১০:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বহিরাগত ভ্যান চালকের দখলে মাগুরা জেলা মৎস্য অফিস: ভুয়া বিল ভাউচারে তোলা হচ্ছে লক্ষ-লক্ষ টাকা!

প্রতিনিধির নাম:

Exif_JPEG_420

মাগুরা প্রতিনিধি

বহিরাগত একজন ভ্যান চালকের দখলে রয়েছে মাগুরা জেলা মৎস্য। এই ভ্যান চালকের নাম নজির হোসেন (৪৩)। তিনি জেলা মৎস্য অফিসের কর্মচারী না হয়েও বছরের পর বছর এই অফিসে বসবাস করছেন। ব্যবহার করছেন সরকারী ভবন,বিদ্যুত,পানি ও আসবাবপত্র। তার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে গেলে মাগুরা শহরের মেসার্স শাহানা এন্টারপ্রাইজের মালিক ডেবিট হোসেন বলেন,ভ্যানচালক নজির এর আগে মেসার্স শাহানা এন্টারপ্রাইজে ছিলেন সিমেন্ট বহনকারী একজন ভ্যান চালক দিনমজুর হিসাবে কাজ করতো। আনুমানিক পাঁচ বছর আগে টাকা চুরির অপরাধে ‘মেসার্স শাহানা এন্টারপ্রাইজ থেকে বের করে দেয়া হয় । ১২ই আগষ্ট দুপুরে সরেজমিন মাগুরা জেলা মৎস্য অফিসে গেলে বহিরাগত ভ্যানচালক নজির হোসেনের দেখা পাওয়া যায়। এ সময় নজির হোসেন বলেন, এ জেলা মৎস্য অফিসের চত্বরে সর্বমোট ০৫ টি পুকুর। দুইটি পুকুরে রয়েছে,রুই,কাতল,মৃগেল,সিলভারের রেনুপোনা। তিনটিতে রয়েছে বড় মাছ। অফিসের লোকবল কম থাকায় আমার স্ত্রী অফিসে চাকরি করেন সেই সুবাদে আমি দেখাশোনা করি। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য অফিসার আনোয়ার কবির বলেন,নজিরের স্ত্রী আমার অফিসে আজ দশ বছর চাকরি করেন,সে সুবাদে নজির এখানেই থাকেন।

সুত্রমতে,মাগুরা জেলার সীমানা জুড়ে জনসংখ্যা রয়েছে ৯লক্ষ ১৮হাজার ৪১৯ জন। এ জেলার উল্লেখযোগ্য নদীগুলো হচ্ছে গড়াই নদী,নবগঙ্গা নদী,ফটকি নদী,হানু নদী, মধুমতি নদী,মুচিখালি নদী, কুমার নদী, চিত্রা নদী,ভৈরব নদী,সিরাজপুর হাওর নদী,বেগবতী নদী প্রভৃতি। এ জেলায় নদনদী বেশি থাকায় জেলার মৎস্য হ্যাচারি মাছ ও চিংড়িসহ অন্যান্য জলজ সম্পদের স্থায়িত্বশীল উৎপাদন বৃদ্ধিতে এলাকার জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। তথ্য সূত্রে জানা গেছে,মাগুরা জেলায় মোট মাছের চাহিদা রয়েছে ১৮ হাজার ৮৮৬ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে বর্তমান উৎপাদন ১৭ হাজার ৩২৮ মেট্রিকটন। কোথায় এত মাছ উৎপাদন হচ্ছে ? সরেজমিন দেখাতে ব্যার্থ হয়েছে তারা। অফিসের কাগজ কলমে দ‘ুবছর আগে উৎপাদন ছিল ১৬ হাজার ৪৭ মেট্রিক টন। সে হিসাবে এ জেলায় বর্তমানে মাছের চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ৫৪৭ মেট্রিক টন।
মাগুরা মৎস্য অফিসের কাগজ কলমে বেড়েছে উৎপাদন। মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন, উন্মুক্ত ও সরকারি জলাশয়ে পোনা অবমুক্তি, খাঁচায় মাছ চাষ, দেশি-বিদেশি মাছের প্রদর্শনী, বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্নভাবে মৎস্য আইন বাস্তবায়নের ফলে মাছের এই উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবী করেন কর্মকর্তারা। তবে এলাকাবাসীর অভিমত ভিন্ন। তারা জানান, কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে পাওয়া যায়না।

