করোনার মধ্যেও গোপনে নিয়োগ-বদলী: বিসিক চেয়ারম্যানের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের দাবী
বিশেষ প্রতিবেদক
অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে করোনা কালীন সময়েও অতি গোপনে কর্মকর্তা -কর্মচারি নিয়োগ দান, জেলা কোটা উপেক্ষা করে কেবলমাত্র চেয়ারম্যানের নিজ অঞ্চলের প্রার্থীদের মাষ্টারোলে নিয়োগ দেওয়া ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা -কর্মচারিদের গণহারে বদলীর প্রতিবাদে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন বিসিকের দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।
তাদের অভিযোগ চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. মোশতাক হাসান, এনডিসি সৎ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে তার নিজ এলাকার কিছু কর্মকর্তাকে বদলী করে বিসিক এ নিয়ে এসে তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ডেস্কে পদায়ন করেছেন। শুধু তাইই নয়, আঞ্চলিক বলয় সৃষ্টি করতে একটি সিন্ডিকেট গঠন করেছেন। আর এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এমন ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন। আর এ নিয়োগ দেওয়ার কারণে এ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরতরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সূত্র জানায়, গত ২০১৮ সালে ৪৪ ক্যাটাগরিতে ২০৯ জন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিসিক কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে এন্ট্রি লেভেল বা ৯ম গ্রেডের পদসংখ্যা ১৩০টি। ষষ্ঠ থেকে তৃতীয় গ্রেডের পদসংখ্যা ৬৩টি। দেশের সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে এই পদগুলো পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
বিসিক চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৮৯ এবং সংশোধিত ১৯৯৪ প্রবিধান ৩ এর উপপ্রবিধান (২) অনুসারে ‘সরকার কর্তৃক সময় সময় জারিকৃত আদেশ অনুসারে কোনো বিশেষ শ্রেণির প্রার্থী এবং করপোরেশন বা করপোরেশন পরিচালিত কোনো প্রকল্পে কর্মরত আছেন বা ছিলেন এমন প্রার্থীর ক্ষেত্রে উক্ত বয়সসীমা শিথিলযোগ্য হইবে’; ‘আরো শর্ত থাকে যে এই প্রবিধানমালার যাকিছুই থাকুক না কেন করপোরেশন বা করপোরেশন পরিচালিত কোনো প্রকল্পে আছেন বা ছিলেন এমন কোনো প্রার্থীর যদি সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া যাইতে পারে’। বঞ্চিত কর্মকর্তারা আইনের আশ্রয় নিলে তত্কালীন চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত আক্রোশে ১৩ জন কর্মকর্তাকে প্রধান কার্যালয় হতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্ট্যান্ড রিলিজের মাধ্যমে বদলি করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে মুশতাক হাসান মুহ. ইফিতাখারকে ওএসডি করা হয় এবং আদালতের রায় অনুসারে ৬ষ্ঠ গ্রেডের ৩২টি পদের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়, যা সে সময় দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চেয়ারম্যান পদে প্রেষণে আসেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. মোশতাক হাসান, এনডিসি। তিনি আসার পর মামলার বিষয়ে অবগত হন এবং বিভাগীয় প্রার্থীদের যে বঞ্চিত করা হয়েছে সে বিষয়ে উপলব্ধি করেন। সেই সঙ্গে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের যথাসময়ে প্রমোশনের আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে মামলা উঠিয়ে নেন বঞ্চিত কর্মীরা। তবে বঞ্চিতদের সঙ্গে দেওয়া কথার বরখেলাপ করে বর্তমান চেয়ারম্যান, নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ভাইভা শুরু করেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন করেন। আর নিয়োগ দেওয়া হলে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথা সেটাও না মেনে অনেকটা গোপন প্রক্রিয়ায় ০৩ ক্যাটাগরিতে ষোলো জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে বেশির ভাগই নামসর্বস্ব ব্যক্তি বা গ্রুপভিত্তিক প্রচালিত লিমিটেড কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাদের সবগুলোর তথ্য এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এ নিয়োগে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ধারণা।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান অতি গোপনে তার এলাকার ৮/১০জন যুবককে মাষ্টার রোলে চাকুরী দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি জেলা কোটা পালন করেননি। অপরদিকে করোনা মহামারির মধ্যেও অনেক কর্মকর্তা -কর্মচারিদের ঢাকার বাইরে বদলী করেছেন। যা ছিল অমানবিক ও সরকারের নির্দেশনা অমান্যের সামিল অপরাধ।
এ সব কারণে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা ও কর্মচারিা অনতিবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিল ও চেয়ারম্যানের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের দাবী তুলেছেন। এ বিষয়ে তারা শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনেরও আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিসিক চেয়ারম্যানের বক্তব্য নিতে একাধিকবার তার অফিসে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।











