১২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিবিআইএর মাধ্যমে মামলা তদন্তের দাবী: মাগুরায় দেড় মাসেও নিখোঁজ গৃহবধূ রতনাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ

প্রতিনিধির নাম:

মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা সদরের পশু হাসপাতাল পাড়ার রতনা খাতুন (৪৫) পিতামৃত আফসার খান নিখোঁজ হয়েছেন গত ৪ জুলাই। আজ প্রায় দেড় মাস গত হলেও সন্ধান পায়নি মাগুরা সদর থানার পুলিশ। এদিন সন্ধ্যা ৭টা ১ মিনিটে নিখোঁজ হন রতনা । তিনি দেখা করতে গিয়েছিলেন বাটিকাডাঙ্গা অস্থায়ী কালীমন্দির সংলগ্ন আক্কাস আলী শেখের সঙ্গে। তার দোকানের নিকট গিয়ে তিনি মোবাইলে ১১সেকেন্ড কথা বলেন। তারপর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ ও তিনি নিখোঁজ হন। এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানায় জিডি করেন তিনি। পরবর্তী নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ৩৮ তারিখ: ১৩/৮/২০২৬। মামল কোন আসামীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
রতœা খাতুনের ছোট বোন স্বপ্না আক্তার বাদী হয়ে জিডি করেন ও পরে মামলা দায়ের করেন। জিডি নাম্বার ৫৪৫ তাং -৮/৭/২০২৬। মামলায় সরাসরি ফারুককে বিবাদী করা হয়নি তবে তিনিই প্রধান সন্দেহাতীত ব্যক্তি। আক্কাসের পরিচিত জনৈক ফারুক (পিতা হিরণ মোল্লা,ঠিকানা খাসকান্দি থানা ও জেলা ফরিদপুর)-এর সঙ্গে রতনা খাতুনের মোহরানা ও যৌতুক মামলা আদালতে বিচারাধীন। মামলা নং -সিআর ১৫৭৭/২৫।

বিবাদী ফারুক রতনা খাতুনের সাবেক স্বামী। কয়েক বছর আগে তিনি রতনা খাতুনের নিকট যৌতুক হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং তাকে মারধর করেন বলে মামলার এজাহার থেকে জানা যায়। পরে তিনি তাকে তালাক দেন এবং নতুন করে অন্য একজনকে বিয়ে করেন। তারপরই  রতনা খাতুন তাকে আসামী করে মামলা দায়ের করলে ফারুক ও তার বর্তমান স্ত্রী দ্বারা নানা ধরনের হুমকির মধ্যে ছিলেন। তারা টেলিফোনে রতনা খাতুনকে নানা হুমকি দিয়ে আসছিল।পুলিশকে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ মাসাধিকাল অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ রতনার সন্ধান বের করতে পারেনি মাগুরা পুলিশ। মামলাটি পিবিআইকে হস্তান্তরের দাবি রতœার প্রবাসী কন্যা আঁচলের।

জানা গেছে, রতনা খাতুন যখন তার পশু হাসপাতাল পাড়ার বাসা থেকে বের হন তখন এক প্রতিবেশী তার নিকট জানতে চান তিনি কোথায় যান। জবাবে তিনি বলেন, আমি বাজার আনতে যাই।

তারপর সন্ধ্যা ৭.০১ মিনিটে তিনি বাতিকাডাঙ্গার সেনিটারি মিস্ত্রি ও চুলা বিক্রেতা আক্কাস আলী শেখকে মোবাইল দেন। তার দোকানের নিকট গিয়ে তিনি মোবাইলে তার সঙ্গে ১১সেকেন্ড কথা বলেন। তারপর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ ও তিনি নিখোঁজ হন। মোবাইলে তিনি আক্কাসকে বলেন ভাই ‘আপনি কোথায়? আমি আপনার দোকানে এসেছি।’ আক্কাস বলেন আমি আসছি। আপনি একটু অপেক্ষা করুন। তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রতনা খাতুনের মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়।

