মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় আত্মপরিচয় ও শ্রেষ্ঠ অর্জন হলেও দীর্ঘদিন ধরে এতে অনিয়ম ও অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। স্বাধীনতার অব্যবহিত পর প্রশাসনিক কাঠামো স্বাভাবিক না থাকায় কোনো তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে শহিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীরা লক্ষাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে স্বাধীনতার ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে।
আহমেদ আযম খান জানান, এবার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সম্পৃক্ত করে নির্মোহভাবে জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়া হবে এবং এই মতবিনিময় প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তির অবকাশ থাকা উচিত নয়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শেষ করার তাগিদ দেন তিনি।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই শিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল আলম বীর প্রতীক, বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জামিল ডি আহসান বীর প্রতীক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান বীর উত্তম, সিপিবি’র সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল আহসান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা নইম জাহাঙ্গীরসহ বিশিষ্টজনরা আলোচনায় অংশ নেন।
তারা প্রতিটি অন্তর্ভুক্তির পেছনে প্রামাণ্য ভিত্তি সংরক্ষণ, বিদ্যমান নথি পুনঃ যাচাই এবং সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবী ও নারীদের অবদানের তথ্য সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।













