আজ জামালপুরে ওই অনুষ্ঠানে বক্তৃতার শুরুতে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া একটি দুর্নীতিবিরোধী ভাষণ তাঁর মুঠোফোনে বাজিয়ে উপস্থিত সবাইকে শোনান মির্জা আজম। এরপর তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা এক থেকে দুই মাস আগে তাঁর বক্তৃতায় এই ঘুষখোরদের বিরুদ্ধে আরেকটা কথা বলেছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন এই দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, না হলে চাকরি ছেড়ে দিতে হবে, বেতনের টাকায় না পোষালে চাকরি ছেড়ে ভিক্ষা করে খেতে হবে। দুর্নীতি করে খাওয়ার থেকে ভিক্ষা করে খাওয়ার মধ্যে মর্যাদা অনেক বেশি। বঙ্গবন্ধু যে ভাষায় কথা বলেন, আমাদের নেত্রীও কিন্তু একই ভাষায় কথা বলেন।’
সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা আজম বলেন, ‘আমরা কি নেত্রীর এই কথাগুলো প্রচার করি? আমরা মনে করি, নেত্রী কথার কথা কইছে, আমাদের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। শেখ হাসিনার সকল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু তিনি (শেখ হাসিনা) যে বক্তৃতা দিল, তার জন্যে আমরা কী করছি? কেউ কিছু করি নাই।’
মির্জা আজম বলেন, ‘আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি। আমরা বঙ্গবন্ধুকে বুকে ধারণ করি। শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছে, ঘুষখোরদের চাকরি ছেড়ে, ভিক্ষা করে খাইতে কইছে। এখন আমরা যদি কর্মসূচি দেই, যারা ঘুষখোর, তাদের বাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে দিব—এটা ঘুষখোরের বাড়ি। আমরা যদি কোনো ঘুষখোরের অফিসে স্টিকার মেরে দেই—এটা ঘুষখোরের অফিস। তাহলে দেখবেন ঘুষখোর যত টাকার মালিক হোক, যত শক্তিশালী হক। তাঁরা কিন্তু বাড়িতে ছেলেমেয়েদের সামনে মুখ দেখাতে পারবেন না। অনেক ঘুষখোর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে মসজিদে যান। যখন দেখা যাবে ঘুষখোর হিসেবে চিহ্নত হয়ে যাবে, তখন কেউ তার পাশে দাঁড়িয়ে নামাজও পড়বে না।’
দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ বা তার একটু কম মানুষ ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজ বলে মনে করেন মির্জা আজম। এই অল্পসংখ্যক দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোরের বিরুদ্ধে বাকি সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। আমার মতো দুই-একজন যখন বলবেন, তখন আমার মতো ভেচকি মারবে। তারা হয়তো জানে না, এই ভেচকিতে মির্জা আজম ভয় পায় না।’
৩০ বছর আগে দুর্নীতি ও ঘুষের বিরুদ্ধে সংসদে বক্তৃতা করার ইতিহাস তুলে ধরে মির্জা আজম আরও বলেন, ‘বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি। তখনো বিএনপির নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা আমাকে খুঁজছে। আমাকে যেখানেই পাবে, সেই জায়গায় মেরে ফেলবে। আমাকে লক্ষ্য করে গুলিও এবং বাসায় হামলাও করা হয়েছে। জাতীয়ভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেইগুলোকেই পরোয়া করি নাই। আমাকে থামাতে পারে নাই।’
মির্জা আজম আরও বলেন, বেসরকারি কলেজে যখন কোনো নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন কিন্তু সেই অধ্যক্ষের চেহারাও বেরিয়ে আসে। যাঁরা সরকারি চাকরি করেন, বিভিন্ন দায়িত্বে আছেন, শুধু তাঁরাই ঘুষ খান না। গ্রামের সালিস বৈঠকেও সালিসদার যারা, তারা ঘুষ খেয়ে বিচার করে থাকে। সমাজের এই অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা আজম।


















