মেহেন্দীগঞ্জে ছাত্রদল নেতা বোমা জসিম হতে চান যুবলীগের সভাপতি!
মেহেন্দীগঞ্জ প্রতিনিধি
বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের অংগ সংঠনের পদ পদবী বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন কতিপয় জেলা উপজেলা নেতা। তাদের অর্থলোভের কারণে হাইব্্রীড আওয়ামী লীগে ভরে গেছে বরিশাল মহানগরসহ জেলা ,উপজেলা ও ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ,যুব লীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মতস্যজীবি লীগ ও ছাত্রলীগের কমিটি। এসব কমিটিতে যাদের নেতার আসনে বসানো হয়েছে তাদের সিংহভাগই বিএনপি,জামায়াত ও জাতীয় পার্টি থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা হাইব্রীড নেতা। তাদের কারণে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন ত্যাগী ও আদর্শীক আওয়ামী লীগ নেতারা।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের কাছে তথ্য প্রমানসহ লিখিত অভিযোগ দিলেও হাইব্রীড নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে না। ফলে বিএনপি,জামায়াত ও জাতীয় পার্টির অনুসারী হয়েও তারা এখন আওয়ামী লীগের জার্সি গায়ে চড়িয়ে ৪ দলীয় জোট সরকার আমলের মতই ক্ষমতার দাপট প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। এলাকার বড় বড় ব্যবসা বাণিজ্যও তাদের দখলে। যারা অন্তরে জাতির জনকের খুনিদের লালন করেন তারাই যদি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অংগ সংগঠনের নেতার চেয়ারে বসে থাকেন তখন প্রকৃত আওয়ামী লীগারেদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। মরে যেতে ইচ্ছে করে।
এমন একটি অভিযোগ জমা পড়েছে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে। লিখিত অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে, যুব লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও। এ ছাড়া আইন শৃংক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান, র্যাব প্রধান , একাধিক রাষ্ট্রিয় গোয়েন্দা সংস্থা বরাবরেও অভিযোগটি পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে যে, বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কতিপয় নেতা আর্থিক সুবিধায় মুল দলসহ অংগ সংগঠনের পদ পদবী বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা পকেটে পুরছেন। তারা উপজেলা, ইউনিয়ন, এমন কি থানা ও ওয়ার্ড কমিটির পদ বিক্রিতেও পিছপা হচ্ছেন না। প্রতিটি পদের জন্য ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। দেখা হচ্ছে না কে বিএনপি,কে জামায়াত বা কে জাতীয় পার্টি। ছাত্রদল,যুবদল এমন কি ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মীদেরকেও দলে স্থান দেওয়া হচ্ছে। এক কথায় পদ বিক্রির প্রতিযোগিতা চলছে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায়।
এ ধরনের একটি ঘটনা নিয়ে নেতা কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না। সংঘাতপূর্ণ বা আত্মঘাতি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকাবাসী গণ স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন জাতির জনক কন্যা,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তরে। লিখিত এই অভিযোগে তারা জানিয়েছেন যে, বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ১৩ নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নে ছাত্রদলের সাবেক নেতা জসিম মাঝি ওরফে বোমা জসিমকে ইউনিয়ন যুব লীগের সভাপতি পদে বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আর এ জন্য তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নজরাণা নিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও যুব লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। বোমা জসিমের মত এমন একজন সমাজদ্রোহী , হাইব্রীড সাবেক ছাত্রদল নেতাকে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন যুব লীগের সভাপতি পদে বসানো হলে তিনি দলের মহাসর্বনাশ ঘটবে বলে তারা মনে করছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জসিম মাঝি ওরফে বোমা জসিম ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি গোবিন্দপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ততসময় তিনি আওয়ামী লীগ ,যুব লগি, শ্রমিক লীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা -কর্মীদের বাড়ীতে বোমা নিক্ষেপ করতেন। এমন কি সীমাহীন নির্যাতন করে এলাকা ছাড়া করতেন। এখানেই শেষ নয় জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয় লাভ করলে জসিম মাঝি ওরফে বোমা জসিম দলবল নিয়ে দুটি কুকুর ধরে এনে কুকুর দুটির গলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ঝুঁলিয়ে এলাকা প্রদক্ষিণ করান। এমন কি বঙ্গবন্ধুর কুশপুত্তলিকা বানিয়ে পুড়িয়ে উল্লাশ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে ১৯৯২ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শোক দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের অনুষ্ঠানে জসিম মাঝি ওরফে বোমা জসিম তার দলবল নিয়ে বোমা ও গুলি নিক্ষেপ করে অনুষ্ঠান পন্ড করে দেন। শোক দিবসের এ হামলার ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল মাষ্টারসহ আওয়ামী লীগ,যুব লীগ,ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। জাকির শিকদারের মাথা ও চোখে গুরুতর জখম হয়। এই ঘটনায় ১৩ নং গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলা করা হলেও পরবর্তীতে বিএনপির চাপে মামলা তুলে নিতে বাধ্য হন নেতারা। এ ছাড়াও বোমা জসিম ওরফে জসিম মাঝির নামে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর আদালতে তার নামে বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর ,নাশকতা, হামলা, বোমা বিস্ফোরণ সহ চাঁদাবাজীর মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। মামলা নং সিআর ৬৯/২০২২ ( মেহেন্দীগঞ্জ)।
এমন জঘন্য ধৃষ্টতাপূর্ণ অপরাধ করার পরও তাকে কোন বিবেচনায় গোবিন্দপুর ইউনিয়ন যুব লীগের সভাপতি পদ প্রদান করার চেষ্টা চলছে সেটাই কারো বোধগম্য হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কথা বললে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা যুব লীগের সভাপতি মো: পারভেজ চান বলেন, বিএনপি -জামায়াত থেকে আসা কোন হাইব্রীড নেতা -কর্মীদের যুব লীগের কোন পদেই স্থান দেওয়া হবে না। সাধারণ সম্পাদক রকিব মাহমুদ বলেন, বিতর্কিত কোন ব্যক্তিকে যুব লীগের নেতৃত্ব প্রদানের প্রশ্নই ওঠে না।
বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাব আহমেদ‘র সাথে কথা বললে তিনি জানান,অর্থের বিনিময়ে কাউকে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা দলীয় গঠণতন্ত্রের আলোকে কমিটি নির্বাচন বা গঠন করে থাকি। ১৩ নং গোবিন্দপুর ইউনিয়ন যুব লীগের কমিটিও শতভাগ স্বচ্ছতার সাথেই করা হবে। ত্যাগী ও আদর্শীক যোগ্য নেতারাই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পাবেন। কোন হাইব্রীড নেতার ঠাই হবে না এই কমিটিতে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জসিম মাঝি ওরফে বোমা জসিমের সাথে তার সেল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি আগে ছাত্রদল করতাম তবে গত এক দশকধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠন যুব লীগের রাজনীতি করছি। ১৩ নং গোবিন্দপুর ইউনিয়ন যুব লীগের কাউন্সিলে তিনি সভাপতি পদে প্রার্থী হবেন বলেও জানান।
এলাকার ত্যাগী ও আদর্শীক যুব লীগ নেতারা এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষে গ্রহনের জন্য যুব লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির চেয়ারম্যন শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ মইনূল হোসেন খান নিখিলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

