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন হোসেন বলেন,মাগুরা ফিশারী অফিসের এক কর্মকর্তা অবসর গেলে রেনুপোনা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে যশোর চাষাড়া বাজার এলাকা থেকে রেনুপোনা ক্রয় করে এনে মাগুরা ফিশারীর হ্যাচারিতে রেখে বিক্রি করা হয়। রেনুপোনা বিক্রির লভ্যাংশ কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়। মাগুরা ফিশারী অফিসের ৫টি হ্যাচারির রেনুপোনার জন্য খাদ্য ক্রয় বাবদ
ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি টাকা উত্তোলন করা হয়। লক্ষ লক্ষ টাকা এভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও হ্যাচারী ম্যানেজার। সরকারীভাবে অডিট বা আয় ব্যায়ের ফাইল নীরিক্ষা করলেই এই অনিয়ম দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেলের,অভিযোগ,পুকুরের ডাল দেবার কথা বলে নিয়ম-নীতি না মেনে মৎস্য অফিসের পূর্ব পাশের একাধিক মেহগনি গাছের ডাল কেটে বিক্রি করা হয়েছে। রেনুপোনা উৎপাদন বন্ধ করে কুষ্টিয়া বটতলা থেকে ৮০০/- টাকা কেজি দরে পোনামাছ ক্রয় করে ২২০০/-টাকা কেজি দরে বিক্রি করে। শ্রীপুর উপজেলা মৎস্য অফিস দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে রয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারী সব মিলে ৫ জন থাকার কথা থাকলেও আছেন শুধুমাত্র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে অফিসের সকল কার্যক্রম।

স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগের সুরে বলেন,পাঁচটি পুকুর মিলে রয়েছে দুই একটি বড় মাছ। তাও আবার এই মাছগুলো বিভিন্ন দপ্তরে হাদিয়া হিসেবে পাঠানো হয়। সাম্প্রতিক এখানে কোন রেনুপোনা উৎপাদন হচ্ছে না। আর যা উৎপাদন হচ্ছে কাগজ-কলমে। বাইরের জেলা থেকে ক্রয় করে এনে বিক্রি করা হয়। যা কিনা রাষ্ট্রের সাথে প্রতারণার শামিল। এ জেলা অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা বললে হ্যাচারি ফার্ম ম্যানেজার,অহিদুজ্জামান বলেন, সরকার প্রতি অর্থ বছরে হ্যাচারী খরচ বাবদ মাত্র ৩ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা প্রদান করে। বিপরীতে আমরা ৫ লাখ ১৭ হাজার টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করে থাকি । ফলে প্রতি বছর সরকার এই হ্যাচারী থেকে ২ লক্ষ টাকা লাভ করছে। এরপরও না বুঝলে আপনাদের যা মন চায় লেখেন ।
এ সকল বিষয় মুঠোফোনে ১৬ আগষ্ট বিকালে,খুলনা বিভাগ মৎস্য অফিসের,বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে মাগুরা রেনু উৎপাদন বন্ধ এবং বহিরাগত দিয়ে অফিস পরিচালনার বিষয় জানানো হলে তিনি বলেন,বিষয়টি আমি দেখব। আমি এখন সচিব স্যারের সঙ্গে আছি পরে কথা বলব।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:২০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৩
৩০০ বার পড়া হয়েছে

বহিরাগত ভ্যান চালকের দখলে মাগুরা জেলা মৎস্য অফিস: ভুয়া বিল ভাউচারে তোলা হচ্ছে লক্ষ-লক্ষ টাকা!

আপডেট সময় ০৮:২০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৩

মাগুরা প্রতিনিধি

বহিরাগত একজন ভ্যান চালকের দখলে রয়েছে মাগুরা জেলা মৎস্য। এই ভ্যান চালকের নাম নজির হোসেন (৪৩)। তিনি জেলা মৎস্য অফিসের কর্মচারী না হয়েও বছরের পর বছর এই অফিসে বসবাস করছেন। ব্যবহার করছেন সরকারী ভবন,বিদ্যুত,পানি ও আসবাবপত্র। তার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে গেলে মাগুরা শহরের মেসার্স শাহানা এন্টারপ্রাইজের মালিক ডেবিট হোসেন বলেন,ভ্যানচালক নজির এর আগে মেসার্স শাহানা এন্টারপ্রাইজে ছিলেন সিমেন্ট বহনকারী একজন ভ্যান চালক দিনমজুর হিসাবে কাজ করতো। আনুমানিক পাঁচ বছর আগে টাকা চুরির অপরাধে ‘মেসার্স শাহানা এন্টারপ্রাইজ থেকে বের করে দেয়া হয় । ১২ই আগষ্ট দুপুরে সরেজমিন মাগুরা জেলা মৎস্য অফিসে গেলে বহিরাগত ভ্যানচালক নজির হোসেনের দেখা পাওয়া যায়। এ সময় নজির হোসেন বলেন, এ জেলা মৎস্য অফিসের চত্বরে সর্বমোট ০৫ টি পুকুর। দুইটি পুকুরে রয়েছে,রুই,কাতল,মৃগেল,সিলভারের রেনুপোনা। তিনটিতে রয়েছে বড় মাছ। অফিসের লোকবল কম থাকায় আমার স্ত্রী অফিসে চাকরি করেন সেই সুবাদে আমি দেখাশোনা করি। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য অফিসার আনোয়ার কবির বলেন,নজিরের স্ত্রী আমার অফিসে আজ দশ বছর চাকরি করেন,সে সুবাদে নজির এখানেই থাকেন।

