গণপূর্তে লীগ সমর্থিত প্রকৌশলীদের পূর্ণবাসন চলছে: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক সচিবের ভগ্নিপতিকে প্রাইজ পোস্টিং দিলেন গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার!
রোস্তম মল্লিক
আওয়ামী শাসনামলে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী প্রকৌশলীদের প্রাইজ পোস্টিং দিয়ে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী প্রকৌশলীদের পুর্ণবাসন করতে শুরু করেছেন গণপূর্ত অধিদফতরের সুফিবেশি প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামীম আখতার। এতে করে ফ্যাসিবাদের শাসনামলে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের আবারও পূনর্বাসন করা হলো গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং দিয়ে। বুয়েট হল শাখার ছাত্রলীগ নেতা অর্ণব বিশ্বাসকে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে প্রাইজ পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তিনি রিজার্ভে ছিলেন। ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়া সত্ত্বেও তাকে প্রাইজ পোষ্টিং দেওয়াতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন জাতীয়তাবাদী ঘরাণার প্রকৌশলীরা। তাদের প্রশ্ন, স্বৈরাচারের দোসর অর্ণব বিশ^াস বর্তমান সরকার আমলে প্রাইজ পোষ্টিং পেলেন কি করে?
অপরদিকে গোপালগঞ্জের কোটায় সচিব হওয়া (বর্তমানে অবসরে থাকা) শেখ হাসিনার দুর্নীতি মামলার পার্টনার আসামী কাজী ওয়াছিউদ্দিনের এর ভগ্নিপতি আওয়ামী দোসর প্রকৌশলী মো: মেহেদী হাসানকে প্রাইজ পোষ্টিং দেওয়া হয়েছে চট্রগ্রাম-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পদে। পলাতক শেখ হাসিনার চাচা শেখ কবিরের একান্ত লোক খ্যাত মো: মেহেদী হাসান গোটা আওয়ামী লীগ আমলে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ জোনে পদায়িত ছিলেন।
অন্যদিকে চার বছর সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্ব পালন করা ফ্যাসিবাদের আস্থাভাজন ইডেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তারকে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা ডিভিশন-২ এ বদলি করা হয়েছেন। যার দায়িত্বে থাকবে বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, গণভবনসহ ভিআইপি স্থাপনাগুলো।
শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়, গণভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্ব পালন করা ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম সানাউল্লাহকে দেয়া হয়েছে নবগঠিত শেরেবাংলানগর বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব। ঘুরে ফিরে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন এক ধরনের ‘স্যাবোটাজ’ বলে ভাবছেন গণপূর্তের কর্মকর্তারা।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী সাত্তার ও সানাউল্লাহকে প্রাইজ পোস্টিং দিলেন প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার।
এইসব বদলী আদেশের স্মারক নং ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১০৯২.১০৯৩ ও ১০৯৪। তারিখ: ০৩/০৯/২০২৫ ইং।
সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকার দায়িত্বে থাকা সাবেক সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারের আস্থাভাজন হিসেবে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে চলতি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন শামীম আখতার। ফ্যাসিবাদের পতনের এক বছর পরেও কোন জাদু বলে সে বহাল তবিয়তে রয়েছে তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
ধারণা করা হচ্ছে, বিদায়ের শেষ মুহুর্তে গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অর্ণব,মেহেদী, সাত্তার ও সানাউল্লাহদের পদায়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ পূনর্বাসন প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সন্ধ্যায় প্রকৌশলী অর্ণব, মেহেদী হাসান,আব্দুস সাত্তার ও সানাউল্লাহর বদলির আদেশে স্বাক্ষর করে প্রধান প্রকৌশলী।
আব্দুস সাত্তার ইডেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকাকালে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা ও থোক বরাদ্দের বেশিরভাগ টাকাই লুটপাট করেছেন। তাকে মূলত: রাখা হয়েছিল প্রধান প্রকৌশলীর দুর্নীতি সম্পর্কিত ফাইলগুলো ধামাচাপা দেয়ার কাজে।
আর সানাউল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বঙ্গভবনের ক্ষমতা প্রদর্শন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার দায়িত্ব পালনকালে সম্পাদিত কাজ ও বিলের তদন্ত করলে এর ৮০ ভাগ কাজের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।
এছাড়া একদিন আগে বহু দুর্নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম খানকে প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (সমন্বয়) দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে তিনি সাবেক চিফ হুইপ লিটন চৌধুরীর আস্থাভাজন হিসেবে সংসদ ভবন ও মাদারীপুর ডিভিশনে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় গড়েছেন। চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন কালে তার দুর্নীতির বিরেিদ্ধ ঠিকাদাররা মানববন্ধন করেছিল। চট্টগ্রাম বিভাগ-১ এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মীর রাসেদুল করিমকে। তাকে কুমিল্লা থেকে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে বদলি করা হয়েছিল। এছাড়া গোপালগঞ্জ গণপূর্ত জোনের স্টাফ অফিসার নাহিদ আফরোজকে গবেষণা ও উন্নয়ন ইউনিটে সংযুক্ত করে অবসরে পাঠাচ্ছেন প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামীম আখতার। আগামী ডিসেম্বর মাসে তিনি চাকুরী থেকে অবসরে যাবেন। তাই শেষ সময়ে এসে তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। উল্লিখিত নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলীতে মাথাপিছু ২ কোটি টাকা ঘুস নেওয়ার গুঞ্জন চলছে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব এবং প্রধান প্রকৌশলীকে এই টাকা দিতে হবে বলে দাবী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বারবার প্রধান প্রকৌশলী মো: শামীম আখতারের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেন নি।












