১২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোর আ’লীগের নবগঠিত কমিটি বাতিল চেয়ে সংবাদ সম্মেলন: ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দাবী

প্রতিনিধির নাম:

যশোর ব্যুরো অফিস
ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের ২০ মাস পরে গত ৩০ শে জুলাই ২০২১ যশোর জেলা আওয়ামী লীগের পৃর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ১৯ জন উপদেষ্টাসহ ৯৪ সদস্যের এই কমিটি অনুমোদন দেন। এর আগে ২০১৯ সালের ২৭শে নভেম্বর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । সেই সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম মিলনকে সভাপতি ও শাহিন চাকলাদারকে সাধারন সম্পাদক করে ২২ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষনা করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয কমিটির সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
কমিটি ঘোষনার পরে বেশ কিছু নতুন মুখ কমিটিতে ঠাই পেয়েছেন । যশোরের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ যশোর জেলা আওয়ামী লীগ মুলতঃ তিনটি ধারায় বিভক্ত। একটি অংশের নেতৃত্বে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন আর যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ আর একটি অংশের নের্তৃত্বে আছেন যশোর-৬ কেশবপুর আসনের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার। অন্য অংশের নেতৃত্বে দিচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম খালেদুর রহমান টিটোর পুত্র মাশুক হাসান জয়। প্রবীণ ও সিনিয়র তৃণমুলের অধিকাংশ নেতা কর্মী জয়ের সাথে রাজনীতি করতে দেখা গেছে। যশোরের আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের নেতা কর্মীরা বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের কাছে কোনঠাসা হয়ে নিশ্চুপ হয়ে গেছেন। বিগত কয়েক বছর ধরে দল সরকার পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সিনিয়র নেতাদের কোন মুল্যায়ণ না করে কিছু নেতা তাদের নিজেদের লোকজনদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে । নতুন করে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে দুর্দিনের নেতাকর্মীরা খুবই উজ্জিবিত হবে এবং তারা একটা ভাল কমিটি আশা করেছিল। কিন্তু পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা হওয়ার পর দেখা যায় বিগত ২৬ বছর ধরেও যে সমস্ত নেতৃবৃন্দ দলের হাল ধরে ছিলেন তাদের অধিকাংশই বর্তমান কমিটি থেকে বাদ দিয়ে নতুনমুখ ,কোনদিন আওয়ামী লীগ করেনি এরকম ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র নেতার সাথে আলাপ করে জানাযায় যে, বর্তমানে সভাপতি তার শ্যালক,ছেলে এবং ভায়রাকে এই কমিটিতে অন্তর্ভক্ত করেছেন। সাধারন সম্পাদক তার ব্যবসার পার্টনার ,অফিসের স্টাফকেও এই কমিটিতে অর্ন্তর্ভুক্ত করেছেন। অথচ দলের দুর্দিনের যে সমস্ত নেতাকর্মীরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছে তাদের অধিকাংশই এই কমিটিতে জায়গা পায়নি। উপরন্ত অনেক প্রবীণ এবং সিনিয়র নেতাদের এই কমিটি থেকে বাদ দিয়েছেন।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের পর ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস এবং স্বাধীনতার স্থপতি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সরব হয়ে উঠতে দেখা যায় নতুন কমিটিতে ঠাই পাওয়া নেতাদের। শহর ও জেলা সদরের বিভিন্ন সড়কে নিজেদের ছবি সম্বলিত ব্যানার পোষ্টার,তোরণ নির্মাণ করে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরার প্রয়াস পান এসব নেতৃবৃন্দ। ১৫ আগষ্টের দিবসে জেলা আওয়ামী লীগের নের্তৃবৃন্দ শোক র‌্যালিসহকারে শহরের গরীব শাহ সড়কে বকুলতলায় নবনির্মিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পন করেন। বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনও দিবসটি পালন করে।
তবে যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের নেতা খালেদুর রহমান টিটোর মৃত্যুর পর তার অনুসারীদের রাজনীতিতে কিছুদিন নিশ্চুপ থাকার পর ১৫ আগষ্ট শোক দিবসে বড় ধরনের শোক র‌্যালির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন,গণভোজ দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের শক্তির জানান দেন তার পুত্র আওয়ামী লীগ নেতা মাশুক হাসান জয়ের নেতৃত্বে। ১৫ আগষ্ট মাশুক হাসান জয়ের নেতৃত্বে কয়েকহাজার নেতা কর্মী সমার্থকদের নিয়ে শোক র‌্যালির মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে আসেন। যদিও মাশুক হাসান জয়কে জেলা কমিটিতে রাখা হয়নি। দীর্ঘদিন ( ১৯৯১ সালের পর থেকে) রাজনীতি করা জয়কে কমিটিতে না রাখায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে নব গঠিত কমিটির উপদেষ্টা সদস্যের মধ্যে একজন মৃত নেতার নাম আসায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পদবঞ্চিত একটি পক্ষ ৯ আগষ্ট যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নবগঠিত কমিটি বাতিল চেয়ে ত্যাগি পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে নতুন করে কমিটি গঠনের দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ,যুব লীগ ও ছাত্র লীগের সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১
২০৫ বার পড়া হয়েছে

