপান্তরের মাধ্যমে ৮৭,৫১,১৮৮/- টাকার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসংগতিপুর্ণ সম্পদ নিজ দখলে রেখে দুদক আইনে অপরাধ করেছেন।
আসামীরা হলেন: ১। নড়াইল এলজিইডি অফিসের কার্যসহকারী ( মাষ্টাররোল) সৈয়দ মহিদুল ইসলাম, পিতা: মৃত সৈয়দ আকবর আলী ও তার স্ত্রী ২। ময়না খানম । সর্ব সাং গ্রাম: পাইকড়া, থানা ও জেলা নড়াইল। বর্তমান ঠিকানা: নড়াইল পুলিশ লাইনের পাশে ,নড়াইল।
মামলা সুত্রে জানাগেছে, অবৈধপথে প্রায় শত কোটি টাকা ও সম্পদ অর্জন করায় ২০১৯ সালে তাদের নামে দুদকে অভিযোগ দায়ের হয়। যার নথি নং ০৪.০১.০০০০.৫০৩.২৬.১৩৩.১৯/৯১৭৭/১(৬) তারিখ: ১১/০৩/২০১৯ প্রধান কার্যালয় এর নির্দেশনা মোতাবেক প্রাথমিক তদন্ত কাজ শুরু হয়। যার যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের নথি নং ০০.৬৫০০.৭৩৩.০৩.০০৭.(ই/আর নং ০৭/২০১৯)। দুদক প্রধান কার্যালয়ের স্মারক নং ০০.০১.৬৫০০.৬৪৩.০৩.০০৮.১৯-৬২৫০ তারিখ: ১০/০২/২০২০ইং। এবং যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের স্মারক নং ০০.০১.৬৫০০.৭৩৩.০৩.০০৭.১৯-৯০১/১(৩) তারিখ: ২৩/০৭/২০২০ ইং।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রাথমিক তদন্তে শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে অবৈধ ও জ্ঞাতআয় বর্হিভুত সম্পদের প্রমাণ পেয়ে সম্পদ বিবরণী জারির জন্য প্রধান কার্যালয় থেকে নথি অনুমোদিত হয়। পরবর্তী ২১ কার্য দিবসের সময় দিয়ে সম্পদ বিবরণী জারির নোটিশ ইস্যু করা হয়। উক্ত নোটিশের আলোকে দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয় সৈযদ মহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ময়না খানমের নামে জ্ঞাত আয় বর্হিভুত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন মামলার সুপারিশ করে। উক্ত নথিটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অত:পর সৈয়দ মহিদুল ইসলাম তার এলাকার লোক ও আত্মীয় পরিচয়ে প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত একজন কমিশনার এর পিএসকে ম্যানেজ করে প্রায় ১ (এক) কোটি টাকার বিনিময়ে নথিটি প্রায় ২ বছর ধামাচাপা দিয়ে রাখেন। এ বিষয়ে জাতীয় ও স্থানীয় জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে দুদক প্রধান কার্যালয়ের টনক নড়ে।
এই মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহা: মোশাররফ হোসেন জানান, তাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য প্রমান পেয়েই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করারও চেষ্টা করা হচ্ছে। কথা বলার জন্য আসামী সৈয়দ মহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। মোবাইলে ক্ষদেবার্তা পাঠালেও তিনি কোন জবাব দেন নি।
উল্লেখ্য যে, সৈয়দ মহিদুল ইসলাম তার চাকুরী জীবনে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সাল থেকে জানুয়ারি ২০১৯ সাল পর্যন্ত এলজিইডি অফিস থেকে মাত্র ৭.১৬.৬২০/- টাকা বেতন,ভাতা পেয়েছেন। অথচ: তিনি নড়াইল ও ঢাকায় বাড়ী,গাড়ি, জমা জমিসহ প্রায় শত কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৪০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ এপ্রিল ২০২২
৫২২ বার পড়া হয়েছে

অবৈধপথে শত কোটি টাকার মালিক : নড়াইল এলজিইডি অফিসের কার্যসহকারী সৈয়দ মহিদুল ও তার স্ত্রী ময়না খানমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দায়ের!

