০৪:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহের ফুটবলার বাধনের মায়ের চিকিৎসাও বন্ধ

প্রতিনিধির নাম:

ময়মনসিংহের কৃতি ফুটবলার জাহিদ আহসান বাধন মায়ের একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য চেয়ে হাত বাড়িয়েছেন।

ইতোমধ্যে একলাখ টাকা সরকারি সহায়তা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। গত মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে উদীয়মান এ ফুটবলারের হাতে চেক তুলে দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

জাহিদ আহসান বাধন (২০) জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের এনায়েত নগর গ্রামের মো. আনোয়ার কাদিরের ছেলে।

ময়মনসিংহ জেলা ফুটবল থেকে ক্যারিয়ার শুরু তার। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অনূর্ধ্ব-১৮ দলে ও সিটি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন তিনি। স্বপ্ন জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতানোর।

২০১৮ সালে জাতীয় দলের ক্যাম্পে সুযোগ পেলেও জন্ডিস আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে। এরপর করোনার কারণে আপাতত বাড়িতেই আছেন।

বাধনের মা বিলকিস বেগমের দুটি কিডনিই দীর্ঘদিন যাবৎ অকেজো। এতদিন ফুটবল খেলার আয় থেকে মায়ের চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও করোনা মহামারি সেই পথ বন্ধ করে দেয়ায় থমকে গেছে মায়ের চিকিৎসা।

ফুটবল খেলায় অনেকের নজরে এলেও মায়ের চিকিৎসায় তেমন কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না বাধন। তার মায়ের সাথে কথা বললে বাঁচার আকুতি নিয়ে করুণকণ্ঠে বলতে শুরু করেন, আমি বাঁচতে চাই। দেশবাসীর কাছে অনুরোধ, আমাকে আপনারা বাঁচান। আমার তিনটা সন্তান। আমি না থাকলে ওদের দেখার কেউ নেই। আমার খুব আশা ছিল স্টেডিয়ামে গিয়ে ছেলের ফুটবল খেলা দেখবো। আমি আমার ছেলের খেলা দেখতে চাই।

ফুটবলার বাধন জানায়, মায়ের এমন অসুস্থতায় তাকে বাঁচানোর আকুতি নিয়ে ঘুরছেন বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে।অল্পস্বপ্ল সহযোগিতাও পেয়েছেন, তবে সেটা মায়ের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়। তার পরিবারে রয়েছে ছোট এক ভাই ও এক বোন।সংসারে সহযোগিতা করার মতো আর কেউ না থাকায় তার ফুটবল খেলার আয় থেকেই চলে তাদের সংসার।

প্রায় ৩ বছর হলো বাধন তার মাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন। বর্তমানে তার মায়ের ২টি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে সকল কার্যক্রম স্থবির হওয়ার পাশাপশি খেলাধুলা বন্ধ হয়ে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে তার আয়। এতদিন ফুটবল খেলার আয় থেকে মায়ের চিকিৎসা খরচ চালিয়ে গেলেও তা আর পারছেন না বাধন।

ফলে তার মায়ের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস করাতে খরচের খাতায় যোগ হয় ১০ হাজার টাকা। এ টাকা জোগাড় করা এখন তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।বাধনের মাকে একেবারে সুস্থ করে তুলতে চাইলে প্রয়োজন নতুন কিডনি সংযোজনের। কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যয় বাধনের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

তাই মাকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের দিকে তাকিয়ে আছে তরুণ এ ফুটবলার। বাধনের মা বর্তমানে গাজীপুরের চৌরাস্তায় অবস্থিত কেয়ারহোম ডায়ালাইসিস সেন্টারের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বাধন বলেন, আমরা স্বপরিবারে গাজীপুরে বসবাস করি। চিকিৎসকরা সপ্তাহে তিনবার কিডনি ডায়ালাইসিস দেয়ার কথা বললেও আর্থিক সমস্যার কারণে দুবার ডায়ালাইসিস করা হয়। কিডনি ডায়ালাইসিস করলে একদিন ভালো থাকে।পরদিন আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। এভাবেই দিন কাটছে আমাদের।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা বলছে আপাতত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারলে আমার মা সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু, একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে গেলে ২০ লাখ টাকার প্রয়োজন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল স্যারের দেয়া এক লাখ টাকাসহ মোট আমাদের কাছে তিনলাখ টাকা আছে। যদি আমার মাকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসে। তাহলে আমার মাকে আরও কিছুদিন মা বলে ডাকতে পারতাম।

বাধনের বাবা আনোয়ার কাদির বলেন, আমার ছেলের স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলের ফুটবলার হয়ে খেলার। কিন্তু, তার মায়ের অসুস্থতার জন্য সেই স্বপ্ন ভাঙার পথে। আমি আমার ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারি না। সমাজের বিত্তবানরা সাহায্যের হাত বাড়ালে আমার সংসারে আবার সুখ ফিরে আসতো।

বাধনের মাকে কেউ সহযোগিতা করতে আগ্রহী হলে যোগাযোগ করতে তার ০১৬১৬৭৬৭৬৮৯ সঙ্গে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৯:১৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২০
২৮৪ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের ফুটবলার বাধনের মায়ের চিকিৎসাও বন্ধ

