০৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসিসিতে মেয়রের ‘শুদ্ধি অভিযান’ : আতংকে যে ১০ কর্মকর্তা!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিতর্কিত ১০ কর্মকর্তা চাকরি হারানোর ভয়ে আতংকে রয়েছেন। নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের চলমান ‘শুদ্ধি অভিযান’ তাদের ‘ঘুম হারাম’ করেছে। এ আলোচনা এখন নগর ভবনের সর্বত্রই। ডিএসসিসির প্রকৌশল, রাজস্ব, ভাণ্ডার, পরিবহন ও প্রশাসন বিভাগে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়মের মাধ্যমে এসব কর্মকর্তা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের ‘লাগামহীন’ অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি অর্থনৈতিকভাবে অনেকটাই ‘পঙ্গু’ হয়েছে বলেও মনে করেন কেউ কেউ। কর্মকর্তারা বলছেন, সদ্যবিদায়ী মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই মূলত এ কর্মকর্তারা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। এরই মধ্যে মেয়র তাপস দায়িত্ব নিয়ে শীর্ষ দুই কর্মকর্তাসহ তিনজনকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার পর তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি ইতিমধ্যে মেয়র তাপস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন বলেও জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্র। গত ১৬ মে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন ফজলে নূর তাপস। পরদিন শীর্ষ দুই কর্মকর্তা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী সরদারকে চাকরিচ্যুত করেন। এর দুদিনের মাথায় কর কর্মকর্তা আতাহার আলী খানকেও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ডিএসসিসি কর্মকর্তারা বলছেন, এটি মেয়র তাপস দুর্নীতির বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতেই করেছেন। এরই মধ্যে শীর্ষপর্যায় থেকে আরও ৮-১০ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাদের বেশিরভাগই ‘লোভনীয়’ পদে বসে নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন বলেও মনে করছে বর্তমান প্রশাসন। সেজন্য তাদের বিষয়ে যেকোনো দিন র্কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন অনেকেই। তবে সাবেক মেয়র খোকনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, সিটি করপোরেশনে চাকরি করতে হলে মেয়রের কথার বাইরে একচুলও হাঁটার সুযোগ নেই। সাবেক মেয়রের পাঁচ বছরে তাদের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা তা সুচারুভাবে পালন করেছেন। এখন তারা ‘বলির পাঁঠা (আক্রোশের শিকার)’ হচ্ছেন। নগর ভবনে যে ১০ কর্মকর্তাকে আতংকে শাহ মো. এমদাদুল হক : ডিএসসিসির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি অর্থাৎ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে শাহ মো. এমদাদুল হক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাধিকার অনুযায়ী, সরকারের এ অতিরিক্ত সচিব একটি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন। যোগদানের পর থেকে তিনি করপোরেশনের গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-৫১৬৪) ব্যবহার করছেন। যার চালক মোরশেদ আলম। কিন্তু নিয়মের ব্যত্যয় করে এ কর্মকর্তা করপোরেশনের আরেকটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-১৫-০২০৭) তার পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য দিয়ে রেখেছেন। যার চালক মো. এনায়েত। ওই গাড়িটির জন্য ডিএসসিসি থেকে দৈনিক ২০-২৫ লিটার পেট্রলও নিচ্ছেন তিনি। একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রধান নির্বাহীর চেয়ারে বসে কিছুদিন মেয়র খোকনের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করলেও শেষ কয়েক মাস শাহ মো. এমদাদুল হক হয়ে ওঠেন পুরো নগর ভবনের নিয়ন্ত্রক। নতুন মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার আগে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত পদোন্নতি দিয়ে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের অর্থ। আবার মেয়র খোকনকে কোণঠাসা করে ঠিকাদারদের অর্থছাড় ও মশকনিধনের ওষুধ কেনাকাটায় তার আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টিও নগর ভবনে বেশ জোরেশোরে আলোচনায় আসে।

নতুন মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর এ কর্মকর্তা বেশ চাপে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে শাহ মো. এমদাদুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয়। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন : ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিনও বিদায়ী মেয়র খোকনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে নগর ভবনে পরিচিত। এ প্রকৌশলী চার ইউনিয়ন প্রকল্পসহ প্রতিষ্ঠানটির কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে মানহীন নির্মাণ উপকরণ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। চলমান ‘শুদ্ধি অভিযানে’ বোরহান উদ্দিনও চাপে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘র্কর্তৃপক্ষ আমাকে প্রকল্পের পিডি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। তখন দায়িত্ব পালন না করার কোনো সুযোগ ছিল না। সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। যখন যেখানে দায়িত্ব দেবে তাই পালন করতে হবে। এর বেশি মন্তব্য করতে চাই না।’