আপডেট সময় ১২:৪০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ এপ্রিল ২০২২

যশোর প্রতিনিধি
অবৈধপথে শত কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক বনে যাওয়া নড়াইল এলজিইডি অফিসের কার্যসহকারী সৈয়দ মহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ময়না খানমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়।
গত ১০ মার্চ ২০২২ এই মামলাটি দায়ের করেন ওই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহা: মোশাররফ হোসেন। মামলা নং ০৬/২০২২,ধারা দুর্নীতি দমন আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭(১) । মামলা দায়ের এরপর থেকে সৈয়দ মহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ময়না খানম আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের মোবাইলও বন্ধ পাওয়া গেছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে যে, অভিযুক্ত দুই আসামী পরস্পর যোগসাজসে দুর্নীতি দমন কমিশনে ৯,৯৪,৬৮৯/-টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করত: দুদকে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে এবং ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ স্থানান্তর ,হস্তান্তর ও রুপান্তরের মাধ্যমে ৮৭,৫১,১৮৮/- টাকার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসংগতিপুর্ণ সম্পদ নিজ দখলে রেখে দুদক আইনে অপরাধ করেছেন।
আসামীরা হলেন: ১। নড়াইল এলজিইডি অফিসের কার্যসহকারী ( মাষ্টাররোল) সৈয়দ মহিদুল ইসলাম, পিতা: মৃত সৈয়দ আকবর আলী ও তার স্ত্রী ২। ময়না খানম । সর্ব সাং গ্রাম: পাইকড়া, থানা ও জেলা নড়াইল। বর্তমান ঠিকানা: নড়াইল পুলিশ লাইনের পাশে ,নড়াইল।
মামলা সুত্রে জানাগেছে, অবৈধপথে প্রায় শত কোটি টাকা ও সম্পদ অর্জন করায় ২০১৯ সালে তাদের নামে দুদকে অভিযোগ দায়ের হয়। যার নথি নং ০৪.০১.০০০০.৫০৩.২৬.১৩৩.১৯/৯১৭৭/১(৬) তারিখ: ১১/০৩/২০১৯ প্রধান কার্যালয় এর নির্দেশনা মোতাবেক প্রাথমিক তদন্ত কাজ শুরু হয়। যার যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের নথি নং ০০.৬৫০০.৭৩৩.০৩.০০৭.(ই/আর নং ০৭/২০১৯)। দুদক প্রধান কার্যালয়ের স্মারক নং ০০.০১.৬৫০০.৬৪৩.০৩.০০৮.১৯-৬২৫০ তারিখ: ১০/০২/২০২০ইং। এবং যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের স্মারক নং ০০.০১.৬৫০০.৭৩৩.০৩.০০৭.১৯-৯০১/১(৩) তারিখ: ২৩/০৭/২০২০ ইং।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রাথমিক তদন্তে শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে অবৈধ ও জ্ঞাতআয় বর্হিভুত সম্পদের প্রমাণ পেয়ে সম্পদ বিবরণী জারির জন্য প্রধান কার্যালয় থেকে নথি অনুমোদিত হয়। পরবর্তী ২১ কার্য দিবসের সময় দিয়ে সম্পদ বিবরণী জারির নোটিশ ইস্যু করা হয়। উক্ত নোটিশের আলোকে দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয় সৈযদ মহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ময়না খানমের নামে জ্ঞাত আয় বর্হিভুত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন মামলার সুপারিশ করে। উক্ত নথিটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অত:পর সৈয়দ মহিদুল ইসলাম তার এলাকার লোক ও আত্মীয় পরিচয়ে প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত একজন কমিশনার এর পিএসকে ম্যানেজ করে প্রায় ১ (এক) কোটি টাকার বিনিময়ে নথিটি প্রায় ২ বছর ধামাচাপা দিয়ে রাখেন। এ বিষয়ে জাতীয় ও স্থানীয় জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে দুদক প্রধান কার্যালয়ের টনক নড়ে।
এই মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহা: মোশাররফ হোসেন জানান, তাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য প্রমান পেয়েই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করারও চেষ্টা করা হচ্ছে। কথা বলার জন্য আসামী সৈয়দ মহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। মোবাইলে ক্ষদেবার্তা পাঠালেও তিনি কোন জবাব দেন নি।
উল্লেখ্য যে, সৈয়দ মহিদুল ইসলাম তার চাকুরী জীবনে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সাল থেকে জানুয়ারি ২০১৯ সাল পর্যন্ত এলজিইডি অফিস থেকে মাত্র ৭.১৬.৬২০/- টাকা বেতন,ভাতা পেয়েছেন। অথচ: তিনি নড়াইল ও ঢাকায় বাড়ী,গাড়ি, জমা জমিসহ প্রায় শত কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক।