০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষার সুফল: মার্চেন্টশীপে বাংলাদেশী নাবিক নিয়োগে রেকর্ড!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক:

পরীক্ষা ব্যবস্থা দুর্নীতিমুক্ত হওয়ায় মার্চেন্টশীপে বাংলাদেশী নাবিক নিয়োগে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের ৯ মাসে নিয়োগ পেয়েছেন প্রায় দ্বিগুন নাবিক। এ বছর ক্রু-নিয়োগ পেয়েছেন ২৩৯৮ জন ও  অফিসার ২৭৮৪ জন। মোট ৫ হাজার ১ শত ৮২ জন ক্রু ও অফিসারের জাহাজে কর্মরত অবস্থায় আছেন । সর্ব মোট ক্রুর সংখ্যা ৪ হাজার ৬ শত ৫৪জন অফিসারের সংখ্যা ১০হাজার ৭ শত ৯৮ জন। বেকার ক্রু রয়েছেন ৪ হাজার ২শত ৩২ জন। অফিসার রয়েছেন ৬ হাজার ৮ শত ৬৩ জন।

নৌ পরিবহন অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, যেখানে ২০১৫ সালে ৫১৪৮ জন ২০১৬ সালে ৬৭৩১ জন ২০১৭ সালে ৬৪৮১ জন ২০১৮ সালে ৭২১২ জন ২০১৯ সালে ৭৭৯৩ জন নিয়োগ পেয়েছিল সেখানে ২০২০ সালে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসেই নিয়োগ পেয়েছে ৫১৮২ জন নাবিক। সরকারী নৌ-পরিবহন অফিস চট্রগ্রাম ও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দুর্নীতিমুক্ত আন্তরিক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে বলে নৌখাত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭৮-৭৯ সালে বাংলাদেশের নাবিকের সংখ্যা ছিলো ১২ হাজার। এর মধ্যে সার্বক্ষণিক জাহাজে কর্মরত অবস্থায় থাকতো ৭ হাজার ৫শত। বর্তমানে কর্মরত আছেন মোট ১৫ হাজার ৪ শত ৫২ জন। চলতি বছর নাবিকের সংখ্যা ক্রু-২৩৯৮ জন, অফিসার ২৭৮৪ জন। মোট ৫ হাজার ১ শত ৮২ জন জাহাজে কর্মরত আছেন।

এ প্রসংগে বেশ কয়েকজন ক্যাডেট -নাবিক জানান, অতীতে মোটা অংকের ঘূষ লেন দেনের মাধ্যমে ক্যাডেট নাবিকদের পাশ করিয়ে দেওয়া হতো। অনৈতিক লেনদেনে তাদের সার্টিফিকেট ইন কমপেন্টেন্সী প্রদান করা হতো। প্রতিটি সাবজেক্টে ১লক্ষ টাকা না দিলে ক্যাডেটদের পাশ করানো হতো না। মেরিটাইম একাডেমীতে শর্টকোর্স বাবদ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হতো। এভাবে ক্যাডেটদের থেকে ৮/১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিতেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে এ সেক্টরে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ঘুষ দিয়ে অকৃতকার্য ক্যাডেটরাও সার্টিফিকেট পেয়ে যেত। তারা বিদেশী জাহাজে যোগদান করারপর বাস্তব অভিজ্ঞতায় অদক্ষতার প্রমান দেওয়ায় মার্চেন্টশীপে বাংলাদেশী নাবিকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়। ফলে কমে যায় বিদেশী জাহাজে বাংলাদেশী নাবিক নিয়োগের সূচক। বাড়তে থাকে বেকার নাবিকদের সংখ্যা।

এছাড়া ডিজি শিপিং এর ‘ন’ ও ‘গ’ আদ্যক্ষরের দুইজন কর্মকর্তা ( বর্তমানে অপসারিত) ঘুষের বিনিময়ে ফেইক সার্টিফিকেট ইসু, সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশনে অনিয়ম, ফেইক এনওসি প্রদান, জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সিডিসি ও সার্টিফিকেট ইন কমপেন্টেন্সী প্রদানের ফলে বাংলাদেশ আই এল ওর বিশেষ অবজারভিশনে পড়েছিল। যে কোন সময় বাংলাদেশ মার্চেন্টশীপে নাবিক প্রদানের ক্ষেত্রে ব্ল্যাকলিষ্টে চলে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সেই ঝুঁকি ৯০% কমেগেছে। ‘ন’ ও ‘গ’ আদ্যক্ষরের ওই দুইজন কর্মকর্তা আবার ডিজি শিপিং’র দায়িত্বে পূর্নবহাল হলে সেই ঝুঁকি আবার দেখা দেবে এমনটিই মনে করছেন মেরিণ সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান সময়ে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর থেকে ওই বিশেষ দুইজন কর্মকর্তা অপসারিত হওয়ায় এসব অনিয়ম -দুর্নীতি বন্ধ  হয়েগেছে। ফলে গত ৯ মাসে ৫ হাজার ১শত ৮২ জন নাবিক বিদেশী জাহাজে নিয়োগ পেয়েছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশী নাবিকের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রচুর পরিমাণ রেমিটেন্স আয় হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
১৯০ বার পড়া হয়েছে

স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষার সুফল: মার্চেন্টশীপে বাংলাদেশী নাবিক নিয়োগে রেকর্ড!