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভির আহমেদ : সরকারের পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস) অনুযায়ী, শতকোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) করতে হলে ন্যূনতম যোগ্যতা হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। কিন্তু ডিএসসিসির চার ইউনিয়ন উন্নয়ন নামে ৩৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের পরিচালক করা হয় নির্বাহী প্রকৌশলী তানভির আহমেদকে। শীর্ষপর্যায় থেকে ‘সবুজ সংকেত’ নিয়ে অনেকটাই নিয়মের বাইরে গিয়ে তাকে পিডির দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রকল্পে নিজের পছন্দ ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে চার ইউনিয়নের কাজের মান নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। সম্প্রতি মেয়র তাপস দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পের খোঁজখবর নিতে শুরু করলে এ প্রকৌশলীও বেশ চাপে পড়ে যান বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবদুল কুদ্দুস : আবদুল কুদ্দুস মূলত রাজস্ব বিভাগের উপকর কর্মকর্তা। মেয়র খোকন দায়িত্ব নেওয়ার পর এক অফিস আদেশে তাকে মেয়রের একান্ত সচিব-২-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান জনবল কাঠামোতে এ ধরনের কোনো পদের অস্তিত্ব নেই। এ কর্মকর্তা মেয়র সেলে একটি রুম বরাদ্দ নিয়ে অফিস করতেন। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল বিলবোর্ড কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ কর্মকর্তাকেও বিদায়ী মেয়র খোকনের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই চেনেন সবাই। তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। কুদ্দুসের বিষয়ে একটি
‘বড় সিদ্ধান্ত’ আসতে পারে এমন আভাস মিলেছে নগর ভবন সূত্রে। আলীম আল রাজী : ডিএসসিসির উপকর কর্মকর্তা আলীম আল রাজী। কিন্তু তিনি প্রভাব খাটিয়ে কর কর্মকর্তা ও রাজস্ব কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সেখানেই থেমে নেই রাজী। উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (বাজার) শাখার সবচেয়ে লোভনীয় চেয়ারটিও তার দখলে। ডিএসসিসির সব মার্কেটের দোকান বরাদ্দ ও ভাড়া আদায়, নামজারিসহ সব কাজই তিনি করেন। বরখাস্ত হওয়া প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদারের বিশ্বস্ত হিসেবে সব কাজ তিনি করতেন বলে জানা গেছে। তাই ইউসুফ আলী সরদারকে মেয়র তাপস বরখাস্ত করার পর আলীম আল রাজীও বেশ চাপে রয়েছেন।

শাহজাহান আলী: শাহজাহান আলী ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগে কর কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সাইদুর রহমান অবসরে যাওয়ার পর ইউসুফ আলী সরদারের সহযোগিতায় তিনি এ পদে বসেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিও শীর্ষপর্যায় থেকে তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান আলী বলেন, ‘আমার জানা মতে কোনো অন্যায় বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। এখন র্কর্তৃপক্ষ যা ভালো মনে করবে তাই করবে।’

মো. আরশাদ : বিদায়ী মেয়রের নিকটাত্মীয় ডিএসসিসির সহকারী সচিব মো. আরশাদ করপোরেশনে বেশ ‘প্রভাবশালী’ হয়ে ওঠেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের একটি জিপ (ঢাকা মেট্রো-ঠ-১৩-১৭৬১) ব্যবহার করছেন। যদিও প্রাধিকার অনুযায়ী, এ কর্মকর্তার নিজস্ব ব্যবহারের জন্য যান সুবিধা পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু তিনি ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে গাড়িটি সার্বক্ষণিক ব্যবহার করছেন। এ গাড়ির পেছনে গত ৩১ মাসে জ্বালানি বাবদ খরচ হয়েছে অন্তত ২৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এছাড়া গাড়িটির চালকও ডিএসসিসির কর্মচারী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির সহকারী সচিব আশরাদ হোসেন বলেন, ‘আমি যানবাহন সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রাধিকারপ্রাপ্ত নই এটা সত্য। কিন্তু সংস্থাপন শাখায় অনেক কাজ করতে হয় বিধায় র্কর্তৃপক্ষ একটি গাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে। আমি এ গাড়ির নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা।’ মো. মোরশেদ : ডিএসসিসির পরিবহন শাখার দায়িত্বে থাকা মো. মোরশেদের সঙ্গে বিদায়ী মেয়রের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএসসিসির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পৌর ফিলিং স্টেশন নিয়মবহির্ভূত ইজারা নেন বিপ্লব। আর সেখানে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা জ¦ালানি খরচ দেখিয়ে একটি অংশ হাতিয়ে নেয় বিপ্লবের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এসব কাজে বিপ্লবকে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে মোরশেদের বিরুদ্ধে। তবে মোরশেদের দাবি, র্কর্তৃপক্ষ তাকে পরিবহন শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি কোনো তদবির করে এখানে আসেননি। আর বিপ্লবের সঙ্গে তার কোনো অর্থনৈতিক সম্পর্কও নেই।