যশোর আ’লীগের নবগঠিত কমিটি বাতিল চেয়ে সংবাদ সম্মেলন: ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দাবী

আপডেট সময় ০৯:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১

যশোর ব্যুরো অফিস
ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের ২০ মাস পরে গত ৩০ শে জুলাই ২০২১ যশোর জেলা আওয়ামী লীগের পৃর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ১৯ জন উপদেষ্টাসহ ৯৪ সদস্যের এই কমিটি অনুমোদন দেন। এর আগে ২০১৯ সালের ২৭শে নভেম্বর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । সেই সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম মিলনকে সভাপতি ও শাহিন চাকলাদারকে সাধারন সম্পাদক করে ২২ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষনা করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয কমিটির সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
কমিটি ঘোষনার পরে বেশ কিছু নতুন মুখ কমিটিতে ঠাই পেয়েছেন । যশোরের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ যশোর জেলা আওয়ামী লীগ মুলতঃ তিনটি ধারায় বিভক্ত। একটি অংশের নেতৃত্বে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন আর যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ আর একটি অংশের নের্তৃত্বে আছেন যশোর-৬ কেশবপুর আসনের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার। অন্য অংশের নেতৃত্বে দিচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম খালেদুর রহমান টিটোর পুত্র মাশুক হাসান জয়। প্রবীণ ও সিনিয়র তৃণমুলের অধিকাংশ নেতা কর্মী জয়ের সাথে রাজনীতি করতে দেখা গেছে। যশোরের আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের নেতা কর্মীরা বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের কাছে কোনঠাসা হয়ে নিশ্চুপ হয়ে গেছেন। বিগত কয়েক বছর ধরে দল সরকার পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সিনিয়র নেতাদের কোন মুল্যায়ণ না করে কিছু নেতা তাদের নিজেদের লোকজনদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে । নতুন করে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে দুর্দিনের নেতাকর্মীরা খুবই উজ্জিবিত হবে এবং তারা একটা ভাল কমিটি আশা করেছিল। কিন্তু পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা হওয়ার পর দেখা যায় বিগত ২৬ বছর ধরেও যে সমস্ত নেতৃবৃন্দ দলের হাল ধরে ছিলেন তাদের অধিকাংশই বর্তমান কমিটি থেকে বাদ দিয়ে নতুনমুখ ,কোনদিন আওয়ামী লীগ করেনি এরকম ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র নেতার সাথে আলাপ করে জানাযায় যে, বর্তমানে সভাপতি তার শ্যালক,ছেলে এবং ভায়রাকে এই কমিটিতে অন্তর্ভক্ত করেছেন। সাধারন সম্পাদক তার ব্যবসার পার্টনার ,অফিসের স্টাফকেও এই কমিটিতে অর্ন্তর্ভুক্ত করেছেন। অথচ দলের দুর্দিনের যে সমস্ত নেতাকর্মীরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছে তাদের অধিকাংশই এই কমিটিতে জায়গা পায়নি। উপরন্ত অনেক প্রবীণ এবং সিনিয়র নেতাদের এই কমিটি থেকে বাদ দিয়েছেন।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের পর ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস এবং স্বাধীনতার স্থপতি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সরব হয়ে উঠতে দেখা যায় নতুন কমিটিতে ঠাই পাওয়া নেতাদের। শহর ও জেলা সদরের বিভিন্ন সড়কে নিজেদের ছবি সম্বলিত ব্যানার পোষ্টার,তোরণ নির্মাণ করে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরার প্রয়াস পান এসব নেতৃবৃন্দ। ১৫ আগষ্টের দিবসে জেলা আওয়ামী লীগের নের্তৃবৃন্দ শোক র‌্যালিসহকারে শহরের গরীব শাহ সড়কে বকুলতলায় নবনির্মিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পন করেন। বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনও দিবসটি পালন করে।
তবে যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের নেতা খালেদুর রহমান টিটোর মৃত্যুর পর তার অনুসারীদের রাজনীতিতে কিছুদিন নিশ্চুপ থাকার পর ১৫ আগষ্ট শোক দিবসে বড় ধরনের শোক র‌্যালির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন,গণভোজ দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের শক্তির জানান দেন তার পুত্র আওয়ামী লীগ নেতা মাশুক হাসান জয়ের নেতৃত্বে। ১৫ আগষ্ট মাশুক হাসান জয়ের নেতৃত্বে কয়েকহাজার নেতা কর্মী সমার্থকদের নিয়ে শোক র‌্যালির মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে আসেন। যদিও মাশুক হাসান জয়কে জেলা কমিটিতে রাখা হয়নি। দীর্ঘদিন ( ১৯৯১ সালের পর থেকে) রাজনীতি করা জয়কে কমিটিতে না রাখায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে নব গঠিত কমিটির উপদেষ্টা সদস্যের মধ্যে একজন মৃত নেতার নাম আসায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পদবঞ্চিত একটি পক্ষ ৯ আগষ্ট যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নবগঠিত কমিটি বাতিল চেয়ে ত্যাগি পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে নতুন করে কমিটি গঠনের দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ,যুব লীগ ও ছাত্র লীগের সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।