১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেলেনা প্রশ্নে মন্ত্রী মোজাম্মেল: ‘কেউ বেআইনি কিছু করলে ব্যবস্থা’

প্রতিনিধির নাম:

‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ এখন হেলেনা জাহাঙ্গীর। আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটিতে হঠাৎ পদ পাওয়া এই নারীর ‘চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচারণায় তুমুল বিতর্ক উঠলে তাকে দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর র‌্যাব বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে।

২০১৫ সালে রাজনীতিতে জড়ান হেলেনা জাহাঙ্গীর। এরপর জয়যাত্রা নামে একটি আইপি টেলিভিশন চালু করেন তিনি। তারপর থেকে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছেন। নিজের মালিকানাধীন আইপি টেলিভিশন জয়যাত্রায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ‘লাগামহীন বক্তব্য’ ও হুট করে ক্ষমতাসীন দলে একাধিক পদ দখল করা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয় ‘চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচারণা চালানোয়।

তীব্র সমালোচনার মুখে তাকে কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। হঠাৎ করেই তার এসব পদে আসা নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন।

এর মধ্যে কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের পদটি তিনি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পেয়েছেন বলে আলোচনায় এসেছে। এর বাইরে কেন্দ্রীয় মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সুপারিশে পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলের নেতারা।

হেলেনাকে দলে পদ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এইটা (সুপারিশে পদ পেয়েছেন) কেউ বললে আমি কী করতে পারি? আমি তাকে চিনি, ভালো জানি, তার সঙ্গে আমার খাতির আছে। সে সিআইপি, ৫-৬টা মিলের মালিক। তবে সে বেআইনি কিছু করলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তার মতো তো বহু লোককেই আমি চিনি, জানি। এর মধ্যে ভালো আছে, খারাপও আছে। তাই বলে অন্যের কাজের দায় তো আমি নেব না। কেউ বেআইনি কিছু করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হেলেনা জাহাঙ্গীরের কর্মকাণ্ডে মন্ত্রী জড়িত নন দাবি করে বলেন, ‘তার (হেলেনা জাহাঙ্গীরের) আইপি টিভি বা কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গেই আমি জড়িত নই। আর থাকবই বা কেন?’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাত ১২টার দিকে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসায় দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, চাকু, বৈদেশিক মুদ্রা, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন আইপি টেলিভিশন জয়যাত্রার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

গত শুক্রবার হেলেনার বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এছাড়া রাজধানীর পল্লবী থানায় আরেকটি মামলা করা হয়। এছাড়া গতকাল শনিবার তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অগাস্ট ২০২১
১৭০ বার পড়া হয়েছে

হেলেনা প্রশ্নে মন্ত্রী মোজাম্মেল: ‘কেউ বেআইনি কিছু করলে ব্যবস্থা’

আপডেট সময় ১২:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অগাস্ট ২০২১

‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ এখন হেলেনা জাহাঙ্গীর। আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটিতে হঠাৎ পদ পাওয়া এই নারীর ‘চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচারণায় তুমুল বিতর্ক উঠলে তাকে দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর র‌্যাব বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে।

২০১৫ সালে রাজনীতিতে জড়ান হেলেনা জাহাঙ্গীর। এরপর জয়যাত্রা নামে একটি আইপি টেলিভিশন চালু করেন তিনি। তারপর থেকে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছেন। নিজের মালিকানাধীন আইপি টেলিভিশন জয়যাত্রায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ‘লাগামহীন বক্তব্য’ ও হুট করে ক্ষমতাসীন দলে একাধিক পদ দখল করা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয় ‘চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচারণা চালানোয়।

তীব্র সমালোচনার মুখে তাকে কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। হঠাৎ করেই তার এসব পদে আসা নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন।

এর মধ্যে কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের পদটি তিনি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পেয়েছেন বলে আলোচনায় এসেছে। এর বাইরে কেন্দ্রীয় মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সুপারিশে পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলের নেতারা।

হেলেনাকে দলে পদ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এইটা (সুপারিশে পদ পেয়েছেন) কেউ বললে আমি কী করতে পারি? আমি তাকে চিনি, ভালো জানি, তার সঙ্গে আমার খাতির আছে। সে সিআইপি, ৫-৬টা মিলের মালিক। তবে সে বেআইনি কিছু করলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তার মতো তো বহু লোককেই আমি চিনি, জানি। এর মধ্যে ভালো আছে, খারাপও আছে। তাই বলে অন্যের কাজের দায় তো আমি নেব না। কেউ বেআইনি কিছু করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হেলেনা জাহাঙ্গীরের কর্মকাণ্ডে মন্ত্রী জড়িত নন দাবি করে বলেন, ‘তার (হেলেনা জাহাঙ্গীরের) আইপি টিভি বা কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গেই আমি জড়িত নই। আর থাকবই বা কেন?’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাত ১২টার দিকে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসায় দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, চাকু, বৈদেশিক মুদ্রা, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন আইপি টেলিভিশন জয়যাত্রার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

গত শুক্রবার হেলেনার বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এছাড়া রাজধানীর পল্লবী থানায় আরেকটি মামলা করা হয়। এছাড়া গতকাল শনিবার তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়।