জাকির হোসেন: জাকির হোসেন ডিএসসিসি সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তুলনামূলক ছোট পদের কর্মকর্তা হলেও দীর্ঘসময় এ পদে থেকে সচিবদের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বদলি, পদোন্নতি ও নিয়োগ বাণিজ্য জাকিরের কব্জায় বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তার দপ্তরকে কাজে লাগিয়ে তার বিরুদ্ধে নগর ভবনে নিজের নিকটাত্মীয়-স্বজনদের নামে প্রতিষ্ঠান খুলে কোটি কোটি টাকার কাজ করার অভিযোগও রয়েছে। নামে-বেনামে গড়ে তোলা সম্পদের বিষয়ে দুদকে মামলাও চলমান রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। মেয়র তাপস দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বেশ চাপে
রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম করিনি। আমার আত্মীয়স্বজন নগর ভবনে ঠিকাদারি করলে আমার কী করার আছে? দুদক আমার অর্থ-সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করছে; তারা সব দেখবে।’

কামাল হোসেন: প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা বিভাগের প্রধান হলেও গত কয়েক বছর প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রেষণে এসে এখানে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি। সিটি করপোরেশনের শতকোটি কোটি টাকার কেনাকাটার দায়িত্বে থাকা এ দপ্তরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। ভাণ্ডার কর্মকর্তা কামাল হোসেন এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন বলেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারাই সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে মিলেমিশে ক্রয়সংক্রান্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়া এ কর্মকর্তার বিষয়েও শীর্যপর্যায় থেকে সার্বিক
খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৭:২৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২০
১৭৯ বার পড়া হয়েছে

ডিসিসিতে মেয়রের ‘শুদ্ধি অভিযান’ : আতংকে যে ১০ কর্মকর্তা!

আপডেট সময় ০৭:২৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২০

রোস্তম মল্লিক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিতর্কিত ১০ কর্মকর্তা চাকরি হারানোর ভয়ে আতংকে রয়েছেন। নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের চলমান ‘শুদ্ধি অভিযান’ তাদের ‘ঘুম হারাম’ করেছে। এ আলোচনা এখন নগর ভবনের সর্বত্রই। ডিএসসিসির প্রকৌশল, রাজস্ব, ভাণ্ডার, পরিবহন ও প্রশাসন বিভাগে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়মের মাধ্যমে এসব কর্মকর্তা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের ‘লাগামহীন’ অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি অর্থনৈতিকভাবে অনেকটাই ‘পঙ্গু’ হয়েছে বলেও মনে করেন কেউ কেউ। কর্মকর্তারা বলছেন, সদ্যবিদায়ী মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই মূলত এ কর্মকর্তারা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। এরই মধ্যে মেয়র তাপস দায়িত্ব নিয়ে শীর্ষ দুই কর্মকর্তাসহ তিনজনকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার পর তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি ইতিমধ্যে মেয়র তাপস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন বলেও জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্র। গত ১৬ মে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন ফজলে নূর তাপস। পরদিন শীর্ষ দুই কর্মকর্তা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী সরদারকে চাকরিচ্যুত করেন। এর দুদিনের মাথায় কর কর্মকর্তা আতাহার আলী খানকেও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ডিএসসিসি কর্মকর্তারা বলছেন, এটি মেয়র তাপস দুর্নীতির বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতেই করেছেন। এরই মধ্যে শীর্ষপর্যায় থেকে আরও ৮-১০ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাদের বেশিরভাগই ‘লোভনীয়’ পদে বসে নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন বলেও মনে করছে বর্তমান প্রশাসন। সেজন্য তাদের বিষয়ে যেকোনো দিন র্কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন অনেকেই। তবে সাবেক মেয়র খোকনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, সিটি করপোরেশনে চাকরি করতে হলে মেয়রের কথার বাইরে একচুলও হাঁটার সুযোগ নেই। সাবেক মেয়রের পাঁচ বছরে তাদের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা তা সুচারুভাবে পালন করেছেন। এখন তারা ‘বলির পাঁঠা (আক্রোশের শিকার)’ হচ্ছেন। নগর ভবনে যে ১০ কর্মকর্তাকে আতংকে শাহ মো. এমদাদুল হক : ডিএসসিসির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি অর্থাৎ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে শাহ মো. এমদাদুল হক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাধিকার অনুযায়ী, সরকারের এ অতিরিক্ত সচিব একটি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন। যোগদানের পর থেকে তিনি করপোরেশনের গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-৫১৬৪) ব্যবহার করছেন। যার চালক মোরশেদ আলম। কিন্তু নিয়মের ব্যত্যয় করে এ কর্মকর্তা করপোরেশনের আরেকটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-১৫-০২০৭) তার পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য দিয়ে রেখেছেন। যার চালক মো. এনায়েত। ওই গাড়িটির জন্য ডিএসসিসি থেকে দৈনিক ২০-২৫ লিটার পেট্রলও নিচ্ছেন তিনি। একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রধান নির্বাহীর চেয়ারে বসে কিছুদিন মেয়র খোকনের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করলেও শেষ কয়েক মাস শাহ মো. এমদাদুল হক হয়ে ওঠেন পুরো নগর ভবনের নিয়ন্ত্রক। নতুন মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার আগে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত পদোন্নতি দিয়ে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের অর্থ। আবার মেয়র খোকনকে কোণঠাসা করে ঠিকাদারদের অর্থছাড় ও মশকনিধনের ওষুধ কেনাকাটায় তার আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টিও নগর ভবনে বেশ জোরেশোরে আলোচনায় আসে।

