মে মাসের বেতন দেয়নি ৭১ পোশাক কারখানা
দেশে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত সর্বমোট এক হাজার ৯২৬টি তৈরি পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৮৫৫টির মালিক তাদের শ্রমিকদের মে মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছেন। তবে এখনও ৭১ কারখানার শ্রমিক বেতন-ভাতা পাননি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
সব মিলিয়ে মে মাসের বেতন পরিশোধ করেছে চালু থাকা এক হাজার ৮৫৫টি (৯৬.৩০ শতাংশ) কারখানা। তবে ৭১টি কারখানার (৩.৭০ শতাংশ) শ্রমিকদের বেতন ২৫ জুন পর্যন্ত পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এই প্যাকেজ থেকে উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ পণ্য রফতানি করছে এমন সচল প্রতিষ্ঠান সুদবিহীন সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিয়ে ঋণ নিতে পারছে।
জানা যায়, তহবিল থেকে ঋণ পেতে বিজিএমইএর সদস্য এক হাজার ৩৭০টি ও বিকেএমইএর সদস্য ৫১৯টি কারখানা আবেদন করেছিল। বিভিন্ন কারণে বিকেএমইএর ৯৯ সদস্য কারখানাসহ বেশি কিছু আবেদন বাতিল হয়। তবে এরপরও পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের সিংহভাগ অর্থই ঋণ হিসেবে পেয়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকরা। ফলে দুই মাস ধরে পোশাক শ্রমিকদের একটি বড় অংশের মজুরি হচ্ছে প্রণোদনার টাকায়।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চলমান সংকটে শ্রমিক-কর্মচারীদের আরও তিন মাসের বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ চান দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকরা। এই বরাদ্দ চেয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেয় রফতনিমুখী পোশাক মালিকদের বড় দুটি সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জাগো নিউজকে বলেন, চলমান সংকটে রফতানিমুখী শিল্পের ক্ষতির কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায় বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছেন। ওই টাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পোশাক কারখানা তিন মাসের মজুরি দিচ্ছে।
তিনি বলেন, প্যাকেজের ঋণের অর্থে আমরা এপ্রিল, মে ও জুন- এ তিন মাসের মজুরি দেয়ার সুযোগ পেয়েছি। এখন আগামী জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য আগের মতো সহজশর্তে অর্থবরাদ্দ চেয়েছি। কারণ আজ থেকে তিন-চার মাস পর আমাদের যে কাজ প্রোডাকশন লাইনে যাবে বা শিপমেন্ট হবে সেটা এখনই কনফার্ম হওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের কাছে এ মুহূর্তে কোনো অর্ডার আসছে না। তাই আগামী তিন মাস শ্রমিকদের বেতন দেয়ার মতো পরিস্থিতি কারখানাগুলোর নেই। এমন অবস্থায় আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি বেতন দেয়ার জন্য ঋণের সুবিধা আরও তিন মাস যেন দেয়া হয়।

















