১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী হচ্ছেন এ্যাড: শাখারুল ইসলাম শাকিল
রোস্তম মল্লিক
আগামী ৮ জানুয়ারী ২০২২ মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। কেন্দ্রীয় নেতারা কাউন্সিলের তারিখ নির্দ্ধারিত করতেই মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছেন। অনেকেই প্রত্যাশিত পদে প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাষ্যমতে এবারের কাউন্সিলে ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন করা হবে। দলের প্রতি অবদান নেই এমন কোন নেতাকে পদ প্রদান করা হবে না। এতদিন যারা মান অভিমানে দলীয় কর্মকান্ড থেকে দুরে রয়েছেন তাদেরকে পদে বসিয়ে সক্রিয় করা হবে। এটাই দলীয় সভানেত্রী দেশরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ। কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন আশ্বাসের প্র্রেক্ষিতে জেলার ত্যাগী নেতারা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তারা আসন্ন কাউন্সিলে প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে এডভোকেট শাখারুল ইসলাম শাকিল ফোন মাধ্যমে জানান-আসন্ন কাউন্সিলে তিনি সাধারন সম্পাদক পদে লড়বেন। এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি গত এক দশক ধরে জেলার সবকটি ইউনিয়ন,থানা,উপজেলা ,পৌরসভা ও তৃণমুল নেতা-কর্মীদের সাথে সাংগঠনিক সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছেন। প্রতিটি এলাকায় গিয়েছেন। দলের কর্মী সভাগুলোতে উপস্থিত থেকে নেতা-কর্মীদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে আপ্রান চেষ্টা করেছেন।
এডভোকেট শাখারুল ইসলাম শাকিল সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানাগেছে, তিনি একটি আওয়ামী ঘরানার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। ১৯৯০ এর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রথম কাতারে ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯১-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৪-১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মাগুরা জেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮-২০০৩ সাল পর্যন্ত মাগুরা জেলা ছাত্র লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে সফল সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতি থেকে অবসর নেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ মাগুরা জেলা শাখার উপ-দপ্তর সম্পাদক থেকে উপ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জেলা কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক।
২০০১ সালে জামায়াত বিএনপি জোট ক্ষমতায় এলে তিনি ব্যাপকভাবে শারিরীক নির্যাতনের শিকার হন। যেসব ক্ষত এখনো তার শরীরে বিদ্যমান। তিনি বিগত পৌর ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শক্তিশালী মেয়র ও চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বেশকিছু সামাজিক,সাংস্কৃতিক,ক্রীড়া ,সমাজ কল্যণমুলক,শিক্ষা ও ধর্মীয় সংগঠনের সাথে যুক্ত রয়েছেন। তারমধ্যে মাগুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী সদস্য, নি:পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, মাগুরা জেলা খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সভাপতি, শক্রুজিৎপুর বালিকা বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী সদস্য, ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন মাগুরা জেলার সভাপতি, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ মাগুরার বিদ্যোৎসাহী সদস্য,পরিবর্তন আমরাই সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা এবং মাগুরা জেলা বারের একজন বিজ্ঞ আইনজীবি।
তিনি মাগুরাবাসীর সার্বিক কল্যাণ ও সেবার মানষিকতা নিয়ে ইতিবাচক রাজনীতির চর্চায় নিবেদিত রয়েছেন। গরীব ও অসহায় মানুষকে বিনা মূল্যে আইনী সহায়তা প্রদান, আর্থিক সাহায্য প্রদান, রস্ত্র দান ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন। করোনাকালীন সময়েও তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ তহবীল থেকে ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছেন। ১৯৯৪ সালের মাগুরা -২ আসনের উপ নির্বাচনকালে নহাটা বাজারে জননেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় বিএনপির অস্ত্রধারীরা গুলি চালায় এ সময় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। ২০০৪ সালে বিএনপি জামায়াত যখন আওয়ামী লীগের ক্লিন ইমেজের নেতাদের হত্যার মিশনে লিপ্ত তখন তাকে মাগুরা হোসেন শহীদ সোহরায়ার্দী সরকারী কলেজের রনি স্মৃতি সংসদের ভেতরে ঢুকে নির্মমভাবে হত্যা চেষ্টা করা হয়। এসময় তিনি মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেননি। যশোরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। ১/১১ এর সময় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হলে মাগুরা জেলা আইনজীবি পরিষদের পক্ষ থেকে মিছিল মিটিং করে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের নেতৃত্ব দেন। ২০০১ সালে দলের পরাজয়ের পর মাগুরা পিটিআই মাঠে জননেত্রীর যে পথসভা হয় সেই পথসভার সফল করার দায়িত্ব পালন করেন। দলের দু:সময়ে নেতা কর্মীদের বটবৃক্ষেরমত আশ্রয় দিয়ে রাখেন তিনি।
শাকিল সম্পর্কে মাগুরা পৌর এলাকার নেতাকর্মী ও ভোটারদের মুল্যায়ন জানতে তাদের সাথে কথা বললে সবাই প্রায় একই ভাষায় বলেন, নেতা হিসাবে সে পরপোকারী। আচার ব্যবহারেও বেশ ভদ্র। বংশ মর্যাদা সম্পন্ন। সুশিক্ষিতও বলা যায়। সামাজিক একটা মর্যাদাও রয়েছে। রাজনীতির পাদ প্রদীপেই তার অবস্থান। এলাকার মানুষের সাথে সহজেই মিশে যান। নেই কোন দম্ভ বা অহংকার। গরীব দু:খী মানুষের কাছে তার বিশেষ গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের সিংহভাগ নেতা কর্মীরা চান এমন একজন নেতার হাতেই মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বভার অর্পণ করা হোক।
ট্যাগস :




