নতুন মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর এ কর্মকর্তা বেশ চাপে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে শাহ মো. এমদাদুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয়। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন : ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিনও বিদায়ী মেয়র খোকনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে নগর ভবনে পরিচিত। এ প্রকৌশলী চার ইউনিয়ন প্রকল্পসহ প্রতিষ্ঠানটির কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে মানহীন নির্মাণ উপকরণ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। চলমান ‘শুদ্ধি অভিযানে’ বোরহান উদ্দিনও চাপে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘র্কর্তৃপক্ষ আমাকে প্রকল্পের পিডি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। তখন দায়িত্ব পালন না করার কোনো সুযোগ ছিল না। সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। যখন যেখানে দায়িত্ব দেবে তাই পালন করতে হবে। এর বেশি মন্তব্য করতে চাই না।’

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভির আহমেদ : সরকারের পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস) অনুযায়ী, শতকোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) করতে হলে ন্যূনতম যোগ্যতা হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। কিন্তু ডিএসসিসির চার ইউনিয়ন উন্নয়ন নামে ৩৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের পরিচালক করা হয় নির্বাহী প্রকৌশলী তানভির আহমেদকে। শীর্ষপর্যায় থেকে ‘সবুজ সংকেত’ নিয়ে অনেকটাই নিয়মের বাইরে গিয়ে তাকে পিডির দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রকল্পে নিজের পছন্দ ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে চার ইউনিয়নের কাজের মান নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। সম্প্রতি মেয়র তাপস দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পের খোঁজখবর নিতে শুরু করলে এ প্রকৌশলীও বেশ চাপে পড়ে যান বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবদুল কুদ্দুস : আবদুল কুদ্দুস মূলত রাজস্ব বিভাগের উপকর কর্মকর্তা। মেয়র খোকন দায়িত্ব নেওয়ার পর এক অফিস আদেশে তাকে মেয়রের একান্ত সচিব-২-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান জনবল কাঠামোতে এ ধরনের কোনো পদের অস্তিত্ব নেই। এ কর্মকর্তা মেয়র সেলে একটি রুম বরাদ্দ নিয়ে অফিস করতেন। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল বিলবোর্ড কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ কর্মকর্তাকেও বিদায়ী মেয়র খোকনের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই চেনেন সবাই। তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। কুদ্দুসের বিষয়ে একটি
‘বড় সিদ্ধান্ত’ আসতে পারে এমন আভাস মিলেছে নগর ভবন সূত্রে। আলীম আল রাজী : ডিএসসিসির উপকর কর্মকর্তা আলীম আল রাজী। কিন্তু তিনি প্রভাব খাটিয়ে কর কর্মকর্তা ও রাজস্ব কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সেখানেই থেমে নেই রাজী। উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (বাজার) শাখার সবচেয়ে লোভনীয় চেয়ারটিও তার দখলে। ডিএসসিসির সব মার্কেটের দোকান বরাদ্দ ও ভাড়া আদায়, নামজারিসহ সব কাজই তিনি করেন। বরখাস্ত হওয়া প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদারের বিশ্বস্ত হিসেবে সব কাজ তিনি করতেন বলে জানা গেছে। তাই ইউসুফ আলী সরদারকে মেয়র তাপস বরখাস্ত করার পর আলীম আল রাজীও বেশ চাপে রয়েছেন।

