১০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একই কর্মস্থলে সাড়ে তিন বছর: ফাঁদ মামলায় ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম:

স্টাফ রিপোর্টার
দুদকের সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদের খুঁটির জোর কোথায়? তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। টাকা পেলে দিনকে রাত আর রাতকে দিন করতে পারেন। দুদকে অসীম ক্ষমতা তার। সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে একই কর্মস্থলে রয়েছেন সাড়ে তিন বছর। সবার রুটিন বদলী হলেও তার বদলী হয়না। তিনি নাকি দুদকে সুপার পাওয়ারম্যান।

সম্প্রতি তিনি একটি ফাঁদ মামলায় ফেঁসে যেতে বসেছেন। চাকুরীও হারাতে পারেন। তার নাম আব্দুল ওয়াদুদ। দুদকের ঢাকা জেলা সমন্বিত কার্যালয় -১ এর সহকারী পরিচালক তিনি। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকায় রাজধানী ঢাকার বড় বড় রাঘব বোয়ালদের দুর্নীতির মামলা তদন্তে এবং ফাঁদ মামলা রুজু করে তিনি আলোচনার শীর্ষে আছেন। গায়ে বেশ চর্বিও লেগেছে। নামে বেনামে ধন সম্পদও করেছেন চোখে পড়ারমত। বিদেশে টাকা পাচার করার কথাও শোনা যায়।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ দলবলসহ মতিঝিলের বিআইডব্লিউটিএ কার্যালয়ের ৮ম তলায় অবস্থিত নৌপরিবহন অধিদপ্তরে অভিযান চালান। ঘুষ নাটক মঞ্চস্থ করে গ্রেফতার করেন নিরাপরাধ নৌ প্রকৌশলী কাম শীপ সার্ভেয়ার মীর্জা সাইফুর রহমানকে। কথিত আছে ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তিনি একটি ফাঁদ মামলা সাজিয়ে নৌ প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করেন।

তৎসময় এ বিষয়টি নিয়ে পত্র পত্রিকায় বেশ লেখালেখি হয়। কিন্তু তাতে কিছু এসে যায়নি সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদের। এই মামলাটি সম্পুর্নরুপে সাজানো মামলা সেটি বার বার জানান হয় দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের। তা মোটেও কর্ণপাত করা হয়নি। ফলে সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। মামলাটির অতিদ্রুত চার্জশীট দেওয়া হয়। তদন্তকালে মিথ্যা তথ্য, জাল কাগজপত্র, অভিযোগকারীর ভূয়া ঠিকানা কোনটিই আমলে নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে প্রকৌশলী মীর্জা সাইফুর রহমান মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও তার জামিন বাতিল করার জন্য দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়। আনরেজিষ্ট্রি মোবাইল নম্বর দ্বারা দুদক কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার জন্য ৩ টি জিডিও করা হয়। একজন সরকারী কর্মকর্তাকে সাজানো ফাঁদ মামলায় গ্রেফতার করে তার লাইফটা শেষ করে দেওয়া হয়।

তিনি ৫ মাস জেল হাজত ভোগ করেন। চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন। সামাজিক মর্যাদা হরান। দেশবাসীর কাছে একজন ঘুষখোর কর্মকর্তা হিসাবে স্বীকৃত হন। তার এই ক্ষতির মাশুল টাকায় পরিমাপযোগ্য নয়। অবশেষে গত ১৫ জুন ২০২০ তারিখে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট ছাপিয়ে আসল তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে। ওই রিপোর্টটির শিরোনাম ছিলো “ দুদকের সাজানো ফাঁদ মামলায় কর্মকর্তার সর্বনাশ”।

এ রিপোর্টটি প্রকাশের পর দুদকের আসল চরিত্র প্রকাশ পায়। সারাদেশে ছি:ছি: পড়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে, দুদক তুমি কার? এককথায় দুদকের ভাবমূর্তি ধুলোয় মিশে যাবার উপক্রম হয়েছে। কিন্তু যে কর্মকর্তার জন্য দুদকের এতবড় ক্ষতি সাধিত হয়েছে সেই সহকারী পরিচালকআব্দুল ওয়াদুদের বিরুদ্ধে দুদক চেয়ারম্যান আজঅব্দি কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। গঠন করেননি কোন তদন্ত কমিটি তাকে সাসপেন্ড বা বদলীও করেননি।

প্রশ্ন হলো- একজন অধ:স্তন কর্মকর্তার অপকর্মের দায় দুদকের সকল কর্মকর্তারা কেন নেবেন? প্রকৌশলী এন্ড শীপ সার্ভেয়ার মীর্জা সাইফুর রহমানের ওপর যে অন্যায় অবিচার করা হয়েছে তার প্রতিকার কে দেবে? সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদের খুঁটির জোরইবা কোথায়?

