নব্বই দশকের শেষ দিকের এক নায়িকার কথা বলি। নামটা নাহয় গোপনই রাখলাম। ওই নায়িকার মা একদিন আমার হাত ধরে কেঁদে বলেছিলেন, ‘হায়াৎ ভাই, মেয়েটাকে বাঁচান।’ বললাম, কেন? কী হয়েছে? তিনি বললেন, ও নেশায় আসক্ত হয়ে গেছে। আমি বলছিলাম, কীভাবে হলো? নায়িকার মা বললেন, ‘আমি আপনার সিনেমায় এক্সট্রার পার্ট করেছি। এক্সট্রা মেয়ে হয়ে আমার স্বপ্ন ছিল, আমার মেয়েটাকে আপনাদের এখানে দিলে মেয়েটা আমার ভালো থাকবে এবং মেয়েটাকে আপনারা কাজে লাগাবেন। কিন্তু আপনারা মেয়েটাকে নষ্ট বানিয়ে দিলেন। মেয়েটাকে নেশাগ্রস্ত করে দিলেন। এটা আপনারাই করলেন।’ আমি কোনো উত্তর দিতে পারিনি। শুধু শুনেছি আর দায়ভার নিয়েছি। ওই মা তো তাঁর মেয়েকে গড়ে তুলতে সিনেমার মানুষদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর চাওয়া ছিল, মেয়েটাকে সিনেমার মানুষেরা যেন ভালোভাবে কাজে লাগায়। কিন্তু কে তাঁর সামনে ইয়াবা ধরল? কে? কে মদের বোতল এনে দিল? রাতের পার্টিতে কে বা কারা নিয়ে গেল? এই করেই তো একটা সম্ভাবনাময় মেয়েকে বিপথে ঠেলে দেওয়া হয়।
গ্রামের সহজ-সরল সেই স্মৃতিকে কারা এ রকম পরীমনি বানিয়েছেন? যাঁরা করেছেন, তাঁরা আজ কোথায়? তাঁদের নাম তো কোথাও শোনা যাচ্ছে না। তাঁদের তো হাত বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে না পুলিশ!
০৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্মৃতিকে যাঁরা পরীমনি বানিয়েছেন, তাঁরা আজ কোথায় : কাজী হায়াৎ, চলচ্চিত্রকার
ট্যাগস :






