রতনা খাতুনেরে একমাত্র মেয়ে বৃটেন প্রবাসী। তিনি জানান, এই আক্কাস আলী শেখ সেনিটারি মিস্ত্রি ও চুলা বিক্রেতা। তার নিকট থেকে নিখোজ রতনা আক্তার বেশ কয়েক বছর আগে একটি চুলা কিনেন। এই সূত্রে তার সঙ্গে পরিচয়। সে  রতনা খাতুনের সাবেক স্বামী এবং তার মা’কে অপহরণ করে গুম করতে পারেন এই সন্দেহেভাজন ফারুকের পূর্বপরিচিত। চুলার দাম রতনা খাতুন অনেক আগেই পরিশোধ করেছেন। এটা আঁচল জানেন।

আঁচল জানান, এখন আক্কাস আলী শেখের সঙ্গে নিখোঁজ রতনা খাতুনের কী কাজ থাকতে পারে- তার জবাবে সে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে চলেছে। সে চুলার বকেয়া ১ হাজার টাকা দিতে গেছেন বলে জানায়। টেলিফোনালাপের সূত্র ধরে আক্কাসকে মাগুরা থানা পুলিশ একাধিকবার থানায় নিয়ে গেলেও তার নিকট থেকে কোনো তথ্য বের করতে না পেরে প্রতিবারই তাকে ছেড়ে দিয়েছে।
আঁচল অভিযোগ করেন পুলিশ ফারুককে এখনো আটক করেনি। এ বিষয়ে পুলিশ আঁচলকে জানিয়েছে, ফারুক তার মোবাইল এখনো খোলা রেখেছে এবং সে তাঁর ঠিকানা পরিবর্তন করেনি। তাই ফারুককে সন্দেহ করছে না পুলিশ।

আঁচল অভিযোগ করেন পুলিশ ফারুককে এই মামলায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তার মায়ের শেষ পরিণতির কথা জানা যাবে। এ বিষয়ে মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ১৩ তারিখে এ বিষয়ে মামলা গ্রহন করা হয়েছে। পুলিশী তদন্ত অব্যাহত আছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
৫৭ বার পড়া হয়েছে

পিবিআইএর মাধ্যমে মামলা তদন্তের দাবী: মাগুরায় দেড় মাসেও নিখোঁজ গৃহবধূ রতনাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ

আপডেট সময় ১০:৫৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা সদরের পশু হাসপাতাল পাড়ার রতনা খাতুন (৪৫) পিতামৃত আফসার খান নিখোঁজ হয়েছেন গত ৪ জুলাই। আজ প্রায় দেড় মাস গত হলেও সন্ধান পায়নি মাগুরা সদর থানার পুলিশ। এদিন সন্ধ্যা ৭টা ১ মিনিটে নিখোঁজ হন রতনা । তিনি দেখা করতে গিয়েছিলেন বাটিকাডাঙ্গা অস্থায়ী কালীমন্দির সংলগ্ন আক্কাস আলী শেখের সঙ্গে। তার দোকানের নিকট গিয়ে তিনি মোবাইলে ১১সেকেন্ড কথা বলেন। তারপর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ ও তিনি নিখোঁজ হন। এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানায় জিডি করেন তিনি। পরবর্তী নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ৩৮ তারিখ: ১৩/৮/২০২৬। মামল কোন আসামীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
রতœা খাতুনের ছোট বোন স্বপ্না আক্তার বাদী হয়ে জিডি করেন ও পরে মামলা দায়ের করেন। জিডি নাম্বার ৫৪৫ তাং -৮/৭/২০২৬। মামলায় সরাসরি ফারুককে বিবাদী করা হয়নি তবে তিনিই প্রধান সন্দেহাতীত ব্যক্তি। আক্কাসের পরিচিত জনৈক ফারুক (পিতা হিরণ মোল্লা,ঠিকানা খাসকান্দি থানা ও জেলা ফরিদপুর)-এর সঙ্গে রতনা খাতুনের মোহরানা ও যৌতুক মামলা আদালতে বিচারাধীন। মামলা নং -সিআর ১৫৭৭/২৫।