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০২:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০
১৯২ বার পড়া হয়েছে

একই কর্মস্থলে সাড়ে তিন বছর: ফাঁদ মামলায় ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার
দুদকের সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদের খুঁটির জোর কোথায়? তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। টাকা পেলে দিনকে রাত আর রাতকে দিন করতে পারেন। দুদকে অসীম ক্ষমতা তার। সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে একই কর্মস্থলে রয়েছেন সাড়ে তিন বছর। সবার রুটিন বদলী হলেও তার বদলী হয়না। তিনি নাকি দুদকে সুপার পাওয়ারম্যান।

সম্প্রতি তিনি একটি ফাঁদ মামলায় ফেঁসে যেতে বসেছেন। চাকুরীও হারাতে পারেন। তার নাম আব্দুল ওয়াদুদ। দুদকের ঢাকা জেলা সমন্বিত কার্যালয় -১ এর সহকারী পরিচালক তিনি। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকায় রাজধানী ঢাকার বড় বড় রাঘব বোয়ালদের দুর্নীতির মামলা তদন্তে এবং ফাঁদ মামলা রুজু করে তিনি আলোচনার শীর্ষে আছেন। গায়ে বেশ চর্বিও লেগেছে। নামে বেনামে ধন সম্পদও করেছেন চোখে পড়ারমত। বিদেশে টাকা পাচার করার কথাও শোনা যায়।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ দলবলসহ মতিঝিলের বিআইডব্লিউটিএ কার্যালয়ের ৮ম তলায় অবস্থিত নৌপরিবহন অধিদপ্তরে অভিযান চালান। ঘুষ নাটক মঞ্চস্থ করে গ্রেফতার করেন নিরাপরাধ নৌ প্রকৌশলী কাম শীপ সার্ভেয়ার মীর্জা সাইফুর রহমানকে। কথিত আছে ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তিনি একটি ফাঁদ মামলা সাজিয়ে নৌ প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করেন।

তৎসময় এ বিষয়টি নিয়ে পত্র পত্রিকায় বেশ লেখালেখি হয়। কিন্তু তাতে কিছু এসে যায়নি সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদের। এই মামলাটি সম্পুর্নরুপে সাজানো মামলা সেটি বার বার জানান হয় দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের। তা মোটেও কর্ণপাত করা হয়নি। ফলে সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। মামলাটির অতিদ্রুত চার্জশীট দেওয়া হয়। তদন্তকালে মিথ্যা তথ্য, জাল কাগজপত্র, অভিযোগকারীর ভূয়া ঠিকানা কোনটিই আমলে নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে প্রকৌশলী মীর্জা সাইফুর রহমান মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও তার জামিন বাতিল করার জন্য দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়। আনরেজিষ্ট্রি মোবাইল নম্বর দ্বারা দুদক কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার জন্য ৩ টি জিডিও করা হয়। একজন সরকারী কর্মকর্তাকে সাজানো ফাঁদ মামলায় গ্রেফতার করে তার লাইফটা শেষ করে দেওয়া হয়।

তিনি ৫ মাস জেল হাজত ভোগ করেন। চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন। সামাজিক মর্যাদা হরান। দেশবাসীর কাছে একজন ঘুষখোর কর্মকর্তা হিসাবে স্বীকৃত হন। তার এই ক্ষতির মাশুল টাকায় পরিমাপযোগ্য নয়। অবশেষে গত ১৫ জুন ২০২০ তারিখে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট ছাপিয়ে আসল তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে। ওই রিপোর্টটির শিরোনাম ছিলো “ দুদকের সাজানো ফাঁদ মামলায় কর্মকর্তার সর্বনাশ”।

এ রিপোর্টটি প্রকাশের পর দুদকের আসল চরিত্র প্রকাশ পায়। সারাদেশে ছি:ছি: পড়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে, দুদক তুমি কার? এককথায় দুদকের ভাবমূর্তি ধুলোয় মিশে যাবার উপক্রম হয়েছে। কিন্তু যে কর্মকর্তার জন্য দুদকের এতবড় ক্ষতি সাধিত হয়েছে সেই সহকারী পরিচালকআব্দুল ওয়াদুদের বিরুদ্ধে দুদক চেয়ারম্যান আজঅব্দি কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। গঠন করেননি কোন তদন্ত কমিটি তাকে সাসপেন্ড বা বদলীও করেননি।

প্রশ্ন হলো- একজন অধ:স্তন কর্মকর্তার অপকর্মের দায় দুদকের সকল কর্মকর্তারা কেন নেবেন? প্রকৌশলী এন্ড শীপ সার্ভেয়ার মীর্জা সাইফুর রহমানের ওপর যে অন্যায় অবিচার করা হয়েছে তার প্রতিকার কে দেবে? সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদের খুঁটির জোরইবা কোথায়?