০২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদের জামিন

প্রতিনিধির নাম:

আদালত প্রতিবেদক

লাইসেন্স নবায়নবিহীন রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনার নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি ডা. আবুল কালাম আজাদকে জামিন দিয়েছেন আদালত। অধ্যাপক আজাদ গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আইনজীবী মাসুদ মজুমদারের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। পরে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ মামলার পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
দুপুর পৌনে ১২টায় শুরু হওয়া জামিনের শুনানিতে অধ্যাপক আজাদের আইনজীবী বলেন, আসামি অনেক সহজ-সরল মানুষ। রিজেন্টের মো. সাহেদ যে প্রতারক, তিনি জানতেন না। মামলার অন্য আসামিরা জামিনে আছেন। তিনি অসুস্থ মানুষ। তার ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা রয়েছে। তার একটি সন্তান অসুস্থ। এই মামলার চার্জশিটে নাম আসার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

এরপর আদালত ডা. আজাদকে কাঠগড়া থেকে এজলাসের সামনে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করেন, সাহেদের সঙ্গে আপনার সখ্য কবে থেকে। জবাবে আজাদ বলেন, আমি সারা জীবন কোনো অন্যায় করিনি। তখন সারা পৃথিবীতে করোনার যে অবস্থা, সেই অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সক্ষমতা না থাকায় মানুষের জীবন বাঁচাতে (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের) সচিবের নির্দেশে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের সামনে স্বাক্ষর হয়। সাহেদ যে একজন প্রতারক, সেটা আমার জানা ছিল না। পরে করোনার নমুনা পরীক্ষায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ এলে এ বিষয়ে নোট উপস্থাপন করে তাকে সতর্ক করি।

পরে দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ডা. আজাদই এই অপরাধ সংঘটনের মূলে। তার স্বাক্ষরেই লাইসেন্স নবায়নহীন রিজেন্ট হাসপাতাল কাজ পায়। এক কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। তিনিই মূল হোতা। শুনানি শেষে আদালত ২ নভেম্বর পর্যন্ত অধ্যাপক আজাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

একই আদালতে গত মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করতে আসেন ডা. আজাদ। ওইদিন বিচারক অন্য মামলায় ব্যস্ত থাকায় তাকে বৃহস্পতিবার আসতে বলেন। মামলাটিতে ২৯ সেপ্টেম্বর আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দুদক। অন্য আসামিরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা ডা. দিদারুল ইসলাম। মামলায় সাহেদ কারাগারে এবং অন্যরা জামিনে রয়েছেন।

চার্জশিটে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসামি সাহেদ করিমের লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন। যেখান থেকে আসামিরা অবৈধ পারিতোষিক বাবদ রোগীপ্রতি ৩৫০০ টাকা হিসেবে এক কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া চার্জশিটে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বরাদ্দের বিষয়ে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরাসহ সমঝোতা স্মারকের খসড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মোট ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। যা দ-বিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা ১-এ গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ডা. আজাদ ছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। তদন্তের পর ডা. আজাদকে চার্জশিটভুক্ত করা হয়।

করোনা টেস্ট না করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া এবং ভুয়া নেগেটিভ ও পজিটিভ সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগের মামলায় সাহেদকে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অস্ত্র মামলায় গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর তার যাবজ্জীবন কারাদ- হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অক্টোবর ২০২১
১৬৮ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদের জামিন

আপডেট সময় ১০:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অক্টোবর ২০২১

আদালত প্রতিবেদক

লাইসেন্স নবায়নবিহীন রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনার নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি ডা. আবুল কালাম আজাদকে জামিন দিয়েছেন আদালত। অধ্যাপক আজাদ গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আইনজীবী মাসুদ মজুমদারের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। পরে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ মামলার পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
দুপুর পৌনে ১২টায় শুরু হওয়া জামিনের শুনানিতে অধ্যাপক আজাদের আইনজীবী বলেন, আসামি অনেক সহজ-সরল মানুষ। রিজেন্টের মো. সাহেদ যে প্রতারক, তিনি জানতেন না। মামলার অন্য আসামিরা জামিনে আছেন। তিনি অসুস্থ মানুষ। তার ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা রয়েছে। তার একটি সন্তান অসুস্থ। এই মামলার চার্জশিটে নাম আসার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

এরপর আদালত ডা. আজাদকে কাঠগড়া থেকে এজলাসের সামনে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করেন, সাহেদের সঙ্গে আপনার সখ্য কবে থেকে। জবাবে আজাদ বলেন, আমি সারা জীবন কোনো অন্যায় করিনি। তখন সারা পৃথিবীতে করোনার যে অবস্থা, সেই অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সক্ষমতা না থাকায় মানুষের জীবন বাঁচাতে (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের) সচিবের নির্দেশে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের সামনে স্বাক্ষর হয়। সাহেদ যে একজন প্রতারক, সেটা আমার জানা ছিল না। পরে করোনার নমুনা পরীক্ষায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ এলে এ বিষয়ে নোট উপস্থাপন করে তাকে সতর্ক করি।

পরে দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ডা. আজাদই এই অপরাধ সংঘটনের মূলে। তার স্বাক্ষরেই লাইসেন্স নবায়নহীন রিজেন্ট হাসপাতাল কাজ পায়। এক কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। তিনিই মূল হোতা। শুনানি শেষে আদালত ২ নভেম্বর পর্যন্ত অধ্যাপক আজাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

একই আদালতে গত মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করতে আসেন ডা. আজাদ। ওইদিন বিচারক অন্য মামলায় ব্যস্ত থাকায় তাকে বৃহস্পতিবার আসতে বলেন। মামলাটিতে ২৯ সেপ্টেম্বর আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দুদক। অন্য আসামিরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা ডা. দিদারুল ইসলাম। মামলায় সাহেদ কারাগারে এবং অন্যরা জামিনে রয়েছেন।

চার্জশিটে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসামি সাহেদ করিমের লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন। যেখান থেকে আসামিরা অবৈধ পারিতোষিক বাবদ রোগীপ্রতি ৩৫০০ টাকা হিসেবে এক কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া চার্জশিটে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বরাদ্দের বিষয়ে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরাসহ সমঝোতা স্মারকের খসড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মোট ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। যা দ-বিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা ১-এ গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ডা. আজাদ ছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। তদন্তের পর ডা. আজাদকে চার্জশিটভুক্ত করা হয়।

করোনা টেস্ট না করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া এবং ভুয়া নেগেটিভ ও পজিটিভ সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগের মামলায় সাহেদকে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অস্ত্র মামলায় গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর তার যাবজ্জীবন কারাদ- হয়।