বিবাদী ফারুক রতনা খাতুনের সাবেক স্বামী। কয়েক বছর আগে তিনি রতনা খাতুনের নিকট যৌতুক হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং তাকে মারধর করেন বলে মামলার এজাহার থেকে জানা যায়। পরে তিনি তাকে তালাক দেন এবং নতুন করে অন্য একজনকে বিয়ে করেন। তারপরই  রতনা খাতুন তাকে আসামী করে মামলা দায়ের করলে ফারুক ও তার বর্তমান স্ত্রী দ্বারা নানা ধরনের হুমকির মধ্যে ছিলেন। তারা টেলিফোনে রতনা খাতুনকে নানা হুমকি দিয়ে আসছিল।পুলিশকে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ মাসাধিকাল অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ রতনার সন্ধান বের করতে পারেনি মাগুরা পুলিশ। মামলাটি পিবিআইকে হস্তান্তরের দাবি রতœার প্রবাসী কন্যা আঁচলের।

জানা গেছে, রতনা খাতুন যখন তার পশু হাসপাতাল পাড়ার বাসা থেকে বের হন তখন এক প্রতিবেশী তার নিকট জানতে চান তিনি কোথায় যান। জবাবে তিনি বলেন, আমি বাজার আনতে যাই।

তারপর সন্ধ্যা ৭.০১ মিনিটে তিনি বাতিকাডাঙ্গার সেনিটারি মিস্ত্রি ও চুলা বিক্রেতা আক্কাস আলী শেখকে মোবাইল দেন। তার দোকানের নিকট গিয়ে তিনি মোবাইলে তার সঙ্গে ১১সেকেন্ড কথা বলেন। তারপর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ ও তিনি নিখোঁজ হন। মোবাইলে তিনি আক্কাসকে বলেন ভাই ‘আপনি কোথায়? আমি আপনার দোকানে এসেছি।’ আক্কাস বলেন আমি আসছি। আপনি একটু অপেক্ষা করুন। তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রতনা খাতুনের মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়।

রতনা খাতুনেরে একমাত্র মেয়ে বৃটেন প্রবাসী। তিনি জানান, এই আক্কাস আলী শেখ সেনিটারি মিস্ত্রি ও চুলা বিক্রেতা। তার নিকট থেকে নিখোজ রতনা আক্তার বেশ কয়েক বছর আগে একটি চুলা কিনেন। এই সূত্রে তার সঙ্গে পরিচয়। সে  রতনা খাতুনের সাবেক স্বামী এবং তার মা’কে অপহরণ করে গুম করতে পারেন এই সন্দেহেভাজন ফারুকের পূর্বপরিচিত। চুলার দাম রতনা খাতুন অনেক আগেই পরিশোধ করেছেন। এটা আঁচল জানেন।

আঁচল জানান, এখন আক্কাস আলী শেখের সঙ্গে নিখোঁজ রতনা খাতুনের কী কাজ থাকতে পারে- তার জবাবে সে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে চলেছে। সে চুলার বকেয়া ১ হাজার টাকা দিতে গেছেন বলে জানায়। টেলিফোনালাপের সূত্র ধরে আক্কাসকে মাগুরা থানা পুলিশ একাধিকবার থানায় নিয়ে গেলেও তার নিকট থেকে কোনো তথ্য বের করতে না পেরে প্রতিবারই তাকে ছেড়ে দিয়েছে।
আঁচল অভিযোগ করেন পুলিশ ফারুককে এখনো আটক করেনি। এ বিষয়ে পুলিশ আঁচলকে জানিয়েছে, ফারুক তার মোবাইল এখনো খোলা রেখেছে এবং সে তাঁর ঠিকানা পরিবর্তন করেনি। তাই ফারুককে সন্দেহ করছে না পুলিশ।

আঁচল অভিযোগ করেন পুলিশ ফারুককে এই মামলায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তার মায়ের শেষ পরিণতির কথা জানা যাবে। এ বিষয়ে মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ১৩ তারিখে এ বিষয়ে মামলা গ্রহন করা হয়েছে। পুলিশী তদন্ত অব্যাহত আছে।