আপডেট সময় ০৬:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

রোস্তম মল্লিক:

পরীক্ষা ব্যবস্থা দুর্নীতিমুক্ত হওয়ায় মার্চেন্টশীপে বাংলাদেশী নাবিক নিয়োগে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের ৯ মাসে নিয়োগ পেয়েছেন প্রায় দ্বিগুন নাবিক। এ বছর ক্রু-নিয়োগ পেয়েছেন ২৩৯৮ জন ও  অফিসার ২৭৮৪ জন। মোট ৫ হাজার ১ শত ৮২ জন ক্রু ও অফিসারের জাহাজে কর্মরত অবস্থায় আছেন । সর্ব মোট ক্রুর সংখ্যা ৪ হাজার ৬ শত ৫৪জন অফিসারের সংখ্যা ১০হাজার ৭ শত ৯৮ জন। বেকার ক্রু রয়েছেন ৪ হাজার ২শত ৩২ জন। অফিসার রয়েছেন ৬ হাজার ৮ শত ৬৩ জন।

নৌ পরিবহন অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, যেখানে ২০১৫ সালে ৫১৪৮ জন ২০১৬ সালে ৬৭৩১ জন ২০১৭ সালে ৬৪৮১ জন ২০১৮ সালে ৭২১২ জন ২০১৯ সালে ৭৭৯৩ জন নিয়োগ পেয়েছিল সেখানে ২০২০ সালে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসেই নিয়োগ পেয়েছে ৫১৮২ জন নাবিক। সরকারী নৌ-পরিবহন অফিস চট্রগ্রাম ও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দুর্নীতিমুক্ত আন্তরিক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে বলে নৌখাত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭৮-৭৯ সালে বাংলাদেশের নাবিকের সংখ্যা ছিলো ১২ হাজার। এর মধ্যে সার্বক্ষণিক জাহাজে কর্মরত অবস্থায় থাকতো ৭ হাজার ৫শত। বর্তমানে কর্মরত আছেন মোট ১৫ হাজার ৪ শত ৫২ জন। চলতি বছর নাবিকের সংখ্যা ক্রু-২৩৯৮ জন, অফিসার ২৭৮৪ জন। মোট ৫ হাজার ১ শত ৮২ জন জাহাজে কর্মরত আছেন।

এ প্রসংগে বেশ কয়েকজন ক্যাডেট -নাবিক জানান, অতীতে মোটা অংকের ঘূষ লেন দেনের মাধ্যমে ক্যাডেট নাবিকদের পাশ করিয়ে দেওয়া হতো। অনৈতিক লেনদেনে তাদের সার্টিফিকেট ইন কমপেন্টেন্সী প্রদান করা হতো। প্রতিটি সাবজেক্টে ১লক্ষ টাকা না দিলে ক্যাডেটদের পাশ করানো হতো না। মেরিটাইম একাডেমীতে শর্টকোর্স বাবদ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হতো। এভাবে ক্যাডেটদের থেকে ৮/১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিতেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে এ সেক্টরে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ঘুষ দিয়ে অকৃতকার্য ক্যাডেটরাও সার্টিফিকেট পেয়ে যেত। তারা বিদেশী জাহাজে যোগদান করারপর বাস্তব অভিজ্ঞতায় অদক্ষতার প্রমান দেওয়ায় মার্চেন্টশীপে বাংলাদেশী নাবিকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়। ফলে কমে যায় বিদেশী জাহাজে বাংলাদেশী নাবিক নিয়োগের সূচক। বাড়তে থাকে বেকার নাবিকদের সংখ্যা।

এছাড়া ডিজি শিপিং এর ‘ন’ ও ‘গ’ আদ্যক্ষরের দুইজন কর্মকর্তা ( বর্তমানে অপসারিত) ঘুষের বিনিময়ে ফেইক সার্টিফিকেট ইসু, সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশনে অনিয়ম, ফেইক এনওসি প্রদান, জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সিডিসি ও সার্টিফিকেট ইন কমপেন্টেন্সী প্রদানের ফলে বাংলাদেশ আই এল ওর বিশেষ অবজারভিশনে পড়েছিল। যে কোন সময় বাংলাদেশ মার্চেন্টশীপে নাবিক প্রদানের ক্ষেত্রে ব্ল্যাকলিষ্টে চলে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সেই ঝুঁকি ৯০% কমেগেছে। ‘ন’ ও ‘গ’ আদ্যক্ষরের ওই দুইজন কর্মকর্তা আবার ডিজি শিপিং’র দায়িত্বে পূর্নবহাল হলে সেই ঝুঁকি আবার দেখা দেবে এমনটিই মনে করছেন মেরিণ সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান সময়ে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর থেকে ওই বিশেষ দুইজন কর্মকর্তা অপসারিত হওয়ায় এসব অনিয়ম -দুর্নীতি বন্ধ  হয়েগেছে। ফলে গত ৯ মাসে ৫ হাজার ১শত ৮২ জন নাবিক বিদেশী জাহাজে নিয়োগ পেয়েছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশী নাবিকের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রচুর পরিমাণ রেমিটেন্স আয় হবে।