শাহজাহান আলী: শাহজাহান আলী ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগে কর কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সাইদুর রহমান অবসরে যাওয়ার পর ইউসুফ আলী সরদারের সহযোগিতায় তিনি এ পদে বসেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিও শীর্ষপর্যায় থেকে তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান আলী বলেন, ‘আমার জানা মতে কোনো অন্যায় বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। এখন র্কর্তৃপক্ষ যা ভালো মনে করবে তাই করবে।’

মো. আরশাদ : বিদায়ী মেয়রের নিকটাত্মীয় ডিএসসিসির সহকারী সচিব মো. আরশাদ করপোরেশনে বেশ ‘প্রভাবশালী’ হয়ে ওঠেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের একটি জিপ (ঢাকা মেট্রো-ঠ-১৩-১৭৬১) ব্যবহার করছেন। যদিও প্রাধিকার অনুযায়ী, এ কর্মকর্তার নিজস্ব ব্যবহারের জন্য যান সুবিধা পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু তিনি ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে গাড়িটি সার্বক্ষণিক ব্যবহার করছেন। এ গাড়ির পেছনে গত ৩১ মাসে জ্বালানি বাবদ খরচ হয়েছে অন্তত ২৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এছাড়া গাড়িটির চালকও ডিএসসিসির কর্মচারী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির সহকারী সচিব আশরাদ হোসেন বলেন, ‘আমি যানবাহন সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রাধিকারপ্রাপ্ত নই এটা সত্য। কিন্তু সংস্থাপন শাখায় অনেক কাজ করতে হয় বিধায় র্কর্তৃপক্ষ একটি গাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে। আমি এ গাড়ির নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা।’ মো. মোরশেদ : ডিএসসিসির পরিবহন শাখার দায়িত্বে থাকা মো. মোরশেদের সঙ্গে বিদায়ী মেয়রের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএসসিসির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পৌর ফিলিং স্টেশন নিয়মবহির্ভূত ইজারা নেন বিপ্লব। আর সেখানে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা জ¦ালানি খরচ দেখিয়ে একটি অংশ হাতিয়ে নেয় বিপ্লবের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এসব কাজে বিপ্লবকে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে মোরশেদের বিরুদ্ধে। তবে মোরশেদের দাবি, র্কর্তৃপক্ষ তাকে পরিবহন শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি কোনো তদবির করে এখানে আসেননি। আর বিপ্লবের সঙ্গে তার কোনো অর্থনৈতিক সম্পর্কও নেই।

জাকির হোসেন: জাকির হোসেন ডিএসসিসি সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তুলনামূলক ছোট পদের কর্মকর্তা হলেও দীর্ঘসময় এ পদে থেকে সচিবদের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বদলি, পদোন্নতি ও নিয়োগ বাণিজ্য জাকিরের কব্জায় বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তার দপ্তরকে কাজে লাগিয়ে তার বিরুদ্ধে নগর ভবনে নিজের নিকটাত্মীয়-স্বজনদের নামে প্রতিষ্ঠান খুলে কোটি কোটি টাকার কাজ করার অভিযোগও রয়েছে। নামে-বেনামে গড়ে তোলা সম্পদের বিষয়ে দুদকে মামলাও চলমান রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। মেয়র তাপস দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বেশ চাপে
রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম করিনি। আমার আত্মীয়স্বজন নগর ভবনে ঠিকাদারি করলে আমার কী করার আছে? দুদক আমার অর্থ-সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করছে; তারা সব দেখবে।’

কামাল হোসেন: প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা বিভাগের প্রধান হলেও গত কয়েক বছর প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রেষণে এসে এখানে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি। সিটি করপোরেশনের শতকোটি কোটি টাকার কেনাকাটার দায়িত্বে থাকা এ দপ্তরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। ভাণ্ডার কর্মকর্তা কামাল হোসেন এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন বলেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারাই সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে মিলেমিশে ক্রয়সংক্রান্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়া এ কর্মকর্তার বিষয়েও শীর্যপর্যায় থেকে সার্বিক
খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।