আপডেট সময় ০৯:১৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২০

ময়মনসিংহের কৃতি ফুটবলার জাহিদ আহসান বাধন মায়ের একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য চেয়ে হাত বাড়িয়েছেন।

ইতোমধ্যে একলাখ টাকা সরকারি সহায়তা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। গত মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে উদীয়মান এ ফুটবলারের হাতে চেক তুলে দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

জাহিদ আহসান বাধন (২০) জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের এনায়েত নগর গ্রামের মো. আনোয়ার কাদিরের ছেলে।

ময়মনসিংহ জেলা ফুটবল থেকে ক্যারিয়ার শুরু তার। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অনূর্ধ্ব-১৮ দলে ও সিটি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন তিনি। স্বপ্ন জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতানোর।

২০১৮ সালে জাতীয় দলের ক্যাম্পে সুযোগ পেলেও জন্ডিস আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে। এরপর করোনার কারণে আপাতত বাড়িতেই আছেন।

বাধনের মা বিলকিস বেগমের দুটি কিডনিই দীর্ঘদিন যাবৎ অকেজো। এতদিন ফুটবল খেলার আয় থেকে মায়ের চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও করোনা মহামারি সেই পথ বন্ধ করে দেয়ায় থমকে গেছে মায়ের চিকিৎসা।

ফুটবল খেলায় অনেকের নজরে এলেও মায়ের চিকিৎসায় তেমন কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না বাধন। তার মায়ের সাথে কথা বললে বাঁচার আকুতি নিয়ে করুণকণ্ঠে বলতে শুরু করেন, আমি বাঁচতে চাই। দেশবাসীর কাছে অনুরোধ, আমাকে আপনারা বাঁচান। আমার তিনটা সন্তান। আমি না থাকলে ওদের দেখার কেউ নেই। আমার খুব আশা ছিল স্টেডিয়ামে গিয়ে ছেলের ফুটবল খেলা দেখবো। আমি আমার ছেলের খেলা দেখতে চাই।

ফুটবলার বাধন জানায়, মায়ের এমন অসুস্থতায় তাকে বাঁচানোর আকুতি নিয়ে ঘুরছেন বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে।অল্পস্বপ্ল সহযোগিতাও পেয়েছেন, তবে সেটা মায়ের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়। তার পরিবারে রয়েছে ছোট এক ভাই ও এক বোন।সংসারে সহযোগিতা করার মতো আর কেউ না থাকায় তার ফুটবল খেলার আয় থেকেই চলে তাদের সংসার।

প্রায় ৩ বছর হলো বাধন তার মাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন। বর্তমানে তার মায়ের ২টি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে সকল কার্যক্রম স্থবির হওয়ার পাশাপশি খেলাধুলা বন্ধ হয়ে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে তার আয়। এতদিন ফুটবল খেলার আয় থেকে মায়ের চিকিৎসা খরচ চালিয়ে গেলেও তা আর পারছেন না বাধন।

ফলে তার মায়ের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস করাতে খরচের খাতায় যোগ হয় ১০ হাজার টাকা। এ টাকা জোগাড় করা এখন তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।বাধনের মাকে একেবারে সুস্থ করে তুলতে চাইলে প্রয়োজন নতুন কিডনি সংযোজনের। কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যয় বাধনের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

তাই মাকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের দিকে তাকিয়ে আছে তরুণ এ ফুটবলার। বাধনের মা বর্তমানে গাজীপুরের চৌরাস্তায় অবস্থিত কেয়ারহোম ডায়ালাইসিস সেন্টারের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বাধন বলেন, আমরা স্বপরিবারে গাজীপুরে বসবাস করি। চিকিৎসকরা সপ্তাহে তিনবার কিডনি ডায়ালাইসিস দেয়ার কথা বললেও আর্থিক সমস্যার কারণে দুবার ডায়ালাইসিস করা হয়। কিডনি ডায়ালাইসিস করলে একদিন ভালো থাকে।পরদিন আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। এভাবেই দিন কাটছে আমাদের।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা বলছে আপাতত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারলে আমার মা সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু, একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে গেলে ২০ লাখ টাকার প্রয়োজন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল স্যারের দেয়া এক লাখ টাকাসহ মোট আমাদের কাছে তিনলাখ টাকা আছে। যদি আমার মাকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসে। তাহলে আমার মাকে আরও কিছুদিন মা বলে ডাকতে পারতাম।

বাধনের বাবা আনোয়ার কাদির বলেন, আমার ছেলের স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলের ফুটবলার হয়ে খেলার। কিন্তু, তার মায়ের অসুস্থতার জন্য সেই স্বপ্ন ভাঙার পথে। আমি আমার ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারি না। সমাজের বিত্তবানরা সাহায্যের হাত বাড়ালে আমার সংসারে আবার সুখ ফিরে আসতো।

বাধনের মাকে কেউ সহযোগিতা করতে আগ্রহী হলে যোগাযোগ করতে তার ০১৬১৬৭৬৭৬৮৯ সঙ্গে।