০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেঁসে যাচ্ছেন প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল: গণপূর্তে জিকে শামীমের পর  গোল্ডেন মনির সিন্ডিকেট!

প্রতিনিধির নাম:

বিশেষ প্রতিবেদক:

গণপূর্ত অধিদপ্তরে আলোচিত ঠিকাদার জিকে শামীম সিন্ডিকেটের পতনের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা। প্রকল্পসহ অন্যান্য কাজ বাস্তবায়নে ফিরে এসেছিল স্বাভাবিকতা। কিন্তু বছর না পেরুতেই ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ‘গোল্ডেন মনির সিন্ডিকেট’।

এবার জি কে শামীমের জায়গায় এসেছেন গোল্ডেন মনির নামের আরেক মাফিয়া। অভিযোগ রয়েছে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলমের সহযোগিতায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে একচ্ছত্র আধিপত্য চালাচ্ছে নয়া এই সিন্ডিকেটটি। ওপেন টেন্ডার হলেও বিশেষ একটি পদ্ধতির মাধ্যমে বড় বড় সব কাজ ভাগিয়ে সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়া হচ্ছে।

অবশ্য প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলমের বিষয়ে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এদিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ, ৬০০ ভরি স্বর্ণ এবং একটি বিদেশি পিস্তলসহ শনিবার টেন্ডার মাফিয়া গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব জানিয়েছে, মোট এক হাজার ৫০ কোটি টাকার মতো সম্পদ আছে গোল্ডেন মনিরের। রাজধানীর বাড্ডা, গুলশান, নিকেতন, উত্তরা এলাকায় তার ৩০টির মতো ফ্ল্যাট রয়েছে।

গণপূর্ত অধিদফতর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব বড় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এর সিংহভাগই নিয়ে নিচ্ছে গোল্ডেন মনির সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এক্ষেত্রে প্রকল্প কাজ একটি নির্দিষ্ট কমিশনে ভাগ-ভাটোয়ারা করে দেন প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলম ও গোল্ডেন মনির। অভিযোগ রয়েছে, এই কমিশনের টাকা পৌঁছে যায় মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ হাত পর্যন্ত। তথ্যমতে, রাজধানীর আগারগাওয়ে নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউটের ১৫০ কোটি, র্যাব হেড কোয়ার্টারের ১৫০ কোটি, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল সার্ভিস কমপ্লেক্সের ৫৫ কোটি, ডেমরা পুলিশ টাওয়ারের ৯০ কোটি টাকার কাজসহ চলমান অন্যসব প্রকল্প থেকে কমিশন নিয়ে কাজ ভাগ-ভাটোয়ারা করে দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, উত্তরার ঝমঝম টাওয়ারের একটি কক্ষে বসে লোকচক্ষুর অন্তরালে কাজ ও কমিশনের টাকার এই ভাগ-ভাটোয়ারা হয়।

এদিকে প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলমসহ অনিয়মে জড়িত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক লুটপাট ও অনিয়মের প্রমাণ প্রাপ্তি সাপেক্ষে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে গণপূর্ত অধিদফতর। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করে যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায়ের পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

একাধিক সুত্রের দাবী,গোল্ডেন মনিরের সাথে গণপুর্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলমের বিশেষ সম্পর্ক রযেছে। তিনি প্রায়ই গোল্ডেন মনিরের অফিসে যাওয়া আসা ও অতিথীশালায় মধ্যমণি হতেন। একসাথে তাদের বন্ধুত্ব সম্পর্কীয় ছবিও পাওয়াগেছে। ডিবি পুলিশের রিান্ডে গোল্ডেন মনির এ সম্পর্কীত তথ্য প্রকাশ করেছেন। যে কারণে যে কোন সময় প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলমও ডিবি পুলশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে পারেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০
২২২ বার পড়া হয়েছে

ফেঁসে যাচ্ছেন প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল: গণপূর্তে জিকে শামীমের পর  গোল্ডেন মনির সিন্ডিকেট!

আপডেট সময় ০২:০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদক:

গণপূর্ত অধিদপ্তরে আলোচিত ঠিকাদার জিকে শামীম সিন্ডিকেটের পতনের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা। প্রকল্পসহ অন্যান্য কাজ বাস্তবায়নে ফিরে এসেছিল স্বাভাবিকতা। কিন্তু বছর না পেরুতেই ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ‘গোল্ডেন মনির সিন্ডিকেট’।

এবার জি কে শামীমের জায়গায় এসেছেন গোল্ডেন মনির নামের আরেক মাফিয়া। অভিযোগ রয়েছে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলমের সহযোগিতায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে একচ্ছত্র আধিপত্য চালাচ্ছে নয়া এই সিন্ডিকেটটি। ওপেন টেন্ডার হলেও বিশেষ একটি পদ্ধতির মাধ্যমে বড় বড় সব কাজ ভাগিয়ে সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়া হচ্ছে।

অবশ্য প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলমের বিষয়ে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এদিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ, ৬০০ ভরি স্বর্ণ এবং একটি বিদেশি পিস্তলসহ শনিবার টেন্ডার মাফিয়া গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব জানিয়েছে, মোট এক হাজার ৫০ কোটি টাকার মতো সম্পদ আছে গোল্ডেন মনিরের। রাজধানীর বাড্ডা, গুলশান, নিকেতন, উত্তরা এলাকায় তার ৩০টির মতো ফ্ল্যাট রয়েছে।

গণপূর্ত অধিদফতর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব বড় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এর সিংহভাগই নিয়ে নিচ্ছে গোল্ডেন মনির সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এক্ষেত্রে প্রকল্প কাজ একটি নির্দিষ্ট কমিশনে ভাগ-ভাটোয়ারা করে দেন প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলম ও গোল্ডেন মনির। অভিযোগ রয়েছে, এই কমিশনের টাকা পৌঁছে যায় মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ হাত পর্যন্ত। তথ্যমতে, রাজধানীর আগারগাওয়ে নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউটের ১৫০ কোটি, র্যাব হেড কোয়ার্টারের ১৫০ কোটি, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল সার্ভিস কমপ্লেক্সের ৫৫ কোটি, ডেমরা পুলিশ টাওয়ারের ৯০ কোটি টাকার কাজসহ চলমান অন্যসব প্রকল্প থেকে কমিশন নিয়ে কাজ ভাগ-ভাটোয়ারা করে দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, উত্তরার ঝমঝম টাওয়ারের একটি কক্ষে বসে লোকচক্ষুর অন্তরালে কাজ ও কমিশনের টাকার এই ভাগ-ভাটোয়ারা হয়।

এদিকে প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলমসহ অনিয়মে জড়িত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক লুটপাট ও অনিয়মের প্রমাণ প্রাপ্তি সাপেক্ষে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে গণপূর্ত অধিদফতর। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করে যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায়ের পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

একাধিক সুত্রের দাবী,গোল্ডেন মনিরের সাথে গণপুর্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলমের বিশেষ সম্পর্ক রযেছে। তিনি প্রায়ই গোল্ডেন মনিরের অফিসে যাওয়া আসা ও অতিথীশালায় মধ্যমণি হতেন। একসাথে তাদের বন্ধুত্ব সম্পর্কীয় ছবিও পাওয়াগেছে। ডিবি পুলিশের রিান্ডে গোল্ডেন মনির এ সম্পর্কীত তথ্য প্রকাশ করেছেন। যে কারণে যে কোন সময় প্রধান প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলমও ডিবি পুলশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে পারেন।