সারা দেশে ৩২ হাজার ৪০৮ মণ্ডপে দুর্গাপূজা
তিথির কারণে একই দিনে মহাষষ্ঠী পূজা হবে। দেবী দুর্গার আগমনে উচ্ছ্বসিত ভক্তকুল। সারা দেশে এখন চলছে উৎসবের আমেজ। পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন।
বসন্তকালে তিনি এই পূজা আয়োজন করেছিলেন বলে এ পূজাকে বাসন্তীপূজা বলা হয়। কিন্তু রাজা রাবণের হাত থেকে স্ত্রী সীতাকে উদ্ধারের জন্য রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র শরৎকালে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। তাই শরৎকালের এই পূজাকে অকাল বোধনও বলা হয়। বাঙালির হৃদয়ে শরৎকালের দুর্গার অধিষ্ঠান কন্যারূপে।
মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এবারের আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ২০ অক্টোবর বেদির ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ, ২১ অক্টোবর সপ্তমীতে সকালে মহাসপ্তমী পূজা, সন্ধিপূজা, ২২ অক্টোবর সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে দেবীর মহাষ্টমী পূজা আরম্ভ, সন্ধ্যা সোয়া ৫টা থেকে ৬টা ১২ মিনিটে সন্ধিপূজা, ২৩ অক্টোবর পূর্বাহ্ণে দেবীর মহানবমী পূজা সমাপন ও ২৪ অক্টোবর সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে দশমী পূজা ও পূজান্তে দর্পণ বিসর্জন, দুপুর ১২টায় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও বিকেল ৪টায় বিজয়া শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর সারা দেশে ৩২ হাজার ৪০৮ মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গত বছর এ সংখ্যাটি ছিল ৩২ হাজার ১৬৮টি। এ বছর ঢাকা মহানগরীতে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে ২৪৫টি মন্দিরে, গত বছর এ সংখ্যাটি ছিল ২৪২টি। আজ ২০ অক্টোবর প্রথম দিন পূজামণ্ডপে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ, সায়ংকালে বেদির বোধন (পঞ্জিকার লগ্ন অনুযায়ী প্রতিমা স্থাপনে দেবী প্রতিষ্ঠা), আমন্ত্রণ ও অধিবাস, সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন করা হবে।
রাজধানীর মন্দিরে মন্দিরে এখন চলছে দেবী প্রতিমার রং করার কাজ। কাদামাটির প্রলেপের ওপর রং-তুলির আঁচড়ে দশভুজা দেবী ষষ্ঠীর দিন পাবেন জীবন্ত রূপ। দেবী সেজে উঠবেন অপরূপ সাজে। শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মঙ্গল সংগীতে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেবে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলো সাজাতে চলছে তোড়জোড়। রংবেরঙের ফেস্টুন, ব্যানার আর বর্ণিল তোরণ নির্মাণে পূজা কমিটির সদস্যদের ব্যস্ততারও কমতি নেই।
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা রং করাসহ মণ্ডপ তৈরি ও আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে নানা আয়োজন সম্পন্নের কাজ চলছে। রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার, হিন্দুপাড়া এজিবি কলোনির অরুণিমা সংসদ পূজা কমিটিসহ বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন চলছে। ঢাকেশ্বরী আর রামকৃষ্ণ মিশনের পূজা আয়োজন ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুর্গোৎসবের ব্যাপক আয়োজন চলছে। পুরনো ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ওপরই তৈরি করা হচ্ছে মণ্ডপ।
এদিকে সব মণ্ডপেই নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। গত বছরের সহিংসতার কথা মাথায় রেখে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক বেশি সক্রিয়। তার পরও গত বছরের হামলার কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা প্রত্যেক মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছি, যারা রাতেও মণ্ডপ পাহারা দেবে। ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

