সুত্রমতে,মাগুরা জেলার সীমানা জুড়ে জনসংখ্যা রয়েছে ৯লক্ষ ১৮হাজার ৪১৯ জন। এ জেলার উল্লেখযোগ্য নদীগুলো হচ্ছে গড়াই নদী,নবগঙ্গা নদী,ফটকি নদী,হানু নদী, মধুমতি নদী,মুচিখালি নদী, কুমার নদী, চিত্রা নদী,ভৈরব নদী,সিরাজপুর হাওর নদী,বেগবতী নদী প্রভৃতি। এ জেলায় নদনদী বেশি থাকায় জেলার মৎস্য হ্যাচারি মাছ ও চিংড়িসহ অন্যান্য জলজ সম্পদের স্থায়িত্বশীল উৎপাদন বৃদ্ধিতে এলাকার জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। তথ্য সূত্রে জানা গেছে,মাগুরা জেলায় মোট মাছের চাহিদা রয়েছে ১৮ হাজার ৮৮৬ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে বর্তমান উৎপাদন ১৭ হাজার ৩২৮ মেট্রিকটন। কোথায় এত মাছ উৎপাদন হচ্ছে ? সরেজমিন দেখাতে ব্যার্থ হয়েছে তারা। অফিসের কাগজ কলমে দ‘ুবছর আগে উৎপাদন ছিল ১৬ হাজার ৪৭ মেট্রিক টন। সে হিসাবে এ জেলায় বর্তমানে মাছের চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ৫৪৭ মেট্রিক টন।
মাগুরা মৎস্য অফিসের কাগজ কলমে বেড়েছে উৎপাদন। মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন, উন্মুক্ত ও সরকারি জলাশয়ে পোনা অবমুক্তি, খাঁচায় মাছ চাষ, দেশি-বিদেশি মাছের প্রদর্শনী, বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্নভাবে মৎস্য আইন বাস্তবায়নের ফলে মাছের এই উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবী করেন কর্মকর্তারা। তবে এলাকাবাসীর অভিমত ভিন্ন। তারা জানান, কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে পাওয়া যায়না।

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন হোসেন বলেন,মাগুরা ফিশারী অফিসের এক কর্মকর্তা অবসর গেলে রেনুপোনা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে যশোর চাষাড়া বাজার এলাকা থেকে রেনুপোনা ক্রয় করে এনে মাগুরা ফিশারীর হ্যাচারিতে রেখে বিক্রি করা হয়। রেনুপোনা বিক্রির লভ্যাংশ কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়। মাগুরা ফিশারী অফিসের ৫টি হ্যাচারির রেনুপোনার জন্য খাদ্য ক্রয় বাবদ
ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি টাকা উত্তোলন করা হয়। লক্ষ লক্ষ টাকা এভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও হ্যাচারী ম্যানেজার। সরকারীভাবে অডিট বা আয় ব্যায়ের ফাইল নীরিক্ষা করলেই এই অনিয়ম দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেলের,অভিযোগ,পুকুরের ডাল দেবার কথা বলে নিয়ম-নীতি না মেনে মৎস্য অফিসের পূর্ব পাশের একাধিক মেহগনি গাছের ডাল কেটে বিক্রি করা হয়েছে। রেনুপোনা উৎপাদন বন্ধ করে কুষ্টিয়া বটতলা থেকে ৮০০/- টাকা কেজি দরে পোনামাছ ক্রয় করে ২২০০/-টাকা কেজি দরে বিক্রি করে। শ্রীপুর উপজেলা মৎস্য অফিস দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে রয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারী সব মিলে ৫ জন থাকার কথা থাকলেও আছেন শুধুমাত্র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে অফিসের সকল কার্যক্রম।

স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগের সুরে বলেন,পাঁচটি পুকুর মিলে রয়েছে দুই একটি বড় মাছ। তাও আবার এই মাছগুলো বিভিন্ন দপ্তরে হাদিয়া হিসেবে পাঠানো হয়। সাম্প্রতিক এখানে কোন রেনুপোনা উৎপাদন হচ্ছে না। আর যা উৎপাদন হচ্ছে কাগজ-কলমে। বাইরের জেলা থেকে ক্রয় করে এনে বিক্রি করা হয়। যা কিনা রাষ্ট্রের সাথে প্রতারণার শামিল। এ জেলা অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা বললে হ্যাচারি ফার্ম ম্যানেজার,অহিদুজ্জামান বলেন, সরকার প্রতি অর্থ বছরে হ্যাচারী খরচ বাবদ মাত্র ৩ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা প্রদান করে। বিপরীতে আমরা ৫ লাখ ১৭ হাজার টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করে থাকি । ফলে প্রতি বছর সরকার এই হ্যাচারী থেকে ২ লক্ষ টাকা লাভ করছে। এরপরও না বুঝলে আপনাদের যা মন চায় লেখেন ।
এ সকল বিষয় মুঠোফোনে ১৬ আগষ্ট বিকালে,খুলনা বিভাগ মৎস্য অফিসের,বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে মাগুরা রেনু উৎপাদন বন্ধ এবং বহিরাগত দিয়ে অফিস পরিচালনার বিষয় জানানো হলে তিনি বলেন,বিষয়টি আমি দেখব। আমি এখন সচিব স্যারের সঙ্গে আছি পরে কথা বলব।