০১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ভুয়া উপসচিব

প্রতিনিধির নাম:

রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ভুয়া উপসচিব পরিচয় প্রদানকারী মো. গোলাম মোস্তফা (৩৮) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান নোমানের আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

এদিন তাকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার প্রতারণা আইনে করা মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এসময় মোস্তফা সেচ্ছায় ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে রোববার মধ্যরাতে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়াডের একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেফতার করে। তিনি নিজেকে ২৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট আবার কখনও সচিবালয়ে কর্মরত বলে পরিচয় দিতেন।

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন জানান, প্রতারক গোলাম মোস্তফা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচজনের কাছ থেকে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, তদন্তে জানা যায় গ্রেফতারকৃত প্রতারক নিজেকে কখনও ম্যাজিস্ট্রেট, কখনও উপসচিব অথবা সচিবালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতেন। তার মূল টার্গেট ছিল বিত্তবান পরিবারের অবিবাহিত ও চাকরিজীবী মেয়ে।

মামলার তদন্তে সিআইডি আরও জানতে পারে, ঢাকা শহরের কিছু অসাধু ঘটকের কাছ থেকে অবিবাহিত মেয়েদের বায়োডাটা টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করে তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন। তাদের পরিবারের সদস্য বিশেষত পাত্রীর মায়ের সঙ্গে সখ্যতা গড়া এবং বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাত যেমন- পিএইচডি করতে বিদেশ যাওয়া, দুদককে ঘুষ দেয়া, বদলি বাতিলসহ নানা অজুহাতে বিবাহপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। পরবর্তীতে ধারকৃত টাকা ফেরত না দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতারণার শিকার হয়ে বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত এক নারী বাদী হয়ে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় প্রতারক গোলাম মোস্তফার নামে প্রতারণার মামলা করেন।

মামলার তদন্তের দায়ভার নেয় সিআইডি। পরে দীর্ঘ তদন্তের পর সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়াডের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব ফরহানের তত্ত্বাবধানে সহকারী পুলিশ সুপার মো. সুমন রেজার নেতৃত্বে একটি দল উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৯:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০
২১০ বার পড়া হয়েছে

অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ভুয়া উপসচিব

আপডেট সময় ০৯:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০

রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ভুয়া উপসচিব পরিচয় প্রদানকারী মো. গোলাম মোস্তফা (৩৮) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান নোমানের আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

এদিন তাকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার প্রতারণা আইনে করা মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এসময় মোস্তফা সেচ্ছায় ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে রোববার মধ্যরাতে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়াডের একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেফতার করে। তিনি নিজেকে ২৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট আবার কখনও সচিবালয়ে কর্মরত বলে পরিচয় দিতেন।

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন জানান, প্রতারক গোলাম মোস্তফা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচজনের কাছ থেকে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, তদন্তে জানা যায় গ্রেফতারকৃত প্রতারক নিজেকে কখনও ম্যাজিস্ট্রেট, কখনও উপসচিব অথবা সচিবালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতেন। তার মূল টার্গেট ছিল বিত্তবান পরিবারের অবিবাহিত ও চাকরিজীবী মেয়ে।

মামলার তদন্তে সিআইডি আরও জানতে পারে, ঢাকা শহরের কিছু অসাধু ঘটকের কাছ থেকে অবিবাহিত মেয়েদের বায়োডাটা টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করে তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন। তাদের পরিবারের সদস্য বিশেষত পাত্রীর মায়ের সঙ্গে সখ্যতা গড়া এবং বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাত যেমন- পিএইচডি করতে বিদেশ যাওয়া, দুদককে ঘুষ দেয়া, বদলি বাতিলসহ নানা অজুহাতে বিবাহপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। পরবর্তীতে ধারকৃত টাকা ফেরত না দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতারণার শিকার হয়ে বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত এক নারী বাদী হয়ে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় প্রতারক গোলাম মোস্তফার নামে প্রতারণার মামলা করেন।

মামলার তদন্তের দায়ভার নেয় সিআইডি। পরে দীর্ঘ তদন্তের পর সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়াডের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব ফরহানের তত্ত্বাবধানে সহকারী পুলিশ সুপার মো. সুমন রেজার নেতৃত্বে একটি দল উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করে।